ইউপি নির্বাচনে ১৪৫ প্রাণহানি, সংখ্যালঘু নির্যাতনে ক্ষমতাসীনরা - খবর তরঙ্গ
শিরোনাম :

ইউপি নির্বাচনে ১৪৫ প্রাণহানি, সংখ্যালঘু নির্যাতনে ক্ষমতাসীনরা



নিউজ ডেস্ক, (খবর তরঙ্গ ডটকম)

ছয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার প্রায় প্রতিটি ঘটনা ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মাধ্যমে ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)।

 

সুজনের সমন্বয়ক দিলীপ কুমার সরকার বলেন,‌ দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে এবারের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দেশের কোন কোন অঞ্চলে বিশেষ করে বরিশাল, পটুয়াখালী, বরগুনা, পিরোজপুর, খুলনা ও বাগেরহাট জেলায় নির্বাচনপূর্ব ও নির্বাচন পরবর্তীকালে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায় হামলার শিকার হয়েছে। এর প্রায় প্রতিটি ঘটনা ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ অথবা তাদের বিদ্রোহী প্রার্থী কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ঘটেছে। আবার কোনো কোনো এলাকায় নির্বাচনের পূর্বে সংখ্যালঘুদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও পাওয়া গেছে।

 

বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা রিপোটার্স ইউনিটির সাগররুনি মিলনায়তনে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) আয়োজিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ২০১৬ এর একটি সার্বিক প্রতিবেদন শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

 

সদ্য শেষ হওয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সহিংসতার কথা উল্লেখ করে দিলীপ কুমার সরকার বলেন, বাংলাদেশে এ পর্যন্ত নয়বার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। আমাদের দেশে নির্বাচন বিশেষ করে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গ্রামে গঞ্জে একদিকে যেমন ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়, পাশাপাশি প্রার্থী ও সমর্থকদের বিরোধে সংঘাত সংঘর্ষও হয় ফলে হতাহতের ঘটনাও ঘটে থাকে। তবে এবারের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সহিংসতার রেকর্ড অতীতের সকল রেকর্ডকে অতিক্রম করেছে।

 

তিনি বলেন, প্রাণহানির ক্ষেত্রে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হলো এবারের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে এ পর্যন্ত নির্বাচনপূর্ব, নির্বাচনকালীন ও নির্বাচন পরবর্তী সংঘর্ষ এবং নির্বাচন কেন্দ্রিক বিরোধের জেরে ১৪৫ জনের প্রাণহানি ঘটেছে।

 

তথ্য পর্যাললোচনায় দেখা যায়, প্রথম ধাপের নির্বাচনের পূর্বে ১০ জন, নির্বাচনের দিন ১১ জন প্রথম ধাপের নির্বাচনের পর থেকে ২য় ধাপের নির্বাচনের পূর্ব পর্যন্ত ১১ জন, ২য় ধাপের নির্বাচনের দিন ৯ জন, দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনের পর থেকে ৩য় ধাপের পর পর্যন্ত ১৭ জন, ৩য় ধাপের নির্বাচনের দিন ৫জন নিহত হয়েছে। ৩য় ধাপের নির্বাচনের পর চতুর্থ ধাপের পূর্ব পর্যন্ত ১০ জন, চতুর্থ ধাপের নির্বাচনের দিন ৮ জন এবং চতুর্থ ধাপের পর পঞ্চম ধাপের পূর্ব পর্যন্ত ২৩ জন নির্বাচনের দিন ১৫ জন আর শেষ ধাপের নির্বাচনের আগে ৮জন নির্বাচনের দিন ৫জন এবং নির্বাচনের পরে ১৩ জন নিহত হয়েছে।

 

এসময় তিনি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সহিংসতারোধে সুজনের পক্ষ থেকে তিনি কিছু করণীয় তুলে ধরেন স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালীকরণ, ব্যাপক সংস্কারের মধ্য দিয়ে রাজনীতিতে সুস্থতা ফিরিয়ে আনতে হবে। স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালীকরণের ক্ষেত্রে প্রয়োজন একটি বলিষ্ঠ বিকেন্দ্রীকরণ কর্মসূচির মাধ্যমে আরো ক্ষমতা, দায়িত্ব, সম্পদ দিয়ে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহকে প্রকৃত অর্থেই শক্তিশালী করা।

 

এ সময় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ‘ভৌতিক নির্বাচন’ বলে মন্তব্য করেন লেখক, সাংবাদিক ও কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ।

 

এই নির্বাচনে মৃতরা ভোট দিয়েছে জীবিতরা নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, এবারের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সরকারী দল সাময়িকভাবে লাভবান হয়েছে। এতে যা হয়েছে তার জন্য ভবিষ্যতে নির্বাচন কমিশনকে জাতির কাছে জবাবদিহি করতে হবে।

 

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন, সুজনের সভাপতি হাফিজ উদ্দীন আহমেদ খান, মোহাম্মাদ জাহাঙ্গীর ও প্রকৌশলী মুসবাহ আলীম প্রমুখ।


এ সম্পর্কিত আরো খবর