সৌরজগতের বাইরেও একটি ধূমকেতুর সন্ধান মিলেছে?

নতুন একটি ধূমকেতু আবিষ্কার করেছেন একজন সৌখিন জ্যোতির্বিদ – ধারনা করা হচ্ছে এটি আমাদের সৌরজগতের বাইরের।

তাই যদি হয়, তবে এটি হবে ২০১৭ সালে আবিষ্কৃত দীর্ঘায়ত মহাজাগতিক বস্তু ওমুয়ামুয়ার পর দ্বিতীয় কোনো সৌরজগত-বহির্ভূত বস্তু, বিজ্ঞানীরা যেগুলোকে সাধারণভাবে অভিহিত করেন ইন্টারস্টেলার অবজেক্ট হিসেবে। খবর বিবিসি বাংলার

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইনর প্লানেট সেন্টার (এমপিসি) এই আবিষ্কারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে।

মহাজাগতিক বস্তুটির একটি হাইপারবোলিক কক্ষপথ রয়েছে, আর সেজন্যেই প্রমাণ হয় যে এটি আমাদের পরিচিত জগতের বাইরের।

হাইপারবোলিক কক্ষপথ পূর্ণ বৃত্তের পরিসরের আকার সবসময় মেনে চলে না। এটির আকার গোল হলেও তা সব সময় বৃত্তের মতো হয় না।

একটি নিখুঁত বৃত্তের কেন্দ্রের কৌণিক পরিমাণ হয় শূণ্য ডিগ্রি। বহু গ্রহ, গ্রহাণু এবং ধূমকেতুর উপবৃত্তাকার কক্ষপথের কেন্দ্রীয় দূরত্ব ১ থেকে ০ পর্যন্ত হয়।

সদ্য আবিষ্কৃত এই বস্তুটির প্রথমে পরিচয় দেয়া হয় জিবি ০০২৩৪, যেটি বর্তমানে ধূমকেতু সি/২০১৯ কিউ ৪ (বোরিসভ) নামে পরিচিত – সবশেষ পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী যার কেন্দ্রীয় কৌণিক পরিমাণ ৩.২।

গত ৩০শে অগাস্ট বাখচিসারাই-এর ক্রিমিয়ান অ্যাস্ট্রোফিজিক্যাল অবজারভেটরি থেকে একজন অপেশাদার জ্যোতির্বিদ প্রথম এটিকে সনাক্ত করেন। তার নাম গেন্নাদি বরিসভ। ওই সময় এটির অবস্থান ছিল সূর্যে থেকে প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন বা ৪৫ কোটি কিলোমিটার দূরে।

ওমুয়ামুয়া আবিষ্কৃত হয়েছিল ২০১৭ সালের ১৯শে অক্টোবর। প্রাথমিকভাবে হাইপারবোলিক ট্র্যাজেক্টোরির বৈশিষ্টের ভিত্তিতে এটিকে ধূমকেতু হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়।

যদিও কমার মতো ধূমকেতুর আকৃতিতে যে মাথা ও লেজ থাকার কথা, সেসব অনুপস্থিত ছিল ওমুয়ামুয়ার ক্ষেত্রে।

সেদিক থেকে সি/২০১৯ কিউ ৪ (বরিসভ) একটি সক্রিয় ধূমকেতু – লেজসহ দৃশ্যমান কোমার আকৃতি রয়েছে এটির।

ছোট্ট এবং অজ্ঞাত ওমুয়াময়ার তুলনায় নতুন এই ইন্টারস্টেলার অবজেক্ট অনেক বড় – প্রায় ২০ কিলোমিটার প্রশস্ত এবং উজ্জ্বল।

এছাড়াও, ওমুয়ামুয়া দৃশ্যমান হয়েছিল পেরিহেলিয়নে বা সূর্যের একেবারে নিকটবর্তী অবস্থানে যাওয়ার পর। এরপর জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের বহু প্রশ্নের জবাব মেলার আগেই এটি দৃষ্টিসীমার বাইরে চলে যায়।

বিপরীতে সি/২০১৯ কিউ ৪ (বরিসভ) পেরিহেলিয়ন অঞ্চলে পৌঁছাবে ১০শে ডিসেম্বর, কিন্তু এখন থেকেই এটিকে আমাদের সৌরমন্ডলে দেখা যাচ্ছে।

মাইনর প্লানেট সেন্টার (এমপিসি) থেকে এটির প্রতি লক্ষ্য রাখতে জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

এমপিসির হিসেব অনুযায়ী, অপ্রত্যাশিতভাবে বিলীন বা অদৃশ্য না হয়ে গেলে এটিকে অন্তত এক বছর ধরে পর্যবেক্ষণ করা যাবে।

দূরবর্তী কোনো তারকা থেকে উৎপন্ন বস্তু হিসেবে এটি পর্যবেক্ষণে বহু তাৎপর্যপূর্ণ তথ্য মেলার সম্ভাবনা রয়েছে।

ওয়াশিংটন ডিসির নেভাল রিসার্চ ল্যাবরেটরির অ্যাস্ট্রোফিজিসিস্ট কার্ল ব্যাটামস এক টুইট বার্তায় জানান, ওমুয়ামুয়ার ক্ষেত্রে বিতর্ক ছিল যে সেটি গ্রহাণু না ধূমকেতু; এটি অবশ্যই একটি ধূমকেতু।

তার মতে, এই আবিষ্কার সৌর জগতের বাইরের একটি ধূমকেতু হিসেবে পৃথিবীর সৌর মন্ডলের বস্তুর সাথে তুলনা করার একটি বড় সুযোগ করে দিচ্ছে।

টেক্সাসের সান আন্তোনিওর সাউথওয়েস্ট রিসার্চ ইন্সটিটিউটের জ্যোতির্বিজ্ঞানী সাইমন পোর্টার টুইট করে বলেন, ধূমকেতুটির উজ্জ্বল অগ্রভাগ থাকার কারণে আমরা কিউ ৪-এর খুব চমৎকার বর্ণালী পাবো এবং আশা করি এর ফলে আইসোটোপিক অনুপাত বের করা সম্ভব হবে।

একই রাসায়নিক উপাদানের বিভিন্ন রুপকে বলে আইসোটোপ। পোর্টারের মতে, আমাদের সৌরমন্ডলের ধূমকেতুর চেয়ে এটির আইসোটপিক অনুপাত ভিন্ন হতে পারে।

আইফোন ১১: ট্রাপোফোবিয়ার সাথে তার কী সম্পর্ক?

নিজেদের বিভিন্ন পণ্যের নকশার জন্য নামকরা কোম্পানি অ্যাপল। এই কোম্পানির নতুন আইফোন ১১ তেমনি অভিজাত এবং আধুনিক।

কিন্তু ফোনটির পিছনের অংশে তিনটি ক্যামেরা অনেকেই সহ্য করতে পারছেন না। খবর বিবিসি বাংলার

ট্রাইপোফোবিয়া হল একটা ভীতি যেটা কিছু জ্যামিতিক নমুনা বা গুচ্ছ দেখে হতে পারে বিশেষ করে ছোট ছোট গর্তের মত দেখতে এমন কিছু।

মঙ্গলবার অ্যাপলের নতুন পণ্যের প্রদর্শন করা হলে সেটা খবরের শিরোনাম হয় এই কারণেই।

এর সবচেয়ে ভালো উদাহরণ দেয়া যায় পদ্ম ফুলের বীজ যেখানে এমন ছোট ছোট গর্তের মত আছে অথবা মৌচাকের মত।

এসেক্স ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক আর্নল্ড উইলকিন্স এবং জেফ কোল মনে করেন এই ধরণের কিছু দেখে বিকর্ষণ বোধ করা বা ভয়ের সঞ্চার হওয়া একটা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হতে পারে।

নতুন দুটি আইফোন মডেলে পিছনের অংশে তিনটি গোলাকার ক্যামেরা আছে।

প্রকৃতপক্ষে এই ক্যামেরাগুলো আইফোনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। কারণ আইফোন ১১ প্রো এবং আইফোন ১১ প্রো ম্যাক্স একই সময়ে কয়েকটি ভিডিও ধারণ করার ক্ষমতা রাখে।

প্রো মডেলে রয়েছে টেলিফটো, ওয়াইড এবং আলট্রা ওয়াইড ক্যামেরা। এছাড়া অন্ধকার, রাতে বা অল্প আলোতে ছবি তোলার জন্য নাইট মোড রয়েছে। কিন্তু কিছু মানুষের জন্য এটা দু:স্বপ্নের মত।

যাদের ট্রাইপোফোবিয়া আছে তাদের এই গর্ত গুলো দেখে হার্টবিট বেড়ে যেতে পারে, বমি বা ঝিমানি ভাব আসতে পারে অনেক সময় শরীরের লোম শিউরে উঠতে পারে।

তাই কিছু মানুষ একটা ভালো কারণ মনে করছে নতুন মডেলের আইফোনটি না কেনার একটা অজুহাত হিসেবে।

অন্যরা সোশাল নেটওয়ার্কে মন্তব্য করে জানিয়েছে নতুন আইফোনের পিছনের দিকটা যখন দেখেছে তখন তাদের কী মনে হয়েছে।

আইফোন প্রো দেখে টুইটারে একজন লিখেছেন এটার সবই ক্যামেরা।

২০০৯ সালে একটি ফেসবুক পাতায় এই ফোবিয়াতে আক্রান্ত একজন ছাত্র প্রথম বিষয়টা উল্লেখ করেন। তিনি অবশ্য আগের মডেলগুলো দেখে হুমকি মনে করেননি।

আইফোন ৮ বা এক্সআর এ মাত্র একটি ক্যামেরা আছে এবং সেটিতে এমন অদ্ভুত প্যাটার্ন ছিল না।

যাইহোক আইফোন ১১ প্রো এবং ম্যাক্স ভার্সন তিনটি ক্যামেরা যুক্ত আছে যেটা ট্রাইপোফোবিয়ায় আক্রান্তদের বিরক্ত করছে।

এটা পরিষ্কার যে কোম্পানির ডিজাইনাররা যখন এটার নকশা করেন তখন এই বিষয়টা একেবারেই তাদের মাথায় ছিল না যদিও এটাই তাদের প্রধান পণ্য।

ছোট ছোট গর্ত দেখার প্রতিক্রিয়া তীব্র হতে পারে। যখন অনেকগুলো ফোন এক সাথে করে বিভিন্ন রং দেখানোর ছবি তোলা হয় সেটা দেখে প্রতিক্রিয়া তীব্র হওয়া স্বাভাবিক।

কোল বলেন, আমরা কম বেশি সবাই এটাতে ভুগি (ট্রাইপোফোবিয়ায়) । এর মাত্রা নির্ভর করে আমাদের কতটা আছে।

এটা পরিষ্কার যে এই মুহূর্তে অ্যাপলের নতুন এই পণ্য নিয়ে খবর বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে ইয়ার্কি আর মিম হচ্ছে সেটা থেকে রেহাই পাওয়া সহজ হবে না।

জানুয়ারিতেই ফাইভজি নীতিমালা, ‘প্রতারণা’ বলছে গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন

বাংলাদেশে পঞ্চম প্রজন্মের (ফাইভজি) মোবাইল ফোন সেবা চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। সংস্থাটির জ্যেষ্ঠ সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) মো. জাকির হোসেন খাঁন বলেন, মঙ্গলবার এ সংক্রান্ত গঠিত কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এই কমিটি ফাইভজি প্রযুক্তি প্রবর্তনের লক্ষ্যে আগামী বছরের জানুয়ারি নাগাদ একটি পূর্ণাঙ্গ প্রস্তাবনা এবং পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা প্রণয়ন করবে।

বিটিআরসি বলছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের দিক-নির্দেশনা অনুযায়ী নির্বাচনী ইশতেহারে উল্লেখিত সময়ের আগেই ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সহায়তায় ফাইভজি সেবা চালু করা সম্ভব হবে।

তবে বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ বলছেন, বর্তমান সময়ে টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা ও কোয়ালিটি অব সার্ভিস এতটাই খারাপ যে ফোরজির জায়গায় থ্রিজি পাওয়া দুষ্কর। এমতাবস্থায় বিটিআরসি ও সরকারের ফাইভজি চালুর সিদ্ধান্ত গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণা ছাড়া আর কিছুই না।

বিটিআরসি সূত্রে জানা গেছে, ফাইভজি সেবা চালু করতে পরিকল্পনা ও একটি নীতিমালা প্রণয়নে সরকারের প্রতিনিধি, নিয়ন্ত্রক সংস্থা প্রতিনিধি, অপারেটরগুলোর প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে কমিশন গত ৪ অগাস্ট একটি কমিটি গঠন করে। কমিটি বাংলাদেশে এই প্রযুক্তি চালু করতে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রস্তাবনা (ফাইভজির রূপরেখা, সম্ভাব্য তরঙ্গ, তরঙ্গমূল্য এবং বাস্তবায়ন সময়কাল ইত্যাদি) প্রণয়ন করবে। সেইসঙ্গে একটি পূর্ণাঙ্গ নীতিমালও তৈরি করবে।

এ কমিটি আগামী বছরের জানুয়ারি নাগাদ ফাইভজি সংক্রান্ত একটি পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা প্রণয়ন করবে বলে সিদ্ধান্ত হয় মঙ্গলবারের বৈঠকে।

বিটিআরসি বলছে, দক্ষিণ কোরিয়া, আয়ারল্যান্ড, স্পেন, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই প্রযুক্তিতে প্রবেশ করেছে। প্রতিটি দেশেই অপারেটরকে ৩৩০০-৪২০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডে প্রায় ১০০ মেগাহার্টজ এবং মিলিমিটার ওয়েভের জন্য ২৬-২৮ গিগাহার্টজ বা তদূর্ধ্ব ব্যান্ডে ৮০০ মেগাহার্টজ তরঙ্গ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে কিছু কিছু দেশ ২.৫ গিগাহার্টজ (২৫০০-২৬৯০ মেগাহার্টজ) ব্যান্ডে ফাইভজির জন্য তরঙ্গ বরাদ্দ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে।

বিটিআরসি জানায়, ২৮ গিগাহার্টজ ব্যান্ডে ফাইভ-জি সেবার ওপর একটি উপস্থাপনা প্রদর্শন করা হয়েছে। বর্তমানে ২.৬ গিগাহার্টজ, ৩.৫ গিগাহার্টজ ইত্যাদি ফাইভজি সেবার জন্য জনপ্রিয় ব্যান্ড হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার-২০১৮ অনুযায়ী ২০২১-২৩ সালের মধ্যে দেশে ফাইভজি সেবা চালুর প্রতিশ্রুতি রয়েছে।

ফাইভজি সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে ২.৬ গিগাহার্জ, ৩.৫ গিগাহার্জ ব্যান্ডের সঙ্গে অন্যান্য ব্যান্ডের বিষয়ে ২০১৯ সালের অক্টোবর মাসে অনুষ্ঠেয় ওয়ার্ল্ড রেডিও কনফারেন্সে সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে। এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়নের (আইটিইউ) মাধ্যমে ২৫০০-২৬৯০ মেগাহার্টজ, ৩৩০০-৪২০০ মেগাহার্টজ, ২৬-২৮ গিগাহার্জ, ৩২ গিগাহার্জ, ৩৮ গিগাহার্জ, ৪০ গিগাহার্জ এবং ৪৩ গিগাহার্জ ব্যান্ডগুলো ফাইভজি প্রযুক্তির জন্য তরঙ্গ বরাদ্দ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

উন্নত দেশে ফাইভজি প্রযুক্তি চালু করার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো প্রস্তুত থাকায় তারা এই প্রযুক্তি চালু করার ক্ষেত্রে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও সমসাময়িক সময়ে ফাইভজি প্রযুক্তি প্রবর্তনে কমিশন দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

স্বল্প খরচে মোবাইল কমিউনিকেশন নেটওয়ার্ক স্থাপনের অন্যতম প্রধান শর্ত হলো একই তরঙ্গ ব্যাপক ভিত্তিতে ব্যবহারের বিষয়টি নিশ্চিত করা। আইটিইউ বিশ্বব্যাপী এই ক্ষেত্রে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও ফাইভজির জন্য তরঙ্গ বরাদ্দ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এছাড়া মিলিমিটার ওয়েভের জন্য প্রস্তাবিত ব্যান্ডগুলো বরাদ্দ দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে তরঙ্গ আছে বলে জানিয়েছে বিটিআরসি।

তবে বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন বলছে ভিন্ন কথা। মঙ্গলবার যুগান্তরের কাছে পাঠানো এক বিবৃতিতে অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, বিটিআরসি ফাইভজি চালুর সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে। এ খবরে সবচেয়ে খুশি হবার কথা আমাদের। কিন্তু খুশি না হয়ে এ ধরণের সিদ্ধান্তে আমরা আতঙ্কিত হচ্ছি। কারণ ফোরজি চালুর সময় টেলিযোগাযোগের যে অবস্থা ছিল বর্তমানে তা নেই।

তিনি বলেন, ফোরজি চালুর ১৭ মাস পার হলেও সারাদেশে এখন পর্যন্ত ফোরজি দূরে থাক থ্রিজিও নিশ্চিত করা যায়নি। সেই সঙ্গে বর্তমানে যোগ হয়েছে ৬৪ ভাগ মার্কেট দখলকারী গ্রামীণফোন ও রবির বিরুদ্ধে পাওনা নিয়ে ঝামেলা। বিটিআরসি তাদের ব্যান্ডউইথ ও এনওসি বন্ধ করার ফলে গ্রাহকরা কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে এমনিতেই বঞ্চিত। বর্তমান সময়ে কোয়ালিটি অব সার্ভিস যদি মাপা হয় তাহলে দেখা যাবে যে কোন সময়ের চেয়ে অনেক নিম্নমানের।

নিয়ন্ত্রক সংস্থা একদিকে পাওনা আদায়ের জন্য অপারেটর দুটি লাইসেন্স বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। আবার অন্যদিকে ফাইভজি চালুর সিদ্ধান্ত নিতে যাচে। বিষয়টি এমন যে, যে ডালে বসে আছেন সে ডালই আপনি কাটছেন। নিয়ম অনুযায়ী এনওসি বন্ধের ফলে তাদের আর নতুন করে স্পেকট্রাম ক্রয় করতে পারবে না।

মহিউদ্দিন আহমেদ অভিযোগ করে বলেন, রাষ্ট্রীয় অপারেটর টেলিটক এখনও ফোরজি চালু করতে পারেনি। গ্রাহকদের ৯০ শতাংশ এখনও ফোরজি সেবা গ্রহণ করেননি। ফাইভজির ডিভাইস দেশে পর্যাপ্ত নয়, তাও আবার অতি উচ্চ মূল্যে। নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা অত্যন্ত দুর্বল। অপারেটরদের এখন পর্যন্ত স্পেকট্রাম আছে ৩৫ মেগাহার্টজ। অথচ ফাইভজিতে লাগবে প্রায় ১০০ মেগাহার্টজ।

এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় স্ট্রেক হোল্ডার গ্রাহকদের সঙ্গে সরকার বা নিয়ন্ত্রক সংস্থা আলোচনা করে নাই। এমতাবস্থায় যদি ফাইভজি চালু করা হয় তা হবে শুধু কাগজে কলমে। এটি একদিকে যেমন হাস্যকর অন্যদিকে গ্রাহকদের কাছে প্রতারণা ছাড়া কিছুই না। বলে মন্তব্য করেন মহিউদ্দিন আহমেদ।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে ১৯৯০ সালে টুজি প্রযুক্তির মোবাইল ফোন সেবা চালু হয়। এর পর ২০১৩ সালের ৮ সেপ্টেম্বর আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেই আসে থ্রিজি। এরপর ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে চালু হয় ফোরজি সেবা। এদিকে নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী ২০২১-২৩ সালের আগেই দেশে ফাইভজি সেবা দিতে চায় সরকার।

দেশের সকল পর্নোগ্রাফি ওয়েবসাইট বন্ধে হাইকোর্টের নির্দেশ

দেশে সকল পর্নোগ্রাফি ওয়েবসাইট আগামী ছয় মাসের জন্য ব্লক করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। অবিলম্বে এ নির্দেশনা কার্যকর করার আদেশও দিয়েছেন আদালত। সোমবার হাইকোর্টের বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

 

ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সচিব, তথ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, বিটিআরসি, গ্রমীণফোন, বাংলালিংক, এয়ারটেল, রবিসহ সংশ্লিষ্ট পাঁচটি মোবাইল অপারেটরেক এই আদেশ পালন করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সোমবার দুপুরে হাইকোর্ট থেকে এ নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

 

এর আগেও একাধিকবার দেশে পর্নো ওয়েবসাইট বন্ধে একাধিকবার উদ্যোগ নেওয়া হলেও এসব সাইট পুরোপুরি ব্লক করা সম্ভব হয়নি। কিছুদিনের জন্য বন্ধ করা গেলেও পরবর্তীতে সাইটগুলো সচল হয়ে যায়।

 

পর্নো সাইট বন্ধ করতে না পারার পেছনে প্রযুক্তিগত সক্ষমতার অভাবও একটি বড় কারণ বলে জানা গেছে।

 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পর্নো সাইট কারিগরিভাবে শতভাগ বন্ধ করা সম্ভব নয়। তবে ৯০ ভাগ বন্ধ করা সম্ভব। শতভাগ বন্ধের চেষ্টা করাও উচিত নয়। তাহলে সে চেষ্টা ব্যর্থও হতে পারে।

 

২০১৬ সালের ডিসেম্বর মাসে সরকার দেশে ৫৬০টি পর্নো সাইট বন্ধের নির্দেশ দেয়। এই ঘোষণা সে সময় দ্রুত কার্যকর করে সংশ্লিষ্টরা। সে সময় ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন আইএসপিএবি’র সাধারণ সম্পাদক ইমদাদুল হক জানান, বিটিআরসির পাঠানো ৫৬০টির মধ্যে ৯০ শতাংশ সাইট বন্ধ করা সম্ভব হয়েছে।

 

তালিকার অবশিষ্ট ১০ শতাংশ সাইট বন্ধ করতে সময় লাগছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘কিছু কিছু সাইট ক্লাউডে হোস্ট করা। ফলে আইপি ধরে ধরে সেগুলো বন্ধ করতে হচ্ছে। দেখা গেল একটা আইপি ধরে বন্ধ করা হলো, সঙ্গে সঙ্গে আরেকটি আইপির মাধ্যমে ওই সাইট চালু হয়ে গেল।’ তিনি বলেন, ‘কারিগরি বিভিন্ন কারণে পর্নো সাইট বন্ধে কখনও পুরোপুরি সফল হওয়া যায় না।

ভিনগ্রহে প্রাণের অস্তিত্ব সন্ধানে নাসার নতুন ‘জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ’

২০২১ সাল নাগাদ জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপটি মহাকাশে উৎক্ষেপণ করা হবে। এমনটিই পরিকল্পনা করছে মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসা । যেটি পৃথিবী থেকে ১৫ লাখ কিলোমিটার দূরত্বে থেকে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করবে। বিজ্ঞানীদের দাবি, এই দূরবীনটি মহাকাশ বিদ্যায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন নিয়ে আসবে।

তারা আশা করছেন, পৃথিবীর কাছাকাছি অন্য কোন নক্ষত্রের অন্য কোন গ্রহের প্রাণের অস্তিত্ব আছে কিনা, সেটি এই টেলিস্কোপের মাধ্যমে খুঁজে পাওয়া যাবে।

নাসা বলছে, আক্ষরিক অর্থেই এটি অতীত সময়ে নিয়ে যাবে, যার মাধ্যমে বিশ্বব্রক্ষাণ্ডের প্রথম ছায়াপথ তৈরির বিষয়ে তথ্য পাওয়া যাবে। যদিও সেসব দাবি এখন ততটা জোরালো নয়।

তবে এখন বিজ্ঞানীরা বলছেন, হাবল স্পেস টেলিস্কোপের এই উত্তরসূরি অনেক চমৎকার কিছু দেখাতে যাচ্ছে। কারণ এই টেলিস্কোপে এমন অনেক কিছুই রয়েছে, যা এর আগে আর মহাকাশে পাঠানো হয়নি।

প্রায় দশ বিলিয়ন ডলার খরচ করে টেলিস্কোপটি তৈরি করা হয়েছে।

এটিকে সংক্ষেপে ডাকা হচ্ছে ‘জেডব্লিউএসটি’ নামে। ধারণা করা হচ্ছে, মহাকাশের কোনো নক্ষত্রের কোনো গ্রহে প্রাণের উপযুক্ত পরিবেশ আছে কিনা, সেটি এই দূরবীনের মাধ্যমে সনাক্ত করা যাবে।

ইউনিভার্সিটি অফ ওয়াশিংটনের মহাকাশ বিজ্ঞানীদের একটি দল এই টেলিস্কোপ ব্যবহার করে মহাবিশ্বে প্রাণ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র তৈরির প্রস্তাবনা দিয়েছেন।

কিভাবে দূরের গ্রাহের জীবন টেলিস্কোপের মাধ্যমে সনাক্ত করা যাবে?
ইউনিভার্সিটি অব ওয়াশিংটনের মহাকাশ বিজ্ঞানী জোসুয়া ক্রিসানসেন-টোটন এবং তার দল বোঝার চেষ্টা করছেন,কাছাকাছি থাকা কোন নক্ষত্রের কোন গ্রহে প্রাণের চিহ্ন আছে এমন কোন নমুনা এই টেলিস্কোপটি সনাক্ত করতে পারে কিনা।

‘পরবর্তী কয়েক বছর ধরে আমরা এই প্রাণ সনাক্তকরণ পর্যবেক্ষণটি চালাতে পারবো’ বলছেন ক্রিসানসেন-টোটন।

কারণ এই টেলিস্কোপটি আলোর ক্ষেত্রে এতটাই সংবেদনশীল যে, গ্রহের আবহাওয়ার ভেতর রাসায়নিক কোন নড়াচড়া থাকলে, এই দূরবীন সেটি সনাক্ত করতে পারবে। যেমন পৃথিবীর আবহ মণ্ডলে বেশ কয়েকটি গ্যাসের আস্তরণ রয়েছে।

এর অনেক কিছু পৃথিবীর প্রাণের কারণে তৈরি হয়েছে। বিজ্ঞানীরা এখন সেসব গ্রহে এরকম গ্যাসের সন্ধান করবেন।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, পৃথিবীর জীবনের কারণে পৃথিবীতে একরকম গ্যাসের আবহ রয়েছে। কিন্তু হঠাৎ করে যদি সব প্রাণ বিলুপ্ত হয়ে যায়, পৃথিবীর আবহও পরিবর্তন হয়ে যাবে।

এতদিন ভাবা হতো, প্রাণের অস্তিত্ব হিসাবে অক্সিজেন বা ওজোন থাকতে হবে। কিন্তু সেক্ষেত্রে ধরে নিতে হবে, সেখানে থাকা প্রাণের জীবধারণ আমাদের মতোই হবে।

কিন্তু সেটা হয়তো নাও হতে পারে। এ কারণে এখন গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে আবহাওয়ায় রাসায়নিক অস্থিতিশীলতার ওপর-যেখানে নানা ধরণের গ্যাসের অস্তিত্ব থাকতে পারে এবং সেসব গ্যাস ওই গ্রহের জন্য কতটা স্বাভাবিক পরিবেশ তৈরি করছে। এসব বিশ্লেষণ করে হয়তো ভিনগ্রহের প্রাণীর সন্ধান মিলতে পারে।

কোথায় বিশেষভাবে নজর দিতে হবে?
তথ্য বিশ্লেষণ করে মি. ক্রিসানসেন-টোটন বলছেন, এই টেলিস্কোপ দিয়ে তারা প্রথমে নজর দিতে চান ট্রাপিস্ট-১ নামের একটি নক্ষত্রের দিকে, যেদিন সূর্য থেকে ৩৯.৬ আলোকবর্ষ দূরে রয়েছে।

২০১৭ সালে এই নক্ষত্রটি বেশ আলোড়ন তৈরি করে, কারণ এটির পৃথিবীর মতো সাতটি গ্রহ রয়েছে। তার বেশ কয়েকটিতে তরল পানি রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা প্রাণ থাকার জন্য বেশ আদর্শ।

এখন ওয়াশিংটনের বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ ওই নক্ষত্রের ট্রাপিস্ট-১ই নামের চতুর্থ গ্রহটির মিথেন এবং কার্বন ডাই অক্সাইডের মাত্রা এবং তার পরিবর্তনের কারণ বিশ্লেষণ করতে পারবে।

প্রাণ আসলেই আছে কিনা, সেই সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য এগুলো হয়তো খুবই ক্ষুদ্র নমুনা বা সংকেত হতে পারে। তবে কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জোনাথন লুনাইন বলছেন,‘তারা যে ক্ষেত্রটি বাছাই করেছে, সেটি এই টেলিস্কোপের মাধ্যমে সহজেই যাচাই করা যেতে পারে।’

অনেক সময় অজৈবঅনেক কারণ, যেমন আগ্নেয়গিরির উৎক্ষেপণের কারণে গ্যাসের পরিবর্তন হয়ে থাকে। সুতরাং ওই গ্রহে প্রাণ আছে কিনা, সেটি নিশ্চিত হওয়ার আগে এরকম অজৈব প্রভাবের বিষয়টিও বিজ্ঞানীদের মাথায় রাখতে হবে।

অধ্যাপক ক্রিসানসেন-টোটন বলছেন,‘নিশ্চিত হতে হলে আমাদের অনেক পর্যবেক্ষণ করতে হবে, প্রতিটি ঘটনাকে খুঁটিয়ে দেখতে হবে।’

‘কিন্তু আমরা যদি এমন কিছু পাই, যা ঘটার জন্য অজৈব কোন কারণ বা ব্যাখ্যা পাওয়া যাচ্ছে না, আমি মনে করি, সেটাই হবে একটি অসাধারণ আবিষ্কার।’

আর কারা এরকম চেষ্টা করে যাচ্ছে?
জেডব্লিউএসটি নামের এই টেলিস্কোপে আরো অনেক উপাদান থাকবে, যা আগামী কয়েক দশক ধরে কাছাকাছি নক্ষত্রগুলোর গ্রহগুলোকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করবে।

হাওয়াই এবং চিলির ভূমিতে থাকা টেলিস্কোপ দিয়েও এ ধরণের পর্যবেক্ষণ চালানো হবে। ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সির অ্যারিয়েল মিশনও অন্য নক্ষত্রগুলোর গ্রহগুলোকে পর্যবেক্ষণ করবে, যা ২০২০ সাল নাগাদ উক্ষেপন করা হবে।

তবে অধ্যাপক লুনাইন বলছেন,‘আমি মনে করি মহাবিশ্বকে বোঝা এবং আবিষ্কারের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আমরা রয়েছি এবং জেমস ওয়েব আমাদের সেই পরবর্তী ধাপে নিয়ে যাবে।’

যুক্তরাজ্যের মহাকাশ বিজ্ঞানী অধ্যাপক জিলিয়ান রাইট বলছেন,‘মহাকাশে এর আগে এত বড় কোন কিছুর সুবিধা আমরা পাই নি। একটি টেলিস্কোপের ক্ষেত্রে বলা চলে, সেটি মহাবিশ্বের একটি জানালা খুলে দেয়। জেমস ওয়েবের ক্ষেত্রে এটা পুরোপুরি সত্যি।’

জেমস ওয়েব টেলিস্কোপটি নাসার নেতৃত্বে তৈরি করা হচ্ছে, তবে এর সঙ্গে ইউরোপিয়ান এবং কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সিও রয়েছে।

জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ ২০২১ সাল নাগাদ মহাকাশে পাঠাতে চায় নাসা।

সুত্র: আরটিএনএন ডটনেট

মোবাইলের এই গোপন কোডগুলোর কাজ জানেন কি?

মোবাইল ফোন প্রায় প্রত্যেকের রয়েছে। কিন্তু খুব কম লোকই মোবাইলের এই সমস্ত খুটিনাটি বিষয় জানেন। জানতেন না মেবাইলের এত গোপন কোড রয়েছে? এবং সেগুলো কাজই বা কি আসুন জেনেনেই সেগুল…

১. আইফোনের গ্রাহকেরা #31# এই কোড দিলে সমস্ত আউটগোয়িং কল গোপন থাকবে। আপনি যাকে ফোন করবেন সেই ব্যক্তি আপনার নম্বর দেখতে পাবেন না। আর অ্যান্ড্রয়েড গ্রাহকের কোড হল #31# ‘ফোন নম্বর’।

 

২. আপনার ফোন থেকে সমস্ত আউটগোয়িং কল ব্লক করতে *33*# এই কোড ব্যবহার করুন। অর্থাৎ শুধু ফোন আসবে। কোনও ফোন আপনি করতে পারবেন না। পুনরায় তা চালু করতে পারেন #33*pin# দিয়ে। এটি আইফোনের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।

৩. আপনার ফোনের কমিউনিকেশন খুব খারাপ? তাহলে *3370# এই কোডটি আপনাকে সাহায্য করবে। এই কোড ফোনের ইএফআর কোডিং ব্যবস্থা সক্রিয় করে দেয়। ফোনের কমিউনিকেশন ক্ষমতা বাড়ে। আইফোনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

 

৪. অ্যান্ড্রয়েড গ্রাহকদের জন্য *#06# কোড। এই কোডের প্রয়োগে মোবাইলের আইএমইআই তথ্য জানা যাবে।

 

৫. মোবাইলের ওয়াই-ফাই সিগন্যাল, ব্যাটারি তথ্য জানতে *#*#4636#*#* এই কোডের প্রয়োগ করতে পারবেন অ্যান্ড্রয়েড গ্রাহকরা।

 

৬. ফোনকে ফ্যাক্টরি সেটিংয়ে ফিরিয়ে নিয়ে যাবে *#*#7780#*#* এই কোড। অর্থাৎ কেনার সময় যে সেটিং ছিল, সেটা হয়ে যাবে।অ্যান্ড্রয়েড ফোনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

লাকসাম জালাল মেমোরিয়াল হাইস্কুলে মহিলা সমাবেশ

লাকসামে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উদ্যোগ, সরকারের সাফল্য অর্জন ও উন্নয়ন ভাবনা, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্র এবং সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ বিষয়ে মহিলা সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

আজ বুধবার দুপুরে উপজেলার জালাল মেমোরিয়াল হাইস্কুলের অডিটোরিয়ামে জেলা তথ্য অধিদপ্তরের উদ্যোগে মহিলা সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ রফিকুল হক।

 

জেলা সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা মীর হোসেন আহসানুল কবিরের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ ইসমাঈল হোসেন, উপজেলা প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম শওকত, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ফাতেমা জোহরা, উপজেলা পল্লি উন্নয়ন কর্মকর্তা কামাল উদ্দীন, উপজেলা জনস্বাস্থ্য সহকারী প্রকৌশলী শরিফ হোসেন, মুদাফরগঞ্জ দক্ষিণ ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ সওদাগর, মুদাফরগঞ্জ উত্তর ইউপি চেয়ারম্যান শাহিদুল ইসলাম শাহিন, জালাল মেমোরিয়াল হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক ফখরুল ইসলাম, মুদাফরগঞ্জ দক্ষিণ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক কবির হোসেন মজুমদার, ছাত্রলীগ সভাপতি আসাদুজ্জামান মিলন, মুদাফরগঞ্জ দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ইউনুছ মিয়া, জালাল মেমোরিয়াল হাইস্কুলের ৬ষ্ঠ শ্রেনীর শিক্ষার্থী হাসান মোরশেদ।

মহিলা সমাবেশে জেলা তথ্য অফিসের শিল্পী গোষ্টি সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন মূলক কর্মকান্ড তুলেধরে গান পরিবেশন করেন। এ সময় মহিলা সমাবেশে অভিবাবক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

আমেরিকায় ভিসা জন্য সব আবেদনকারীর লাগবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য

আমেরিকায় যাওয়ার ভিসার জন্য সব আবেদনকারীর সোশাল মিডিয়া ইউজার নেইম, পুরনো ইমেইল অ্যাড্রেস ও টেলিফোন নম্বর দেওয়া বাধ্যতামূলক করতে চাইছে দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর।

আমেরিকার সরকারের ফেডারেল রেজিস্টারে শুক্রবার ওই প্রস্তাব তুলে দিয়ে এ বিষয়ে জনগণের মতামত চাওয়া হয়েছে। ৩০ মার্চ থেকে ৬০ দিন এ বিষয়ে সেখানে মতামত দেওয়ার সুযোগ থাকছে।

এই নিয়ম কার্যকর হলে বছরে দেড় কোটি ভিসা প্রত্যাশীকে এসব তথ্য দিতে হবে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।

এর আগে সোশাল মিডিয়া, ইমেইল তথ্য ও পুরনো ফোন নম্বর চাওয়া হত শুধু বাড়তি তদন্তের জন্য নির্বাচিতদের কাছ থেকে। সন্ত্রাসী বিভিন্ন গোষ্ঠী নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতে ভ্রমণ করেছেন, এমন ব্যক্তিরাই ওই শ্রেণিতে পড়তেন। প্রতি বছর ৬৫ হাজারের মতো আবেদনকারী এ তালিকায় আসতেন।

তবে নতুন নিয়মে যুক্তরাষ্ট্রে ইমিগ্রান্ট ও নন-ইমিগ্রান্ট সব আবেদনকারীকেই এসব তথ্য দিতে হবে।

পররাষ্ট্র দপ্তরের ধারণা, এই নিয়ম চালু হলে বছরে সাত লাখ দশ হাজার অভিবাসী ভিসা আবেদনকারী এবং ব্যবসা ও শিক্ষার জন্য আমেরিকায় ভ্রমণ ইচ্ছুকসহ এক কোটি ৪০ লাখ নন- ইমিগ্রান্ট ভিসা আবেদনকারী এর আওতায় আসবেন।

প্রস্তাবটি যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অফিস অব ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড বাজেটের অনুমোদন পেলে দেশটির সব ধরনের ভিসা আবেদনপত্রেই সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোর একটি তালিকা যোগ করা হবে। ওই তালিকায় থাকা সোশাল মিডিয়াগুলোতে গত পাঁচ বছরে অ্যাকাউন্ট থাকলে, তার ইউজার নেইম আবেদনকারীদের উল্লেখ করতে হবে।

আবেদন ফরমে ঐচ্ছিক হিসেবে তালিকায় না থাকা সোশাল মিডিয়ার নামও যোগ করার সুযোগ থাকবে আবেদনকারীদের।

সোশাল মিডিয়ার তথ্য ছাড়াও আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরে তাদের ব্যবহৃত ফোন নম্বর, ই-মেইল, বিদেশ ভ্রমণ, কোনো দেশ থেকে বিতাড়িত হয়েছে কি না, পরিবারের সদস্যদের কেউ সন্ত্রাসী কার্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত কি না সে সব তথ্যও উল্লেখ করতে হবে।

তবে ক্ষেত্রবিশেষে সরকারি পাসপোর্টধারী ও কূটনৈতিকদের এ থেকে ছাড় দেওয়া হবে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর কয়েকটি মুসলিম দেশের নাগরিকদের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিলেন। ভিসা আবেদনকারীদের জন্য নতুন এসব তথ্য চাওয়াকে দেশটি ভ্রমণে কড়াকড়ি আরোপের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেখছে।

ডিজিটাল আইনের ৫টি ধারা মুক্ত গণমাধ্যম ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার জন্য ভয়ঙ্কর হুমকি

বিএফইউজেসহ ১২ সাংবাদিক ইউনিয়নের যুক্ত বিবৃতি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের নামে স্বাধীন ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতা রুদ্ধ করার সরকারি অপচেষ্টায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন-বিএফইউজে ও এর অঙ্গীভ’ত সারাদেশের ১১টি সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ।

 

এক যুক্ত বিবৃতিতে সাংবাদিক নেতারা কুখ্যাত ৫৭ ধারার বিষয়গুলো নতুনরূপে বহাল রাখা এবং ভয়ানক নিবর্তনমূলক ৩২ ধারা সংযোজনের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা হরণে নতুন নতুন কালাকানুন করা বর্তমান সরকারের মজ্জাগত অভ্যাসে পরিনত হয়েছে। গণতন্ত্র, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, মানবাধিকার ও মৌলিক অধিকার হরণকারি সরকার ক্ষমতা চিরস্থায়ী করার জন্য গণমাধ্যমে পায়ে শেকল পরাতে মরিয়া।

 

যুক্ত বিবৃতিতে সাংবাদিক নেতারা বলেন, তথ্য প্রযুক্তি আইনের কুখ্যাত ৫৭ ধারা বাতিলের দাবিতে দেশের সাংবাদিক সমাজ দীর্ঘদিন আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে আসছে। এ পর্যন্ত শতাধিক সাংবাদিককে এ কালো আইনে গ্রেফতার ও হয়রানি করা হয়েছে। সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিবাদের মুখে সরকার ৫৭ ধারা বাতিলের ঘোষণা দেয়।

 

কিন্তু বিস্ময়ের সঙ্গে আমরা লক্ষ্য করছি যে, ৫৭ ধারা বিলুপ্তির প্রস্তাবের সঙ্গে সঙ্গে ওই ধারার বিষয়গুলোকে ২৫, ২৮, ২৯ ও ৩১- এ ৪টি ধারায় বিভক্ত করে নতুনরূপে সংযোজন করা হয়েছে নতুন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে। একই সঙ্গে অনুসন্ধানী ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার পথ রুদ্ধ করতে নতুন করে ভয়ঙ্কর ৩২ ধারা যুক্ত করে কথিত গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে কঠোর শাস্তির বিধান করা হয়েছে।

 

বিবৃতিদাতা সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ হচ্ছেন, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন- বিএফইউজে’র সভাপতি শওকত মাহমুদ, মহাসচিব এম আবদুল্লাহ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে)’র সভাপতি আবদুল হাই শিকদার ও সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শামসুল হক হায়দরি ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহনওয়াজ, রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি সরদার আবদুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ আবদুল আউয়াল, মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন-খুলনার সভাপতি আনিসুজ্জমান ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসান হিমালয়, সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোরের সভাপতি নূর ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক এম আইয়ুব, সাংবাদিক ইউনিয়ন বগুড়ার সভাপতি মীর্জা সেলিম রেজা ও সাধারণ সম্পাদক গণেশ দাস, সাংবাদিক ইউনিয়ন কক্সবাজারের সভাপতি মুহাম্মদ নূরুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক হাসানুর রশীদ, কুমিল্লা জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শাহ আলম শফি, সাংবাদিক ইউনিয়ন দিনাজপুরের সভাপতি জিএম হিরু ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ মাহফিজুল ইসলাম রিপন, সাংবাদিক ইউনিয়ন ময়মনসিংহের সভাপতি এম আইয়ুব আলী ও সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম এবং সাংবাদিক ইউনিয়ন গাজীপুরের সভাপতি এইচ এম দেলোয়ার ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ হেদায়েত উল্লাহ।

 

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ওয়েবসাইট বা ইলেক্ট্রনিক বিন্যাসে মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে প্রচারণার জন্য যেমন বিধান রাখা হয়েছে, তেমনি মানহানি, আইন-শৃঙ্খলা অবনতির শঙ্কা, রাষ্ট্র ও ব্যক্তির ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন এবং ধর্মীয় অনুভ’তিতে আঘাতের মত বিষয়ে কঠোর দন্ডের বিধান রাখা হয়েছে। জাতীয় প্রেস ক্লাব, ১৮ তোপখানারোড, ঢাকা-১০০০।

 

ফোন : ০১৮৩৩৯৬৭১৭১ এমনকি আক্রমনাত্মক ও ভীতি প্রদর্শন করার মত বিষয়ে দীর্ঘ মেয়াদে জেল ও উচ্চ হারে জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। মন্ত্রিসভায় অনুমোদন করা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের সংবাদমাধ্যমবিরোধী সবচেয়ে ভয়ঙ্কর বিধান সংযোজিত হয়েছে ৩২ ধারায়। এতে সরকারি অফিসে অনুমতি ছাড়া প্রবেশ ও কোন নথির ছবি তোলাকে গুপ্তচরবৃত্তির অপরাধ হিসেবে গণ্য করে ১৪ বছরের কারাদন্ড ও ২০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। এখানে ‘বেআইনীভাবে প্রবেশ’ বা ‘গোপন নথি’র বিষয়টি প্রমাণসাপেক্ষ।

 

কিন্ত তার আগেই কোন সংবাদকর্মীকে গ্রেফতার ও হয়রানি করা যাবে। এ ধারার ফলে দুর্নীতি, লুটপাট ও অনিয়মের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের পথই শুধু রুদ্ধ হবে না অনুসন্ধানী বা সত্যিকারের সাংবাদিকতাই আর চলবে না। ফলে গোটা সাংবাদিক সমাজ উদ্বিগ ও বিচলিত। এ বিধান দেশে দুর্নীতিকে অবারিত ও অপ্রতিরোধ্য করে তুলবে।

 

বিপন্ন করবে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সাংবাদিকতাকে। সংসদে পাশ করার আগে গণমাধ্যম ও মতপ্রকাশের জন্য হুমকি সৃষ্টিকারি সকল ধারা বাতিল করার দাবি জানান নেতৃবৃন্দ। তা না হলে দেশের সাংবাদিক সমাজ অতীতের মতই ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামের মাধ্যমে সকল কালাকানুন প্রতিহত করবে বলে উল্লেখ করেন সাংবাদিক নেতারা। বার্তা প্রেরক আবু ইউসুফ দফতর সম্পাদক, বিএফইউজে

মুহম্মদ আলতাফ হোসেন জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার আজীবন সভপতি

দেশের সাংবাদিকতা জগতের প্রবীণ ব্যক্তিত্ব মুহম্মদ আলতাফ হোসেন। ১৯৭০ সালে সাংবাদিকতাকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করে বিগত ৪৬ বছরে তিনি দৈনিক আজাদ, দৈনিক গণকন্ঠ, দৈনিক সংগ্রাম, দৈনিক জনতা, দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকায় বিভিন্ন সময়ে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি রেডিও বাংলাদেশের বাংলা সংবাদ বিভাগে দীর্ঘ দিন কাজ করেছেন। তিনি বেতার কথিকা ও সংবাদ পর্যালোচনা লিখে বিপুল সুনাম কুড়িয়েছেন।

 

এক সময় তিনি ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) ও বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজেনির্বাচিত নির্বাহী সদস্য ছিলেন। নজরুল একাডেমীসহ বিভিন্ন সংস্থার আজীবন সদস্য ছাড়াও বহু সাহিত্যসাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে তিনি জড়িত। তিনি দেশে সর্বস্তরের সাংবাদিকদের একক সংগঠন জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও বর্তমান সভাপতি। ১৯৮২ সালের ১২ই ফেব্রুয়ারী তার উদ্যোগে গঠিত হয় এই সংগঠন। তিনি বাংলাদেশ নিউজ সিন্ডিকেটবিএনএসর চেয়ারম্যান ও এফএনএসপ্রধান সম্পাদক। ১৯৪৭ সালের ২৭শে সেপ্টেম্বর তিনি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। গত ২রা জানুয়ারি ২০১৬ অনুষ্ঠিত কাউন্সিলে তিনি সর্বসম্মতিক্রমে জাতীয সাংবাদিক সংস্থার আজীবন সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন।

যত অনিয়ম গ্রামীণফোনে

শুধু যে প্রতারণা আর প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ তাই নয়, মূল উদ্যোক্তাকেই বলতে গেলে জোড় করে তাড়িয়ে দিয়েছে গ্রামীণফোন বা তাদের মূল প্রতিষ্ঠান টেলিনর। ইকবাল কাদির নামের ওই ব্যক্তি-ই ছিলেন বর্তমানের এই জায়ান্ট মোবাইল ফোন কোম্পানিটির স্বপ্নদ্রষ্টা। নিজে খুব বেশি অর্থলগ্নি করতে না পারায় পেয়েছিলেন মাত্র ৪ দশমিক ৫ ভাগ শেয়ার। তাও শেষ পর্যন্ত থাকতে দেয়নি টেলিনর। তাঁকে পরিচালনা পর্ষদে তো নেয়া হয়ইনি বরং তাঁর শেয়ার কেড়ে নিয়ে বিদায় করে দেওয়া হয়েছে। ক্ষোভে দুঃখে দেশ ছেড়ে চলে যান ইকবার কাদির। টেলিনর গ্রুপ এই কাজ করে ২০০১ সনে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার গঠনের পর। টেলিনরের এই কাজে সায় ছিল ড: ‍ুমুহাম্মদ ইউনূসেরও।

শুধু ইকবাল কাদির নয়, শুরু থেকে গ্রামীণফোনে জাপানের মারুবিনি নামের একটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ছিল ৯ দশমিক ৫ ভাগ। তাদেরও এই ব্যবসায় থাকতে দেয়নি টেলিনর। এক পর্যায়ে ইকবাল কাদিরের সাথে মারুবিনিকেও চলে যেতে হয়। সে সময় এই ঘটনাগুলোর সাথে সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি বলেছেন, আওয়ামী লীগের আমলে শেখ হাসিনার কাছ থেকে লাইসেন্স পেলেও ২০০১ সনে বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় আসার পর টেলিনরের প্রভাব বেড়ে যায় কয়েকগুন। তখন থেকেই তারা গ্রামীণফোনে একচ্ছত্র মালিকানা নিতে মরিয়া হয়ে উঠে।

ড: ইউনূস টেলিনরকে প্রাথমিক অবস্থায় কোম্পানিটিকে দাঁড় করানোর সুযোগ করে দিয়েছিলেন। ভেবেছিলেন এক সময় এই কোম্পানির সিংহভাগ শেয়ারের মালিক হবে গ্রামের দরিদ্র নারীরা। কিন্তু টেলিনরের পুঁজির দাপটে কিছুই হয়নি। ড: ইউনূস তাঁর শেয়ার ধরে রাখতে পারলেও কাদিরকে বিদায় নিতে হয় খালি হাতেই।

সুত্রমতে ১৯৯৩ সনের শুরুর দিকে প্রকল্পের প্রাথমিক ভাবনা দাঁড় করান যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করা ইকবাল কাদীর। তিনি সে সময় ছিলেন এটরিয়ারম ক্যাপিটালের ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকার। দেশে ফিরে কিছু একটা করার পরিকল্পনায় হাত দেন তিনি। সেলফোন হতে পারে দারিদ্র্যের বিরুদ্ধের লড়াইয়ের বড় হাতিয়ার—এটা তারই ভাবনা। ড: ইউনূস যখন ওহাইয়োতে সম্মানসূচক ডিগ্রি নিতে গিয়েছিলেন, তখন তাঁর কাছে নিজের এ ভাবনার কথা তুলে ধরেন ইকবাল কাদীর। ১৯৯৩ সনের ডিসেম্বরে দু’জনের মধ্যে আবার দেখা হয়। ইকবাল কাদির কীভাবে তারবিহীন ফোন বাংলাদেশে উন্নয়নে বিপ্লব ঘটাতে পারে সে চিন্তা তুলে ধরেন অধ্যাপক ইউনূসের কাছে।

শুরুতে অধ্যাপক ইউনূস বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা না করলেও ১৯৯৪ সনে কাদিরের লিখিত পরিকল্পনা পাওয়ার পরে তিনি নড়েচড়ে বসেন। কিন্তু প্রাথমিক লগ্নি করার জন্য তেমন একটি আগ্রহ দেখালেন না। কিন্তু কাদির ছিলেন নাছোড়বান্দা। নিজের স্বপ্নকে বাস্তব রূপ দিতে আবারও ফিরে গেলেন নিউইয়র্কে। মার্কিন এক ধনী ব্যক্তিকে বুঝিয়ে প্রতিষ্ঠা করলেন গণফোন। কিছু অর্থ হাতে আসার পর তিনি ফিনল্যান্ডের টেলিকন কোম্পানিকে পরামর্শক হিসাবে নিয়োগ দিলেন। উদ্দেশ্য ছিল এই পরামর্শক কোম্পানির মাধ্যমে স্ক্যান্ডনেভিয়ান দেশগুলোর সেলফোন অপারেটদের সম্পর্কে নেটওয়ার্ক স্থাপন। ১৯৯৪ সনের শেষদিকে তিনি সুইডিশ কোম্পানি টেলিয়া, গণফোন ও গ্রামীণ ব্যাংকের একটি কনসোর্টিয়াম স্থাপন করতে সফল হলেন।

পরিকল্পনা ছিল বাংলাদেশ সরকার নতুন লাইসেন্স এর জন্য দরপত্র আহবান করলেই তাতে অংশগ্রহণ করা। প্রাথমিকভাবে পরিকল্পনা হলে একটি লাভজনক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন নেওয়া হবে। যে প্রতিষ্ঠান সরকারের কাছ থেকে লাইসেন্স নিয়ে টেলিফোন অপারেটর হিসাবে ব্যবসা পরিচালনা করবে। পাশাপাশি আরেক অলাভজনক প্রতিষ্ঠান খোলা হবে, যারা এই কোম্পানির কাছ থেকে পাইকেরি দামে কথাবলার সময় কিনে তা গ্রামের দরিদ্র নারী উদ্যোক্তাদের কাছে ফোন ও কল সময় বিক্রি করবে। অলাভজনক এই প্রতিষ্ঠানের নাম হবে গ্রামীণ টেলিকম। কিন্তু ছয় মাস পর টেলিয়া এই কনসোর্টিয়াম থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেয়। কাদীরের বিচক্ষণতা ও দূরদর্শিতায় রাজি হলো টেলিনর। কিন্তু পুঁজি জোগানের লড়াইয়ের টেলিনরের কাছ হার মানলেন সকলেই। প্রাথমিকভাবে ১ কোটি ৭৫ লাখ ডলারের লগ্নিতে ৫১ ভাগ শেয়ারের মালিক হলো টেলিনর, ৩৫ ভাগ গ্রামীণ টেলিকম, ৯ দশমিক ৫ ভাগ জাপানের মারুবিনি আর ৭ লাখ ৯০ হাজার ডলার দিয়ে মাত্র ৪ দশমিক ৫ ভাগ শেয়ারের মালিক হলেন মূল উদ্যোক্তা ইকবাল কাদীরের গণফোন।

এত অল্প শেয়ারে কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদে জায়গা হলো না তাঁর। ১৯৯৭ সনের ২৬ মার্চ গ্রামীণ তার যাত্রা শুরু করে। প্রথম বছর ৭০ লাখ ডলার, পরের বছর ১ কোটি ৩০ লাখ ডলার লোকসান হয় গ্রামীণফোনের। ২০০০ সনের পর থেকে সাফল্যের মুখ দেখতে থাকে। সে বছর প্রতিষ্ঠানটি ৩০ লাখ ডলার মুনাফা করে। ২০০১ সনে দেশের মোবাইল ফোন গ্রাহকের ৬৯ শতাংশ চলে যায় গ্রামীণফোনের দখলে। ২০০২ থেকে ২০০৪ এ শুরু হয় টেলিনর ও গ্রামীণ টেলিকমের নিয়ন্ত্রণের লড়াই। এই পরিস্থিতিতে ইকবাল কাদির ও মারুবিনি তাদের অংশের শেয়ার ছেড়ে দিয়ে কোম্পানি থেকে বের হয়ে যেতে বাধ্য হন। পুরো শেয়ার চলে যায় টেলিনরের হাতে।

২০০৬ সনে ড: ইউনুস প্রকাশ্যে গণমাধ্যমে টেলিনরের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, কনসোর্টিয়ামের সমঝোতা চুক্তিতে টেলিনর ৬ বছরের মধ্যে তাদের শেয়ার ৩৫ শতাংশে নামিয়ে আনবে-এ বিষয়টি উল্লেখ ছিল। আর এ সময়ের মধ্যে প্রতিষ্ঠানের যে কোন পক্ষের শেয়ার হস্তান্তরের বিষয়ে প্রাথমিক আপত্তি জানানোর অধিকার পাবে গ্রামীণ টেলিকম। কিন্তু সমঝোতা চুক্তি মেনে শেয়ার ৩৫ শতাংশে নামিয়ে আনতে অস্বীকৃতি জানায় টেলিনর। এ নিয়ে উভয় পক্ষে বাকবিতণ্ডা এবং চিঠি চালাচালি হলেও, টেলিনর গ্রামীনফোনে নিজেদের নিয়ন্ত্রন ছাড়েনি।

গত ১৫ বৎসরের এসব পুরনো দলিল ও কাগজপত্র পরীক্ষা করে টেলিনরের এসব প্রতারণা ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের প্রমাণ পেয়েছে গ্রামীণ ব্যাংক কমিশন। কমিশনের চেয়ারম্যান মামুন উর রশিদ তখন বলেছিলেন, সে সময় গ্রামীণ কনসোর্টিয়ামকে লাইসেন্স দেওয়া হয়েছিল সরল বিশ্বাসে। লাইসেন্সিং প্রক্রিয়ায় যোগ্যতার বিচারে বাদ পড়েছিল টেলিনর। তারপরও তাদের লাইসেন্স দেওয়া হয় এবং তারা যথারীতি বিশ্বাস ভঙ্গ করেছে সবার সাথেই।

বাংলাদেশে রোবট রেস্টুরেন্টের যাত্রা শুরু

প্রথম রোবট রেস্টুরেন্টের যাত্রা শুরু হয়েছে। তাও বাংলাদেশে! রেস্টুরেন্টে কোনো মানুষ নয়, কেবল রোবটই কাস্টমারদের খাবার সরবরাহ করছে। রাজধানীর মিরপুর রোডে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন এবং আসাদ গেটের কাছে প্রধান সড়কের ফ্যামিলি ওয়ার্ল্ড টাওয়ারের দ্বিতীয় তলায় এ রেস্টুরেন্টটির অবস্থান।

বুধবার প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব অডিটরিয়ামে রেস্টুরেন্টটির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। যাত্রা শুরু উপলক্ষে রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষ এবং রোবট প্রস্তুতকারী সংস্থা এইচ জেড এক্স ইলেকট্রনিক টেকনোলজি কোম্পানি যৌথ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আয়োজকরা বলেন, বাংলাদেশে এটিই এ ধরনের প্রথম রেস্টুরেন্ট যেখানে রোবটের মাধ্যমে কাস্টমারদের খাবার সরবরাহ করা হবে। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের জন্য একটি নতুন মাইলফলক এবং নতুন দিগন্তের সূচনা করলো। বাংলাদেশ ও চীন যৌথভাবে এ রেস্টুরেন্টটি পরিচালনা করবে বলে সম্মেলনে জানানো হয়।

 

শিশুদের বিনোদন ও খাবারের বিষয়টি চিন্তা করেই এ ধরনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন। রেস্টুরেন্টটির পরিচালক রাহিন রাইয়ান নবী বলেন, ‘অনেক সময় দেখা যায় যে ওয়েটাররা কয়েক ঘণ্টা কাজ করার পরে ক্লান্ত হয়ে পড়েন। সেই ক্লান্ত অবস্থায়ই তারা কাস্টমারদের খাবার সরবরাহ করতে বাধ্য হন। কিন্তু রোবট কখনোই ক্লান্ত হবে না। তাই যখন রোবট খাবার সরবরাহ করবে তখন এটি কাস্টমারকে আরও ভালো সেবা দিতে পারবে। সেটি সব বয়সের মানুষের জন্য অত্যন্ত রোমাঞ্চকর পরিবেশও তৈরি করবে। বিশেষ করে শিশুরা সবচেয়ে বেশি রোমাঞ্চিত হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘খাবারের দাম সাধ্যের মধ্যেই রাখা হবে যাতে সব শ্রেণির মানুষই এ সেবা নিতে পারেন। শিশুদের জন্য আমাদের বিশেষ কিছু খাবার থাকছে। এবং আমরা খাবারের মান ও পারিবারিক পরিবেশ অবশ্যই বজায় রাখা হবে। যাতে করে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে যে কেউ এখানে খেতে আসতে পারেন।’

যারা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন তাদের সবাইকেই রোবটের কার্যক্রম দেখেন। উপস্থিত সবার জন্যই এটি ছিল একটি সম্পূর্ণ নতুন অভিজ্ঞতা।

 

রেস্টুরেন্টটির পরিচালক আরো বলেন, একজন ওয়েটারের পক্ষে সব সময় খাবারের গুণগতমান নিশ্চিত করা ও জীবানুমুক্ত থাকা সম্ভব হয় না। তাই আমরা রোবট দিয়ে এসব কাজ করাচ্ছি। রেস্টুরেন্টটিতে প্রাথমিকভাবে দুইটি রোবট কাজ শুরু করবে।

সংবাদ সম্মেলনে রেস্টুরেন্টটির পরিচালক রাহিন রাইয়ান নবী, এইচ জেড এক্স ইলেকট্রনিক টেকনোলজি কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ম্যাক্স সোয়াজ, কাস্টমার রিলেশন ম্যানেজার তানভিরুল হক উপস্থিত ছিলেন।

এইচ জেড এক্স ইলেকট্রনিক টেকনোলজি কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ম্যাক্স সোয়াজ জানিয়েছেন, বাংলাদেশে রোবট ডিজিটালাইজেশনের জন্য যে কোনো সহযোগিতা করার জন্য তারা সব সময় প্রস্তুত।

যে কারণে এ উদ্যোগ

প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান আনোয়ারুন নবী মজুমদারের দুই সন্তান তাসিন রওনাক নবী এবং রাহিন রাইয়ান নবী বিদেশে উচ্চ শিক্ষার জন্য অধ্যয়নরত অবস্থায় চীন সফরে যান। সেখানে গিয়ে তারা চীনের রোবট দ্বারা খাবার সরবরাহ পদ্ধতি দেখে আকৃষ্ট হন। তারা তখন সংশ্লিষ্ট রোবট কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ম্যাক্স সোয়ার্জ এর সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং বাংলাদেশে রোবট রেস্টুরেন্টে চালুর বিষয়ে আলোচনা করেন। এর প্রেক্ষিতে পরবর্তীতে এটি বাংলাদেশে চালু করা হয়।

সর্বসাধারণের সুবিধার্থে প্রাথমিক অবস্থায় আগামী এক মাসের জন্য শিশুদের ‘কিডমিল’ এবং দেশীয় খাবারের সেট ফুড পরিবেশন করা হবে। যার মূল্য সর্বোচ্চ ৫শ’ টাকার বেশি হবে না।

৫৭ধারার মামলায় সাংবাদিক লতিফকে গ্রেফতারের ঘটনায় ওসি প্রত্যাহার

সাংবাদিক আব্দুল লতিফ মোড়লকে গ্রেফতারের ঘটনায় খুলনার ডুমুরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) সুকুমার বিশ্বাসকে প্রত্যাহর করা হয়েছে। গত বুধরার রাত ৮টার কে থানা থেকে প্রত্যাহারপূর্বক রাতেই তাকে জেলা পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়। একই সঙ্গে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি(আইসিটি) আইনের ৫৭ধারার মামলা যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া না মেনে থানায় রেকর্ড এবং গভীর রাতে সাংবাদিককের বাড়ী ঘেরাও করে তাকে গ্রেপ্তার করায় ওসিকে প্রত্যাহার করা হয়।

জেলা পুলিশ সুপার নিজামুল হক মোল্লা বলেন, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ৫৭ধারার মামলা খুবই স্পকাতর তাই এধরনের মামলা রেকর্ড করতে হলে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া মেনেই করতে হবে। কিন্তু এক্ষেত্রে সঠিকভাবে তা করা হয়নি।এত দায়িত্বের অবহেলা পরিচয় পাওয়া গেছে। যে কারনে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুকুমার বিশ্বাসকে পুলিশ হেড কোয়াটারের নির্দেশে প্রত্যাহার করা হয়েছে।একই সঙ্গে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(বি-সার্কেল) মো. সজীব খনকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে। কমিটিকে দ্রুত রিপোর্ট দিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পরই এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।

গত সোমবার (৩১ জুলাই) রাত ৯টার দিকে সুব্রত ফৌজদার নামে এক ব্যক্তি সাংবাদিক আব্দুল লতিফ মোড়লের বিরুদ্ধে ডুমুরিয়া থানায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) আইনের ৫৭ ধারায়  মামলা দায়ের করেন। মামলা হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মাথায় ওইদিন রাত আড়াইটার দিকে লতিফকে ডুমুরিয়া উপজেলা সদরের বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

মঙ্গলবার (০২ আগস্ট) দুপুরে সাংবাদিক লতিফ মোড়লকে খুলনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত ‘খ’ অঞ্চলে হাজির করা হয়। আদালতের বিচারক নুসরাত জাবিন শুনানি শেষে বুধবার (০২ আগস্ট) পুনরায় মামলার শুনানির দিন ধার্য্য করে তাকে জেল-হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

বুধবার আদালত শুনামি শেষে তার অন্তর্বর্তীকালীন মঞ্জুর করেন। এরপর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তিনি খুলনা জেলা কারাগার থেকে মুক্তি লাভ করেন।

এর আগে বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে শুনানি শেষে পুলিশের চার্জশিট দাখিল না হওয়া পর্যন্ত খুলনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত ‘খ’ অঞ্চলের বিচারক নুসরাত জাবিন ১০ হাজার টাকার বন্ডে তার জামিন মঞ্জুর করেন।

তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারার প্রবণতা আত্মঘাতী: সেতুমন্ত্রী

তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারার  প্রবণতা আত্মঘাতী বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন,  “৫৭ ধারার অপপ্রয়োগ বন্ধ করতে হবে। এই প্রবণতা আত্মঘাতী।”

শনিবার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বড় ছেলে শেখ কামালের জন্মদিন উপলক্ষে ‘সতীর্থ-স্বজন’ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ওবায়দুল কাদের এ মন্তব্য করেন।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, “কেউ কেউ ষোড়শ সংশোধনী বাতিল হওয়ায় মহাখুশি। এরা এভাবেই খুশি হয়। আনন্দের জগাই-মাধাই শুরু হয়েছে। কিছুক্ষণ আগে একজন বলে গেছেন, তারা (বিএনপি) আশার আলো দেখছেন। অন্য ইস্যু মরে গেছে। এই আশার আলো অচিরেই নিভে যাবে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আসুন। ঘটনায়, দুর্ঘটনায় ইস্যু খুঁজে লাভ নাই।”

ওবায়দুল কাদের বলেন, “একেকজন ক্ষমতায় গেলে বিকল্প পাওয়ার সেন্টার হয়ে ওঠেন। কিন্তু শেখ কামাল তেমন মানুষ ছিলেন না। তার কোনো হাওয়া ভবন ছিল না। শেখ কামাল নির্বাচনকেন্দ্রিক রাজনীতি করেননি। পরবর্তী নির্বাচনের জন্য রাজনীতি করেননি। তিনি রাজনীতি করেছিলেন পরবর্তী প্রজন্মের জন্য।”

সাংবাদিক আবেদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি শফিকুর রহমান, আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক হারুনুর রশীদ প্রমুখ।

৫৭ ধারার অপপ্রয়োগ বন্ধ করা উচিত

এর আগে বুধবার সকাল ওবায়দুল কাদের বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারার অপপ্রয়োগ বন্ধ করা উচিত।”

ওবায়দুল কাদের বলেন, “খুলনায় সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ৫৭ ধারায় মামলা ও গ্রেফতার তথ্যপ্রযুক্তি আইনের এ ধারার অপপ্রয়োগ। ৫৭ ধারার অপপ্রয়োগ বন্ধে তথ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ করা উচিত।”

তিনি বলেন, “তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য কিছু ঘটল আর সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে গ্রেফতার করা হলো, এটি ৫৭ ধারার অপপ্রয়োগ।”

মহা-পুলিশ পরিদর্শককে বনপা’র অভিনন্দন

তথ্য প্রযুক্তি আইনে ৫৭ ধারায় পুলিশ হেড কোয়াটারের অনুমতি ছাড়া মামলা নিতে পারবে না । যাতে নিরীহ কোন ব্যক্তি হয়রানীর শিকার না হয়।

 

পুলিশকে মামলা নেয়ার ক্ষেত্রে সর্তকতার সাথে মামলা নেয়ার জন্য সরকারের পক্ষে মহা-পুলিশ পরিদর্শক একেএম শহীদুল হক আদেশ প্রদান করায় তাঁকে বাংলাদেশ অনলাইন নিউজ পোর্টাল এসোসিয়েশন (বনপা) এর পক্ষ থেকে স্বাগত ও অভিনন্দন জানিয়েছেন বনপা’র সভাপতি শামসুল আলম স্বপন ও সাধারন সম্পাদক ইঞ্জি: রোকমুনুর জামান রনি।

 

অভিনন্দন বার্তায় বনপা নেতৃবৃন্দ বলেন, ৫৭ ধারা সাংবাদিক ,পুলিশ ও জনগণের জন্য একটি কালো আইন । এ আইনে এ পর্যন্ত অর্ধশতাধিক সাংবাদিক হয়রানীর শিকার হয়েছে। যার অধিকাংশই জননেত্রীর ভক্ত। ৫৭ ধারায় মামলা নেয়ার কারণে ইতোমধ্যে একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এ আইন সরকারের রক্ষাকবচ নয় বরং সাংবাদিক ও জনগণের সাথে বর্তমান মিডিয়া বান্ধব সরকারের দুরুত্ব সৃষ্টির আইন।

 

৫৭ ধারার এই আইন বাতিল করার জন্য বনপা’র নেতৃবৃন্দ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ।

একদিনে লক্ষাধিক ফ্রিজ বিক্রির রেকর্ড ওয়ালটনের

ওয়ালটন চলতি আগস্ট মাসের প্রথম দিনে লক্ষাধিক ফ্রিজ বিক্রি করেছে। বাংলাদেশে একদিনে এতো ফ্রিজ বিক্রির আর কোনো নজির নেই।

এটাকে রেকর্ড দাবি করে ওয়ালটন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এবার কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে তাদের ৫ লাখ ফ্রিজ বিক্রির টার্গেট রয়েছে। তাদের ধারণা লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি ফ্রিজ বিক্রি হতে পারে ওয়ালটনের।
ওয়ালটন কর্তৃপক্ষ জানায়, গত মঙ্গলবার পহেলা আগস্ট তাদের ফ্রিজ বিক্রি হয়েছে এক লাখ চার হাজার ৪৬৯টি। এর আগে চলতি বছরের মে মাসে একদিনে সর্বোচ্চ বিক্রি হয়েছিল প্রায় ৫০ হাজার। তাদের দাবি, উচ্চ গুণগত মান, সাশ্রয়ী মূল্য, পণ্যের সর্বোচ্চ গ্যারান্টি-ওয়ারেন্টি এবং সেরা বিক্রয়োত্তর সেবার কারণে বাংলাদেশের মানুষের প্রথম পছন্দের ব্র্যান্ড ওয়ালটন।

গত কোরবানি ঈদের আগে সারা দেশে প্রায় ৪ লাখ ফ্রিজ বিক্রি হয়েছিল ওয়ালটনের। আর এবারের কোরবানির ঈদের আগে (জুলাই ও আগস্ট মাসে) গতবারের চেয়ে ২৭ শতাংশ বেশি অর্থাৎ ৫ লাখ ফ্রিজ বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা নেয়া হয়েছে।

এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে রোজার পরপরই উৎপাদন ও বিপণনে প্রয়োজনীয় কর্মকৌশল নির্ধারণ করা হয়েছে। গাজীপুরে নিজস্ব কারখানায় বাড়ানো হয়েছে উৎপাদন। বিপণন প্রক্রিয়ায়ও নেয়া হয়েছে আধুনিক ও কৌশলগত পরিকল্পনা। প্রোডাক্ট লাইনে যুক্ত হয়েছে ব্যাপক বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী ইন্টেলিজেন্ট ইনভার্টার প্রযুক্তির ফ্রিজ, টেম্পারড গ্লাস ডোরসহ লেটেস্ট সব প্রযুক্তি ও বৈচিত্র্যময় ডিজাইনের অসংখ্য নতুন মডেলের ফ্রিজ।
বিপণন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, স্থানীয় বাজারে ওয়ালটনের নতুন মডেলের ফ্রিজ দেশব্যাপী সকল শ্রেণীর গ্রাহকের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। ফলে, এবারের কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে এক দিনেই লক্ষাধিক ফ্রিজ বিক্রি করা সম্ভব হয়েছে। এটি ওয়ালটনের জন্য যেমন রেকর্ড, তেমনি স্থানীয় বাজারে দেশীয় ব্র্যান্ডের জন্যও একটি সুখবর। উচ্চ গুণগতমানের দেশীয় পণ্যের প্রতি গ্রাহকদের আস্থা যে প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে এটি তারই প্রমাণ।

আগামী সেপ্টেম্বর মাসের শুরুতেই অনুষ্ঠিত হবে মুসলমানদের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আযহা বা কোরবানির ঈদ। এই ঈদে দেশজুড়ে ব্যাপক পরিমানে পশু কোরবানী দেয়া হয়। আর এই সময়ে কোরবানির গোসত সংরক্ষনের জন্য ফ্রিজের চাহিদা ও বিক্রি বেড়ে যায় কয়েকগুণ। তাই কোরবানীর ঈদকেই ফ্রিজ বিক্রির প্রধান মৌসুম ধরা হয়। অন্য সময়ের তুলনায় কোরবানীর ঈদে ডিপ ফ্রিজ বিক্রিও কযেকগুন বেড়ে যায়। এই বাড়তি চাহিদার সিংহভাগ পূরণে বদ্ধ পরিকর ওয়ালটন।

ওয়ালটন বিপণন বিভাগের প্রধান সমন্বয়ক ইভা রিজওয়ানা বলেন, দেশেই আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন উচ্চ প্রযুক্তির ফ্রিজ উৎপাদন এবং তা সাশ্রয়ী মূল্যে বাজারজাত করার মাধ্যমে স্থানীয় বাজারে দীর্ঘদিন ধরে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে ওয়ালটন। একক ভাবে সবচেয়ে বেশি ফ্রিজ বিক্রি হয় ওয়ালটনের।  ওয়ালটন ব্র্যান্ডের প্রতি গ্রাহকপ্রিয়তা প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে। তার প্রমাণ হলো- চলতি মাসের প্রথম দিনেই এক লাখের বেশি ফ্রিজ বিক্রির রেকর্ড।

ওয়ালটন বিপণন বিভাগের প্রধান এমদাদুল হক সরকার বলেন, ফ্রিজ বিক্রির এই রেকর্ড স্থানীয় বাজারে ওয়ালটনের জন্য এক বিশাল মাইলফলক। এ ধরণের অর্জন ওয়ালটনকে গ্রাহকদের জন্য আরো নতুন নতুন প্রযুক্তি ও বৈচিত্র্যময় মডেলের পণ্য উদ্ভাবনে অনুপ্রেরণা দেবে। তার ধারণা, ঈদে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি বিক্রি করতে পারবে ওয়ালটন।

ওয়ালটনের প্রকৌশলীরা জানান, ব্যাপক বিদ্যুত সাশ্রয়ী ফ্রিজ উৎপাদন করায় দেশে একমাত্র ওয়ালটন ফ্রিজই পেয়েছে বিএসটিআই এর ফাইভ স্টার রেটিং সনদ। বাংলাদেশের জন্য ৪৩ ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রায় স্বাস্থ্যসম্মত খাবার সংরক্ষণের নিশ্চয়তায় তৈরি হচ্ছে ওয়ালটন ফ্রিজ। বাংলাদেশ এ্যাক্রিডিটেশন বোর্ড স্বীকৃত এবং আইএসও সনদপ্রাপ্ত NUSDAT-UTS ল্যাব থেকে মান যাচাই করে বাজারজাত করা হচ্ছে ওয়ালটন ফ্রিজ। মান নিয়ন্ত্রণে নেয়া হয়েছে জিরো টলারেন্স নীতি। যার প্রেক্ষিতে, সর্বোচ্চ গুণগতমানের নিশ্চয়তায় গ্রাহকদের ওয়ালটন ফ্রিজে এক বছরের রিপ্লেসমেন্ট গ্যারান্টি দেয়া হচ্ছে। কম্প্রেসারে সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত রিপ্লেসমেন্ট গ্যারান্টির সুবিধাও দিচ্ছে ওয়ালটন।

ফেসবুকের কল্যাণে অসহায় বৃদ্ধা মা পেল হুইল চেয়ার

ফেসবুকের কল্যাণে নোয়াখালীতে অসহায় বৃদ্ধা পেল হুইল চেয়ার। বৃহঃবার (১৩ জুলাই) দুপুরে জেলার বিনোদপুর গ্রামে বৃদ্ধা ছবুরা খাতুন হুইল চেয়ার বিতরণ করা হয়। সাংবাদিক গোলাম কিবরিয়া রাহাতের ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেখে প্রতিবন্ধী ছবুরা খাতুনের পাশে দাঁড়ালেন এস.ই.এল স্যারিটেবল ফাউন্ডেশন কো-অর্ডিনেটর ইবনুল সাঈদ রানা।

সাংবাদিক গোলাম কিবরিয়া রাহাতের ও বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাসিম শুভ’র সহযোগিতায় ছবুরা খাতুনের বাড়ীতে গিয়ে হুইল চেয়ার বিতরণ সভায় উপস্থিত ছিলেন, নোয়াখালী প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি বখতিয়ার শিকদার, সাংবাদিক জি.এম হায়দার চৌধুরী, সাংবাদিক মাহবুবুল হাসান চৌধুরী রাসেল, সাংবাদিক সাইদুজ্জামান রাজু, সমাজসেবক মো: ওয়াসিম উদ্দিন, সময় টিভি ফটো সাংবাদিক জামাল উদ্দিন রিহাদ, আবদুল্লাহ আল মামুন প্রমুখ।

খবর নিয়ে জানা যায়, নোয়াখালী জেলার সদর উপজেলার বিনোদপুর গ্রামে ছবুরা খাতুন গত ৩ বছর আগে একটি দূর্ঘটনায় দুই’টি পা বিকল হয়ে যায়। হাঁটতে না পারায় নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারতো না। স্বামী হারা এই বৃদ্ধার সন্তানদের পক্ষে একটি হুইল চেয়ার কিনে দেয়ার সমার্থ ছিল না। এসব তথ্য নিয়ে সাংবাদিক গোলাম কিবরিয়া রাহাত ফেসবুকে স্ট্যাস্টাস দেন। তা দেখে এস.ই.এল স্যারিটেবল ফাউন্ডেশন এগিয়ে আসে।

ইয়াহুর ১০০ কোটি ব্যবহারকারীর তথ্য চুরি

ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ইয়াহু বলছে, হ্যাকাররা হয়তো তাদের প্রায় একশো কোটি ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্ট থেকে তথ্য চুরি করেছে। ২০১৩ সালে এই চুরির ঘটনাটি ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

এক বিবৃতিতে ইয়াহু বলছে, সেপ্টেম্বরে যে ৫০ কোটি অ্যাকাউন্ট থেকে তথ্য চুরির ঘটনা তারা প্রকাশ করেছিল, এই হ্যাকিং তার থেকে ভিন্ন।

 

হ্যাকাররা গ্রাহকের নাম, ইমেইল অ্যাড্রেস, জন্ম তারিখ, টেলিফোন নম্বর এবং পাসওয়ার্ড চুরি করেছে বলে জানানো হয়েছে।

 

বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, হ্যাকাররা নাম, ইমেইল ঠিকানা, টেলিফোন নম্বর এবং জন্মতারিখের মতো তথ্য চুরি করে থাকতে পারে বলে জানিয়েছে ইয়াহু।

 

তবে তারা বলছে, পেমেন্ট কার্ড এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য চুরি যায়নি।

 

এ বছরের সেপ্টেম্বরের শেষে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ইয়াহু নিশ্চিত করে হ্যাকাররা সংস্থাটির ৫০ কোটি গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্য চুরি করেছে।

 

সে সময় ঘটনাটিকে বলা হয়েছিল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সাইবার হামলার ঘটনা।

 

এ বছরের জুলাই মাসে মার্কিন টেলিকম প্রতিষ্ঠান ভেরাইজোন প্রায় ৫০০ কোটি ডলারে ইয়াহুকে কিনে নেয়।

 

ভেরাইজোন বলছে, হ্যাকিং এর ঘটনা তদন্তে প্রতিষ্ঠানটি পুলিশ এবং কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করছে।

 

সূত্র: বিবিসি।

আপিল বিভাগেও সিটিসেল বন্ধের সিদ্ধান্ত বহাল

দেশের প্রথম বেসরকারি মোবাইল ফোন অপারেটর সিটিসেল বন্ধের সরকারি সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। তরঙ্গ বরাদ্দ খুলে দেয়ার বিষয়ে সিটিসেলের এক আবেদনের প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী এ আদেশ দেন। এ আবেদনের ওপর আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে আগামী ৩১ অক্টোবর শুনানির দিনও ধার্য করেছেন আদালত।

 

গত ২০ অক্টোবর সংবাদ সম্মেলন করে টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম বলেন, বিটিআরসির পাওনা না দেয়ায় সিটিসেলের তরঙ্গ স্থগিত করা হয়েছে।

 

বাংলাদেশের প্রথম মোবাইল ফোন অপারেটর সিটিসেলের কাছে সরকারের পৌনে পাঁচশ কোটি টাকা পাওনা। এই পাওনা না পেয়ে গত জুলাই মাসে সিটিসেলের কার্যক্রম বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছিল বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বিটিআরসি)।

 

পরের মাসে তাদের নোটিস দেয়া হয়েছিল। ওই নোটিসের পর সিটিসেল আদালতে গেলে আপিল বিভাগ টাকা পরিশোধ সাপেক্ষে কার্যক্রম চালিয়ে যেতে সিটিসেলকে দুই মাস সময় দিয়েছিল। গত ২৯ আগস্ট আদালতের ওই আদেশ হয়।

 

১৯৮৯ সালে বিটিআরসি থেকে টেলিযোগাযোগ সেবার লাইসেন্স পায় সিটিসেল বা প্যাসিফিক বাংলাদেশ টেলিকম লিমিটেড।

 

বর্তমানে এই কোম্পানির ৩৭ দশমিক ৯৫ শতাংশ শেয়ারের মালিক বিএনপি নেতা ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এম মোরশেদ খান মালিকানাধীন প্যাসিফিক বাংলাদেশ টেলিকম লিমিটেড।

 

সিটিসেলের সবচেয়ে বেশি ৪৫ শতাংশ শেয়ারের মালিকানা রয়েছে সিঙ্গাপুরভিত্তিক সিংটেল এশিয়া প্যাসেফিক ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের হাতে।

টুইটার ছাঁটাই করতে যাচ্ছে ৩০০ কর্মী

সামাজিক যোগাযোগের জনপ্রিয় মাধ্যম টুইটার ইনকর্পোরেটেড তাদের ৮ শতাংশ বা প্রায় ৩০০ কর্মী ছাঁটাই করার পরিকল্পনা করছে বলে জানা গেছে। সোমবার ব্লুমবার্গের এক রিপোর্টে এ কথা জানানো হয়।

 

মঙ্গলবার টুইটারের তৃতীয় কোয়ার্টারে কোম্পানির আয়ের বিবরণী প্রকাশ অনুষ্ঠানের আগে কর্মী ছাঁটাই করার এই ঘোষণা আসতে পারে বলে জানিয়েছে ব্লুমবার্গ।

 

উল্লেখ্য, টুইটার গতবছর তার ৩ শত ৩৬ বা প্রায় ৮ শতাংশ কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনার কথা জানায়।

 

বিশ্বব্যাপী টুইটারে বর্তমানে ৩ হাজার ৮৬০ জন কর্মী কর্মরত আছেন।