ফেসবুকে আপত্তিকর ছবি দেওয়ার অভিযোগ ক্ষোভ অপমান সইতে না পেরে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা - খবর তরঙ্গ
শিরোনাম :
বিচারের দাবীতে রামগতিতে সহপাটি ও স্বজনদের মানববন্ধন

ফেসবুকে আপত্তিকর ছবি দেওয়ার অভিযোগ ক্ষোভ অপমান সইতে না পেরে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা



আতোয়ার রহমান মনির, (খবর তরঙ্গ ডটকম)

আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ফেসবুকের মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে ক্ষোভ অপমান সইতে না পেরে বিষপানে আত্মহত্যা করেন রামগতি আহমদিয়া কলেজের দ্বাদশ শ্রেণীর মেধাবী শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান নাফিজা।এ ঘটনায় সোমবার সকালে শিক্ষার্থীর সহপাটিসহ স্বজনরা অভিযুক্ত প্রেমিককে গ্রেফতার ও এঘটনার বিচারের দাবীতে মানববন্ধন করে। এসময় স্থানীয় কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীসহ স্বজনরা মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনার অভিযুক্তকে গ্রেফতারসহ মামলার সুষ্ঠু তদন্ত, ন্যায় বিচার, পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে মানববন্ধনে দাবী তুলেন।



স্বজনদের অভিযোগ,সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একই ইউনিয়নের তার প্রেমিক রামগতি উপজেলার বড়খেরি এলাকার বাসিন্দা ইউসুফ মাহমুদ নামে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশ লাইন্সে পুলিশ সদস্য আপত্তিকর ছবি ছড়িয়েদেন। এটি সহ্য করতে না পেরে (১১ আগস্ট) প্রেমিকা ইসরাত জাহান নাফিজা (১৮) বিষপান করে আত্মহত্যা করে। শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান নাফিজার চাচা মো.রাশেদ জানান,এ ঘটনায় থানায় মামলা করতে গিয়ে মামলা না নেওয়ায় পরে ২৯ আগস্ট ইউসুফ মাহমুদসহ তার মা রহিমা বেগম ও বোন ঝর্ণা বেগমসহ তিনজনের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীর বাবা মো.হেলাল বাদী হয়ে আদালতে একটি মামলা করেন।



বাদীর আইনজীবী জসিম উদ্দিন সুমন জানান,সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক কাজী সোনিয়া আক্তার আমলে নিয়ে মামলাটি নোয়াখালী পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দেয়া হয়। যা এক মাসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিলের জন্য বলেছেন বিচারক।



স্থানীয় এলাকাবাসী ও স্বজনদের অভিযোগ,রামগতি উপজেলার বড়খেরি এলাকায় ইয়াছিনের ছেলে ইউসুফের সঙ্গে চরআফজল এলাকার নাফিজার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সেই সুযোগে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে নাফিজার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক গড়েন রামগতি উপজেলার বড়খেরি এলাকার বাসিন্দা ইউসুফ।এ সময় প্রেমিকার আপত্তিকর ভিডিও ও ছবি ধারণ করেন ইউসুফ। এরপর থেকে ভিডিও ও ছবিগুলো ফেসবুকে ছেড়ে দেয়ার হুমকি দিয়ে শিক্ষার্থীর সঙ্গে বিভিন্ন সময় শারীরিক সম্পর্ক করে আসছিলেন তিনি।
একপর্যায়ে শিক্ষার্থী তার পরিবারের লোকজনকে বিষয়টি জানান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ইউসুফ আপত্তিকর ভিডিও ও ছবিগুলো ফেসবুকে ছড়িয়ে দেন। সেই সঙ্গে শিক্ষার্থী বোনের ইমোতে ছবি ও ভিডিওগুলো পাঠান। এটি দেখে গত ১ আগস্ট শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান নাফিজা ইউসুফের বাড়িতে যান। সেখান থেকে তাকে অপমান করে বের করে দেয়া হয়। বিষয়টি সহ্য করতে না পেরে ৫ আগস্ট সন্ধ্যায় নাফিজা বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করে ১০ আগস্ট পর্যন্ত চিকিৎসা দেয়া হয়। বাড়িতে নিয়ে এলে পরদিন তার অবস্থার অবনতি ঘটলে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম নেয়ার পথে (১১ আগস্ট) নাফিজা মারা যান।


রায়পুর এর অন্যান্য খবরসমূহ
লক্ষীপুর এর অন্যান্য খবরসমূহ
লক্ষ্মীপুর এর অন্যান্য খবরসমূহ