অনন্য গুনীজন নাঙ্গলকোটের ভিপি সাদেক হোসেন চেয়ারম্যান : আজিম উল্যাহ হানিফ - খবর তরঙ্গ
শিরোনাম :

অনন্য গুনীজন নাঙ্গলকোটের ভিপি সাদেক হোসেন চেয়ারম্যান : আজিম উল্যাহ হানিফ



মতামত ডেস্ক, (খবর তরঙ্গ ডটকম)

জন্ম: মো: ছাদেক হোসেন ১৯৩৭ সালের জানুয়ারীতে কুমিল্লা জেলার অর্ন্তগত সাবেক লাকসাম উপজেলার বর্তমান নাঙ্গলকোট উপজেলার অশ^দিয়া গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা-আলহাজ¦ আবদুল গণি। আবদুল গণি ছিলেন কৃষক। মায়ের নাম বেগম ফুলমতের নেছা।
শৈশব: ছাদেক হোসেনের শৈশব শুরু হয় গ্রামে। শৈশবে তিনি তার পিতার সান্নিধ্যে প্রাথমিক শিক্ষাসহ ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত হন। ১৯৪৬ সালে তার শিক্ষা জীবন শুরু হয়। তিনি ১৯৫১ সালে সাবিত্রা বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৫ম শ্রেণী পর্যন্ত সাফল্যের সাথে পড়াশুনা শেষ করেন।১৯৫২ সালে নাঙ্গলকোট হাইস্কুলে ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে ভর্তি হন। নাঙ্গলকোট হাইস্কুলে ৭ম শ্রেণীতে পড়া অবস্থায় তিনি ছাত্র রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। নাঙ্গলকোট তথা দক্ষিণ কুমিল্লার ছাত্রছাত্রীদের জীর্ণ শীর্ণ অবস্থা দেখে তার হৃদয়ে নাড়া দেয়।

 

শিক্ষাজীবন: ১৯৫৭ সালে এসএসসি পাশের পর তিনি উচ্চ শিক্ষার জন্য লাকসাম নবাব ফয়জুন্নেছা কলেজে উচ্চ মাধ্যমিকে ভর্তি হন।
১৯৫৯ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে সেখানেই ডিগ্রিতে ভর্তি হন।

 

ছাত্র রাজনীতি: নাঙ্গলকোট এ আর হাইস্কুলে অধ্যয়নকালেই স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের বিভিন্ন দুদর্শা নিয়ে সমাধাণের পথ খুঁজতে থাকেন। দলমত নির্বিশেষে সকল ছাত্ররা তার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হতে থাকে। তৎকালীন সময়ে ছাদেক হোসেন যুক্তফ্রন্ট নিবার্চনের পক্ষে থাকেন এবং তার নেতৃত্বে ছাত্র তথা যুব সমাজ নাথেরপেটুয়া ইউনিয়নের নুরুর রহমান সাহেবকে নাঙ্গলকোটের হাছানুজ্জামান খান সাহেবের প্রতিপক্ষ হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে এম এল এ (সংসদ সদস্য) নির্বাচিত হন। যার ফলে ৮ম শ্রেণীতে থাকা অবস্থায় তিনি হাছানুজ্জামান খাঁন পরিচালিত নাঙ্গলকোট হাইস্কুল নিজ চক্ষু লজ্জাবোধের দৃষ্টিকোন থেকেই ত্যাগ করেন।

 

সময়টা তখন ১৯৫২ সাল। ভাষার জন্য দেশজুড়ে সরগরম। ভাষার জন্য ছাদেক হোসেন ও এর আর হাইস্কুলে পড়াকালীন পরে ময়ূরা হাইস্কুলে গিয়ে ভর্তি হয়ে ভূমিকা রাখেন।
পরবর্তীতে ১৯৫২ সালে তিনি ময়ূরা হাইস্কুলে ৮ম শ্রেণীতে ভর্তি হয়ে সেখান তেকে কৃতিত্বের সাথে ১৯৫৭ সালে ২০ বছর বয়সে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।

 

১৯৫৭ সালে লাকসাম নবাব ফয়জুন্নেছা সরকারি কলেজে ভর্তি হন এইচএসসিতে। সেখানে তার নেতৃত্বে ছাত্ররা ঐক্যবদ্ধ হতে থাকে। ছাত্র রাজনীতি চাঙ্গা হতে থাকে। তিনি ছাত্রদের বিভিন্ন দাবী দাওয়া নিয়ে জোরালো ভূমিকা পালন করেন। তিনি অতি অল্প বয়সে ১৯৫৯ সালে নবাব ফয়জুন্নেছা সরকারি কলেজের ছাত্র সংসদের ভি.পি নির্বাচিত হন।

 

ভিপি নির্বাচিত হওয়ার সময় ছিল আইয়ুব খানের সামরিক শাসন। ওই সময় ছিল ৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন। সবগুলোতেই ছিল তার নেতৃত্ব। নেতৃত্বের কারণে বৃহত্তর কুমিল্লার প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা চাঁনমিয়া সাহেব, খোরশেদ আলম সুরুজ সাহেব, কর্ণেল আকবর হোসেন, কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মনিরুল হক সাক্কুর বাবা ছাদেক মোক্তার হোসেনের সাথে সান্নিধ্য লাভ করেন। এই সকল ব্যক্তিবর্গ তার নেতৃত্ব গুনে মুগ্ধ হন এবং তাকে দোয়া করতেন।

 

যে কোন আইয়ুব বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা নেতৃবৃন্দের আহবানে কলেজে কেন্দ্রিক তার নেতৃত্বেই সংগঠিত হতো। যার ফলে তিনি ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী ও সকল শিক্ষার্থীদের ও শিক্ষকদের আস্থাভাজন।

ভিপি দায়িত্বের পরের কয়েকটি বছর তিনি হয়ে উঠেন কুমিল্লা জেলার অন্যতম প্রথম সারির ছাত্রলীগ নেতা।
৬৬ তে বঙ্গবন্ধুর ছয়দফা আন্দোলন ও দেশের তৃতীয় বিশ^বিদ্যালয় চট্টগ্রামের পরির্বতে কুমিল্লা করার যে আন্দোলন সৃষ্টি হয়েছিল লাকসাম-চৌদ্দগ্রাম কেন্দ্রিক অন্যতম ছাত্র আন্দোলনের ডাকে ও নেতৃত্বে বড় ভূমিকা রাখেন।

 

কর্মজীবন: ছাদেক হোসেন ঠিকাদারী ব্যবসা দিয়ে তার কর্মজীবন শুরু করেন। তিনি একজন প্রথম শ্রেণীর ঠিকাদার হিসেবে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে পুল,কালভার্ট,রাস্তাঘাট,ইমারত ইত্যাদি তৈরি করেন। প্রথম শ্রেণীর ঠিকাদারির পাশাপাশি তিনি একজন আমদানি কারক ও রপ্তানি কারক হিসেবে সুখ্যাতি অর্জন করেন।

 

বণার্ঢ্য রাজনৈতিক জীবনসহ আলোচনা:
ছাদেক হোসেন চেয়ারম্যান এর রাজনৈতিক জীবন হচ্ছে একটি ইতিহাস যার ফলে নাঙ্গলকোটবাসী আজ সংগঠিত। তিনি স্বাধীনতার পূর্বে নাঙ্গলকোটে আওয়ামীলীগকে সংগঠিত করতে থাকেন। ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধু যখন স্বাধীনতার ডাক দেন তখন ছাদেক চেয়ারম্যান এর নেতৃত্বে সারা নাঙ্গলকোটবাসী আজ ঐক্যবদ্ধ। ১৯৭১ সালে যখন স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হয় তখন তারই নেতৃত্বে ও দিক নিদের্শনায় নাঙ্গলকোট তথা লাকসাম দক্ষিণ অঞ্চলসহ মুক্তিকামী সকল মানুষ ঐক্যবদ্ধ হতে থাকে। তৎকালীন সময়ে স্বাধীনতা বিরোধী ও পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী তাকে বারবার হত্যা চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। কারণ তার উপর ছিল সকল মানুষের দোয়াও আল্লাহর অশেষ রহমত। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন তিনি পাকিস্তানি শাসকদের টার্গেটে পড়ে যান। তাকে হত্যার চেষ্টাও করা হয়।

 

যুদ্ধকালীন সময়ে পরোক্ষ নেতৃত্ব ও নির্দেশনায় মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ইসহাকের কমান্ডে নাঙ্গলকোট ও লাকসাম দক্ষিণ অঞ্চলের মানুষ যুদ্ধে ঝাপিড়ে পড়ে। তিনি নাঙ্গলকোটের মুক্তিকামী যোদ্ধাদের পাকিস্তানি শোষকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য ভারতে ট্রেনিং এ যেতে ব্যবস্থা করেন। যুদ্ধকালীন সময়ে নাঙ্গলকোট ও লাকসাম দক্ষিণ অঞ্চলের হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর চলে অমানবিক নির্যাতন। আর সেই সময়ে ছাদেক চেয়ারম্যান হয়ে উঠেন এ অঞ্চলের মুক্তিকামী মানুষের নেতৃত্বদানকারী ব্যক্তিবর্গের অংশ। এর ফলে তাকে বারবার হত্যা চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। ঐ সময়ে তিনি পরোক্ষভাবে এ অঞ্চলে পাকিস্তানের শোষন থেকে ম্ক্তু করার জন্য মুক্তিকামী মানুষকে সংগঠিত করেন ও দিক নির্দেশনা দেন। এরপর ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর দেশ যখন শক্রমুক্ত হয় তখন তিনি নাঙ্গলকোটের সমস্ত নেতৃত্বের হাল ধরেন ও নাঙ্গলকোটকে সমৃদ্ধ করার প্রচেষ্টা শুরু করেন। তিনি ছিলেন তৎকালীন নাঙ্গলকোট আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি।

 

১৯৮১ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যখন নাঙ্গলকোটে আসেন তখন ছাদেক হোসেন চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে মোখলেছ চেয়ারম্যান, আলহাজ¦ মো: আবদুর রাজ্জাক মাস্টার, কমান্ডার ইসহাকসহ এলাকাবাসীকে সাথে নিয়ে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মুখ দিয়ে নাঙ্গলকোটকে থানা ঘোষণা করাতে তিনি (ছাদেক চেয়ারম্যান) বাধ্য করান। যা নাঙ্গলকোটের ইতিহাসে একটি স্মরণীয় ঘটনা।

 

যার ফলে ছাদেক চেয়ারম্যানের বলিষ্ঠ ভূমিকায় ও এলাকাবাসীর সহযোগিতায় প্রতিষ্ঠিত হয় নাঙ্গলকোট থানা। পরবর্তীতে জেনারেল হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদ ক্ষমতায় আসলে উপজেলায় রুপ লাভ করে। তিনি হচ্ছেন নাঙ্গলকোটের উপজেলা প্রতিষ্ঠার একজন স্বপ্নদ্রষ্টা ও রুপকার। যা নাঙ্গলকোটবাসী চিরদিন মনে রাখবেন। এরপর ১৯৮৮ সালে তৎকালীন এরশাদ সরকারের সময় তিনি এরশাদ সরকারের তৎকালীন এমপি ওমর আলী মজুমদারের সাথে পাকা খেলোয়াড় হিসেবে সমবায় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। আশির দশকের শেষের দিকে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনে তিনি জাতীয় পার্টিতে আসেন। তিনি হচ্ছেন নব্বই পরবর্তী নাঙ্গলকোট উপজেলা জাতীয় পার্টির কর্ণধার। তার হাতে সৃস্টি হয় নাঙ্গলকোটের অনেক নেতৃত্ব। কিন্তু রাজনীতিতে তিনি কখনো হিংসা, প্রতিহিংসা পছন্দ করেন না। তিনি কখনো কোনো ব্যক্তি বা মানুষকে দলীয়ভাবে ভাবেন না এবং চিন্তা ও করেন না। তিনি সব সময় ভাবতেন যারা এই উপজেলার মানুষ তারা সকলেই তার আপনজন। তাদের মধ্যেই তিনি একজন। যার ফলে তিনি হয়ে ওঠেন নাঙ্গলকোট উপজেলার সর্বজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তি। তিনি যেমন একজন বিচক্ষণ রাজনীতিবিদ তেমনি তিনি একজন র্ধমপ্রাণ ব্যক্তি। যার গ্রহণ যোগ্যতা রয়েছে এদেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম-ওলামাও পীর মাশায়েখদের সাথে। নাঙ্গলকোট উপজেলার অখন্ডতা বজায় রাখা,নাঙ্গলকোটের সাবেক সংসদীয় আসন কুমিল্লা-১১ পুর্নবহালসহ নাঙ্গলকোটের সমস্ত ন্যায্য দাবী সমূহ আদায়ের লক্ষ্যে দলমত নির্বিশেষে সকল দলের ও মতের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে নিয়ে তার নেতৃত্ব গড়ে তোলেন নাগরিক কমিটি নাঙ্গলকোট নামক সংগঠন। ছাদেক চেয়ারম্যান নামটি যেমন গরীব দু:খী মেহনতী মানুষের হৃদয়ের আশার আলো ও পথ প্রদর্শক।

 

সামাজিক সংগঠনের দায়িত্ব পালন:
তিনি বাংলাদেশ জমিয়তে হিযবুল্লাহ যেটি একটি অরাজনৈতিক ইসলামী সংগঠন,সেটির কুমিল্লা জেলার সিনিয়র সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। দায়িত্ব পালন করেছেন সাংবাদিক শামছুল করিম দুলাল স্মৃতি সংসদের সহ-সভাপতি, জাতীয় সাংস্কৃতিক মঞ্চ’র কুমিল্লা বিভাগীয় কমিটির সভাপতি হিসেবেও।
অশ্বদিয়া ছাত্রকল্যান পরিষদের উপদেষ্টা,

 

সামাজিক উন্নয়ন:
তিনি সবসময় ভাবতেন সমাজের উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন শিক্ষিত মানুষ তৈরি করা সেই শিক্ষিত সমাজ তৈরি করার জন্য। তার নেতৃত্বে এবং এলাকাবাসী কে সাথে নিয়ে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন অসংখ্য প্রতিষ্ঠান। তার নেতৃত্বে যেসব প্রতিষ্ঠান তিনি গড়ে তোলেন তা হচ্ছে ইসলামপুর উচ্চ বিদ্যালয়, ভুলুয়াপাড়া দাখিল মাদ্রাসা, পাটোয়ার মহিলা মাদ্রাসা, হেসাখাল বাজার দাখিল মাদ্রাসা, অশ^দিয়া ফোরকানিয়া মাদ্রাসা, হেসাখাল হাফেজিয়া মাদ্রাসা, পাটোয়ার জামে মসজিদ,হেসাখাল বাজার জামে মসজিদ,অশ^দিয়া জামে মসজিদ (নতুন সংস্কার)সহ প্রতিষ্ঠা করেন অসংখ্য প্রতিষ্ঠান। পুল-কালভার্ট-রাস্তাঘাট। তিনি পানকরা হাইস্কুলও নাঙ্গলকোট হাইস্কুলের পরিচালনা কমিটিতে ২২ বছর দায়িত্ব পালন করেন।

 

নাঙ্গলকোট হাছান মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজের পরিচালনা কমিটিতে ১৭ বছর থেকে এসব প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় সমৃদ্ধিতে অবদান রাখেন। তার বলিষ্ঠ ভূমিকায় সমৃদ্ধি লাভ করেছিল নাঙ্গলকোট হাইস্কুলও নাঙ্গলকোট হাছান মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজ। তিনি ছিলেন নাঙ্গলকোট মডেল মহিলা কলেজের স্বপ্নদ্রষ্টাও উদ্যোক্তা। তারই ্উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয় নিশ্চিতপুর (বাকের মাস্টার বাড়ী) মসজিদ। তার বলিষ্ঠ তত্বাবধানে পরিচালিত হয়ে সমৃদ্ধি পায় সাবিত্রা বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও নাঙ্গলকোট কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের নতুন সংস্কার অংশ। এছাড়াও তার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে এই উপজেলায় নির্মিত হয় ও সংস্কার হয় অসংখ্য রাস্তাঘাট, স্কুল, কলেজ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। তারই সুদক্ষ পরিচালনায় ও নির্দেশনায় সমৃদ্ধি লাভ করে বাংলাদেশের একটি অন্যতম শ্রেষ্ঠ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ‘মৌকারা দারুচ্ছুন্নাত ওয়ালিয়া কমপ্লেক্স’। এই কমপ্লেক্সের তিনি ডাইরেক্টর জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন যার মধ্যে ৭-৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।এই প্রতিষ্ঠান গুলো কমপ্লেক্স কর্তক পরিচালিত। নাঙ্গলকোটের সামাজিক উন্নয়নের ছাদেক চেয়ারম্যান নামটি যেন প্রতিটি ইট,বালি কণা তথা মাটির সাথে মিশে আছে। সাবিত্রা বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১০০ বছর উদযাপনের আয়োজনেও তার রয়েছে অক্লান্ত পরিশ্রম।

 

পারিবারিক জীবন:
পারিবারিক জীবনে তিনি বিবাহিত। তৎকালীন নাঙ্গলকোট ইউনিয়ন থেকে নির্বাচিত ইউনিয়ন প্রেসিডেন্ট জনাব মরহুম মৌলভী শরাফত উল্লাহ সাহেবের কণিষ্ঠ কণ্যা জাহেদা বেগমের সাথে ১৯৬৭ সালে তিনি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তিনি ৬ ছেলে ১ মেয়ের জনক।

 

১ম ছেলে ইংরেজিতে এম এ ও এলএলবি শেষ করে কুমিল্লা পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটে অধ্যাপনা করছেন। ২য় ছেলে শাহাদাত হোসেন দুলাল পেশায় এডভোকেট। তৃতীয় ছেলে ১৯৯৯ সালে লাকসামে সড়ক দূর্ঘটনায় মোটরসাইকেল দূর্ঘটনায় শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন। ৪র্থ ছেলে ইংরেজিতে মাস্টার্স ও এ্যাপারেল মার্চেন্ডাইজিং এ এমবিএ ডিগ্রিধারী এবং পেশায় প্রবাস জীবনে একটি বিদেশী কোম্পানীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তা পাশাপাশি লেখালেখি করেন। ৫ম ছেলে ¯œাতক এবং পেশায় ব্যবসায়ী। ৬ষ্ঠ ছেলে অস্ট্রেলিয়ায় বিশ^বিদ্যালয়ের বিবিএ ডিগ্রিধারী এবং সিপিএ অধ্যায়নরত পাশাপাশি তিনি লেখালেখি ও করেন। একমাত্র মেয়ে ডিপ্লোমা অব ইলেকট্রো ইঞ্জিনিয়ার এবং বিএসসি ইন ইলেক্ট্রনিক্স ও ইলেক্টিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করেছেন।

 

লেখক: আজিম উল্যাহ হানিফ: লেখক-কবি ও সাংবাদিক। মোবাইল: ০১৮৩৪-৩৮৯৮৭১



এ সম্পর্কিত আরো খবর

কুমিল্লা এর অন্যান্য খবরসমূহ
নাঙ্গলকোট এর অন্যান্য খবরসমূহ
মতামত এর অন্যান্য খবরসমূহ