মাকে হত্যার বিচার চেয়ে রাস্তায় নেমেছে তুবা; হত্যাকারীদের হোক দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি - খবর তরঙ্গ
শিরোনাম :

মাকে হত্যার বিচার চেয়ে রাস্তায় নেমেছে তুবা; হত্যাকারীদের হোক দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি



আতোয়ার রহমান মনির, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি, (খবর তরঙ্গ ডটকম)



রাজধানীর উত্তর বাড্ডায় ‘ছেলেধরা’ সন্দেহে গণপিটুনিতে প্রাণ হারানো তাসলিমা বেগম রেনুর (৪০) হত্যাকারীদের বিচারসহ হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি দাবি দাবি জানিয়ে রাস্তায় নেমেছে তার শিশুকন্যা তুবা। মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে লক্ষ্মীপুর-রায়পুর সড়কে রেনুর হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে স্থানীয়রা। এসময় শত মানুষের সঙ্গে রাস্তায় দাঁড়িয়েছে চার বছরের অবুঝ শিশু তাসনিম তুবাও। মানববন্ধনে দাঁড়িয়ে অবুঝ তুবা শুধু চারিদিকে তাকিয়ে তাকিয়ে দেখেছে।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন-রায়পুর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মারুফ বির জাকারিয়া, পৌর যুবলীগ নেতা হোসেন সরদার, তানভীর কামাল, স্বেচ্ছাসেবলীগ নেতা জাকির হোসেন প্রমুখ। এ কর্মসুচিতে অংশ নেয় বিভিন্ন শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, শ্রেণি-পেশাসহ সর্বস্তরের মানুষ। এসময় বক্তারা বলেন, ছেলেধরা গুজবেই রেনুকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এটা কোনো সভ্য সমাজে হতে পারে না। তার হত্যাকারীদের দ্রুত চিহ্নিত করে গ্রেফতার ও বিচারের দাবি জানান তারা। এসময় রেনুর পরিবারের লোকজন গুজব ছড়িয়ে মানুষ হত্যার বিচারের দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করেন।


জানাগেছে, এর আগে গত ২০ জুলাই সকালে ঢাকার উত্তর পূর্ব বাড্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে রেনুকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। মেয়েকে ভর্তির জন্য ওই স্কুলে খোঁজ নিতে যান তিনি। এসময় তার কথাবার্তায় সন্দেহ হলে গুজবেই লোকজন জড়ো হয়ে ছেলেধরা বলে গণপিটুনি দিলে মারা যান রেনু। এরপর লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার উত্তর সোনাপুর গ্রামে রেনুর বাবার বাড়িতে রোববার রাতে তাকে দাফন করা হয়। তুবা এখন তার খালাদের সঙ্গে রয়েছে।


অপরদিকে নিহতের বোন সেলিনা আক্তার বলেন, তার বোন তাসলিমা ছোটবেলা থেকেই বাবার সাথে ঢাকায় বসবাস করেছিলেন। সেখানেই উত্তর বাড্ডা এলাকার তসলিম উদ্দিনের সাথে তার বিয়ে হয়েছিল। তাদের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। গত বছর পূর্বে পারিবারিক কলহের কারনে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। শনিবার (২০ জুলাই) তাসলিমার সন্তান তুবা তাসনিমকে (৩) স্কুলে ভর্তি করার জন্য খোঁজ নিতে উত্তর বাড্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যান। সে সময় স্থানীয়রা তাকে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করে। এখন তার সন্তানদের কি হবে, কোথায় পাবে তারা তাদের মাকে। কাকে তারা আম্মু বলে ডাকবে, কাকেই বা জড়িয়ে ধরে ঘুমাবে। তুবা তো তার মায়ের কথা মনে করেই বারবার কান্না করে। তুবা জানে না তার মা আর আসবে না তার নিকট। তাবে তুবা জানে তার ‘মা ড্রেস নিয়ে ফিরবে । জিজ্ঞাসা করলেই চলছে তুবা মা কখন আসবে। তার কান্নায় শুধু শোক বইছে আমাদের মাঝে। তুবাকে শান্তনা দেওয়ার ভাষা নেই আমাদের। তবে বলবো এ হত্যার বিচার ও দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি হোক। তুবাকে যেন বড় হয়ে তার মায়ের হত্যাকারীদের বিচারের জন্য আর যেন রাস্তায় নামতে না হয়।



এ সম্পর্কিত আরো খবর

লক্ষীপুর এর অন্যান্য খবরসমূহ
লক্ষ্মীপুর এর অন্যান্য খবরসমূহ