সরকারী চাকরীতে বয়স ৩০ অথবা ৩৫: একটি ব্যক্তিগত পর্যালোচনা - খবর তরঙ্গ
শিরোনাম :

সরকারী চাকরীতে বয়স ৩০ অথবা ৩৫: একটি ব্যক্তিগত পর্যালোচনা



মতামত ডেস্ক, (খবর তরঙ্গ ডটকম)

বাংলাদেশ অপার সম্ভাবনাময় দেশ। এদেশের যুব সমাজ অনেক পরিশ্রমী, ত্যাগী, প্রবল দেশপ্রেম তারা লালন করে। ১৯৭১-২০১৭=৪৬ বছর চলে গেল অামরা স্বাধীন হলাম। ক্রিকেটে অামরা বিশ্বদরবারে সম্মানের জায়গায় অবস্থান করছি। প্রযুক্তি খাতেও অামরা পিছিয়ে নেই। অামাদের  দেশের ছেলে – মেয়েরা গুগল এ জব করছে, অক্সফোর্ড,  ক্যামব্রিজে  টিচিং দিচ্ছে, এমঅাইটিতে পড়ছে, বিশ্বের বিভিন্ন নামকরা ভার্সিটিগুলোতে পড়াচ্ছে।

দেশ এগিয়েছে অনেক দূর। শিক্ষা খাত অাজ অনেক সমৃদ্ধি লাভ করেছে। দেশের মানুষ হয়েছে অাগের চেয়ে অনেক বেশী সচেতন। সরকারী চাকুরীজীবীদের বেতন বাড়ানো হল, সুযোগ সৃষ্টি করা হল অনেক নতুন কর্মসংস্থানের। খালি থাকা পোস্টগুলোতে লোক নিয়োগ করা হল।

ইদানীং খেয়াল করলাম চাকুরী প্রার্থীরা সরকারী চাকরীতে বয়স বাড়ানোর জন্য অান্দোলন করছেন। অামি জানি না তারা কতটুকু ভেবে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

অামরা এখন একটু খেয়াল করে দেখি বয়স বাড়ানো হলে কি কি সমস্যা হতে পারে-
১. বেকারত্ব দ্বিগুণ বাড়বে।
২. হতাশার মাত্রা অসহনীয় পর্যায়ে চলে যাবে।
৩. ঘুষ লেনদেনের পরিমাণও চরম অাকার ধারণ করবে।
৪. ৩৫ বছর বয়সে চাকরী নিলে  ফাঁকি দেওয়ার প্রবণতা বেড়ে যাবে।
৫. পরিবারের অাস্থা কমে যাবে
৬. বিবাহ বিলম্বিত হবে।
৭. যৌথ পরিবারে অশান্তি সৃষ্টি হবে।
৮. অাত্বহত্যা বেড়ে যাবে।
৯. প্রাইভেট সেক্টরে জনবল নিয়োগে সমস্যার সৃষ্টি হবে।
১০. ৩৫ এও যারা সরকারী চাকরী পাবে না তারা স্বাভাবিক জীবন থেকে ছিটকে পড়বে, সে মাদকাসক্ত হয়ে যাবে। শেষ ঠিকানা হবে কোন মাদকাসক্ত পূণর্বাসণ কেন্দ্রে।

অামাদের বিকল্প কিছু ভাবতে হবে, যা সরকারের মাথা ব্যাথা হওয়া উচিত ছিল।

সরকারের যেসব পদক্ষেপ নেওয়া উচিত-
* সরকারী সেক্টরে যে সব কর্ম খালি সেগুলোতো লোক নিয়োগ।
* পাবলিক – প্রাইভেট পার্টনারশিপের(পিপিপি) অাওতায় নতুন নতুন কর্মসংস্থান তৈরি।
* নতুন উদ্যোক্তাদের সহজ শর্তে ঋণ প্রদান।
* প্রাইভেট সেক্টরে লোক নিয়োগে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন।
* এসএমই ঋণ সহজলভ্যকরণ।
* বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনী ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অারো পদ সৃষ্টকরণ।
* প্রতিটি সরকারী প্রতিষ্ঠানে একজন বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন প্রশাসনিক কর্মকর্তা নিয়োগ। যার কাজ হবে প্রতি তিন মাস অন্তর অন্তর সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় অথবা দপ্তরে অথবা বিভাগে রিপোর্ট  প্রদান।
* শিল্পখাতকে অারো অাধুনিকীকরণ ও চাকুরীজীবীদের চাকরির নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ।
* নারীদের কর্মসংস্থানে নিরাপত্তা জোরদারকরণ।
* যে সব গ্রাজুয়েট বয়স ৩০ এও চাকুরী পায়নি তাদের জন্য ইমার্জেন্সি পিপিপি এর অাওতায় চাকরীর ব্যবস্থাকরণ।

অামরা নতুন সূর্যের অপেক্ষায় চেয়ে থাকি, কিন্তু ভোর অার হয় না। অন্ধকারেই পরে থাকতে হয়। তবুও অাশায় দিনগুনি।  হয়তবা কোনদিন অাবারো  ড.অাতিউর রহমানরা অাসবেন, বেকারদের কষ্ট বুঝবেন।

লেখা:
মোফাজ্জল হোসেন
লোক প্রশাসন বিভাগ
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়
ই- মেইলঃ mofajjol5271@gmail.com


মতামত এর অন্যান্য খবরসমূহ