ধর্মের নামে মানুষ হত্যাকারীরা নরকের ক্রিড়ানক: মাও: মো: বিলাল হোসাইন মালেকী - খবর তরঙ্গ
শিরোনাম :

ধর্মের নামে মানুষ হত্যাকারীরা নরকের ক্রিড়ানক: মাও: মো: বিলাল হোসাইন মালেকী



নিউজ ডেস্ক, (খবর তরঙ্গ ডটকম)

শান্তির ধর্ম ইসলাম, ইসলামের শান্তি শুধু মুসলমানদের জন্যই নয় বরং জাতি, ধর্ম বর্ণ, নির্বিশেষে সকল মানুষের জন্য এবং সকল সৃষ্টির জন্য, একটি বিড়ালকে অভূক্ত বেধে রাখার জন্য কঠিনতম নিন্দা জানিয়েছেন আজ থেকে প্রায় দেড় হাজার বছর আগে মানবতার নবী মোহাম্মদ সো:) তাঁর উম্মতের মধ্যে কেউ ইসলামের নামে মানুষ খুন, সিরিজ বোমা মারা, জনমতে আতংক সৃষ্টি করা, বিধর্মীদেরকে জিম্মি করে নির্মমভাবে হত্যা করা, একথা কল্পনাও করা যায়না। এর পরও অবাক বিশ্বে অবাক হয়ে নির্মমভাবে তাকিয়ে দেখি কতিপয় নরাধম জাহান্নামের ক্রিড়ানক হয়ে, ধর্মের দোহাই দিয়ে এহেন নিষ্ঠুরতার হলি খেলা খেলছে। মনের বেদনাকে আরো ক্ষত বিক্ষত করে তোলে যে, যখন দেখি গুটি কয়েক বিভ্রান্ত বিপথগামী মানুষের কারনে ঢালাওভাবে ধার্মিক ও আলেম সমাজ, মাদ্রাসার ছাত্রদের জঙ্গীবাদের তকমা লাগিয়ে দায়ী করা হচ্ছে।

 

স্কুল কলেজের অগনিত ছাত্রদের চুরি ডাকাতি, ছিনতাই ও যাবতীয় সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের জন্য ঢালাওভাবে স্কুল কলেজ বা শিক্ষা ব্যবস্থাকে দায়ী করেনা, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র, মানবাধিকার ইত্যাদির নামে খুন-খারাবী ও সন্ত্রাসী করলে কেউ সকল সমাজতন্ত্রী, গনতন্ত্রী বা মানবাধিীকার বাদী দায়ী করেন না, অথচ দুচার জন বিপথগামী টুপি মাথায় দিয়ে সন্ত্রাস করলে সকল টুপি ওয়ালাদের দায়ী করা হয়।
ইসলাম সম্পর্কে এ ধরনের দ্বি-মুখী নীতি কারো জন্য কল্যাণকর নয়।

 

জঙ্গীদের কোন দল নেই, তাদের সামাজিক কোন পরিচয় নেই, তারা ইহুদী-খৃষ্টান ও তাদের দোষরদের কর্তৃক মুসলিম নিধনের এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য মুসলীম সমাজের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিনষ্ট করার গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। ইসলাম শান্তি, সোহানুভূতি ও ভ্রাতৃত্বের ধর্ম, বন্দুকের নলদিয়ে, বোমা মেরে, গ্রেনেড নিক্ষেপ করে, আত্মঘাতি হামলা করে আর এগুলি জিহাদ বলে চালিয়ে দেয়া চরম দৃষ্টতা ও মূর্খতা। বিশেষভাবে শায়খ রহমান ও বাংলা ভাই গংদের দ্বারা পরিচালিত ২০০৫ সালের ২৭শে আগষ্ট দেশব্যাপী সিরিজ বোমা হামলা এবং সদ্য ঘটে যাওয়া গুলশানে ও শোলাকিয়া জঙ্গি হামলা দেশের মানুষের স্বাভাবিক জীবন যাত্রা অচল করে দিয়েছিল। শাহজালাল শাহ মুাখদুমের পূন্য ভূমিকে একটি ধংস্বাত্মক ইরাক,ফিলিস্তিন ও সিরিয়ায় পরিনত করার গভীর ষড়যন্ত্র চলছে।

 

আজকে বিশ্বময় এ কঠিন পরিস্থিতিতে বিশেষ করে সারা দুনিয়াতে মোসলমানদের আজ বড়ই দুর্দিন। এমতাবস্থায় জঙ্গীদের হাতে অত্যাধনিক মরনাস্ত্র ট্যাংক, গোলাবারুদ, একে-২৭, একে-৪৭ তারা কোথায় পেল? তাদের বিশাল অস্ত্রভান্ডার, রাজকীয় জীবন যাপন তাদের বিরোদ্ধে ইহুদী ও খৃষ্টান দুনিয়া যথাযথ পদক্ষেপ না নেওয়ায় এ এক চরম রহস্যের। মুসলীম দুনিয়ার শান্তি পূর্ণ পরিবেশ ধংস্ব করা ইত্যাদি দারা আমরা বুঝতে পারি যে ঐ বিপদগামী নরকের কীট গুলো আসলেই, ইহুদীর মোসাদ, খৃষ্টানদের সিআইএ এবং সনাতনীদের ‘র’ এর দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। জঙ্গীদের লেবাস, সূরত কথা বার্তায় আজকে সারা বিশ্বের মুসলমানরা বিভ্রান্ত এবং দিশেহারা। অথচ রাসুল (সা:) এ যামানায় তো মোনাফিকরা সোলমানদের মত পোষাক পরতো, দাঁড়ি রাখতো পাগড়ী ও পরত নামাযের আগের কাতারে দাঁড়াত। নবাব সিরাজুদ্দৌলার সেনাপতি মীর জাপরও তো মুসলমান হিসেবে পরিচিত ছিল।

 

বর্তমান মুসলিম বিশ্বের মুসলমান নামধারী আরো কত মীরজাফর ঘষেটীর পদাচারনা পরিলক্ষিত হচ্ছে। ঠিক তদ্রুপ আজকে যারা ইসলামের দোহাই দিয়ে দ্বীন কায়েমের কথা বলে, মুসলীম ও অমুসলীমদেরকে হত্যা করে সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে লিপ্ত তারা ওদেরই উত্তরসূরী। রাসূল (সা:) বলেছেন যে ব্যক্তি কোন মুসলমানকে হত্যা করার চেয়ে দুনিয়াটা ধ্বংস হয়ে যাওয়া আল্লাহতা’য়ালার নিকট অতী নগন্য (তিরমিযী)। অন্য জায়গায় রাসুল (সা:) বলেছেন, যে ব্যক্তি কোন অমুসলিম নাগরীককে হত্যা করল, কিয়ামতের দিন আমি তার বিরোদ্ধে মামলা দায়ের করব (তাবরানী) সুতরাং আজকে ধর্মের নামে রাজনৈতিক কারনে স্বার্থের বহি:বূত হয়ে ক্ষমতার লোলপে যত হত্যাকান্ড ঘটছে সবগুলি ইসলাম কর্তৃক নিষিদ্ধ হারাম।

 

ইসলামের নামে জঙ্গীবাদ, মুসলিম দুনিয়ার শান্তি শৃংখলা বিনষ্টের ক্ষেত্রে যেন মরন ব্যাধি ক্যান্সারের ভূমিকা পালন করছে। ঐ সকল জঙ্গীদের সাথে ইসলামের দূরতম ও কোন সম্পর্ক নেই। বরং তারা আজকে কাফেরদের এজেন্ডা বাস্তবায়নে ব্যাস্ত, অস্ত্র দিয়ে বোমা মেরে আত্মঘাতি হামলা করে কঠোর মনোভাব নিয়ে মানুষ হত্যা করে ইসলাম কায়েম করা যায়না। রাসূল (সা:) ৬৩বছর জেন্দেগীতে তাঁর অগনিত সাহাবীরা কখনও এধরনের বিপদগামী ও হটকারী সিদ্ধান্ত নেননি। যদি নিতেন মক্কা বিজয়ের প্রাক্কালে ইচ্ছা করলে মক্কার জমিনে রক্ত গঙ্গ বয়ে দিতে পারতেন।  রাসূলের মনোভাব যদি জঙ্গীদের মত হতো তাহলে তাঁর দারা ইসলামের সুমহান সফলতা ও মদীনাকে ইসলামী রাষ্ট্র কায়েম করা সম্ভব হতো না।

 

তার মনোভাব সম্পর্কে স্বয়ং আল্লাহপাক ইরশাদ করেছেন, আমি যদি আপনার অন্তরে রহম পয়দা না করতাম আর আপনি যদি কঠোর মনোভাব সম্পন্ন হতেন তাহলে আপনি দেখতেন লোকগুলো ইসলামের কবুলের বিপরীতে সবাই আপনার রূঢ়আচরণ দেখে এদিক ওদি ছুটাছুটি করত’’ পৃথিবীরত ৬৮টি মুসলিম রাষ্ট্রের মধ্যে আমাদের সোনার বাংলাদেশ অন্য দশটি মসুলিম দেশের তুলনায় এদেশের সার্বিক পরিবেশ শান্তিপূর্ণ, ক্ষমতার লড়াইয়ে কিছু রাজনৈতিক সহিংসতা ছাড়াই এদেশে বড় ধরনের জাতীগত ও রাষ্টীয় মারাত্বক কোন ধরনের সমস্যা নেই। যার কারনে আন্তজার্তিক সামাজ্যবাদীদের বদনজর, তাদের একক কার্তালী ও মাতব্বরী করার দুঃসাহ দেখাবে। কিন্তু অতীব দুঃখ ও হতাশা জনক হল, ঘটে যাওয়া গুলশান ট্রাজেডী শোলাকিয়ার হত্যাকান্ড। এবং অন্যান্য জঙ্গী তৎপরতার কারনে আমাদের সবুজ স্বাধীন ভূ-খন্ড বাংলাদেশের স্বাধীনতা, জাতীসত্বা, আজ  মারাত্বক হুমকির মুখে।

 

এদেশের শিশু-কিশোর আবাল বৃদ্ধা বনিতা কখনো কামনা করে নাই বাংলাদেশের স্বাধীনতা, স্বাধীন পতাকা শান্তিপূর্ণ পরিবেশ স্বাধীন ভূখন্ডে নিয়ে কেউ নাক গলাবে। আজকে কেউ বলছেন আমরা প্রশিক্ষিত ফোর্স পাঠাব, কেউ বলছেন প্রয়োজনে জঙ্গীবাদ নির্মূলে হামলা করবে। আবার কেউ কেউ আমাদেরকে প্রশিক্ষন দেয়ার সবক দিচ্ছেন। এসবের এক মাত্র কারনই হল ধর্মের দোহাইয়ে জঙ্গীবাদ। ধর্মপ্রাণ মুসলমান হিসেবে আমাদের সচেতন হতে হবে। ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয়ভাবে ইসলামের অনুশাসন বাস্তবায়নে আন্তরিক হতে হবে। ইসলামের শান্তির ধর্ম এটা মুখে বললে চলবেনা, এর বিধান বাস্তবায়নে সচেষ্ট হতে হবে। তাহলেই আমাদের দেশে নিবরাস সোহান ও আবিরের উদ্ভব হবে না।  পারস্পরিক দোষারূপ, কটাক্ষ আলেম-ওলামাদের হেয়, একে অপরকে গায়েলের মনোভাব সর্বপরি আমাদের সকলকে ঐক্যে প্লাট ফর্মে আসতে হবে। সন্ত্রাসী জঙ্গীবাদের বিরোদ্ধে সোচ্চার হতে হবে। যেন বিপথগামীরা কোনভাবেই বিভ্রান্তি ছড়াতে না, পারে বাংলাদেশের মত সু-শৃঙ্খল সমাজে জঙ্গীবাদের উত্থান অত্যান্ত ভয়ংঙ্কর বিষয়। আমরা পাকিস্তান ও অন্যান্য মুসলিম বিশ্বের দিকে তাকাই সেখানে শিয়া-সুন্নি ওহাবী রেজভী, বিভিন্ন দল উপদলের মধ্যে সহিংসতা অতীত থেকেই বিদ্যমান। পক্ষান্তরে আমাদের বাংলাদেশে ধর্ম ভিত্তিক “ভায়োলেক্স” বা সহিংসতা কখনই ছিল না। আসুন প্রত্যেকেই সচেতন হই।

 

বিশেষ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক প্লাটফর্ম, এদু’টির ঐতিহ্য থেকে জঙ্গীরা কাউকে টার্গেট এর মাধ্যমে কেড়ে নিয়ে অবৈধ প্রশিক্ষন এর মাধ্যমে বিপদগামী করে মায়ের কোল থেকে তোলে নিয়ে যেন জঙ্গী তৎপরতায় লিপ্ল হতে না পারে সেদিকে আমাদের কঠোর গনসচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। আল্লাহপাক আমাদের সকলকে যার যার অবস্থান থেকে সোচ্ছার হওয়ার তাওফিক দান করুন আমীন।

 

লেখক,
মাও: মো: বিলাল হোসাইন মালেকী
প্রভাষক, শাহপুর ইসলামিয়া ফাযিল (প্রস্তাবিত কামিল) মাদরাসা
খতিব, গোলবাজার জামে মসজিদ লাকসাম
ধর্মীয় আলোচক, বিটিভি ও বিটিভি ওয়াল্ড, মাইটিভি, ঢাকা।
মোবাইল নাম্বার: ০১৭১৫-৫১৬৬০৪



এ সম্পর্কিত আরো খবর

মতামত এর অন্যান্য খবরসমূহ