ভোলায় খামারের টাকা আত্মসাৎ করে গা-ঢাকা দিয়েছে বিশ্বনাথ - খবর তরঙ্গ
শিরোনাম :

ভোলায় খামারের টাকা আত্মসাৎ করে গা-ঢাকা দিয়েছে বিশ্বনাথ



শিশির হাওলাদার, ভোলা জেলা প্রতিনিধি, (খবর তরঙ্গ ডটকম)

ভোলার লালমোহন উপজেলা বি.আর.ডি.বি অফিসের অধীনে পরিচালিত ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ প্রকল্পের সুপারভাইজার বিশ্বনাথ দাসের বিরুদ্ধে ব্যপক দূর্ণীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে।

 

ঋণ গ্রহীতাদের কাছ থেকে কিস্তির টাকা আদায় করে বিশ্বনাথ দাস অফিসে জমা না দিয়ে তা নিজে আত্মসাৎ করেছেন এমন বিষয় জানাজানি হওয়ার পর থেকে বিশ্বনাথ দাস আর অফিসে আসছেন না। কর্তৃপক্ষের ধারণ সে কয়েক লাখ টাকা আত্মসাত করে গা-ঢাকা দিয়েছে।

 

জানাযায়, মাঠ পর্যায় থেকে এভাবে মোটা অংকের টাকা আদায়ের পর নিজে আত্মসাৎ করে এখন তিনি লাপাত্তা। আত্মসাৎকৃত টাকা ফেরৎ না দেয়া এবং গত প্রায় ৪ মাস ধরে অফিস না করার কারনে কতৃপক্ষ বিশ্বনাথ দাসকে কারণ দর্শাও নোটিশ দিয়েছে। এদিকে বিশ্বনাথকে বাচাতে ওই অফিসের একটি চক্র কাজ করছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে ওই চক্রটি দীর্ঘ দিন ধরে কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে উদাও হয়ে যাওয়া বিশ্বনাথ দাসের হাজিরা খাতায় গত ১৩ ডিসেম্বর সি এল ছুটি দেখানো হয়েছে।

 

লালমোহন উপজেলার বদরপুর ইউনিয়নের হাজিরহাট এলাকার নান্নু তালুকদার জানান, গত প্রায় দেড় বছর আগে তিনি ও তার ভাই জাকির তালুকদার ১০ হাজার করে দুই নামে ২০ হাজার টাকা ঋণ গ্রহণ  করেন ঐ প্রকল্প থেকে। ঋণ গ্রহণের সময় অফিসের মাঠ সুপাভাইজার বিশ্বনাথ দাস তাদের পাশ বই নিজের কাছে রেখে দেয়। মাসে মাসে ঋণের কিস্তির টাকা জমা দিলে বইতে উঠানো হয়েছে বলে তাদের জানানো হয়। ঋণ সম্পূর্ণ পরিশোধের পর তারা পূণরায় ঋণ চাইলে বিশ্বনাথ দাস, নান্নু তালুকদারকে ৩/৪ মাস ধরে ঘুরাতে থাকেন।

 

এতে সন্দেহ হলে নান্নু তালুকদার সরাসরি অফিসে গিয়ে কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবগত করেন। পরে কর্তৃপক্ষ অনুসন্ধান করে বিশ্বনাথ দাসের দূর্ণীতির সততা পান এবং আদায়কৃত টাকা অফিসে জমা দিতে বলেন। কিন্তু বিশ্বনাথ দাস টাকা ফেরৎ না দিয়ে অফিসে যাওয়া বন্ধ করে দেয়। এ ব্যাপারে নান্নু তালুকদার উপজেলা চেয়ারম্যানকে মৌখিকভাবে জানিয়েছেন এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

 

জানাগেছে, বিশ্বনাথ দাস উপজেলার বদরপুর, কালমা, চরভুতা ও ধলীগৌরনগর ইউনিয়নের সুপারভাইজার পদে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০১২ সাল থেকে এ ৪টি ইউনিয়নে প্রায় দেড়কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়। এসব ঋণ বিতরণ ও কিস্তি আদায় করতে গিয়ে চরম দুনীতি করেছেন বিশ্বনাথসহ সংশ্লিষ্ট একটি চক্র।

 

এ ব্যপারে জানতে চাইলে উপজেলা বি.আর.ডিবি অফিসার রীনা বেগম জানান, গত কয়েক মাস আগে আরো কয়েকজন এধরণের অভিযোগ করলে বিষয়টি তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানান। এতে একটি বাড়ি একটি খমার প্রকল্পে কর্মরত কতেক ব্যক্তি তার উপর রেগে যান। এ কারনে ওইসব বিষয়ে তিনি  আর ঘাটাঘাটি করতে রাজি নন।

 

এ ছাড়া আগামী জুন মাস নাগাদ এমনিতেই একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প তার অফিস থেকে আলাদা হয়ে যাচ্ছে। এখন ওই দূর্র্নীতির বিচার কে করবে তা তিনি জানেন না।


এ সম্পর্কিত আরো খবর

ভোলা এর অন্যান্য খবরসমূহ