অবশ্যই ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ এড়াতে চাই: ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, দৃশ্যত সৌদি আরবের তেলক্ষেত্রে হামলার জন্য দায়ী ইরান। তবে ওয়াশিংটন অবশ্যই তেহরানের সঙ্গে যুদ্ধ এড়াতে চায়।

সোমবার ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এমন মন্তব্য করেন। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

এমন সময়ে এ মন্তব্য করলেন ট্রাম্প যখন অনেক বিশ্লেষকই আশঙ্কা করছিলেন, সৌদি আরবের দুই বৃহৎ তেলক্ষেত্রে তেহরানের হামলার অজুহাতে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়াতে পারে যুক্তরাষ্ট্র।

ট্রাম্পের কাছে সাংবাদিকরা জানতে চান, ইরানই এ হামলা চালিয়েছে বলে তিনি বিশ্বাস করেন কিনা? উত্তরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, এ মুহূর্তে অবশ্যই বিষয়টি তেমনই দেখাচ্ছে।

ট্রাম্প বলেন, আমরা ইতোমধ্যেই জানি কারা এটি করেছে এবং এটি হচ্ছে ইরান। তবে ওয়াশিংটন আরও প্রমাণ সংগ্রহ করতে চায়।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, কারা এই কাজ করেছে নিশ্চিতভাবেই আমরা তা খুঁজে বের করতে চাই। অদূর ভবিষ্যতে আপনারা বিস্তারিত জানতে পারবেন।

এদিকে সৌদি আরবের বৃহৎ দুই তেল স্থাপনায় ড্রোন হামলার নেপথ্যে ইরান জড়িত রয়েছে দাবি করে স্যাটেলাইট ছবি প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন গোয়েন্দারা মনে করেন, ওই হামলায় তেহরান জড়িত।

শনিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকো-র দুইটি বৃহৎ তেল স্থাপনায় হামলা চালানো হয়। ওই হামলার পর তেল উৎপাদন অর্ধেকে কমিয়ে আনে সৌদি আরব। হামলার পর ইরানকে দায়ী করে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সৌদি আরবে প্রায় ১০০ হামলার পেছনে তেহরান জড়িত। উত্তেজনা হ্রাসের সব আহ্বানের মধ্যেও ইরান এখন বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহে ভয়াবহ হামলা শুরু করেছে।’

১৫ সেপ্টেম্বর টুইটারে দেওয়া পোস্টে এ ঘটনায় ইরানকে সরাসরি অভিযুক্ত করা থেকে বিরত ছিলেন ট্রাম্প। তবে এ সময় তিনি পরিচিত শত্রু দেশের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের পরামর্শ দিয়েছিলেন। এর একদিনের মাথায় সোমবার যুদ্ধ এড়ানোর কথা বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা বলছেন, ‘হামলার ব্যাপ্তি ও গতিপথের কারণে হুথি বিদ্রোহীদের জড়িত থাকার বিষয়ে সন্দেহ সৃষ্টি করেছে।’ একজন মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে আসা হামলা ও লক্ষ্যবস্তুর ১৯টি পয়েন্ট চিহ্নিত করা হয়েছে, যা ইয়েমেনের হুথিদের নিয়ন্ত্রিত এলাকা নয়, সৌদি তেল স্থাপনার দক্ষিণ-পশ্চিম দিক। কর্মকর্তারা বলেছেন, ওই হামলাটি উত্তর উপসাগর, ইরান বা ইরাকের কোনও ঘাঁটি থেকে চালানো হয়ে থাকতে পারে। যদিও ইরাক তাদের ভূখণ্ড থেকে সৌদি আরবে হামলার বিষয়টি অস্বীকার করেছে।

সিনিয়র একজন মার্কিন কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় সম্প্রচারমাধ্যম এবিসি জানিয়েছে, ওই হামলার জন্য ইরান দায়ী, এ ব্যাপারে পুরোপুরি একমত ট্রাম্প।

অস্থির মধ্যপ্রাচ্যে আরেকটি যুদ্ধ আসন্ন?

হুথি বিদ্রোহীরা দাবি করছে এই হামলা তারা চালিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি এর পেছনে আছে ইরান। আর ইরান এর সঙ্গে তাদের কোন সম্পর্কের কথা জোর গলায় অস্বীকার করছে।

সৌদি আরবের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনার ওপর নাটকীয় হামলার পর তীব্র বাকযুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে। সৌদি আরবের এই তেলস্থাপনাগুলো গোটা বিশ্বের তেল সরবরাহের ক্ষেত্রে খু্বই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এগুলো যে কতটা নাজুক অবস্থায় আছে, এই হামলা সেটা স্পষ্ট করে দিয়েছে। খবর বিবিসি বাংলার

ইয়েমেনের বিরুদ্ধে যে বিমান হামলা চালাচ্ছে সৌদি আরব, তাতে যুক্তরাষ্ট্রের মদত আছে। সৌদি আরবের এসব বিমান সরবরাহ করেছে পশ্চিমা দেশগুলো। বহু দিন ধরে সৌদি আরব হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

কিন্তু প্রতিপক্ষও যে পাল্টা হামলার ক্ষমতা রাখে, সৌদি তেল স্থাপনার ওপর এই আঘাত তারই প্রমাণ।

তবে এই ঘটনা সেই পুরোনো বিতর্ককে আবার উস্কে দিয়েছে- হুথি বিদ্রোহীদের ইরান কী পরিমাণ সামরিক এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা দিচ্ছে? মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এমনিতেই অস্থিতিশীল। সেখানে এই সর্বশেষ ঘটনা যেন পুরো অঞ্চলের পরিস্থিতি আরও অগ্নিগর্ভ করে তুলেছে।

কিন্তু এই হামলা একই সঙ্গে ইরানের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি এবং কৌশলের ব্যর্থতাও ফুটিয়ে তুলেছে।

সৌদি তেল স্থাপনায় হামলার ব্যাপারে নানা দাবি এবং পাল্টা দাবির মধ্যে অনেক তথ্য এখনো অজানা।

হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের বিভিন্ন টার্গেটে আগেও ড্রোন এবং মিসাইল হামলা চালিয়েছে। কিন্তু ড্রোন হামলা থেকে তারা খুব সীমিত সাফল্যই পেয়েছে।

তবে এবারের যে হামলা সেটা এমন মাত্রার যে তার সঙ্গে আগেরগুলোর কোন তুলনাই চলে না। বহুদূর থেকে যেরকম ব্যাপক মাত্রায় যে ধরণের লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করা হয়েছে, তার নজির নেই।
মিসাইল না ড্রোন

এই হামলার ব্যাপারে আরেকটি প্রশ্নের উত্তর অমীমাংসিত। হামলায় কি আনম্যানড এরিয়াল ভেহিকেল (ইউএভি) ব্যবহার করা হয়েছে, নাকি নতুন কোন ধরণের মিসাইল। যদি মিসাইল ব্যবহার করা হয়ে থাকে, সৌদি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেন তার সংকেত পেল না?

আরেকটি প্রশ্ন হচ্ছে হামলার পেছনে ইরাকের কোন ইরানপন্থী মিলিশিয়া গোষ্ঠী ছিল, নাকি স্বয়ং ইরানই জড়িত?

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও কিন্তু কোন সময় নষ্ট না করে সরাসরি তেহরানের দিকে আঙ্গুল তুলছেন এই ঘটনার জন্য। ঘটনার ব্যাপারে কোন গোয়েন্দা তথ্যের জন্য পর্যন্ত তিনি অপেক্ষা করেননি।

কয়েকঘন্টা পর অবশ্য মার্কিন সূত্রগুলো দাবি করতে থাকে মোট ১৭টি স্থানে এই ড্রোন হামলা হয় এবং প্রতিটি ক্ষেত্রেই এসব হামলা হয়েছে উত্তর বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে। যুক্তরাষ্ট্র বলতে চাইছে এই হামলা হয়েছে ইরান বা ইরাকের দিক থেকে, দক্ষিণের ইয়েমেন থেকে নয়।

যুক্তরাষ্ট্র বলছে তারা এই হামলা ব্যাপারে আরও বিস্তারিত তথ্য জানাবে। হামলায় ব্যবহৃত যেসব ড্রোন টার্গেট পর্যন্ত যেতে পারেনি, সেগুলো পরীক্ষা করা হচ্ছে।

কোন দিক থেকে হামলা
২০০৮ সালে জাতিসংঘের এক বিশেষজ্ঞ প্যানেল বলেছিল, হুথি বিদ্রোহীদের কাসেফ-ওয়ান ড্রোনের সঙ্গে ইরানের আবাবিল-টি ড্রোনের ব্যাপক সাদৃশ্য আছে। জাতিসংঘের দলটি তাদের রিপোর্টে বলেছিল, ইয়েমেনের বিরুদ্ধে যে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা জারি আছে, ইরান সেটি ভঙ্গ করেছে এবং হুথি বিদ্রোহীদের নানা রকম অস্ত্র সরবরাহ করেছে।

কাসেফ-ওয়ান কিংবা আবাবিল-টি ড্রোন বড়জোর ১০০ বা ১৫০ কিলোমিটার দূরত্বে যেতে পারে। ইয়েমেনের সীমান্ত থেকে খুরাইস তেল ক্ষেত্রের দূরত্ব প্রায় ৭৭০ কিলোমিটার। যেসব টার্গেটে হামলা হয়েছে, তার মধ্যে এই তেলক্ষেত্রই ইয়েমেনের সবচেয়ে কাছে।

কাজেই ইয়েমেনের দিক থেকে যদি এই হামলা হয়ে থাকে, তাহলে এবারের ড্রোনগুলো নিশ্চিতভাবেই একেবারে ভিন্ন ডিজাইনের, যেগুলো অনেক বেশি দূরত্ব পাড়ি দিতে পারে এবং অনেক বেশি নির্ভরযোগ্য।

ইরান এবং সম্ভবত হুথি বিদ্রোহীদেরও হয়তো আরও দূরপাল্লার ড্রোন আছে। কিন্তু এপর্যন্ত ইয়েমেনের যুদ্ধে সেধরণের ড্রোনের ব্যবহার দেখা যায়নি।

আরেকটা জল্পনা হচ্ছে, হামলায় হয়তো ক্রুজ মিসাইলও ব্যবহৃত হয়ে থাকতে পারে। হয়তো ইরাক বা ইরান থেকে এই ক্ষেপনাস্ত্র ছোঁড়া হয়েছে। কিন্তু এই দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা তথ্যের দরকার হবে।

সর্বাত্মক যুদ্ধের ঝুঁকি কতটা
কিন্তু শেষ বিচারে এসব খুঁটি-নাটি তথ্যের কোন মানে দাঁড়ায় না। কারণ কূটনৈতিক ক্ষতি যা হওয়ার তা হয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র এবং সৌদি আরব ইরানের নির্মম শত্রু। ট্রাম্প প্রশাসন ইতোমধ্যে মনস্থির করে ফেলেছে। পারস্য উপসাগরে বিভিন্ন জাহাজে হামলার জন্য তারা ইরানকেই দোষী করছে।

ইরান তাদের একটি তেলবাহী জাহাজ জিব্রালটারে আটক হওয়ার পর পাল্টা একটি ব্রিটিশ জাহাজ জব্দ করে।

ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, সৌদি আরবের তেল স্থাপনার বিরুদ্ধে হুথি বিদ্রোহীদের যত হামলা, তার সবকটিতে ইরানের হাতের ছাপ স্পষ্ট।

কিন্তু এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এ ব্যাপারে তারা কী করবে বা কী করার ক্ষমতা রাখে? এর উত্তর হচ্ছে, সম্ভবত খুব বেশি কিছু করার ক্ষমতা নেই।

ইয়েমেনের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র এমনিতেই শক্তভাবে সৌদি আরবের পক্ষে। কিন্তু এই যুদ্ধের ব্যাপারে মার্কিন কংগ্রেসে অতটা উৎসাহ নেই। কংগ্রেসে এমন মত প্রবল হচ্ছে যে, ইয়েমেনের বিরুদ্ধে এই সৌদি বিমান হামলার কোন মানে নেই। একটা গরীব দেশের ওপর এই হামলা এক বড় মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি করছে।

ট্রাম্প প্রশাসন যদিও সৌদি আরবের পক্ষে ব্যাপক সমর্থন জোগাচ্ছে এবং ইরানের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের কথা বলছে, বাস্তবে তেহরানের কাছে তারা কিন্তু নানা ধরণের বার্তা দিচ্ছে।

একদিকে মনে হচ্ছে মি. ট্রাম্প যেন ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে একটা মুখোমুখি বৈঠকে বসতে চান। তিনি মাত্রই তার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টনকে বরখাস্ত করেছেন। জন বোল্টন হচ্ছেন সেরকম একজন কট্টরপন্থী, যিনি কিনা যে কোন পন্থায় ইরানের রাষ্ট্রক্ষমতায় পালাবদলের পক্ষে।

ইরান এবং হুথি বিদ্রোহীরা যুদ্ধে যে ধরণের কৌশল নিয়েছে, সেটা শক্তিমানের বিরুদ্ধে দুর্বলের লড়াইয়ের চিরাচরিত কৌশল। বেশিরভাগ কৌশল যেন রুশদের কাছ থেকে ধার করা- যে কোন কিছু অস্বীকার করা, ছায়াযুদ্ধ, সাইবার হামলা এবং প্রপাগান্ডা যুদ্ধ।

তেহরান ভালো করেই জানে, মিস্টার ট্রাম্প মুখে যত কথাই বলুন, আসলে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন কোন যুদ্ধে জড়াতে চান না, বরং যুদ্ধ থেকে বের করে আনতে চান। এর ফলে ইরানই বরং এখন পাল্টা সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছে।

কিন্তু যে কোন মূহুর্তে যে কারও একটা ভূল হিসেবের কারণে একটা সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু হয়ে যাওয়ার আশংকা আছে, যেটা আসলে কেউই চায় না।

ইসরায়েলের দখলদারিত্বে বাংলাদেশের নিন্দা

ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের অবৈধ দখলদারিত্ব ও দেশটির প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর জর্ডান উপত্যকা দখলের হুমকির তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ।

সৌদি আরবের রিয়াদে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের জরুরি সভায় এ নিন্দা জানানো হয়।

রোববার (১৫ সেপ্টেম্বর) রিয়াদের বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সভায় রিয়াদে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত গোলাম মসীহ বলেন, বাংলাদেশ সংবিধান অনুযায়ী নিপীড়িত মানুষের পাশে থাকার ও যেকোনো মূল্যে মুসলিম উম্মাহর একতা বজায় রাখার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।

বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত বলেন, ফিলিস্তিনে স্থায়ীভাবে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট রেজ্যুলেশনের বাস্তবায়ন, রোডম্যাপ ও আরব শান্তি পরিকল্পনার গুরুত্ব সর্বাধিক। বাংলাদেশ ওআইসি ও জাতিসংঘের সদস্য হিসেবে ফিলিস্তিন প্রশ্নে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে কাজ করে যাবে।

আসন্ন জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ওআইসির সদস্য রাষ্ট্রগুলো তাদের মূল বক্তব্যে এ বিষয়টি তুলে ধরবেন বলেও জানান তিনি।

জরুরি সভায় সৌদি আরব ছাড়াও তুরস্ক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ফিলিস্তিনসহ আরও ২০টি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা যোগ দেন। এতে সভাপতিত্ব করেন সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইব্রাহিম আবদুল আজিজ আল-আসাফ।

সভায় ফিলিস্তিন বিষয়ে গৃহীত রেজ্যুলেশনে জাতিসংঘের আসন্ন সাধারণ পরিষদের সম্মেলনে ইসরায়েলের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ওআইসি সদস্যদের কথা বলার অনুরোধ জানিয়ে বাংলাদেশের প্রস্তাবনা সর্বসম্মতিক্রমে অন্তর্ভুক্ত হয়। এছাড়া, সম্প্রতি সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের তেলক্ষেত্রে ড্রোন হামলার তীব্র নিন্দা জানানো হয়। এ বিষয়েও একটি পৃথক রেজ্যুলেশন গৃহীত হয়।

সভা শেষে ওআইসির মহাসচিব ড. ইউসুফ বিন আহমেদ আল-ওথাইমিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন রাষ্ট্রদূত গোলাম মসীহ। এসময় ওআইসির মহাসচিবের হাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক কমিটির সদস্য হওয়ার আমন্ত্রণপত্র তুলে দেওয়া হয়।

চীনে আটক করে মুসলমান নারীদের বন্ধ্যা করে দেয়া হচ্ছে

চীনের নৃতাত্ত্বিক ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের অন্তরীণ রাখার বিভিন্ন ডিটেনশন ক্যাম্পে মুসলমান নারীদের বন্ধ্যা করে দেয়া হচ্ছে।

সাবেক আটকদের বরাতে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেন্ডেন্ট ও জাপানের নিক্কেই এশিয়ান রিভিউ এমন খবর দিয়েছে।

গুলবাহার জেলিলোভা নামের এক নারী বলেন, আমাদের শরীরে প্রায়ই ইনজেকশন পুশ করতেন তারা।

সুদূর পশ্চিম জিনজিয়াং অঞ্চলে প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের নামে এই আটক রাখার ক্যাম্পগুলোতে একবছরেরও বেশি সময় তাকে বন্দী রাখা হয়েছিল।

গুলবাহার বলেন, দরজার একটি ছোট্ট ফাঁক দিয়ে আমাদের হাত বাইরে বের করে দিতে হয়েছে। ইনজেকশন দেয়ার পর শীঘ্রই বুঝতে পারলাম যে আমাদের পিরিয়ড বন্ধ হয়ে গেছে।

আটক হওয়ার পর অধিকাংশ সময় ১০ থেকে ২০ ফুটের একটি ছোট্ট ঘরে অর্ধশতাধিক নারীর সঙ্গে কাটাতে হয়েছে ৫০ বছর বয়সী এই নারীকে। এতে গা ঘেঁষাঘেঁষি করে তাদের দিন যাপন করতে হয়েছে।

জাপানের টোকিওতে মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের একটি অনুষ্ঠানে ভিডিও কলে ৩০ বছর বয়সী এক যুবতীও এই তথ্য দিয়েছেন।

মেহেরগুল তুরসুন নামের ওই উইঘুর নারী বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসিত জীবন যাপন করছেন। ২০১৭ সালে তিনি যখন ক্যাম্পে অন্তরীণ ছিলেন, তখন তাকে অজ্ঞাত ওষুধ ও ইনজেকশন দেয়া হয়েছে।

মেহেরগুল বলেন, আমি সপ্তাহখানেক ধরে ক্লান্ত বোধ করেছি। স্মৃতি হারিয়ে ফেলেছি এবং বিষণ্ণ হয়ে পড়েছিলাম। মানসিক রোগী হিসেবে শনাক্ত হলে চার মাস পর আমাকে ছেড়ে দেয়া হয়।

পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তিনি বন্ধ্যা হয়ে গেছেন।

ক্যাম্পগুলোতে ১০ লাখের মতো উইঘুর, কাজাখ ও অন্যান্য সংখ্যালঘুকে জোরপূর্বক আটক রেখেছে চীন বলে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা জানিয়েছে।

গবেষকদের দাবি, এসব স্থাপনা যুদ্ধকালীন বন্দীশিবিরের মতো। সাংস্কৃতিক গণহত্যা ও সামাজিক পরিবর্তনের জন্য পরিকল্পিত অভিযানের অংশ হিসেবে ডিটেনশন ক্যাম্পে লোকজনকে আটকে রাখা হয়েছে।

এসব ক্যাম্পকে বোর্ডিং স্কুল হিসেবে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছে চীন সরকার। যেখানে আটকদের বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। আর নির্যাতনের খবরকে ভুয়া বলে উল্লেখ করছে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটি

এবার স্বাধীনতার দাবিতে উত্তাল হংকং

ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে হংকং। এবার দাবি স্বাধীনতার। এ দাবিকে কেন্দ্র করে ফিরে এসেছে সংঘর্ষ ও সহিংসতা। দাঙ্গা পুলিশ আর বিক্ষোভকারীদের মধ্যকার সংঘর্ষে হংকং শহর এখন রণক্ষেত্র।

গুরুত্বপূর্ণ সরকারি অফিসগুলোতে পেট্রলবোমা আর ইট-পাটকেল ছুড়ছে গণতন্ত্রপন্থীরা। ককটেল ছুড়ে আগুন লাগিয়ে দিচ্ছে।

তাদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার গ্যাস আর জলকামান ছুড়ছে পুলিশ। ধাওয়া করছে ঢাল আর লাঠি নিয়ে। কয়েকদিনের বিরতি দিয়ে রোববারই ফের ভয়াবহ এই চিত্র দেখা যায় স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলটির রাজপথে।

টানা ১৫ সপ্তাহে গড়িয়েছে হংকংয়ের চীনবিরোধী বিক্ষোভ। পুলিশের নিষেধাজ্ঞাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে রোববার ফের শহরের রাস্তায় রাস্তায় মার্চ করে কয়েক হাজার বিক্ষোভকারী। ইতিমধ্যেই এ গণবিক্ষোভ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজর কাড়তে সক্ষম হয়েছে।

বিক্ষোভকারীরাও চাইছেন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও জার্মানিদের মতো দেশগুলোর কাছে তাদের বার্তা পৌঁছে দিতে। এর অংশ হিসেবে রোববার চীনের হংকং নীতির বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যের সমর্থন দাবি করে গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলনকারীরা।

এদিন তারা হংকংয়ের ব্রিটিশ কনস্যুলেটের সামনে সমবেত হয়ে অঞ্চলটির স্বায়ত্তশাসন বহাল রাখতে চীনের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানায়। স্লোগান ওঠে, ‘এক দেশ, দুই নীতি এখন মৃত। হংকং স্বাধীন কর।’

যুক্তরাজ্যের পতাকা এবং ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলের হংকংয়ের পতাকা নিয়ে কনস্যুলেটের সামনে সমবেত হয় বিক্ষোভকারীরা। ব্রিটিশ সরকারের প্রতি তাদের দাবি, ১৯৮৪ সালের সিনো-ব্রিটিশ যৌথ ঘোষণার প্রতি বেইজিং যেন সম্মান প্রদর্শন করে।

ওই ঘোষণায় চীন ‘এক দেশ, দুই নীতি’ শাসন ব্যবস্থা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেয়। এর আওতায় ৫০ বছর হংকংয়ের নাগরিকদের পুঁজিবাদ এবং রাজনৈতিক স্বাধীনতা দিতে সম্মত হয় বেইজিং।

এর ভিত্তিতেই ১৯৯৭ সালের ১ জুলাই বিটিশ সরকার হংকং ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ চীনের কাছে হস্তান্তর করে। এখন বিক্ষোভকারীদের দাবি, ওই চুক্তির একটি পক্ষ হিসেবে যেন এটি মানতে বেইজিং-এর ওপর চাপ প্রয়োগ করে যুক্তরাজ্য। ‘এক দেশ, দুই নীতি’ শাসন ব্যবস্থার আওতায় হংকংয়ের বাসিন্দারা যেন তাদের রাজনৈতিক অধিকারের চর্চা করতে পারে।

ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ বলছে, ১৯৮৪ সালের সিনো-ব্রিটিশ যৌথ ঘোষণার বাস্তবায়ন নিশ্চিতে বেইজিংয়ের আইনগত দায়বদ্ধতা রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীন দৃশ্যত ওই ঐতিহাসিক চুক্তিকে অস্বীকার বা প্রত্যাখ্যান করছে। চীনের কবল থেকে হংকংয়ের সুরক্ষা নিশ্চিতে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রেরও সহায়তা চেয়েছে বিক্ষোভকারীরা।

অঞ্চলটির স্বাধীনতা অর্জনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা। এ মাসেই যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সঙ্গীত গেয়ে এবং দেশটির পতাকা উড়িয়ে এই আহ্বান জানান বিক্ষুব্ধ অন্দোলনকারীরা।

কাশ্মীরীরা প্রতিদিনই বিক্ষোভ কর্মসূচী করছেন

স্বায়ত্তশাসন ও বিশেষ মর্যাদা বাতিলের পর থেকে জম্মু-কাশ্মীরে প্রতিবাদ বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। কঠোর অবরোধ ও মোড়ে মোড়ে সেনা-পুলিশ সত্ত্বেও গত দেড় মাসে উপত্যকায় প্রতিদিন গড়ে ২০টি বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। দিন যতই যাচ্ছে বিক্ষোভের মাত্রা ও সংখ্যা ততই বাড়ছে।

বিক্ষোভের বেশিরভাগই হচ্ছে উপত্যকার সবচেয়ে বড় শহর শ্রীনগরের চারপাশে। এরপরই রয়েছে উত্তর-পশ্চিমের বারামুল্লা জেলা ও দক্ষিণের জেলা পুলওয়ামা। রোববার সরকারের এক সিনিয়র কর্মকর্তা এসব তথ্য জানিয়েছেন। খবর এএফপির

গত মাসের প্রথম সপ্তাহে কাশ্মীরের কয়েক দশকের স্বায়ত্তশাসন বাতিলের বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নেয় ক্ষমতাসীন কট্টর হিন্দু জাতীয়তাবাদী বিজেপি সরকার।

কারফিউ, অবরোধের পাশাপাশি ইন্টারনেট, মোবাইল নেটওয়ার্কসহ সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়া হয়। এরপর থেকেই উপত্যকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

লাখ লাখ সেনা-পুলিশের টহল ও নিরাপত্তা কড়াকড়ি সত্ত্বেও ভারতের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে নামে কাশ্মীরের অধিবাসীরা। প্রায় ছয় সপ্তাহ পরও সেই প্রতিবাদ অব্যাহত রয়েছে। সরকারের এক শীর্ষ কর্মকর্তা শনিবার এএফপিকে জানান, ৫ আগস্ট থেকে এখন পর্যন্ত ৭২২টি বিক্ষোভ হয়েছে। প্রধান শহর শ্রীনগরের পরই বারামুল্লা ও পুলওয়ামা শহর বিক্ষোভের প্রাণকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

কাশ্মীরি জনতার স্বতঃস্ফূর্ত ও শান্তিপূর্ণ এসব বিক্ষোভে ভারতীয় বাহিনীর কঠোর বাধার মুখে পড়েছে। টিয়ারগ্যাস ও পেলেট বা ছররা গুলি ছুড়ে ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা হয়েছে। এতে এ পর্যন্ত পাঁচ বেসামরিক নাগরিক নিহত ও ২০০ জন বিক্ষোভকারী আহত হয়েছে। গত দুই সপ্তাহেই আহত হয়েছে ৯৫ জন।

এ পর্যন্ত আটক করা হয়েছে প্রায় ৪ হাজার ১০০ জনকে। এর মধ্যে খ্যাতনামা রাজনীতিকসহ স্থানীয় ১৭০ জন নেতাকর্মী রয়েছেন। আটককৃতদের মধ্যে ৩ হাজার জনকে মুক্তি দেয়া হয়েছে।

পাক সেনারা ২ হাজার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে -নয়াদিল্লি:
কাশ্মীর সীমান্তে ভারত ও পাক বাহিনীর মধ্যে গোলাগুলি অব্যাহত রয়েছে। আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রণ রেখায় শনিবার গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটে। এতে দুই পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়।

নয়াদিল্লি দাবি করেছে, চলতি বছর ২ হাজার বার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে পাক বাহিনী। সেই সঙ্গে তারা যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত ২০০৩ সালে স্বাক্ষরিত চুক্তি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।

সৌদিতে হামলা অভিযোগ সত্ত্বেও রুহানির সঙ্গে বসবেন ট্রাম্প!

সৌদি তেল স্থাপনায় ড্রোন হামলায় ইরানকে মূলহোতা আখ্যায়িত করা সত্ত্বেও দেশটির প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির সঙ্গে বৈঠকে বসতে পারেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

হোয়াইট হাউসের এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির

টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক সাক্ষাতকারে হোয়াইট হাউসের কাউন্সেলর কেল্লেয়ান্নি কনওয়াই এমন সম্ভাবনার কথা একেবারে উড়িয়ে দেননি।

এমন এক সময় তিনি এই দাবি করলেন যখন ড্রোন হামলায় তেল উৎপাদন কমিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছে মার্কিন মিত্র সৌদি আরব। যদিও ফের পুরোদমে উৎপাদন শুরু করতে চেষ্টা করছে রিয়াদ।

প্রতিবেশী ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা শনিবার সৌদির রাষ্ট্র মালিকানাধীন তেল কোম্পানি আরমাকোর দুটি স্থাপনায় শনিবার ড্রোন হামলা চালিয়েছেন।

মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রী মাইক পম্পেও এ হামলার দায় ইরানের ওপর চাপিয়েছে। তিনি বলেন, এই বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে নজিরবিহীন হামলা ইয়েমেন থেকে হয়েছে বলে কোনো প্রমাণ নেই।

রোববার ফক্স নিউজকে কনওয়াই বলেন, নিউইয়র্কে আসন্ন জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে দুই নেতার একটি বৈঠকের যে আভাস ট্রাম্প দিয়েছিলেন, তিনি সেটাকে বিবেচনায় রাখবেন বলে মনে হচ্ছে।

একটি চুক্তি কিংবা বৈঠকে বসতে শর্তাবলী প্রেসিডেন্টের জন্য ন্যায়সঙ্গত বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

গত বছরের মে-তে ছয় বিশ্বশক্তির সঙ্গে ইরানের পরমাণু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্র নিজেকে প্রত্যাহার করে নিলে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা চরম আকার নিয়েছে।

ইরানের অর্থনীতিকে ভেঙে দিতে দেশটির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র একের পর এক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যাচ্ছে।

ইরানও চুক্তির প্রতিশ্রুতি থেকে সরে গিয়ে জবাব দিচ্ছে। চুক্তিতে পরমাণু কর্মসূচিতে লাগাম টেনে ধরার বিনিময়ে নিষেধাজ্ঞা থেকে ছাড় পাওয়ার প্রতিশ্রুতি রয়েছে।

বিশ্লেষকরা আশা করছেন, ইরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের মূল কারিগর জন বোল্টনকে জাতীয় উপদেষ্টার পদ থেকে সরিয়ে দেয়ার পর নতুন করে দুই দেশের মধ্যে আপসের সম্ভাবনা রয়েছে।

শনিবার বিস্ফোরণে বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল প্রক্রিয়াজাতকরণ স্থাপনা বাকিক ও নিকটস্থ খুরাইশ আগুনে গ্রাস করে ফেলে।

হোয়াইট হাউসের কাউন্সিলর বলেন, চীনের সঙ্গে ট্রাম্পের বাণিজ্য যুদ্ধ প্রমাণ করেছে, হোয়াইট হাউসে একজন ব্যবসায়ী থাকা লাভজনক হয়েছে, যিনি একজন ধৈর্যশীল চুক্তি প্রণয়নকারী।

যদিও দুই পরাশক্তির এই বাণিজ্যযুদ্ধ বৈশ্বিক অর্থনীতির অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে এবং ভিত দুর্বল করে দিয়েছে।

ফক্সনিউজকে এই রাজনৈতিক পরামর্শক বলেন, তিনি (ট্রাম্প) জানেন- সম্পর্ককে ঘিরে যে সব উপাদান থাকা দরকার, তা যদি বর্তমান না থাকে, তবে আপনি লোকজনের সঙ্গে বসবেন না কিংবা বৈঠক করবেন না। ইরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের প্রচারের মতো, ইরানের পরমাণু চুক্তি থেকে সরে আসার মতো, দুই দিন আগে হোয়াইট হাউস থেকে মার্কিন অর্থ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার মতো।

চাঁদে বাড়ী বানাতে সিমেন্ট গুলছেন নাসা

ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশনে (আইএসএস) এখন ব্যস্ততা তুঙ্গে। মহাসমারোহে সিমেন্ট গুলছেন মহাকাশ বিজ্ঞানীরা। গত কয়েক মাস ধরেই এ প্রক্রিয়া চলছে সমানে।

মহাকাশের ওজন শূন্য অবস্থা বা মাইক্রোগ্র্যাভিটির মায়া কাটিয়ে সিমেন্ট যদি একবার শক্ত হয়ে এঁটে বসে, তাহলেই কেল্লাফতে! চাঁদে বানানো হবে বাড়ি। খবর দ্য ওয়ালের

আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে সব কিছুই প্রায় ওজন শূন্য দশায় থাকে। সেখানে নিচে টেনে নামানোর ‘শক্তি’ অভিকর্ষ বলটাই নেই। যাকে বলে, ‘মাইক্রোগ্র্যাভিটি’। ফলে মহাকাশচারীসহ সব কিছুকেই ভেসে থাকতে হয় মহাকাশে। এ মাইক্রোগ্র্যাভিটি নিয়ে আইএসএসে গবেষণা বহু বছর ধরেই চলছে।

এ মাইক্রোগ্র্যাভিটিকে চ্যালেঞ্জ করেই মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার প্রজেক্ট সিমেন্ট সলিডিফিকেশন। অর্থাৎ এই বিনা-অভিকর্ষজ বলের মধ্যেই সিমেন্টকে নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে মিশিয়ে, জমিয়ে শক্ত করা। নাসার এ প্রকল্পের পোশাকি নাম ‘মাইক্রোগ্র্যাভিটি ইনভেস্টিগেশন অব সিমেন্ট সলিডিফিকেশন (এমআইসিএস)।’

এই জমানো সিমেন্ট হবে বর্ম- এমনটাই জানিয়েছে নাসা। পৃথিবীর কক্ষপথে ঘুরতে থাকা এ আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনে তেজস্ক্রিয় রশ্মিরা আগেও হানা দিয়েছিল। সিমেন্টের বর্ম থাকলে যে কোনো মহাজাগতিক রশ্মির হাত থেকে মহাকাশচারীদের বাঁচানো যাবে। পাশাপাশি তাপমাত্রার ভারসাম্য বজায় থাকবে। নাসার পরবর্তী মিশন চাঁদে ও মঙ্গলে মানুষ পাঠানো।

এ মাইক্রোগ্র্যাভিটির সঙ্গে যুদ্ধে সিমেন্ট যদি জিতে যায়, তাহলে আগামী দিনে চাঁদে বাড়ি বানাতে কোনো সমস্যাই হবে না। মঙ্গলেও মহাকাশচারীদের থাকার একটা হিল্লে হবে। পেনসিলভানিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির প্রিন্সিপাল ইনভেস্টিগেটর আলেকসান্দ্রা রাডলিঙ্কসা জানিয়েছেন, সিমেন্ট সলিডিফিকেশন প্রজেক্টে সাফল্য মিললে শুধু নাসা নয়, বিশ্বের যে কোনো দেশের মহাকাশচারীদের অনেক সুবিধা হবে।

নিজের স্বার্থে ইসরাইলের ধ্বংস ত্বরান্বিত করছেন নেতানিয়াহু: ইরান

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জর্দান নদীর পশ্চিম তীরের কিছু অংশ ইসরাইলে যুক্ত করবেন বলে যে ঘোষণা দিয়েছেন তার ফলে এই অবৈধ রাষ্ট্রের ধ্বংস ত্বরান্বিত হবে বলে মন্তব্য করেছেন, ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকারের বিশেষ সহকারী ও সাবেক উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমির আব্দুল্লাহিয়ান।

তিনি এক বিবৃতিতে বলেন, আমেরিকা ও ইসরাইল কথিত শান্তি প্রক্রিয়া ও ডিল অব সেঞ্চুরির নামে ফিলিস্তিনিদের জন্য যে কত বড় অশুভ পরিকল্পনা তৈরি করেছে তা নেতানিয়াহুর এ বক্তব্যে দিবালোকের মতো স্পষ্ট হয়ে গেছে।

নেতানিয়াহু সম্প্রতি এক নির্বাচনি জনসভায় ঘোষণা দিয়েছেন, তিনি পুনর্নিবাচিত হলে অধিকৃত পশ্চিম তীরের বিশাল অংশকে ইসরাইলের সঙ্গে যুক্ত করবেন।

তিনি বলেছেন, ১৭ সেপ্টেম্বরের নির্বাচনে জয়লাভের পরপরই জর্ডান উপত্যকা এবং ডেড সি বা মৃত সাগরের উত্তরাঞ্চলে ইসরাইলের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা করা হবে।

ওই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় আব্দুল্লাহিয়ান নেতানিয়াহুকে ‘নব্য হিটলার’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী মার্কিন সমর্থন ও আরব দেশগুলোর অর্থসাহায্য নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যকে বড় ধরনের যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে চান। তিনি তেল আবিবের এই সর্বগ্রাসী পদক্ষেপ প্রতিহত করার জন্য কঠোর ব্যবস্থা নিতে আন্তর্জাতিক সমাজের প্রতি আহ্বান জানান।

আবার ইসরাইলি ড্রোন ভূপাতিত করেছেন ফিলিস্তিনি যোদ্ধারা

ফিলিস্তিনের প্রতিরোধ ফ্রন্ট গাজা উপত্যকার আকাশে ইসরাইলের আরেকটি গোয়েন্দা ড্রোন ভূপাতিত করেছে।

ফিলিস্তিনি সূত্রগুলো জানিয়েছে, সেখানকার ইসরাইল বিরোধী প্রতিরোধ আন্দোলন ‘পিপল্‌স ফ্রন্ট’র সামরিক শাখা ‘আবু আলী মুস্তফা’ ব্রিগেডের যোদ্ধারা শনিবার রাতে গাজার খান ইউনুস এলাকার আকাশে গুলে করে ইসরাইলি ড্রোনটি ভূপাতিত করেন। এ সম্পর্কে ইসরাইলি বাহিনী এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

এর আগে গত সোমবার রাতেও গাজা উপত্যকার দক্ষিণ প্রান্তে রাফাহ এলাকায় একটি ইসরাইলি ড্রোন ভূপাতিত করেন ফিলিস্তিনি যোদ্ধারা। ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস ওই ড্রোনটি ভূপাতিত করেছিল।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইসরাইলি জঙ্গিবিমান, হেলিকপ্টার ও ড্রোনগুলো গাজা উপত্যকার বিভিন্ন স্থানে বোমাবর্ষণ করে যাচ্ছে।

২০১৭ সালের ডিসেম্বর থেকে দখলদার ইসরাইল অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার বিভিন্ন স্থানে বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এসব হামলায় হাজার হাজার ফিলিস্তিনি হতাহত হয়েছেন। ২০০৬ সাল থেকে গাজা উপত্যকার ওপর জল, স্থল ও আকাশপথে কঠোর অবরোধ আরোপ করে রেখেছে ইহুদিবাদী ইসরাইল। এর ফলে সেখানকার ১৭ লাখ অধিবাসী চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

লাদেন পুত্র হামজার মৃত্যু নিশ্চিত করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিশ্চিত করেছেন যে আল কায়দা নেতা ওসামা বিন লাদেনের পুত্র হামজা বিন লাদেন যুক্তরাষ্ট্রের চালানো এক অভিযানে মারা গেছেন।

গত মাসে আমেরিকার সংবাদ মাধ্যম গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে এক বিমান হামলায় তার নিহত হবার খবর প্রকাশ করে।

দু বছর আগে আমেরিকা তাকে বিশ্ব সন্ত্রাসী হিসাবে আনুষ্ঠানিকভাবে চিহ্ণিত করে।

ব্যাপকভাবে মনে করা হতো যে হামজা বিন লাদেন তার পিতা ওসামা বিন লাদেনের সম্ভাব্য উত্তরসূরী।

হামজার বয়স ধারণা করা হয় প্রায় ৩০বছর। তিনি আমেরিকা এবং অন্যান্য দেশের ওপর আক্রমণ চালানোর ডাক দিয়েছিলেন।

হোয়াইট হাউস থেকে দেওয়া সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে ট্রাম্প জানিয়েছেন, হামজা বিন লাদেন, আল কায়দার শীর্ষ পর্যায়ের সদস্য এবং ওসামা বিন লাদেনের পুত্র, আফগানিস্তান পাকিস্তান এলাকায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চালানোর সন্ত্রাস বিরোধী এক অভিযানে নিহত হয়েছেন।

হামজা বিন লাদেনের মৃত্যু আল কায়দার জন্য গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বপদে শূন্যতা সৃষ্টি করবে এবং তার বাবার সঙ্গে হামজার প্রতীকী যোগাযোগের জায়গাটাও তার মৃত্যুতে ধাক্কা খাবে। শুধু তাই নয়, দলের গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমও এর ফলে বাধাগ্রস্ত হবে।

আমেরিকা কখন এই অভিযান চালিয়েছে তা বিবৃতিতে স্পষ্ট করে বলা হয়নি।

মাত্র ফেব্রুয়ারি মাসে আমেরিকান সরকার হামজাকে ধরিয়ে দেবার জন্য দশ লাখ ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছিল।

হামজা বিন লাদেনকে মনে করা হতো আল কায়দার উঠতি নেতা।

অগাস্ট মাসে খবর দেওয়া হয় যে গত দুই বছরে কোন সময়ে এক সামরিক অভিযানে হামজা বিন লাদেন নিহত হয়েছেন এবং ওই অভিযানে আমেরিকা জড়িত ছিল। তবে অভিযানের সুনির্দিষ্ট তারিখ বা সময় স্পষ্ট করে বলা হয়নি।

১৯৮০র দশকের শেষ দিকে আফগানিস্তানে দলের আত্মপ্রকাশ। দখলদার সোভিয়েত বাহিনীকে হঠানোর জন্য তখন আমেরিকা সমর্থিত মুজাহেদিনদের সাথে যোগ দিয়ে লড়ছিল আরব স্বেচ্ছাসেবকরা।

স্বেচ্ছা সৈনিকদের সহায়তা করতে ওসামা বিন লাদেন একটি সংগঠন গড়ে তোলেন যা পরিচিত হয় আল-কায়দা নামে যার অর্থ ভিত্তি।

তিনি আফগানিস্তান ত্যাগ করেন ১৯৮৯ সালে। এরপর তিনি আবার আফগানিস্তানে ফিরে যান ২৯৯৬সালে কয়েক হাজার বিদেশি মুসলিমের জন্য সামরিক প্রশিক্ষণ শিবির পরিচালনার জন্য।

আমেরিকা, ইহুদী ও তাদের মিত্রদের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করে আল-কায়দা।

কবুতর-কাক আর ডলফিন দিয়ে গুপ্তচর বৃত্তি

হাজার বছর আগেও চিঠি আদানপ্রদানে কবুতরের ব্যবহারের কথা জানা যায় বিশ্বের অনেক অঞ্চলের ইতিহাসে।

কিন্তু খুব বেশিদিন নয়, রাশিয়ার সাথে যুক্তরাষ্ট্রের স্নায়ুযুদ্ধ চলাকালীন মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ কবুতর, কাক ও ডলফিন ব্যবহার করতো গুপ্তচর হিসেবে। খবর বিবিসি বাংলার

সম্প্রতি সিআইএ এই বিষয়ক বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেছে।

কী করতো এই গুপ্তচরেরা?
প্রকাশিত তথ্য দেখা যাচ্ছে গোপন মিশনের জন্য প্রশিক্ষণ দেয়া হতো এসব প্রাণীদের। কবুতর স্নায়ু যুদ্ধের সময় সোভিয়েত ইউনিয়নের গোপন স্থাপনার ছবি তুলতে প্রশিক্ষণ দেয়া হতো।

সিআইএ কাক পাঠাতো জানালায় গোপন মাইক ফেলে আসার জন্য।

তাকে প্রশিক্ষণ দেয়া হতো ৪০ গ্রাম পর্যন্ত ওজনের কোন বস্তু জানালার ধারে ফেলে আসা বা নিয়ে আসার জন্য। যেসব ভবনে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকতো সেখানে তাদের পাঠানো হতো।

লেজার তাক করে তাকে কোথায় বস্তুটি ফেলতে হবে সেই টার্গেট বুঝিয়ে দেয়া হতো। আর ছোট বাতির মাধ্যমে সংকেত দিয়ে তাকে ফিরে আসতে সাহায্য করা হতো।

ডলফিন প্রশিক্ষণ দেয়া হতো পানির নিচের মিশনে বিশেষ করে বন্দরের নিচে ঢোকার জন্য। ডলফিন দিয়ে হামলার চেষ্টাও হয়েছে।

এমনকি পরিযায়ী পাখি দিয়ে এমন গুপ্তচরবৃত্তি করানো যায় কিনা সেই চিন্তাও ছিল। কুকুরের মস্তিষ্কে বৈদ্যুতিক তরঙ্গ দিয়ে দুর থেকে নিয়ন্ত্রণ করা যায় কিনা সেই গবেষণাও হয়েছে।

ষাটের দশকের শেষের দিকে সিআইএ এসব গোয়েন্দা মিশনে প্রাণী পাঠানোর জন্য ৬ লাখ ডলার পর্যন্ত খরচ করতো।

সবচেয়ে সফল গুপ্তচর কবুতর
তবে কবুতর ছিল সবচাইতে কার্যকর কারণ তাদের খুব দারুণ একটা ক্ষমতা হল শত মাইল দুরের অপরিচিত কোন যায়গায় ফেলে আসার পরও তারা ঠিকই পথ খুঁজে বাড়ি ফিরে আসে।

প্রথম বিশ্ব যুদ্ধের সময় গোপন তথ্য সংগ্রহে কবুতর ব্যবহার করা হতো। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থার গোপন কবুতর গোয়েন্দা বাহিনী ছিল। যাকে কিনা বলা হতো সিক্রেট পিজন সার্ভিস।

এই বিশেষ কবুতর গোয়েন্দা বাহিনীর এক হাজারের বেশি কবুতর সফলভাবে বার্তা নিয়ে ফিরে এসেছিলো।

জার্মানদের রাডার স্টেশন ও রকেট ছোড়ার স্থাপনা সম্পর্কে তাদের কাছ থেকে তথ্য পাওয়া গেছে। ৭০ এর দশকে টাকানা নামে একটি অভিযানের অংশ হিসেবে কবুতর দিয়ে ছবি তোলার বিষয়টি চিন্তা করা হয়েছিলো।

সিআইএ সেসময় কবুতর দিয়ে ছবি তোলার পরীক্ষামূলক অভিযান শুরু করে। ৩৫ গ্রাম ওজনের ক্যামেরা তাদের শরীরে ঝুলিয়ে দেয়া হতো।

সেই ক্যামেরাগুলো ছিল স্বয়ংক্রিয়। কবুতরের কাজ ছিল সঠিক যায়গা দিয়ে উড়ে যাওয়া।

সেই ক্যামেরা দিয়ে তোলা ছবিগুলো বেশি পরিষ্কার ছিল।

সোভিয়েত ইউনিয়নের ভেতরে গোপন স্থাপনায় তাদের কিভাবে নিয়ে যাওয়া হবে সেনিয়েও নানা গবেষণা হয়েছে।

১৯৭৬ সালের একটি নথি অনুযায়ী লেনিনগ্রাদের কাছে রাশিয়ার সবচাইতে শক্তিশালী সাবমেরিন তৈরি করতো এমন একটি বন্দরকে নির্বাচিত করা হয়েছিলো গুপ্তচর কবুতরদের মিশনের জন্য।

কিন্তু এর পর থেকে এই কবুতরেরা কতগুলো সফল মিশনে গেছে এবং তা থেকে কী ধরনের গোপন তথ্য মিলেছে সে সম্পর্কিত নথিপত্র এখনো গোপনই রয়ে গেছে। তাই এর বেশি কিছু আর জানা যায়নি।

ইটালিতে ভিড়ছে অভিবাসী বহনকারী জাহাজ

সাগরে ভাসমান অভিবাসীদের উদ্ধারকারী জাহাজ ওশেন ভাইকিং ৮২ জন অভিবাসী নিয়ে অবশেষে ইটালির একটি বন্দরে এসেছে।

ছয়দিন সমুদ্রে ভেসে থাকার পর ইটালি তাদেরকে জাহাজ থেকে নামার অনুমতি দিয়েছে। খবর বিবিসি বাংলার

বলা হচ্ছে এটা করা হয়েছে কারণ এই অভিবাসীদের অনেকেই ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্য দেশগুলোতে পাঠানো হবে।

অনেকে মনে করছেন যে, অভিবাসীদের প্রতি এই আচরণের পরিবর্তন মঙ্গলবার দেশটিতে যে নতুন জোট করা হয়েছে তার পক্ষ থেকে হয়েছে।

এর আগে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিয়ম করে দেশটিতে যেসব দাতব্য সংস্থার উদ্ধারকারী জাহাজ অভিবাসীদের নিয়ে আসতো তা আটকে দিত।

ইটালির পররাষ্ট্র মন্ত্রী দেশটির টেলিভিশনে বলেছেন একটা নিরাপদ বন্দর ঠিক করা হয়েছে কারণ ইউরোপিয় ইউনিয়ন আমাদের অনুরোধ রেখে বেশির ভাগ অভিবাসী নিতে রাজি হয়েছে।

তবে তিনি এটাও যোগ করেন, এর অর্থ এই নয় যে আবারো উন্মুক্ত বন্দরের নীতিতে ফিরে যাচ্ছি।

এটা পরিষ্কার যে আগের সরকারের সময় আমাদের লক্ষ্য ছিল যেসব অভিবাসী ইটালিতে আসছে তাদেরকে ইইউভূক্ত অন্যান্য দেশে পাঠিয়ে দেয়া।

এদিকে ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শনিবার এক টুইটে বলেছেন একটা ইউরোপিয়ান চুক্তি হয়েছে ইটালি, ফ্রান্স, জার্মানি, পর্তুগাল এবং লুক্সেমবার্গে মধ্যে যার ফলে দরকার হলে তাদেরকে তীরে আসতে দেয়া হবে।

তিনি বলেন আমাদের এখন দরকার একটা বাস্তব সাময়িক ইউরোপিয়ান ব্যবস্থা। অর্থাৎ ইইউ একটা ব্যবস্থা নিচ্ছে যদিও সেটা প্রাথমিকভাবে সাময়িক।

জার্মানির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, ভবিষ্যতের ঐ চুক্তি অনুযায়ী তার দেশ ইটালি থেকে ২৫% উদ্ধার করা অভিবাসী নেবে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের মন্ত্রীরা অক্টোবরে মাল্টাতে এক সম্মেলনে যোগ দেবেন। যেখানে তারা একটা বৃহৎ চুক্তিতে পৌছাতে পারবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের নতুন কমিটি কি এবার হচ্ছে!

প্রায় আট বছরের বেশি সময় ধরে একই কমিটি নিয়ে চলছে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ। বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে বহু আগেই। গত কয়েক বছর ধরে শেখ হাসিনা কর্তৃক নতুন কমিটি দেওয়ার জোর গুঞ্জন শোনা গেলেও এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের নুতন কমিটির কোনো ঘোষনা দেননি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জাতিসংঘ সফরকালে প্রতি বছরই যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের মধ্যে জোর গুঞ্জন শুরু হয় যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের নুতন কমিটি নিয়ে। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে জননেত্রী নেত্রী শেখ হাসিনা কৃর্তক নতুন কমিটির ঘোষনা না আসায় নেতা-কর্মীদের মধ্যে এক ধরনের হতাশা বিরাজ করছে।


এবারও এর ব্যতিক্রম নয়। জননেত্রী শেখ হাসিনার জাতিসংঘ আগমন উপলক্ষে সরগরম হয়ে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ। দাবী উঠেছে নুতন কমিটির। সিদ্দা হঠাও আন্দোলনে উত্তাল হয়ে আছে পুরো যুক্তরাষ্ট্র। প্রতিদিনই সভা সমাবেশে জোরদার হচ্ছে সিদ্দা বিরোধী আন্দোলন। 


এদিকে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের বর্তমান কমিটির সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগের কোনো শেষ নেই। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের ব্যর্থ নেতৃত্বের কারণে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সকল শাখা-প্রশাখায় অসন্তোষ আর কোন্দল ডালপালা মেলে আছে। গত বছর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জাতিসংঘ সফরকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংবর্ধনাস্থল ‘নো মোর সিদ্দা’ স্লোগানে ছিল মুখরিত। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমানের ব্যর্থ নেতৃত্ব রাজনৈতিক অনভিজ্ঞতা সর্বপরী আওয়ামী রাজনীতির পুর্ব অভিজ্ঞতা না থাকার ফলে সংগঠনের সর্বস্তরে ব্যাপক বিশৃংখলা তৈরি হয়েছে। ফলে নুতন কমিটির জন্য তৃণমূল নেতা-কর্মীরা শেখ হাসিনার ঘোষণার দিকে তাকিয়ে আছে। 


যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের বর্তমান কমিটির সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমানের স্বজনপ্রিতী, অর্থের বিনিময়ে দলে লোক প্রবেশ, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সংবিধানের তোয়াক্কা না করা, কথায় কথায় সজিব ওয়াজেদ জয়ের নাম ব্যবহার করে হুমকি ধামকী, মিথ্যা বিবৃতি, অবৈধ ও অযাচিত ভাবে এখতিয়ার বর্হিভুত বিভিন্ন কমিটিতে হস্তক্ষেপ, দলের ভিতরে বাইরে কোন্দলতা সৃষ্টি ইত্যাদি নানা কারনে এখন সিদ্দিক বিরোধী আন্দোলন তুঙ্গে রয়েছে। 


যুক্তরাষ্ট্রে জননেত্রী শেখ হাসিনা সরাসরি ৬টি কমিটি করে থাকেন। এই ছয়টি কমিটি যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ, নিউইয়র্ক ষ্টেট আওয়ামী লীগ, নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগ, মেট্রো ওয়াশিংটন আওয়ামী লীগ, মেরিল্যান্ড ষ্টেট আওয়ামী লীগ ও ভার্জিনিয়া ষ্টেট আওয়ামী লীগ। এই ছয়টি কমিটিতে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমানের অবৈধ হস্তক্ষেপ, চাঁদাদাবীর পরিপ্রেক্ষিতে বৃহত্তর ওয়াশিংটন ও নিউইয়র্কে সিদ্দিক বিরোধী বিশাল বলয় তৈরী হয়েছে। সিদ্দিকুর রহমানের অযাচিত ও অবৈধ হস্তক্ষেপের ফলে এই ছয়টি সংগঠনে অস্থিরতা তৈরী হয়েছে। দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে চলছে দারুন অসন্তোষ। সিদ্দিক হঠাও আন্দোলনে এখন বৃহত্তর ওয়াশিংটনের নেতাকর্মীরাও ঐক্যবদ্ধ। 


এদিকে ১৫ আগষ্ট জাতীয় শোক দিবসের অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমানের স্ত্রী দলের এক নম্বর সদস্য শাহানারা রহমানের হাসির ছবি ভাইরাল হবার পর থেকে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। দল থেকে শাহানারা রহমানকে বহিস্কারের দাবী উঠেছে দলের সর্বস্তরে। এ নিয়ে প্রায় একঘরে হয়ে পড়েছেন সিদ্দিকুর রহমান। 


এদিকে জানা যায় যে, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সঠিক ও যোগ্য সভাপতি না পাওয়ায় জননেত্রী শেখ হাসিনা এখনো কোনো ঘোষনা দেননি। জানা যায় যে, জননেত্রী শেখ হাসিনা ও তার পুত্রসজিব ওয়াজেদ জয় যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের দুটি গুরুত্বপূর্ণ পদে ওয়াশিংটন ভিত্তিক দুজন যোগ্য প্রার্থী খুঁঁজছেন। তবে এখন পর্যন্ত যোগ্য প্রার্থী খুঁজে না পাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের কোনো কমিটির ঘোষণা আসছে না।


ওয়াশিংটনের আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কমিটি সুত্রে জানা যায়, মেট্রো ওয়াশিংটন আওয়ামী লীগের প্রাক্তন সভাপতি ড. খন্দকার মনসুর যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি পদপ্রার্থী। ছাত্র জীবন থেকে তিনি আওয়ামী রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন এবং জননেত্রী শেখ হাসিনার একজন আস্থাভাজন হিসাবে তিনি পরবর্তীতে মেট্রো ওয়াশিংটন আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তার উপর আস্থা রাখলেও এখন আর আগেরমত সেই আস্থা নেই। বয়সবৃদ্ধির কারনে বর্তমানে বৃহত্তর ওয়াশিংটনে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মকান্ডেও তার অনুপস্থিতি চোখে পড়ার মত। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের মত একটি বড় দলকে নেতৃত্ব দেয়ার মত যোগ্যতা নিয়েও দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে রয়েছে নানা প্রশ্ন। 


এদিকে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি হতে আগ্রহী যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের বর্তমান সহ সভাপতি ডা. মোহাম্মদ আলী মানিক। এজন্য বিভিন্ন ভাবে তিনি লবিং করছেন বলেও জানা যায়। দলের সভাপতি পদের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ডা: প্রদীপ রঞ্জন কর, ডা: মাসুদ সহ আরো অনেকে। 
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে সম্ভাব্য যোগ্য প্রার্থী হিসাবে মেট্রো ওয়াশিংটন আওয়ামী লীগের বর্তমান কমিটির জেষ্ঠ্য সহসভাপতি শিব্বীর আহমেদের নামও শোনা যাচ্ছে। প্রাক্তন আওয়ামী লীগ সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা মরহুম জালাল আহমেদ’র সন্তান প্রাক্তন ছাত্রলীগ নেতা শিব্বীর আহমেদ পারিবারিক ঐতিহ্য ধারণ করেই আজীবন আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে জড়িত আছেন। স্কুল কলেজে ছাত্রলীগের একজন একনিষ্ঠ কর্মী হিসাবে কাজকরে বর্তমানে মেট্রো ওয়াশিংটন আওয়ামী লীগের জেষ্ঠ্য সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। ২০১২ সালে গঠিত মেট্রো ওয়াশিংটন আওয়ামী লীগের তিনি সভাপতি পদে প্রার্থী ছিলেন। 


যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক পদে ভারমুক্ত হতে চাইছেন বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক আবদুস সামাদ  আযাদ। তবে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগে আবদুস সামাদ আযাদের গ্রহনযোগ্যতা শুণ্যোর কোঠায়। নিউইয়র্কে তিনি সিদ্দিকুর রহমানের ব্যাগেজ হোল্ডার বা পার্সোনাল সেক্রেটারি হিসাবেই সমাদৃত। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক হিসাবে তিনি অযোগ্য বলেই মনে করে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী আওয়ামী পরিবার। 


যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক পদের দৌড়ে আরো যাদের নাম শুনা যাচ্ছে তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য চন্দন দত্ত, আবদুর রহিম বাদশা, মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী প্রমুখ। সবাই বিভিন্ন ভাবে নিজ নজি কানেকশানে দেশে ও যুক্তরাষ্ট্রে দেনদরবার করে চলেছেন বলেই জানা যায়। আগামী ২২ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের ৭৪তম আসরে অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্র আসছেন জননেত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগমনকে ঘিরে প্রতিবারের মত এবারেও যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগে পরিবর্তন চাইছে সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা। তবে এবারও যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের নুতন কমিটি হবে কিনা এ ব্যাপারে কেউ কোন নিশ্চয়তা দিতে পারছেনা। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের নুতন কমিটি হবে কি হবে না তা নির্ভর করছে জননেত্রী শেখ হাসিনার উপর। শেষ সিদ্ধান্ত জানাবেন তিনিই। 

মার্কিন সেনা কর্মকর্তা হলেন বাংলাদেশি তরুণী আফিয়া

বাংলাদেশে নারীরা দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী থেকে শুরু করে সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে যুক্ত হয়ে গৌরবময় অবদান রেখে চলেছেন। এবার মার্কিন সেনাবাহিনীতে অফিসার পদে যোগ দিয়েছেন এক বাংলাদেশের তরুণী আফিয়া জাহান পম্পি (২০)।

যুক্তরাষ্ট্রের ব্রুকলিনের চার্চ ম্যাকডোনাল্ডে পরিবারের সঙ্গে থাকেন আফিয়া। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রাম জেলার মিরসরাই উপজেলার জমালপুর গ্রামে। আফিয়ার বাবা মিরসরাই অ্যাসোসিয়েশন এনএর সভাপতি মেজবাহ উদ্দিন ও মায়ের নাম নুরুচ্ছাবাহ পূর্ণিমা।

আফিয়ার মা-বাবা সাংবাদিকদের জানান, তাদের সংসারে তিনকন্যা সন্তান রয়েছে। আফিয়া ছাড়া অপর দুই মেয়ের নাম সাদিয়া ও পৃথা। ছোটবেলায় পরিবারের সঙ্গে আফিয়া যুক্তরাষ্ট্রে যান। সেখানেই পড়াশোনার পাশাপাশি সংস্কৃতিও চর্চা রয়েছে আফিয়ার। বর্তমানে ফার্মিং ডেল স্টেট কলেজের ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সের শেষ বর্ষের ছাত্রী আফিয়া।

কাপুরুষ মোদি কাশ্মীরে দমনপীড়ন চালাচ্ছে: ইমরান

কাপুরুষ মোদি কাশ্মীরের জনগণের ওপর দমনপীড়ন চালাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।

অবরুদ্ধ জম্মু-কাশ্মীরের বাসিন্দাদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে আজাদ কাশ্মীরের মুজাফফরাবাদে শুক্রবার প্রতিবাদ র‌্যালি করেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।

পরে এক সমাবেশে ভাষণ দেন তিনি। খবর ডনের

ভাষনে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেন, কাশ্মীরে বিক্ষোভ এবং ভিন্ন মতাবলম্বীদের ওপর ভারতের দমনপীড়ন বিশ্বের আরও অনেক মুসলিমকে উগ্রবাদের দিকে ঠেলে দেবে। কাপুরুষ মোদি কাশ্মীরের জনগণের ওপর দমনপীড়ন চালাচ্ছে।

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার গত ৫ আগস্ট সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিলের মাধ্যমে জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা রদ করে রাজ্যটিকে কেন্দ্রশাসিত দুটি আলাদা অঞ্চলে ভাগের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে। তারপর থেকেই অঞ্চলটিতে অস্থিরতা বিরাজ করছে। কাশ্মীর কর্তৃপক্ষ এ পর্যন্ত প্রায় ৪ হাজার জনকে গ্রেফতারও করেছে বলে এক সরকারি প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

কাশ্মীর পরিস্থিতিতে কেন্দ্র করে পাকিস্তানের সঙ্গে উত্তেজনা বেড়েছে ভারতের।

ইরানের পরমাণু কর্মসূচিতের ইউরোপীয় দেশগুলোর উদ্বেগ প্রকাশ

ইরান পরমাণু সমঝোতা মেনে চলছে না বলে অভিযোগ তুলে এ ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইউরোপের তিন দেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা ইইউ।

ফ্রান্স, জার্মানি ও ব্রিটেন এবং ইইউ গতকাল (শুক্রবার) এক বিবৃতিতে পরমাণু সমঝোতা লঙ্ঘনকারী যেকোনো পদক্ষেপ নেয়া থেকে তেহরানকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা বা আইএইএ’কে পরিপূর্ণ সহযোগিতা করার জন্যও ইরানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ইউরোপ।ন খবর পার্সটুডের

তিন ইউরোপীয় দেশ ও ইইউ এমন সময় ইরানের প্রতি এ আহ্বান জানাল যখন তেহরান পরমাণু সমঝোতায় দেয়া নিজের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করলেও ইউরোপীয়রা তাদের কোনো প্রতিশ্রুতি মেনে চলছে না।

২০১৮ সালের মে মাসে আমেরিকার এই সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর এই ইউরোপীয় দেশগুলো তেহরানকে পরমাণু সমঝোতা মেনে চলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এসব দেশ ইরানকে পরমাণু সমঝোতায় অটল থাকার আহ্বান জানিয়ে এ সমঝোতার আওতায় ইরানকে প্রয়োজনীয় আর্থিক সুবিধা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।

কিন্তু এক বছরেও এসব দেশ ও ইইউ তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে ব্যর্থ হওয়ার পর ২০১৯ সালের ৮ মে ইরান আগে থেকে ঘোষণা দিয়ে পরমাণু সমঝোতার কিছু ধারার বাস্তবায়ন স্থগিত রাখে। একইসঙ্গে তেহরান ইইউকে ৬০ দিনের সময় বেধে দিয়ে জানায়, এ সময়ের মধ্যে সমঝোতা বাস্তবায়নে অপারগ হলে ইরান দ্বিতীয় দফায় আরো কিছু প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন থেকে সরে আসবে।

গত ৬ জুলাই ইরান সে হুমকি বাস্তবায়ন করে এবং তার ধারাবাহিকতায় গত ৬ সেপ্টেম্বর তৃতীয় দফা পদক্ষেপ নেয় ইরান। তেহরান ঘোষণা করে, আগামী দুই মাসের মধ্যে ইউরোপ তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে ব্যর্থ হলে ৬ নভেম্বর চতুর্থ দফা পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করবে ইরান।

ভারতে সোশ্যাল মিডিয়া ছেড়ে নেতাকর্মীদের রাজপথে নামার ডাক সোনিয়ার

ভারতের লোকসভা ভোটে বিপুল পরাজয়ের ধাক্কা সামলে ঘুরে দাঁড়াতে চাইছে কংগ্রেস। সভাপতির পদ থেকে রাহুল গান্ধীর সরে যাওয়ার পর কংগ্রেসের অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্ব মা সোনিয়া গান্ধীর কাঁধেই।

সেই দায়িত্ব নেয়ার মাসখানেক পর বৃহস্পতিবার প্রথম বৈঠকে দলীয় নেতাদের কড়া বার্তা দিলেন সোনিয়া। রাহুলের একঘেয়েমি সোশ্যাল মিডিয়া নির্ভর রাজনীতি থেকে সরে এসে নেতাকর্মীদের রাজপথে ঝাঁপিয়ে পড়ার নির্দেশ দিলেন তিনি। একই সঙ্গে মোদি সরকারকে তুলাধোনা করেন গান্ধী পরিবারের এ বধূ। খবর এনডিটিভির।

বিজেপির কর্মপদ্ধতি নিয়ে দলীয় ব্যাখ্যার পাশাপাশি, কম সংখ্যা নিয়েও বিজেপির বিরুদ্ধে কোন পথে কংগ্রেস পাল্টা আক্রমণে নামবে তাও স্পষ্ট করেন সোনিয়া। তিনি বলেন, ‘কংগ্রেসের অবশ্যই বিক্ষোভ কর্মসূচিতে থাকা উচিত। এ নিয়ে কেবল সোশ্যাল মিডিয়াতেই সক্রিয় হওয়া যথেষ্ট নয়। জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের নির্ভয়ে রাজপথে নামতে হবে। শহর, পৌর এলাকা, গ্রামে লড়াইয়ের জন্য নামতে হবে।’ নির্বাচনী প্রস্তুতি প্রসঙ্গে বলেন, ‘শিগগিরই আমরা তিন রাজ্যের নির্বাচনে লড়ছি।

এ পরিস্থিতি খুবই চ্যালেঞ্জের। যদি আমরা দলের স্বার্থকে সবার আগে রাখতে পারি তা হলে হারানো অবস্থান আবারও ফিরে পাব।’ সোনিয়া এ নির্দেশের মাধ্যমে মূলত রাহুলের টুইটনির্ভর রাজনীতি থেকে নেতাকর্মীদের বেরিয়ে আনার চেষ্টা করেছেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এ দিনের বৈঠকে বিজেপিকে আক্রমণ করেন সোনিয়া। তিনি বলেন, ‘জনতার রায়কে বিপজ্জনকভাবে অপব্যবহার করা হচ্ছে ও অপমান করা হচ্ছে।

মহাত্মা গান্ধী, সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল বা বিআর অম্বেডকরের মতো স্বাধীনতা সংগ্রামীদের যথাযথ সম্মান দেখানোর বদলে ঘৃণ্য উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতে তাদের শিক্ষাকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে।’ সোনিয়া বলেন, ‘দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ভয়াবহ। ক্ষতির পরিমাণ ক্রমেই বাড়ছে।

সৌদি তেল স্থাপনায় ব্যাপক বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ড

সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ দাম্মামের কাছে আরামকো কোম্পানির একটি তেল স্থাপনায় ব্যাপক বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শনিবার অগ্নিকাণ্ডের ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে আরামকোর তেল স্থাপনা থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডলী উড়তে দেখা যাচ্ছে এবং একটি ভিডিওতে গুলির শব্দও শোনা গেছে। খবর ভয়েস অব আমেরিকার।

দাম্মামের অদূরে বাকিয়াক এলাকায় তেল স্থাপনাটি অবস্থিত। তবে এখন পর্যন্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় টিভি চ্যানেল থেকে এ সংক্রান্ত কোনো খবর সম্প্রচার করা হয়নি।

আরব আমিরাতের আল আরাবিয়া টিভি চ্যানেলও অগ্নিকাণ্ডের খবর জানিয়ে বলেছে, স্থানীয় সংবাদদাতার মাধ্যমে তারা নিশ্চিত হতে পেরেছেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

আরামকো বিশ্বের সর্ববৃহৎ তেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। প্রতিদিন এ প্রতিষ্ঠান ৭০ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন করে।

বৃদ্ধের ছদ্মবেশে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার সময় ধরা পড়লেন ভারতীয় যুবক

বত্রিশ বছরের এক ভারতীয় যুবক ৮১ বছরের বৃদ্ধের ছদ্মবেশ ধরে জাল পাসপোর্টে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী বিমানবন্দরের নিরাপত্তা তল্লাশি এবং ইমিগ্রেশন পার হয়ে প্রায় উঠেই যাচ্ছিলেন বিমানে। কিন্তু ধরা পড়ে গেলেন শেষ পর্যন্ত।

পুলিশ বলছে, এই যুবকের নাম জয়েশ প্যাটেল। তাকে বিমানবন্দর থেকেই গত রোববার গ্রেফতার করা হয়েছে। খবর বিবিসি বাংলার

সেন্ট্রাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিকিউরিটি ফোর্সের একজন কর্মকর্তা সিএনএন টেলিভিশনকে বলেন, জয়েশ প্যাটেল বিমানবন্দরে এসেছিলেন হুইলচেয়ারে চড়ে। তার মুখভর্তি সাদা দাড়ি, চোখে ভারী লেন্সের চশমা। পাথায় পাগড়ি। প্রথম দেখায় তাকে ৮১ বছরের বৃদ্ধের মতই লাগছিল।

কিন্তু খুব কাছ থেকে তাকে দেখে কয়েকজন কর্মকর্তার সন্দেহ হলো। কারন তার বয়স ৮০ বছর হতেই পারে না। তার মুখের ত্বক একজন তরুণের মতো।

পরবর্তীতে আরেকটি নিরাপত্তা তল্লাশির সময় এই সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়, কারণ মি. প্যাটেল তার হুইলচেয়ার থেকে দাঁড়াতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছিলেন এই বলে যে তিনি বয়সের ভারে দাঁড়াতেই পারেন না।

এরপর তার কাগজপত্র চাইলে তিনি তার পাসপোর্ট এগিয়ে দেন। সেখানে তার নাম ছিল আমরিক সিং। পাসপোর্টের তথ্য অনুযায়ী ১৯৩৮ সালে দিল্লিতে তার জন্ম।

সিআইএসএফ এর কর্মকর্তা বলেন, পাসপোর্টের বয়সের সঙ্গে তার মুখের চামড়া অনেক তরুণ কারও বলে মনে হচ্ছিল।

জেরার মুখে এরপর জয়েশ প্যাটেল স্বীকার করেন যে তিনি আমরিত সিং নন। জাল পাসপোর্টে বৃদ্ধ মানুষের ছদ্মবেশে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন।

এরপর তাকে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেয়া হয়। পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়।

পুলিশ ভারতের এনডিটিভিকে জানিয়েছেন, প্যাটেলের বাড়ি গুজরাটে। তিনি এক দালালের মাধ্যমে এই জাল পাসপোর্ট তৈরি করেন। ঐ দালালই তার বেশ-বাস এবং বৃদ্ধ মানুষের ছদ্মবেশ সবকিছু ঠিক করে দেয়।

পুলিশ কর্মকর্তা সঞ্জয় ভাটিয়া বলেন, এই লোক যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার চেষ্টা করছিল কাজ করতে। কিন্তু নিজের পরিচয়ে তার যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পাওয়া কঠিন ছিল।