সৌদি আরবের তেল শোধনাগারে হামলার কি প্রভাব পড়বে বাংলাদেশে

সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় খাতের প্রতিষ্ঠান আরামকো পরিচালিত দুটি তেল শোধনাগারে হামলার পর আরামকো জানিয়েছে এশিয়ার অনন্ত ছয়টি রিফাইনারি তেল কোম্পানি অক্টোবরের জন্য যে পরিমাণ অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বরাদ্দ করা আছে তার পুরোটাই সরবরাহ করা হবে।

যদিও একটি কোম্পানিকে বলা হয়েছে তেলের মান সামান্য পরিবর্তন হতে পারে। খবর বিবিসি বাংলার

সৌদি আরব থেকে এশিয়ার অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানিকারক দেশগুলোর তালিকায় বাংলাদেশও আছে।

গত শনিবার এই হামলার পর সৌদি আরব বলছে তাদের সংরক্ষণাগারে পর্যাপ্ত তেল রয়েছে, সেটা দিয়ে তারা তাদের ক্রেতাদের চাহিদা মেটাতে পারবে।

হামলার পর সৌদি আরবের পক্ষ থেকে এই প্রথমবারের মত এশিয়ার শীর্ষ ক্রেতাদের কাছে ইঙ্গিত দেয়া হল যে তেলের সরবরাহ স্থিতিশীল থাকবে।

এই দেশগুলোতে সৌদি আরব তার মোট রপ্তানির ৭০%-ই দিয়ে থাকে।

বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্স কে বলেছেন, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) অক্টোবরের জন্য বরাদ্দকৃত জ্বালানী তেলের সম্পূর্ণটাই পাবে।

এই কর্মকর্তা বলেছেন গতকাল আমাদের পরবর্তী চালান নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং তারা আমাদের নিশ্চিত করেছে তেল পৌঁছাতে কোন দেরি হবে না।

সেপ্টেম্বরের ২৮ তারিখে এক লাখ টন আরব লাইট অপরিশোধিত জ্বালানি তেল পাঠানোর কথা রয়েছে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন সৌদি আরবের আরামকো থেকে বার্ষিক ৭ লাখ টন আরব লাইট অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করে।

এদিকে, অন্য একটা কোম্পানিকে বলা হয়েছে কার্গোতে দেরি হতে পারে তবে অক্টোবরে জন্য তেলের পরিমাণ এবং মান একই রকম থাকবে।

ভারতের তিনটি রাষ্ট্রীয় কোম্পানি ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন, ভারত পেট্রোলিয়ম কর্পোরেশন লি. এবং ম্যানগালোর রিফাইনারি এন্ড পেট্রোকেমিক্যালস লিমিটেড – এই তিনটি কোম্পানি রয়টার্সকে জানিয়েছে সৌদি আরব থেকে অক্টোবরের জন্য তাদের চাহিদা অনুযায়ী পুরোটাই পাবে।

কিন্তু আরামকো ইন্ডিয়ান ওয়েল কর্পোরেশন কে জানিয়ে দিয়েছে যে, তারা আরব মিক্স অয়েল-এর পরিবর্তে কিছু পরিমাণ আরব হেভি অয়েল। যদিও রয়টার্স তাদের সংবাদসূত্র উল্লেখ করেনি, কারণ গণমাধ্যমের সাথে কথা বলার এখতিয়ার ঐ ব্যক্তির নেই।

এটা ইঙ্গিত করে সৌদি আরব এখন লাইট অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের পরিবর্তে হেভি অপরিশোধিত জ্বালানি তেল প্রস্তাব করছে।

কারণ আরব মিক্স তেল হলো লাইট এবং হেভির মিশ্রণ। যদিও ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন থেকে তাৎক্ষণিক কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

শনিবারের হামলায় আবকাইক তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এই শোধনাগারটিতে ঘাওয়ার, শাইবাহ এবং খুরাইস তেলক্ষেত্র থেকে পরিশোধন করে এবং আরব লাইট বা আরব এক্সট্রা লাইট উৎপাদন করে।

চীন এবং তাইওয়ানের দুটি কোম্পানি জানিয়েছে, আরামকো তাদের বলেছে, তেলের চালানের সময়ের কোন পরিবর্তন হবে না।

এশিয়ার বাজারে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত এবং থাইল্যান্ড সৌদি আরবের লাইট এবং আরব এক্সট্রা লাইট তেলের প্রধান ক্রেতা।

সোল ভিত্তিক একটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, দক্ষিণ কোরিয়াতে তেল সরবরাহের কোন বিঘ্ন হবে এমন কোন ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।

মার্কিন সেনা কর্মকর্তা হলেন বাংলাদেশি তরুণী আফিয়া

বাংলাদেশে নারীরা দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী থেকে শুরু করে সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে যুক্ত হয়ে গৌরবময় অবদান রেখে চলেছেন। এবার মার্কিন সেনাবাহিনীতে অফিসার পদে যোগ দিয়েছেন এক বাংলাদেশের তরুণী আফিয়া জাহান পম্পি (২০)।

যুক্তরাষ্ট্রের ব্রুকলিনের চার্চ ম্যাকডোনাল্ডে পরিবারের সঙ্গে থাকেন আফিয়া। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রাম জেলার মিরসরাই উপজেলার জমালপুর গ্রামে। আফিয়ার বাবা মিরসরাই অ্যাসোসিয়েশন এনএর সভাপতি মেজবাহ উদ্দিন ও মায়ের নাম নুরুচ্ছাবাহ পূর্ণিমা।

আফিয়ার মা-বাবা সাংবাদিকদের জানান, তাদের সংসারে তিনকন্যা সন্তান রয়েছে। আফিয়া ছাড়া অপর দুই মেয়ের নাম সাদিয়া ও পৃথা। ছোটবেলায় পরিবারের সঙ্গে আফিয়া যুক্তরাষ্ট্রে যান। সেখানেই পড়াশোনার পাশাপাশি সংস্কৃতিও চর্চা রয়েছে আফিয়ার। বর্তমানে ফার্মিং ডেল স্টেট কলেজের ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সের শেষ বর্ষের ছাত্রী আফিয়া।

মন্ত্রিত্ব গেলে আবার সাংবাদিকতায় আসব: ওবায়দুল কাদের

মন্ত্রিত্ব হারালে সাংবাদিকতায় ফিরে যাওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

শনিবার ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা জানান। রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

সভায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ওবায়দুল কাদের বলেন, আপনারা (সাংবাদিক) আজকের এমন একটি সুন্দর অনুষ্ঠানকে পত্রিকার শিরোনাম রাজনৈতিক করার জন্য ভিন্ন দিকে নিয়ে যাচ্ছেন। আপনারা প্রাসঙ্গিক না কেন?

এসময় সেতুমন্ত্রী বলেন, আপনারা সাংবাদিকতা করেন, আমিও আপনাদের অগ্রজ। মন্ত্রিত্ব গেলে আমি আবার সাংবাদিকতায় ফিরে আসব।

ছাত্রদলের সম্মেলন বন্ধ নিয়ে সাংবাদিকদের করা প্রশ্নের উত্তরে ওবায়দুল কাদের বলেন, ছাত্রদলের সম্মেলন বন্ধ হয়েছে। নিজেদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে তাদের বিরুদ্ধে তারা মামলা করে সম্মেলন বন্ধ করেছে। এখানেও শেখ হাসিনার দোষ। যত দোষ নন্দ ঘোষ। এখানে আওয়ামী লীগের দোষ কি?

উল্লেখ্য, পঁচাত্তর পরবর্তীতে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন ওবায়দুল কাদের। এরপর আশির দশকে শেখ ফজলুল হক মনি প্রতিষ্ঠিত দৈনিক বাংলার বাণীতে কাজ করতেন তিনি।

দেশপ্রেম ও সৎকর্মের মধ্য দিয়ে গণমানুষের হৃদয়ে অধিষ্ঠিত হয়েছেন এম আব্দুর রহিম

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এমপি বলেছেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের উজ্জ্বল নক্ষত্র এম আব্দুর রহিম তাঁর আদর্শ, দেশপ্রেম ও সৎকর্মের মধ্যে দিয়ে গণমানুষের হৃদয়ে শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় অধিষ্ঠিত হয়েছেন। মহান মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা পরবর্তীকালে তাঁর অবদানের কথা দেশের মানুষ শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে।

এসময় তিনি নতুন প্রজন্মকে এম আব্দুর রহিমের আদর্শ অনুসরণের আহবান জানান।

তিনি ১৩ সেপ্টেম্বর শুক্রবার বিকেলে দিনাজপুরে ঐতিহাসিক গোর এ শহীদ ময়দানে এম আব্দুর রহিম সমাজ কল্যাণ ও মুক্তিযুদ্ধ গবেষণা কেন্দ্র আয়োজিত জননেতা এম আব্দুর রহিমের তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণ সভায় এ কথা বলেন।

স্পীকার বলেন, যুগে যুগে পৃথিবীতে এমন কিছু মানুষের আবির্ভাব ঘটে যাঁরা নিজের চেয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণের কথা অধিক গুরুত্বের সাথে চিন্তা করেন। মরহুম এম আব্দুর রহিম ছিলেন তেমনই একজন। তিনি দেশের জন্য ও এ অঞ্চলের গণমানুষের অধিকার আদায়ে আজীবন সোচ্চার ছিলেন।

তিনি বলেন, এম আব্দুর রহিম ছিলেন শিক্ষানুরাগী আদর্শবান ব্যক্তিত্ব। সমাজ সেবায় তিনি রেখেছেন উজ্জ্বলতার স্বাক্ষর। তিনি ছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহচর, মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, সংবিধান প্রণেতা—এ আদর্শবান নেতা নতুন প্রজন্মের কাছে অনুকরণীয়।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে—এগিয়ে যাবে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশকে ‌আত্মমর্যাদাশীল জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে গেছেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ অনন্য উচ্চতায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, উন্নয়নের সকল সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ়–দারিদ্রের হার ৪০ শতাংশ থেকে ২১ শতাংশে কমে এসেছে। ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হবে বাংলাদেশ।

অনুষ্ঠানে এম আব্দুর রহিম সমাজকল্যাণ ও মুক্তিযুদ্ধ গবেষণা কেন্দ্রের সভাপতি এডভোকেট আজিজল ইসলাম জুগলু এর সভাপতিত্বে মরহুম এম আব্দুর রহিমের জেষ্ঠ্য পুত্র বিচারপতি এনায়েতুর রহিম, বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকার সম্পাদক নঈম নিজাম, একাত্তর টিভি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক বাবু বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে এম আব্দুর রহিম এর কনিষ্ঠ পুত্র বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম এমপি, জেলা প্রশাসক মাহমুদুল আলম, পুলিশ সুপার সৈয়দ আবু সায়েম, এম আব্দুর রহিম সমাজকল্যাণ ও মুক্তিযুদ্ধ গবেষণা কেন্দ্রের সভাপতি এডভোকেট আজিজল ইসলাম জুগলু, কার্যকরী সভাপতি সফিকুল হক ছুটু, সাধারণ সম্পাদক চিত্ত ঘোষ উপস্থিত ছিলেন।

পরে এম আব্দুর রহিমের ৩য় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে রচনা প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরষ্কার বিতরণ করেন স্পীকার। এর আগে দুপুরে স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী দিনাজপুরে পৌঁছে জননেতা এম আব্দুর রহিমের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং এম আব্দুর রহিমের রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মোনজাতে অংশ নেন।

বাংলাদেশের তরুণরা চাকরিতে যেসব দক্ষতায় পিছিয়ে

বাংলাদেশের স্কুল-কলেজগুলো থেকে তরুণ-তরুণীরা যে শিক্ষা পাচ্ছে, তাতে তারা কর্মসংস্থানের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে পারছে না, সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এমন তথ্য উঠে আসে।

বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাক, বিআইজিডি এবং ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় যৌথভাবে এ জরিপটি চালায়। খবর বিবিসি বাংলার

সারা বাংলাদেশে ১৫ থেকে ৩৫ বছর বয়সী চার হাজারেরও বেশি তরুণ-তরুণীর ওপর এ জরিপ পরিচালনা করা হয়।

সেখানে দেখা যায় যে, এই শিক্ষার্থীদের মধ্যে কম্পিউটার ও ইংরেজি ভাষায় আত্মবিশ্বাসী মাত্র ১৬ শতাংশ। এছাড়া অংশগ্রহণকারীদের মাত্র এক-পঞ্চমাংশ মনে করেন যে, তাদের শিক্ষা চাকরি পাবার ক্ষেত্রে সহায়ক হবে।

জরিপের গবেষকদের একজন নিম্মি নুসরাত হামিদ বলেন, বাংলাদেশের এক-তৃতীয়াংশই তরুণ-তরুণী, যারা আগামীতে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করবে।

তাই এই তরুণদের চাওয়ার পাওয়া বা সমস্যার বিষয়গুলো জানতে এবং কোন ধরণের ক্ষেত্রগুলোয় কাজ করলে তাদের সুবিধা হবে- সেই বিষয়গুলো তুলে ধরতে গবেষণাটি বেশ সময়োপযোগী।

তিনি বলেন, আজকালকার তরুণরা কোন দিকটায় ভাল, তারা কোন বিষয়গুলো নিয়ে বেশি ভাবে সেই ব্যাপারে তাদের মতামত জানাটা জরুরি।

গবেষণা পরিচালনা করতে গিয়ে দেখা গেছে, শুধুমাত্র চাকরি নয়, কেউ যদি উদ্যোক্তা হতে চান, তাহলে তারা ব্যবসা করার পুঁজি কোথা থেকে পাবে, এমনকি নিজেদের চাহিদাগুলোর ব্যাপারে বেশিরভাগ তরুণ সচেতন না বলে জানান তিনি।

এক্ষেত্রে দেশের প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মিজ হামিদ।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের যুব সমাজ স্কুল কলেজে যে শিক্ষা পাচ্ছে, সেটা তাদেরকে কর্মজীবনের জন্য পরিপূর্ণ রূপে তৈরি করতে পারছে না।

কেননা আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরণের দক্ষতার শিক্ষার অভাব রয়েছে। আবার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে তারা যেই দক্ষতা অর্জন করছে সেই দক্ষতা অনুযায়ী পর্যাপ্ত চাকরি নেই।

আবার যেই চাকরিগুলো রয়েছে, সেগুলোয় ভাল করার জন্য যে দক্ষতা প্রয়োজন। সেই দক্ষতা আমাদের যুব সমাজের নেই।

যেমন কম্পিউটার পরিচালনায় দক্ষতা, ইংরেজি ভাষার দক্ষতা অথবা কারিগরি যেকোন ধরণের প্রশিক্ষণ।

গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাত্র ১৪% তরুণ-তরুণী কারিগরি প্রশিক্ষণ পেয়েছে। আবার এই দক্ষতার মাপকাঠিতে দক্ষ তরুণের হার ২৪%- অর্থাৎ তারা তাদের কম্পিউটারে দক্ষতার ব্যাপারে বেশ আত্মবিশ্বাসী।

অথচ নারীদের কম্পিউটারে দক্ষতার হার মাত্র ১০%।

অন্যদিকে ইংরেজিতে দক্ষতায় এগিয়ে ২১% তরুণ। যেখানে নারীদের এই ভাষাগত দক্ষতার হার মাত্র ১৪%। অর্থ্যাৎ দক্ষতার দিক থেকে নারীরা এখনও অনেকটাই পিছিয়ে আছে।

এই ব্যবধান শহরের চাইতে গ্রামে আরও বেশি চোখে পড়ে। এর প্রধান কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, স্কুলে শিক্ষার মান তেমন উন্নত হয়।

আবার যেসব স্কুলে মানসম্মত পড়ালেখা হয়, সেখানে ভর্তি হওয়ার মতো সুযোগ বা সামর্থ্য নেই অনেকের।

গবেষণায় উঠে এসেছে, যেসব তরুণ-তরুণীরা এখনও লেখাপড়া করছেন, তাদের মূল লক্ষ্য থাকে পড়াশোনা শেষে দেশের বাইরে যাওয়া। কারণ দেশে থেকে কিছু করার ব্যাপারে তারা একদমই আশাবাদী না।

গবেষণায় দেখা গেছে, যারা অপেক্ষাকৃত কম শিক্ষিত তারা সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া পাড়ি জমাতে চান সবচেয়ে বেশি।

আবার যারা ইংরেজি ভাষা এবং কম্পিউটারে বেশ দক্ষ, তারা যেতে চায় অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র এসব দেশে।

এই দেশ ছাড়ার মূলে রয়েছে এই দেশের তরুণ সমাজের জন্য এখনও বড় ধরণের কোন রোল মডেল নেই। অন্তত ৫৪% শিক্ষার্থী তাই মনে করে।

এক্ষেত্রে সরকারের নেটওয়ার্কিং বাড়িয়ে এই শিক্ষার্থীদের কর্মক্ষেত্রের যুক্ত করতে আরও দক্ষ করে তোলা প্রয়োজন বলে মনে করেন মিজ হামিদ।

সরকারি চাকরি তো সবাই করে। কিন্তু সরকারি চাকরির বাইরেও এই তরুণদের আরও অনেক সম্ভাবনাময় সুযোগ রয়েছে সেগুলো তাদের খুঁজে দিতে হবে।

তরুণ-তরুণীদের হতাশার অন্যতম কারণ, তারা মনে করে যে তাদের কথাগুলো শোনার মত কেউ নেই। অথচ এই তরুণরাই আমাদের পথ দেখাবে।

বাংলাদেশ দুর্নীতিতে বিশ্বে ১৩তম, দক্ষিণ এশিয়ায় দ্বিতীয়: টিআই

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল (টিআই)-এর দুর্নীতির ধারণা সূচক অনুযায়ী বাংলাদেশে দুর্নীতি বেড়েছে। শীর্ষ দুর্নীতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান এখন ১৩তম। গেলো বছরে যা ছিল ১৭তম। অর্থাৎ এই সূচকে এক বছরে বাংলাদেশের ৪ ধাপ অবনতি হয়েছে। যাকে বিব্রতকর অবনতি বলছে টিআই। আর দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে এই অবস্থান দ্বিতীয়।

আজ মঙ্গলবার জার্মানির বার্লিন থেকে বিশ্বজুড়ে এই সূচক প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। বাংলাদেশের বিষয়ে রাজধানীর মাইডাস সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলন করে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সেখানে দুর্নীতির ধারণা সূচক ২০১৮-তে বাংলাদেশের অবস্থান সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান। তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্কোর ১০০ এর মধ্যে ২৬। যেটা ২০১৭ সালের তুলনায় দুই পয়েন্ট কম। অর্থাৎ আমাদের ২ পয়েন্ট অবনতি হয়েছে শতকরা হারে। বাংলাদেশের র‌্যাংকিংয়ের বিবেচনায় এই পরিস্থিতি আরও বিব্রতকর। ওপর থেকে ১৮০ দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ১৪৯তম।

যেটা গতবারের তুলনায় ৬ ধাপ নিচে। গতবার ছিল ১৪৩তম স্থানে। ১৮০টি দেশের ওপর টিআই এই জরিপ চালিয়েছে। জরিপে ০ থেকে ১০০ নম্বরের স্কেলে দেশগুলোকে নম্বর দেয়া হয়েছে। সবচেয়ে কম নম্বর (১০ স্কোর) পেয়ে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ হয়েছে সোমালিয়া। তারপরেই রয়েছে (১৩ স্কোর) সিরিয়া ও দক্ষিণ সুদান। তৃতীয় অবস্থানে (১৪ স্কোর) রয়েছে ইয়েমেন ও উত্তর কোরিয়া। এই দেশগুলোর বেশির ভাগই চরমপন্থা ও যুদ্ধবিধ্বস্ত।

আর সবচেয়ে বেশি (৮৮ স্কোর) পেয়ে সবেচয়ে কম দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ বিবেচিত হয়েছে ডেনমার্ক। কম দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে এর পরেই রয়েছে (৮৭ স্কোর) নিউজিল্যান্ড। তৃতীয় অবস্থানে (৮৫ স্কোর) রয়েছে ফিনল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, সুইডেন ও সু্ইজারল্যান্ড। বাংলাদেশের সঙ্গে একইরকমভাবে ২৬ স্কোর পেয়ে বেশি দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে ১৩ নম্বর অবস্থানে রয়েছে সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক ও উগান্ডা।

বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসা খাতে উন্নয়ন 

আত্মতুষ্টি মানুষের সকল কর্মকাণ্ডের এক প্রেরণার উৎস। কোনো কাজ করে যদি মানসিক প্রশান্তি পাওয়া যায় তাহলেই মানুষ ঐ কাজের দিকে ধাবিত হবে। মানুষ সমাজিক ভাবে এ জগৎ সংসারে আগমন করে বিশেষভাবে কোনো না কোনো দ্বায় দ্বায়িত্ব নিয়েই। অর্থাৎ, বলতেই হয় এক ধরনের আদর্শ জীবন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে। এ আদর্শের বিচিত্র কর্মকান্ডে সুন্দর জীবনকে যদি মুখরিত করে তোলা যায়, তবে জীবন যাপনের স্বার্থকতা প্রমাণিত হয় বৈকি। পরের জন্য নিজেকেই বিলিয়ে দিতে হবে আদর্শকে প্রতিষ্ঠার জন্য, তবেই হয়তো বা মানুষকে আনন্দ দান করা সম্ভব। এর মাঝে রয়েছে মানসিক প্রশান্তি। আর মহৎ কার্যাবলিই মানুষকে দিতে পারে সুখের সন্ধান। সুতরাং সুখের সন্ধানেই প্রবেশের ১ম দিক হচ্ছে শরীর ও মন। শরীর ও মনের সংমিশ্রণেই গড়া এই মানুষ। স্বাস্থ্য ভালো থাকলেই মানুষ সকল কাজে উৎসাহ পায়, তেমনি মনের প্রশান্তির জন্যেও দরকার আত্মতুষ্টি। আত্মতুষ্টি দেয় কর্মপ্রেরণা। তাই সন্তুষ্টির সাথে যেকোনো কাজ করলে তার ফলাফল সুদূরপ্রসারী হয়ে থাকে। জনতার জনপ্রিয় জননেত্রী ‘শেখ হাসিনা’ আজকের বাংলাদেশকে আত্ম বিশ্বাস কিংবা আত্মতুষ্টির সহিত পরিচালনা করে ফলাফল দাঁড় করাতে পেরেছে একটি উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে।

 

তিনি সুস্বাস্থ্যের ও সাফল্যের মানুষ, তাই তো দেশের মানুষের জন্যে সু-চিকিৎসার বৃহৎ ভাবনা। আবারও যদি ক্ষমতায় আসে, বাংলাদেশের প্রতিটি বিভাগীয় শহরে একটি করেই মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণ করবে বলেই ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে কোনো মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় কখনো ছিল না, তা নির্মাণ করার পরিকল্পনা নিই। দেশের মানুষ সুলভে সুচিকিৎসা পাবে, তাদের সন্তান সেখানে পড়া শোনা করে খুব ভালো ডাক্তার হবে। জাতির পিতা প্রতিটি উপজেলায় দশ বেডের হাসপাতাল করেছিল, মানুষ সেখানেই স্বাস্থ্যসেবা যুগোপযোগী মানের পাশাপাশি ডাক্তার তৈরি বা মেডিকেল ‘ছাত্র/ছাত্রীরা’ চিকিৎসা পদ্ধতির বিভিন্ন ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখেই যেন তাদের মননশীলতাকে বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এমন ধরনের হাসপাতাল গুলো নির্মিত ছিল। কিন্তু আজকে আর নেই ”জাতির পিতা”, তাঁর স্বপ্ন ‘শেখ হাসিনা’র’ চিন্তা চেতনায় রেখেছে এবং তা বাস্তবেই রূপ নিচ্ছে। তাই তো জননেত্রী শেখ হাসিনা, জাতির পিতার সেই স্বপ্ন পুরনে ইতিমধ্যেই রাজশাহী এবং চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় শুরু করেছে। তা ছাড়া, আরও একটি সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রস্তুাব পাশও হয় পার্লামেন্টে । আরও বাঁকি “পাঁচটি” বিভাগীও শহরে ‘মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়’ হাতে নিয়েছে। “আওয়ামী লীগ সরকার” আবারও ক্ষমতায় এলে সেই গুলোর কাজ শুরু করবে। এখানে স্বাস্থ্যসেবার পাশাপাশিও ছাত্র ছাত্রীদের সুশিক্ষার প্লাটফর্ম সৃষ্টি হবে। নওগা, নীলফামারি, মাগুরায় “মেডিকেল কলেজ” করাও হচ্ছে। চাঁদপুরেও একটি “মেডিকেল কলেজ” করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। জানা যায় যে, এই খানে কর্মরত নার্সদের দীর্ঘদিনের দাবি অনুযায়ী তাদেরও সরকারী ২য় শ্রেণীর মর্যাদা দেয়া হয়েছে। সুশিক্ষা ও চিকিৎসার ক্ষেত্রে ‘বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়’ হবে, তাকেই ‘আধুনিক’ সেবা’র সঙ্গেই উন্নত শিক্ষার এক সেন্টার অব এক্সসিলেন্স তৈরি হবে। সুতরাং এ দেশে সু-চিকিৎসার সহিত শিক্ষা, মেধা বৃত্তি’র সহিত সু-চিকিৎসার প্রতিষ্ঠান নির্মাণের পাশা পাশিও যেন সেখানে ডাক্তারদের গবেষণায় সমগ্র বিশ্ব থেকে বহু সহায়তা পাচ্ছে।

 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বঙ্গবন্ধু’কে হত্যার পরে দেশে চিকিৎসা খাতে উন্নয়ন কিংবা গবেষণায় কোনো ধরনের অভূতপূর্ব বরাদ্দ ছিল না। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে ১ম থেকে বরাদ্দ দেয়ার প্রক্রিয়া চালু করে। সুতরাং উল্লেখ করার মতোই বহু উদহারণ রয়েছে। চিকিৎসার গুণ গত মানোন্নয়নের লক্ষণীয় দৃষ্টান্ত হলো, শিশুদের টিকা দান কর্ম সূচির সাফল্য। এক্ষেত্রেই বাংলাদেশ বিশ্বে অন্যতম আদর্শ দেশ হিসেবে পরিনত হয়েছে। এই দেশের টিকা দান কর্ম সূচিতে মুলত ৬ টি রোগের টিকা প্রদান করছে। যেমন হুপিং কাশি, ধনুষ্টংকার, ডিপথেরিয়া, হাম ও পোলিও মতো রোগের চিকিৎসাতে। এ চিকিৎসাতে জাতিসংঘ কর্তৃক পুরস্কৃত হয়েছে বাংলাদেশ। এমন দেশকে এখন পোলিও মুক্ত রাষ্ট্র ঘোষণা করাও হয়।

 

আওয়ামী লীগ সরকারের অর্জন অনেক। এ অর্জন গুলোর বিভিন্ন দিক নিয়ে বিশেষজ্ঞদের আলোচনা থেকে সংক্ষিপ্ত আলোচনায় শেষ করার মতো এমন এই স্বাস্থ্য এবং চিকিৎাসা’র খাত নয়। বাংলাদেশের স্বাস্থ্য সমস্যা অনেক ব্যাপক। তার সামাজিক কিংবা অর্থনৈতিক প্রভাব সুদূরপ্রসারী। বিদ্যমান স্বাস্থ্যখাত মোকাবিলা করেই জনস্বাস্থ্যে’র উন্নয়ন সাধনে স্বাস্থ্য পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় কাজ করেছে এবং তারা ইতিমধ্যে স্বাস্থ্যখাতে যথেষ্ট উন্নয়নে খ্যাতিও অর্জন করেছে। এমন অগ্রগতি ও অর্জনের মধ্যে ডায়রিয়া, ম্যালেরিয়া, কালাজ্বর, ডিপথেরিয়া, ধনুষ্টংকার, হাম, কুষ্ঠ, যক্ষ্মা, হুপিং কাশি, পোলিও, মাইলাইটিস রোগ এর বিস্তার এখন অনেক নিয়ন্ত্রণে।

 

আওয়ামী লীগ সরকার ২০০১ সালে বাংলাদেশকে পোলিও মুক্ত করেছিল। কিন্তু দুঃখজনক হলেও যা সত্য তা হলো, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে মৌলবাদীদের বাধা দেয়ার কারণেই এ দেশ আবার পিছিয়ে যায়। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অর্জনেও বাধা হয়েছিল। এখন ‘দুর্ভিক্ষ’ কিংবা ‘মঙ্গা’ এইদেশে নেই। সে কারণে মানুষ আজ অনেক সুস্থতার মধ্যেই অবস্থান করছে। মানুষের সচ্ছলতাও বেড়েছে। তাই মানুষের গড়পড়তা ক্যালরি গ্রহণের পরিমাণও যেন বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে মানুষের ”কর্মক্ষমতা” বেড়েছে। পুষ্টি ও স্বাস্থ্যের উন্নতির ফলে গড় আয়ু বেড়ে ৭১.২ বছর হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের এমনই বহু সাফল্য “জাতি সংঘ ঘোষিত” সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারিত সময়ের দু’বছর আগে বাংলাদেশ তা অর্জন করে ফেলেছে। সুতরাং, এ আওয়ামী লীগের বলিষ্ঠ জনপ্রিয় নেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী “এমডিজি এ্যাওয়ার্ড ২০১০”, আবার তিনি স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় ‘তথ্য প্রযুক্তি’র’ সফল প্রয়োগের জন্যে পায় ‘সাউথ-সাউথ এ্যাওয়ার্ড ২০১১’ সহ বেশকিছু আন্তর্জাতিক বিভিন্ন পুরস্কার।

মহান স্বাধীনতার লক্ষ্যে গড়ে তোলা জাতিসত্তা তথা জাতীয় ঐক্য ও মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জন, এ দেশের মানুষের চেতনায় যে কোনো কিছু অর্জনের ক্ষেত্রেই একধরনের অদম্য সাহস সঞ্চারও করেছে। সুতরাং, জানা যায়, এশিয়া, আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার অনেক দেশে এখনো এই অদম্য সাহসের আলোকে টিকা দান কর্মসূচিতেই বাংলাদেশের মতো সফলতা পায়নি। এই সরকারের উল্লেখযোগ্য বিষয় তা হলো বাংলাদেশে এখন আর পোলিও রোগ নেই। অতএব বলা দরকার তাহলো, গ্রামীণ জনজীবনে “চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য” সচেতনতা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এ সরকার ভ্রাম্যমান মেলাকে কার্যকর করে। এ ধরনের মেলার আয়োজনে থাকে বিষয়ভিক্তিক বহু চলচ্চিত্র, যাত্রা, কৌতুক, কথকতা কিংবা ক্রীড়া সহ বিভিন্ন বিষয়ের মাধ্যমেই স্বাস্থ্য বিষয়ক উপদেশ। এধরনের অনুষ্ঠান উপস্থাপনের মাধ্যমে স্কুল, কলেজ ও বিশ্বববিদ্যালয় এর ছাত্রছাত্রীরা গ্রামহিতকর স্বাস্থ্য রক্ষার কাজেও স্বেচ্ছাকর্মীর ভূমিকা রাখতে পারে, এমন অভিমতেই জননেত্রী শেখ হাসিনা’র বিশ্বস এবং আস্থা রয়েছে।প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের হাসপাতাল গুলো থেকে ভিডিও কনফারেন্স করেই অভিজ্ঞ ডাক্তার বা বিশেষজ্ঞদের মতামত নেয়ার ব্যবস্থা করেছে। স্বাস্থ্য বাতায়নের এ প্রকল্পে মোবাইল ফোনের মাধ্যমেই যেন স্বাস্থ্য সেবা প্রাপ্তির সুবিধা তৈরি করা হয়েছে। এর ফলে গ্রামের রোগীরাও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মতামত পাওয়ার সুযোগ পেয়েছে। সুতরাং এই বাংলাদেশের রোগীরা এখন উন্নত সু-চিকিৎসার জন্যে বিদেশে কম যাচ্ছে এবং ‘জটিল ও দুরারোগ্য’ রোগের চিকিৎসা দেশেই গ্রহণ করতে শুরু করেছে এবং তারা সু-চিকিৎসাতে সফলতাও পাচ্ছে। অনেক অটিস্টিক শিশুদেরকেই তিনি অবহেলার জায়গা থেকে আদর এবং বিশেষ মনোযোগের জায়গায় এনেই ভবিষ্যতের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার মানবিক ব্রত নিয়েছে। এভাবে বাংলাদেশ বিশ্বের কাছে সম্মানিত হচ্ছে।

 

ইতিহাসেই বলে আওয়ামীলীগের সম্মেলনের একটি কর্মসূচী ঠিক করে বলেন, এমন দল ক্ষমতায় গেলে একটি চমৎকার অর্থনীতি চালু হবে। যেখানে সকল মানুষ, বিশেষত গরিব অসুস্থ মানুষের খাদ্য নিশ্চিত, শিক্ষা, বাসস্থান এবং চিকিৎসা সহ বাঁচার পরিবেশ পাবে। তারা সে কথাটি রেখেছে। আজ তারা সফল, স্বাস্থ্যের নিশ্চয়তা দিয়েছে। সুতরাং বলতেই হয় যে, “আওয়ামী লীগ সরকার” কথা দিয়েই কথা রাখতে পেরেছে। স্বাস্থ্যখাতকে যুগোপযোগী করতে প্রণয়ন করেছে জাতীয় স্বাস্থ্য নীতিমালা-২০১১। জাতিসংঘ, বিশ্বব্যাংক, বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থাসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সুগভীর আলোচনাতে উঠে আসে যে গ্রামীণ জনসাধারণের বাড়ী বাড়ী স্বাস্থ্য সেবা পৌছে দেয়ার জন্য স্বাধীন বাংলাদেশে প্রতি ছয় হাজার জনগণের জন্য ১ একজন করে ২,০৮,৮১ জন স্বাস্থ্য সহকারী নিয়োগ করা হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে তদারকীর করতে ১৩৯৮ জন স্বাস্থ্য পরিদর্শকের সহিত আরও ৪,২০২ জন সহকারী স্বাস্থ্যপরিদর্শক নিয়োগ করেছে। তারা বাড়ী বাড়ী ঘুরে জন্ম কিংবা মৃত্যু নিবন্ধন, ঝুঁকি পূর্ণ রোগী সনাক্ত করণ, সংক্রামক ব্যাধি নিয়ন্ত্রণ, মা ও নবজাতকের সেবা এবং স্বাস্থ্য শিক্ষার পাশাপাশি এ দেশের ‘দরিদ্র’ জনগোষ্ঠীকে স্বাস্থ্য সচেতন করেছে।৪ দশকের অধিক সময় ধরেই মরণব্যাধি গুটিবসন্ত, ম্যালেরিয়ার মহামারি ডাইরিয়া নিয়ন্ত্রণে গুরুত্ব পূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। ১৯৭৯ সালে দেশে মা ও শিশুর মরণ ব্যাধি সহ অসংখ্য রোগ বানাই থেকে রক্ষার জন্যেই যেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহযোগিতায়

 

সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচী (ইপিআই) চালু করা হয়েছে। তাই এমন কর্মটি ‘স্বাস্থ্য’ সহকারীর উপরেই বাস্তবায়নের গুরুদায়িত্ব প্রদান করেছে। বর্তমানের এক জরিপে “ইপিআই” কর্মসূচীর সাফল্য আসে ৮২ শতাংশ। সম্প্রতি এশিয়ায় মধ্যে মোট ১২ টি দেশেই জরিপ চালিয়ে ইপিআই কর্মসূচীতে এ দেশই প্রথম স্থান লাভ করে। এমন ধরণের চিকিৎসার উন্নয়নেই এক সময় বাংলাদেশের পরিচয় দিতে দেশের সকল জনগণ গর্ববোধ করবে। বাংলাদেশের এ স্বাস্থ্য খাত অবিশ্বাস্য ধরনের বৈপ্লবিক পরিবর্তন, তা অবিশ্বাস্য হলেও ইতিবাচক। শুধুই ইতিবাচক নয়, ইতোমধ্যেই বাংলাদেশ এখন উন্নয়ন দেশগুলোর জন্যে বৈশ্বিক মডেল। সুতরাং প্রাসঙ্গিকভাবেই বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের বৈপ্লবিক উন্নতি গুলো এখন সমগ্র পৃথিবীর স্বাস্থ্য বিজ্ঞানী, স্বাস্থ্যবিষয়ক নীতি নির্ধারক ও স্বাস্থ্য বিষয়ক দাতা সংস্থার কাছেই যেন রীতিমতো একটি মীরাকেল। ‘হাভার্ড’, ‘ক্যামব্রিজ’, ‘অক্সফোর্ড’, ‘লন্ডন স্কুল অফ হাইজিন এন্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিন’, ‘জন হফকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়’, ও ‘ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অফ সিঙ্গাপুর’ সহ বর্তমান পৃথিবীর সকল নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের জাদুকরী উন্নয়নের মডেল গুলো পড়ানো হচ্ছে। উল্লেখযোগ্য, ‘লন্ডন স্কুল অফ হাইজিন এন্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিন’, ‘জন হফকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়’, ‘আইসিডিডিআরবি’, ‘হাভার্ড স্কুল অফ পাবলিক হেলথ’ এবং ‘ব্র্যাক’ এর সঙ্গেই বাংলাদেশেরও অনেক বড় বড় আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা পরিষদ তা পরিচালনা করেছে এবং করছে। শহরের নিম্ন আয়ের মানুষ বা মধ্য বিত্তদের জন্য নতুন হাসপাতাল স্থাপন করা হয়েছে। এ ছাড়া উন্নত বিশ্বের মতো নতুন বিশেষায়িত হাসপাতালের ধারাবাহিকতায় নতুন হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেছেও এবং আগামীতে আরও হবে।

 

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল এ – ২৫ শয্যার একটিমাত্র বার্ন ইউনিট ছিল এখন সেখানে আলাদা ভবনে উন্নতি করে একে সম্প্রসারিত এক ‘আধুনিক বার্ন ইউনিট’ করা হয়েছে। এখন আলাদা এক ধরন ইনস্টিটিউট করেই বরাদ্দ করা এমন বড় জায়গাতে বিশাল আকারের- “বার্ন হাসপাতাল” নির্মাণ হয়েছে।এছাড়াও প্রতিটি সরকারী ও বেসরকারী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল কিংবা জেলা হাসপাতালেও এই ধরনের সহায়কতামূলক “বার্ন ইউনিট” খোলা হচ্ছে। জাতি-ধর্ম-বর্ণ কিংবা গোত্র নির্বিশেষে বাংলাদেশের সব মানুষের শারীরিক, মানসিক, দুর্ঘটনায় অসুস্থতা নিয়েই এই আওয়ামীলীগ স্বাস্থ্যখাতে কাজ করেছে।

আজকের তরুণ প্রজন্মকে সামনে রেখে ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’ ডেল্টা প্ল্যান-২১০০ গ্রহণ করেছে। তাই চিকিৎসা ক্ষেত্রকেই শুধু সু-বিস্তৃত নয়, আবার সমগ্র বাংলাদেশকে শুধু ‘চিকিৎসক’ দ্বারা পরিচালিত নয়, বহু ধরনের হাসপাতাল নির্মাণ করেও নয়, উন্নয়নের লক্ষ্যে গুণগত মানসম্পন্ন বিভিন্ন প্রকারের দেশী বা বিদেশী ওষুধের দিকে নজরও দিয়েছে। এই জন্যেই তিনি ওষুধ নিয়ন্ত্রণের বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করে। ক্ষতিকর এবং অপ্রয়োজনীয় ওষুধকে নিয়ন্ত্রণ করা সহ বেশিদামী ওষুধের আমদানি বন্ধ এবং নিষিদ্ধও করেছে। তাছাড়াও এ ওষুধের যৌক্তিক ও নিরাপদে ব্যবহার নিশ্চিত করার পদক্ষেপ নিয়েছে। ক্ষতিকর ওষুধ বাতিল করে সেইসঙ্গে তিনি ওষুধের উৎপাদন বা মান নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে ওষুধ প্রশাসন পরিদফতর গঠন করেছে। বহুজাতিক অথবা দরকার নেই এমন ধরণের অপ্রয়োজনীয় ওষুধ গুলোর কোম্পানি যেন বাতিল হয় তার যথাযথ ব্যবস্থা নিয়েছে। এই দেশের জনসাধারণ কম দামে ওষুধ খেতে পারে, যা আজও অব্যাহত রয়েছে। এই ভাবেই তিনি পূর্ণাঙ্গ না হলেও ওষুধ নিয়ন্ত্রণের নীতিমালা তৈরি করেছে, যাকে এই বাংলাদেশের প্রথম ওষুধনীতি বলা যেতে পারে।

 

বাংলাদেশের তৃণমূল পর্যায়ের হতদরিদ্র মানুষদেরই স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে গড়ে তোলেছে মোট- ১২ হাজার ৭৭৯ টি কমিউনিটি ক্লিনিক। তাছাড়া ৩১২টি উপজেলা হাসপাতাল’কেও উন্নীত করেই ৫০ শয্যায় নিয়ে এসেছে। মেডিকেল কলেজ, জেলা হাসপতাল এ ২,০০০ শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি করেছে। জননেত্রী ‘শেখ হাসিনা’ একটি পরিসংখ্যান উল্লেখ করেই যা বলেন, তাহলো:- এমন বাংলাদেশের পরিবার পরিকল্পনা বা জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ বিশ্বের নিকট অনেক গুরুত্ব পূর্ণ উদাহরণ। যদি ১৯৮০ সালের দিকে এ বাংলাদেশের সন্তান জন্মদানের সক্ষমতায় দৃষ্টিপাত করা হয় তবে প্রতিটি নারী গড়ে সাতজন সন্তান জন্মদান করেছে। আর ২০১৫ সালের এক গবেষণার তথ্যানুযায়ী সেই সংখ্যা কমিয়ে এনে দুই জনে দাঁড় করেছে। সুতরাং, বাংলাদেশে জন্ম নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর ভূমিকা অতুলনীয়। মাতৃ ও শিশুর মৃত্যুহার, জন্মহার হ্রাস করা সম্ভব হয়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। তাই তো, পারিবারিক সেবাকে মৌলিক হিসেবে দেখেছে এবং সময়ের চাহিদা মনে করেছে। এই সেবাটি জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়ার উদ্দেশ্যকে সামনে নিয়ে এসে তিনি নির্মাণ করেছে নতুন নতুন বারটির মতো মেডিকেল কলেজ, আর সেখানেই নিয়োগ দিয়েছে ৪৭ হাজারেরও বেশি জনশক্তি। “মন্ত্রণালয়” কিংবা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’র এ প্রকল্পটি আরো অনেক বেশি করেই উন্নয়নে অগ্রসর হবে। আগামীতে যদি “নৌকা প্রতীক” বা ‘আওয়ামী লীগ’ ক্ষমতায় আসে।স্বাধীনতার পরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যখন দেশটির হাল ধরলেন তখন সারাদেশে চিকিৎসা ব্যবস্থা ছিল বেহাল। তিনিই গরিব মানুষের জন্যে স্বাস্থ্য সেবা সম্প্রসারণের উদ্দেশ্যেই এই স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে জাতীয়করণ করে। সুতরাং আজকে তার সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী ‘শেখ হাসিনা’ বিভিন্ন শ্রেণীর গরিবদের জনবান্ধব মনে করেই, জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের লক্ষ্য এবং আদর্শকে মানুষ মুখী করার উদ্যোগ নিয়েছে। স্বাস্থ্য খাতে কাজের ফলেই বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাত তৃতীয় বিশ্বের রোল মডেলে রূপান্তরিত হয়েছে। এই দেশের ‘স্বাস্থ্য’ খাতে অনেক ইতিবাচক ফল পাওয়া গিয়েছে। সম্প্রসারিত সুপেয় পানি ও স্যানিটেশনের সফলতায় বাংলাদেশ বিশ্বের উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। কালা জ্বরে মৃত্যুর হার এখন শূন্যতেই রয়েছে। তাছাড়া ‘যক্ষ্মা’ রোগের চিকিৎসায় সফলতার হার এখন ৯৪%। এইচআইভি’র বিস্তারও থামানো গেছে। ২০১১ সালে বার্ড ফ্লু প্রতিহত করাও হয়েছিল বলে জানা যায়। ইনফ্লুয়েঞ্জা, হেপাটাইটিস-বি, মামস্ সহ রুবেলার টিকা এখন “সরকারী টিকা” কর্মসূচীতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। পুষ্টিহীনতা দূরীকরণে ভিটামিন এ ক্যাপসুল বিতরণের প্রকল্পেও সফলতা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত।

 

নিরাপদ খাদ্য আইন গঠিত হয়েছে, যাতে এইদেশের মানুষ শারীরিক ভাবে সুস্থ থাকতে পারে। তাই খাদ্যে ভেজাল মেশানোর যে অপতৎপরতা তাকে নিয়ন্ত্রণে যুগোপযোগী করে ‘বিশুদ্ধ খাদ্য আইন ২০১৩’ জারি হয়েছে। তাছাড়াও ফরমালিন নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৫ জারি কিংবা ফরমালিনের আমদানি কঠোর ভাবেই নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। ফলে বাজারের সবজি, ফল, মাছ ও দুধে ফরমালিন মেশানোর প্রবণতা কমেছে। ভোক্তা অধিকার রক্ষা অধিদফতর স্থাপন করেছে। অতএব বঙ্গবন্ধুকন্যা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। স্বাস্থ্য সেক্টরে এই উল্লিখিত কাজ গুলো ভবিষ্যত তরুণদের নিকটেই উদাহরণ স্বরূপ এক ইতিহাস হয়ে রবে।

ধর্মঘট প্রত্যাহারের পর রাজশাহীর সাথে সারা দেশের বাস চলাচল শুরু

রাজশাহীর সাথে সারা দেশের বিভিন্ন রুটে বাস চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। নাটোরে বাস শ্রমিককে মারধরের জেরে ডাকা ধর্মঘট প্রত্যাহার করায় দিনভর দুর্ভোগের পর বৃহস্পতিবার রাত ৯টা থেকে বাস চলাচল শুরু হয়।

রাজশাহী ও নাটোর জেলার পরিবহন নেতারা এতথ্য নিশ্চিত করেছেন।

রাজশাহী সড়ক পরিবহন গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক মনজুর রহমান পিটার জানান, নাটোরে শ্রমিকদের সঙ্গে যে সমস্যা ছিল তা সমাধান হয়েছে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায়। এরপর রাত থেকে বাস চলাচল শুরু হয়। ফলে উত্তরের বিভাগীয় শহর রাজশাহীর সঙ্গে ঢাকাসহ সারাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা আবারও স্বাভাবিক হয়ে এসেছে।

এদিকে নাটোর জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাজেদুল ইসলাম সাগর বলেন, এক চালককে মারপিটের ঘটনায় বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। পরে ওই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার করার আশ্বাসে রাত ৯টায় ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। এরপর নাটোর থেকে সারাদেশের যানবাহন চলাচল শুরু হয়।

এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার পর রাজশাহী থেকে ঢাকা রুটে হঠাৎ করেই বাস চলাচল বন্ধ করে দেয় পরিবহন শ্রমিকরা। এরপর রাজশাহী থেকে কোনও বাস ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায়নি। ধর্মঘটের কারণে রাজশাহী-ঢাকা রুটের সাধারণ যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়েন।

রাজধানীসহ সারাদশে ভূমিকম্প অনুভুত

রাজধানীতে মৃদু ভূমিকম্প অনুভুত হয়েছে। বুধবার বেলা ১০টা ৫৪ মিনিটে কম্পন অনুভূত হয়। এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোন ক্ষয়-ক্ষতির খবর পাওয়া যায় নি।

 

তবে ভূমিকম্প অনুভুত হওয়ার পর বিভিন্ন স্থানের মানুষ ঘরে ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসেন। এছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্পের খবর পাওয়া গেছে।

 

ভুমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ভারতের আসামে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৫.৪। হরিয়ানার সঙ্গে এ বার কেঁপে উঠল জম্মু ও কাশ্মীরও। গত চার দিনে এই নিয়ে তিন বার। উৎসস্থল সেই হরিয়ানার ঝাঝড়।

এরআগে গত ৯ এবং ১০ সেপ্টেম্বর মৃদু ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছিল দিল্লি এবং হরিয়ানা। এ দিন ভোর সওয়া পাঁচটা নাগাদ কম্পন অনুভূত হয় ভূস্বর্গে। রিখটার স্কেলে যার মাত্রা ছিল ৪.৬। এর আধ ঘণ্টা পরেই কেঁপে ওঠে হরিয়ানার ঝাঝড়। রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৩.১।

 

গত দু’দিনও ভূমিকম্পের উৎস স্থল ছিল হরিয়ানার ঝাঝড়। কোনও হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর মেলেনি। তবে ঘণ্টা দেড়েক বন্ধ থাকে ট্রেন চলাচল। সকাল সাড়ে আটটার পর থেকে আবার তা স্বাভাবিক হয়েছে বলে জানিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ।

ভারতের নিষেধাজ্ঞায় লাভবান হয়েছে বাংলাদেশ

ভারতে গরু রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা কঠোরভাবে অনুসরণের পর তাতে বাংলাদেশই লাভবান হয়েছে। এমনটাই মনে করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ।

 

তিনি বলেছেন, কয়েক বছর আগে ভারতের ওই সিদ্ধান্তের পর বাংলাদেশে গরুর উৎপাদন বেড়েছে। আর তাতে আমদানি নির্ভরতা কমে গেছে। যার ফলে বাংলাদেশই লাভবান হচ্ছে।

 

মন্ত্রী হাটে দেশি গরুর বিপুল সরবরাহ দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি দেশি গরুর সারিতে ঢুকে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

 

এবং বিভিন্ন জাতের দেশি গরু সম্পর্কে অবহিত হন। নারায়ণ চন্দ বলেন, ‘ভারত যখন এদেশে তাদের গরুর সরবরাহ বন্ধ করেছিল, তা আমাদের জন্য শাপে বর হয়েছে। আমরা এখন প্রাণিসম্পদে স্বয়ংসম্পূর্ণ। এবার প্রায় দেড় কোটি কোরবানিযোগ্য পশু রয়েছে এবং তা পর্যাপ্ত। কোরবানিতে পশুর সঙ্কট হবে না’।

 

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের হিসাবে, গত বছর কোরবানি উপলক্ষে সারা দেশে এক কোটি পাঁচ লাখ গবাদিপশু বিক্রি হয়, সেখানে এবার দেশে কোরবানিযোগ্য পশু আছে এক কোটি ১৫ লাখ ৫৭ হাজার। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের হিসাবে, দেশজুড়ে সারা বছরে প্রায় দুই কোটি ৩১ লাখ ১৩ হাজার গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া জবাই হয়।

 

এর প্রায় ৫০ ভাগ জবাই হয় কোরবানির ঈদের সময়। কোরবানির জন্য ‘প্রয়োজনের চেয়ে বেশি’ গরু থাকায় এবার ভারত থেকে গরু আনা বন্ধের দাবি জানিয়েছিলেন খামারিরা।

 

মন্ত্রী বলেন, ‘বৈধ পথে আসা সামান্য কিছু ভারতীয় গরু ব্যতীত হাটে বিপুল সংখ্যক দেশি গরুই প্রমাণ করে যে, দেশি গরু দিয়েই আমাদের কোরবানির কাজ সম্পন্ন হবে’।

সৌদিতে একই পরিবারের চারজন নিহত

শুক্রবার বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ১২টার দিকে সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি একই পরিবারের চারজন নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন আরও দু’জন।

জানা গেছে, একই পরিবারের ৬ সদস্য তায়েফ যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়েন। দুর্ঘটনায় বাবাসহ ৩ মেয়ে নিহত হন।

নিহতরা হলেন- প্রবাসী মশিউর রহমান (৪৭), মেয়ে- সায়মা (১৪), সিনথিয়া (১২) ও সাবিহা (৯)। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত মশিউর রহমানের স্ত্রী ও ছেলে সৌদির কিং আব্দুলআজিজ হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন। মশিউর চট্টগ্রাম জেলার সন্দ্বীপ থানার সাঈদ ভাঙ্গা গ্রামের মৃত অহিদ রহমানের ছেলে।

একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক, সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ারের মৃত্যুতে মেয়র মুজিবুর রহমানের শোক

দেশের প্রতিতযশা একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক, দৈনিক সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ারের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন দৈনিক আজকের কক্সবাজার পত্রিকার সম্পাদক ও কক্সবাজার পৌরসভার নবনির্বাচিত মেয়র মুজিবুর রহমান।

সোমবার রাতে ৭৫ বছর বয়সে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন তিনি।

 

এক বিবৃতিতে মেয়র মুজিবুর রহমান বলেন, গুনি এই সাংবাদিকের মৃত্যুতে দেশ ও জাতির বড় ধরণের ক্ষতি হলো, এ শূণ্যতা অপূরণীয়। মৃত্যুর আগ মুহুর্ত পর্যন্ত তিনি সম্পাদক পরিষদের সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে আমরা কক্সবাজারবাসী গভীর শোক প্রকাশ করছি।” পাশাপাশি মরহুম গোলাম সারওয়ারের শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নবনির্বাচিত মেয়র মুজিবুর রহমান। ৩ আগস্ট মধ্যরাতে সমকাল সম্পাদককে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেয়া হয়।

 

উল্লেখ্য, সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদানের জন্য ২০১৪ সালে দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা “একুশে পদকে” ভুষিত হন সাংবাদিক গোলাম সারওয়ার।
এদিকে একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক, দৈনিক সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ারের মৃত্যুতে জেলার বহুল প্রচারিত সংবাদপত্র দৈনিক আজকের কক্সবাজার পরিবারের পক্ষ থেকেও গভীর শোক প্রকাশ করা হয়।

ইউএনও’দের সম্পর্কে গোপন তদন্তে প্রশাসনে তোলপাড়

বাংলাদেশের পুলিশ বিভাগের এক চিঠিতে দেখা যাচ্ছে যে, সব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের শিক্ষাজীবনের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ও তাদের পরিবার বা নিকটাত্মীয়দের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার বিষয়ে অনুসন্ধান চালাতে নির্দেশ দেয়া হয়েছিলো সব জেলা স্পেশাল ব্রাঞ্চের পুলিশ সুপারদের।গত ২৭শে জুন ইস্যু করা ওই চিঠিতে পহেলা জুলাইয়ের মধ্যে একজন ইন্সপেক্টর বা পরিদর্শক পদমর্যাদার পুলিশ কর্মকর্তাকে দিয়ে তদন্ত করতে এবং এক্ষেত্রে সর্বোচ্চ গোপনীয়তা ও সতর্কতা বজায় রাখতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। খবর বিবিসির

 

তবে উপজেলা পর্যায়ে প্রশাসনের সর্বোচ্চ কর্মকর্তা-ইউএনও’রা প্রায় সবাই এটি জেনে ক্ষুব্ধ হয়েছেন। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে কোন মন্তব্য করতে কেউই রাজী হননি।বাংলাদেশের সাধারণত সরকারি চাকুরীতে নিয়োগ পাওয়ার আগেই মনোনীত প্রার্থীদের বিষয়ে একটি তদন্ত করে পুলিশ। পুলিশ ভেরিফিকেশন রিপোর্ট চাকুরীতে যোগদানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ বলে বিবেচনা করা হয়।

 

এতে মূলত দেখা হয়, মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে কোন ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ আছে কি-না বা মামলা আছে কি-না কিংবা রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপে সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ আছে কি-না।কিন্তু সম্প্রতি বাংলাদেশে পুলিশের বিশেষ শাখা (স্পেশাল ব্রাঞ্চের রাজনৈতিক বিভাগ) থেকে মাঠপর্যায়ে পুলিশ বিভাগের কাছে পাঠানো ঐ চিঠি নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

 

চিঠিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বা ইউএনওদের সম্পর্কে যেসব বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে হবে তার মধ্যে রয়েছে — কর্মকর্তা ও তার পিতার নাম পরিচয়, স্থায়ী ও কর্মস্থলের থানার রেকর্ড, তিনি স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছিলেন ও সেখান রাজনীতি করেছেন কি-না, রাজনৈতিক মতাদর্শ, পরিবার বা নিকটাত্মীয়দের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা থাকলে সে সম্পর্কে তথ্যসহ আরও কয়েকটি বিষয়।তবে পুলিশ বা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কেউ বিষয়টি নিয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজী হননি।প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ. টি. ইমামের কাছে বিবিসি বাংলার পক্ষ থেকে পুলিশের এ ধরনের পদক্ষেপের বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলে তিনিও কোন মন্তব্য করতে রাজী হননি।

 

তবে চিঠিটি নিয়ে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে উপজেলা প্রশাসনের সর্বোচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে।দক্ষিণাঞ্চলের একটি উপজেলায় ইউএনও হিসেবে কাজ করেছেন এমন একজন কর্মকর্তা বলেন, একজন ক্যাডার হিসেবে যোগদানের বেশ কয়েক বছর পর নিজ যোগ্যতাবলে যখন ইউএনও হন তখন পুলিশ দিয়ে এ ধরনের অনুসন্ধান করানো অসম্মানজনক।

 

তিনি বলেন, কোন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলেও সেটি তদন্ত হতেই পারে কিন্তু ঢালাওভাবে ইউএনওদের বিষয়ে পুলিশের পরিদর্শক পদমর্যাদার কর্মকর্তা দিয়ে তদন্ত করানো কোন ভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারেনা।আরেকজন কর্মকর্তা বলেন, একজন ইউএনও হওয়ার পর তার স্কুল-কলেজের ইতিহাস খোঁজাটাই তো হাস্যকর। কারণ বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরই এ ধরনের তদন্ত হয়ে গেছে।

 

ওই কর্মকর্তা জানান, বিষয়টি নিয়ে ইউএনওদের মধ্যে ক্ষোভের প্রেক্ষাপটে জনপ্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাছে অনানুষ্ঠানিকভাবে তুলেছেন কর্মকর্তারা।কিন্তু মন্ত্রণালয় থেকেও উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা বিস্ময় প্রকাশ করেছেন পুলিশের ওই চিঠির কপি ও ভাষা দেখে।কয়েকজন ইউএনও বিবিসিকে বলেছেন, তারা নিশ্চিত যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এমন কিছু করা হয়নি।

 

একজন ইউএনও বলেন, ‘পুলিশ হয়তো নিজ থেকেই এটি করেছে প্রশাসন ক্যাডারের প্রতি হীনমন্যতা থেকে।’ওদিকে পুলিশের একটি সূত্র ও দুজন ইউএনও’র কাছ থেকে পাওয়া ওই চিঠির কপিতে দেখা যাচ্ছে জেলা পুলিশ সুপারকে তার জেলার প্রত্যেক ইউএনও সম্পর্কেই তথ্য দিতে বলা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্লাড সার্ভিসের কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন

বাংলাদেশ ব্লাড সার্ভিসের কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে মাহফুজ রহমান’কে সভাপতি, জয়নাল আবেদীন মিন্টু’কে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। রাজধানীর বাংলামটর অস্থায়ী কার্যালয়ে  ০১  জুন শুক্রবার এ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন সহ-সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন, বাপ্পি সরদার, আবির খান, যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক উম্মেহানী মেঘলা, সুমন কান্তি, আদনান আর খান, সাংগঠনিক সম্পাদক বদরুল আলম (ঢাকা), শামীম হোসাইন (চট্টগ্রাম), এস. এম শিহাব (রাজশাহী), রাহাতুল ইসলাম রাহাত (খুলনা), জি.এম হাফিজুর (বরিশাল), জামিল হোসাইন (সিলেট), গোলাম কিবরিয়া (রংপুর), কামাল হোসেন (ময়মনসিংহ), দপ্তর সম্পাদক নাঈম, অর্থ সম্পাদক রওশন আরা নির্বাচনী, প্রচার সম্পাদক রাকিব, গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক শ্রুতি পোদ্দার, আন্তর্জাতিক সম্পাদক আবু মাসুদ, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক লাবনী, আপ্যায়ন সম্পাদক প্রিন্স, কর্মসূচি ও পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক বৃষ্টি, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মুহাইমিনুল ইসলাম প্রিন্স, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ফারজানা আক্তার, স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা সেবা বিষয়ক সম্পাদক বর্ষা জাহান বৃষ্টি, মানব সম্পদ উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক মেহেদী ইমতিয়াজ, নির্বাহী সদস্য’রা হলেন সালমান, আরিফুর রহমান পলাশ, আফজাল নাদির, সাজ্জাদ হোসাইন শান্ত, মোরশেদুল, ফারহানা, সাজ্জাদ মাহমুদ, রানা এবং আব্দুল্লাহ এমডি নাসিম

 

উল্লেখ্য, “রক্ত দান হোক, মানবতার ধর্ম” শ্লোগানকে সামনে রেখে বাংলাদেশ ব্লাড সার্ভিস (বিবিএস) নামক সংগঠনটি ১৭ জুন ২০১৭ সালে আত্ম প্রকাশ ঘটে ।

 

সারাদেশে রক্তদান কার্যক্রমকে আরও সহজ ও নিরাপদ করে তোলার লহ্মে বাংলাদেশ ব্লাড সার্ভিস এর প্রতিটি সদস্য কাজ করে। এছাড়াও রক্তদান সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি, ফ্রি ব্লাড গ্রুপিং ক্যাম্পেইন পরিচালনা, ফ্রি মেডিকেল ট্রিটমেন্ট, অবৈধ রক্ত কেনাবেচা বন্ধ করা, থ্যালাসেমিয়া ও ক্যানসার প্রতিরোধ সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি সহ মানুষের কল্যানে যেকোন সামাজিক কাজে বাংলাদেশ ব্লাড সার্ভিসের সদস্যরা সাধ্যমতো কাজ করতে সদা প্রস্তুত।

দোয়েল চত্বরে শেষ পর্যন্ত পিছু হটেছে পুলিশ

কোটা সংস্কারের দাবিতে থাকা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের তাড়া খেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকা থেকে সরে দোয়েল চত্বরের দিকে পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে পুলিশ।

এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সমাবেশ লক্ষ্য করে কাঁদানে গ্যাস ছুড়েছে পুলিশ। এ সময় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে ক্যাম্পাসে অবস্থানরত পুলিশ সদস্যরা পিছু হটেন। ক্যাম্পাসের ভেতর দিয়ে সব সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।

সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে দ্বিতীয় দিনের মতো জড়ো হতে শুরু করেন আন্দোলনকারীরা দুপুর পৌনে ২টার দিকে টিএসসির সামনে থেকে পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে। পুলিশের টিয়ার শেলের জবাবে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা এ সময় পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট পাটকেল মারতে শুরু করে। এক পর্যায়ে আন্দোলনকারীদের তাড়া খেয়ে দোয়েল চত্বরের দিকে সরে যায় পুুলিশ।

এর আগে গতকাল সন্ধ্যার পরও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উপর চড়াও হয়েছিল পুলিশ। তখনও দু’পক্ষ্যে ব্যাপক ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলে। রাত সোয়া ১টার দিকে শিক্ষার্থীরা পুলিশের দিকে এগিয়ে গেলে পুলিশ শটগানের গুলি ছোড়ে এবং তাদের টিএসসির দিকে ধাওয়া করে। এ সময় একজনকে রক্তাক্ত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়েও যায় পুলিশ। আহত ওই শিক্ষার্থীরা নাম শাওন। তিনি সমাজকল্যাণ বিভাগের ৪র্থ বর্ষের ছাত্র এবং এফ রহমান হলে থাকনে। এ ছাড়া এক পুলিশ সদস্যের মাথা থেকে রক্ত ঝরতেও দেখা গেছে তখন। তাকে বারডেম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এরইমধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের বাসভবনে ভাঙচুর চালানো হয়। আগুনও দেয়া হয়।

সোমবার ভোর নাগাদ আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ফিরতে দেখা যায়। এরপরই পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে আসে। এরপর দুপুরের দিকে ফের জড়ো হন তারা।

আন্দোলনকারীদের দাবি চাকরির ক্ষেত্রে কোটা বিলুপ্ত নয়, যৌক্তিক সংস্কার দরকার।

এই দাবিতেই গতকাল পূর্ব ঘোষিত পদযাত্রা কর্মসূচি শুরু হয়। তবে সন্ধ্যা নামার কিছুক্ষণ পরই আন্দোলনকারীদের উপর চড়াও হয় পুলিশ। অবশ্য তার আগে দুপুর থেকে শাহবাগ মোড় অবরোধ করে রাখেন আন্দোলনকারীরা। এতে ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে ওই সড়ক ব্যবহারকারীদের।

ফারমার্স ব্যাংকের এমডিকে অপসারণ

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ঋণ বিতরণের দায়ে এবার ফারমার্স ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এ কে এম শামীমকে অপসারণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক শুভঙ্কর সাহা এ খবর নিশ্চিত করেছেন।

ব্যাংক কোম্পানি আইনের ৪৬ ধারা অনুযায়ী মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংক শামীমকে অপসারণের চিঠি ফারমার্স ব্যাংকে পাঠিয়েছে জানিয়ে শুভঙ্কর সাহা বলেন, তিনি তিন বছর অন্য কোনো ব্যাংক বা এই জাতীয় প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতে পারবেন না বলে চিঠিতে উল্লেখ আছে। তবে এ বিষয়ে সংক্ষুব্ধ হয়ে তার (শামীম) আপিল করার সুযোগ আছে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দেওয়ান মুজিবর রহমানকেও অপসারণ করে বাংলাদেশ। তবে আদালতে রিট আবেদন করে স্বপদে বহাল হোন তিনি। যদিও পরিচালনা বোর্ড পরে তাকে ছুটিতে পাঠিয়েছে।

রাজধানীর বাড্ডায় বাসা থেকে বাবা-মেয়ের লাশ উদ্ধার

বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার দিকে রাজধানীর কাকরাইলের  নিজ বাসায় মা-ছেলের লাশ উদ্ধারের ঘটনার ২৪ ঘন্টা না পেরুতেই এবার বাড্ডায় নিজ বাসা থেকে বাবা-মেয়ের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।  বাড্ডার ময়নারবাগ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
বাড্ডা থানার ডিউটি অফিসার এএসআই গোলাম মোস্তাফা বলেন, ঘটনাস্থলে আমাদের ফোর্স রয়েছে। হত্যা না আত্মহত্যা সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে তদন্তের পরই বিস্তারিত জানা যাবে।

লেখক সাংবাদিক শিব্বীর আহমেদের জন্মদিন আজ

পহেলা নভেম্বর সুপরিচিত লেখক সাংবাদিক শিব্বীর আহমেদের শুভ জন্মদিন। বাংলা ইন্টারনেট মিডিয়ার পথিকৃৎদের মধ্য অন্যতম এবং বহুল পরিচিত অনলাইন পোর্টাল খবর ডটকমের সম্পাদক শিব্বীর আহমেদ ছোটবেলা থেকেই লেখালেখির সাথে জড়িত। লেখালেখির ক্ষেত্রে অরপি আহমেদ নামটাই বেশী ব্যবহার করে থাকেন। যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে তিনি দীর্ঘদিন বসবাস করছেন।

আইটি বিশেষজ্ঞ হিসাবে কাজ করছেন ওয়াশিংটন ডিসিতে। শিব্বির আহমেদ প্রচুর লেখালেখি করেন এবং কাজের ফাঁকে সাংবাদিকতায় আর লেখালেখি নিয়েই বেশির ভাগ সময় ব্যয় করেন। শিব্বির আহমেদের এ পর্যন্ত প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা ১৬টি। যার মধ্যে ২টি কাব্যগ্রন্থ রয়েছে। আছে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ২টি উপন্যাস। তাঁর প্রতিটি বইয়ের প্রচ্ছদ করেছেন বাংলাদেশের অন্যতম প্রচ্ছদ শিল্পী ধ্রুব এষ এবং প্রকাশ করেছে বাংলাপ্রকাশ ও অনন্যার মত খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠান।

মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাসের মধ্য দিয়ে শিব্বীর আহমেদের প্রথম গ্রন্থ ‘বাবার হাতের প্রথম ছোঁয়া’ ২০০৯ সালে প্রকাশিত হয়। উপন্যাসটি প্রকাশিত হবার পর নিউইয়র্কে বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র থেকে তার প্রকাশনা উৎসব আয়োজন করা হয়। বছর তিনেক আগে বাংলাদেশ সোসাইটি অব নিউ ইয়র্ক মিলনায়তনে আয়োজিত শিব্বীর আহমেদের নতুন গ্রন্থ গুলো নিয়ে বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন দেশবরেণ্য সঙ্গীতসাধক, একুশে পদক প্রাপ্ত পন্ডিত রামকানাই দাশ। ২০১৭ সালের বইমেলায় অনন্যা প্রকাশ করছে তাঁর ২টি উপন্যাস যার একটি হল লেখকের জন্মস্থানকে ঘিরে লেখা ‘লাকশাম জংশন’। অন্যটি প্রবাসজীবন ভিত্তিক উপন্যাস ”সোনাপুরের সুলতানা”।

বাংলা একাডেমি আয়োজিত ২০১৮ সালের গ্রন্থমেলায় আসছে লেখকের আরো তিনটি বই। চরের জীবন নিয়ে লেখা উপন্যাস ”আগুনমুখা”, আধ্যাত্মিক বিশ্বাস ভিত্তিক কাল্পিক উপন্যাস ”আর একবার যদি” এবং তৃতীয়টি প্রেম বিষয়ক কাল্পিক চিঠিপত্র নিয়ে ”প্রেমপত্র”। ২০১৯ সালের বইমেলায় প্রকাশনার জন্য লেখক ইতিমধ্যেই লেখালেখি শুরু করেছেন এবং এই মুহুর্তে তিনটি বই প্রকাশনার ইচ্ছা পোষন করছেন।

বাংলাদেশ থেকে ব্যবস্থাপনায় মাষ্টার্স করার পর যুক্তরাষ্ট্র এসে সফটওয়্যার ইনিজিনিয়ারিং এর উপর আবারো তিনি মাষ্টার্স করেন। সাংবাদিক হিসাবে শিব্বীর আহমেদের লেখা বিভিন্ন সংবাদ, কলাম, কবিতা, ছোটগল্প দেশ এবং প্রবাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সংবাদপত্রে সবসময় গুরুত্বের সাথে ছাপানো হয়ে থাকে। প্রবাসে সাংবাদিকতা, লেখালেখি, কমিউনিটি সেবা এবং কর্মক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্যে ক্লোজআপ ওয়ান অ্যাওয়ার্ড, ফোবানা এ্যাওয়ার্ড, একতারা অ্যাওয়ার্ড, গুড সিটিজেন এ্যাওয়ার্ড সহ নানান সম্মান অর্জন করেছেন।

শিব্বীর আহমেদ হোয়াইট হাউস, কংগ্রেস এবং স্টেট ডিপার্টমেন্টে বহুবার অনেক ব্রেকিং নিউজ করেছেন বাংলাদেশ মিডিয়ার জন্যে। সাক্ষাতকার গ্রহন করেছেন বাংলাদেশের বর্তমান রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসাইন আমু, অর্থমন্ত্রী এম এ মুহিত, প্রাক্তন পররাষ্ট্র মন্ত্রী ডা. দিপু মনি, প্রাক্তন এলজিআরডি মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম সহ আরো অনেকের। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সহকারি পররাষ্ট্র মন্ত্রী রাবর্ট ও ব্লেইক, নিশা দেশাই বিশাওয়াল, রাষ্ট্রদূত প্যাট্রেশীয়া বিউটিনেস, ড্যান মোজিনা, মার্শিয়া বার্ণিকেট সহ আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের সাক্ষাতকার গ্রহন করেন।

পারিবারিক ভাবেই আওয়ামী রাজনীতির সাথে জড়িত আছেন শিব্বীর আহমেদ। আওয়ামী লীগ নেতা কুমিল্লা ৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ট সহকর্মী প্রয়াত আলহাজ্ব জালাল আহমেদের সন্তান শিব্বীর আহমেদ কুমিল্লা জেলার তৎকালীন লাকসাম থানার (বর্তমানে মনোহরগঞ্জ) পাঁচ পুকুরিয়ায় গ্রামে জন্ম গ্রহন করেন। ছোটবেলা থেকেই আওয়ামী রাজনীতিতে হাতেখড়ি। স্কুল কলেজে বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ এবং বর্তমানে মেট্র ওয়াশিংটন আওয়ামী লীগে সিনিয়র সহ সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

লাকসামকে জেলায় রূপান্তরিত করার আন্দোলনে গঠিত লাকসাম জেলা বাস্তবায়ন পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক শিব্বীর আহমেদ। লাকসামকে জেলায় পরিনত করার স্বপ্ন নিয়ে তিনি বৃহত্তর লাকসাম কুমিল্লা ঢাকা সহ বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন কর্মকান্ডে জড়িত আছেন। দেন দরবার করছেন সরকারের উচ্চপর্য্যায়ের নেতৃবৃন্দের সাথে। প্রদান করছেন স্বারকলিপি এবং তুলে ধরছেন লাকসামকে জেলায় রূপান্তরিত করার যৌক্তিকতা।

২০১৩ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শিব্বীর আহমেদ তার বাবার আসন কুমিল্লা ৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ) আসনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়নের জন্য আবেদন করেছিলেন। আগামী ২০১৭ সালের আসন্ন নির্বাচনে আবারো তিনি একই আসনে মনোনয়ন চাইবেন বলে আশা করছেন।

চা দিতে দেরি করায দুই ভাইকে ঝলসে দিল ছাত্রলীগ

চা না দেওয়ার কারনে নাটোরে হামলা চালিয়ে তিন চা দোকানদারকে গরম পানি দিয়ে ঝলসে দিয়েছে ছাত্রলীগ। এসময় ভাংচুর করা হয়েছে চায়ের দোকান। ঝলসে যাওয়া তিন চা দোকানদার সহ চারজনকে নাটোর সদর হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। ঝলসে যাওয়া তিন সহোদর হচ্ছেন, শহরের বড়গাছা এলাকার হাফিজুর রহমান এর ছেলে রুস্তুম আলী (২৮), মোস্তফা হোসেন (৩২) এবং ইদুল হোসেন (১৭)।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার দিকে নাটোর এনএস সরকারী কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহারিয়ার রহমার রিয়ন কলেজের মূল ফটকের সামনে একটি দোকানে বসে অপর একটি দোকানকার মোস্তফা হোসেনকে চা দিতে বলে। কিন্তু দোকানদার মোস্তফা অন্য দোকানে চা দিতে অস্বৃকীতি জানায়। এসময় ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা ক্ষিপ্ত হয়ে এনএস কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহারিয়ার রহমান রিয়নের নেতৃত্বে ওই দোকানে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে। এসময় চায়ের কেথলিতে থাকা গরম পানি দিয়ে তিন সহোদরকে ঝলসে দেয়। পরে স্থানীয়রা একজোট হলে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের সাথে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে খবর পেয়ে সদর থানা পুলিশ এবং জেলা ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে ঝলসে যাওয়া তিন সহোদর সহ চারজন নাটোর সদর হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছে।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে এনএস কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি শাহাদৎ হোসেন রাজিব বলেন, ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের ওপর শিবিরের নির্যাতনের প্রতিবাদে কলেজে একটি প্রতিবাদ মিছিল শেষে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা চা খাওয়ার জন্য মুল ফটকের সামনে বসে। এসময় দোকানদারকে চা দিতে বললে সে না দেওয়ার কারনে ক্ষিপ্ত হয়ে এই ঘটনা ঘটেছে। তবে কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকও গরম পানিতে আহত হয়েছেন।

এবিষয়ে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মশিউর রহমান জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। তবে থানায় এখন পর্যন্ত কোন অভিযোগ দায়ের হয়নি।

ইমরান সরকারের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা

গণজাগরণ মঞ্চের একাংশের আহবায়ক ডা. ইমরান এইচ সরকারসহ তিনজনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী করেছেন গাজীপুরের আদালত।
সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গন থেকে ভাস্কর্য অপসারণ ঘটনায় অযৌক্তিকভাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে শ্লোগান দিয়ে কটুক্তি করে সম্মানহানি করার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় এ গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী হয়। গাজীপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২ এর বিচারক মো. শহীদুল ইসলাম বৃহস্পতিবার গ্রেফতারী পরোয়ানা জারীর আদেশ দেন।
বাদী পক্ষের আইনজীবী ওয়াসিম খলিল জানান, জাতীয় ঈদগাহ সংলগ্ন সুপ্রীম কোর্ট প্রাঙ্গণ হতে গ্রীক দেবী জাস্টিসিয়ার মূর্তি অপসারণ এবং এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে দেশকে অস্থিতিশীল করে তুলতে গণজাগরণ মঞ্চের স্বঘোষিত মুখপাত্র ‘ইমরান এইচ সরকার’ এর নেতৃত্বে কতিপয় দুষ্কৃতিকারী গত ২৬ মে সন্ধ্যায় শাহবাগ এর জাতীয় জাদুঘর গেট হতে মশাল মিছিল বের করে।

এ সময় বিনা উস্কানীতে অযৌক্তিকভাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে বারংবার অশ্রাব্য মানহানিকর স্লোগান দিয়ে কটুক্তি করে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অশালীন মন্তব্য করে জনসম্মুখে তার সম্মানহানি করে।

এ অভিযোগে গণজাগরণ মঞ্চের একাংশের আহবায়ক ডা. ইমরান এইচ সরকারসহ তিন জনের বিরুদ্ধে গত ৩১ মে গাজীপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত-২ এ মামলা দায়ের করা হয়।
মামলায় গণজাগরণ মঞ্চের কর্মী সনাতন উল্লাস ও নাসির উদ্দিন এবং অজ্ঞাত আরো ৩০/৩৫জনকে অভিযুক্ত করা হয়। গাজীপুর মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক সুমন আহমেদ শান্ত বাবু বাদি হয়ে এ মামলা দায়ের করেন।
ওইদিন আদালতে বাদীর জবানবন্দী গ্রহণ ও যথাযথ শুনানি শেষে বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে আসামীদের প্রতি সমন ইস্যু করেন। এসময় বিচারক বৃহস্পতিবার আসামিদেরকে সশরীরে আদালতে হাজির হয়ে অভিযোগ এর জবাব দেওয়ার আদেশ দেন।
আদেশে আরো উল্লেখ করা হয় আসামিরা নির্ধারিত ২৭ জুলাই আদালতে হাজির হতে ব্যর্থ হলে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করা হবে। কিন্তু নির্ধারিত ২৭ জুলাই আসামীরা আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় শুনানী শেষে আদালতের বিচারক তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারীর আদেশ দেন।