লাকসামে এস.এস.সির ব্যবহারীক পরিক্ষায় অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগ - খবর তরঙ্গ
শিরোনাম :

লাকসামে এস.এস.সির ব্যবহারীক পরিক্ষায় অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগ



জাফর আহমদ, (খবর তরঙ্গ ডটকম)

লাকসামে এস.এস.সির ব্যবহারীক পরিক্ষায় প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগ উঠেছে কেন্দ্র সচিবের বিরুদ্ধে। অতিরিক্ত আদায়কৃত মোটা অংকের টাকা কেন্দ্র সচিব, কেন্দ্র সহকারী সচিব ও হল সুপার আত্বসাত করেছে বলে গুঞ্জন উঠেছে। সুত্র মতে চলতিবছর ২৮ ফেব্রুয়ারী থেকে ৪ মার্চ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ব্যবহারীক পরিক্ষায় লাকসামের ১৪টি হাই স্কুলের প্রায় ১৮ শত ছাত্র/ছাত্রী অংশ গ্রহন করেছে।

 

উক্ত ছাত্র/ছাত্রীদের কাছ থেকে ফি বাবদ বোর্ড নির্ধারিত ফি বিজ্ঞানে ৪৭ টাকার স্থলে ৪শ এবং ব্যবসায় শিক্ষা ও মানবিক ১৭ টাকার স্থলে ২শ টাকা হারে গ্রহন করেছে কেন্দ্র সচিব। এদিকে উক্ত কেন্দ্র সচিব জে.এস.সি পরীক্ষায় বোর্ড সিদ্ধান্তের বাইরে প্রায় ২৮শ ছাত্র/ছাত্রীর নিকট থেকে ২০ টাকা হারে বাড়তি ফি আদায় করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

 

এছাড়াও এস.এস.সি পরীক্ষায় সিনিয়র প্রধান শিক্ষকদেরকে দিয়ে হল সুপার সহকারী সচিব সহকারী হল সুপারের দায়িত্ব দেওয়ার নিয়ম থাকলেও জুনিয়র সহকারী প্রধান শিক্ষদেরকে দিয়ে উক্ত দায়িত্ব পালন করানোর কারণে সিনিয়র প্রধান শিক্ষকদের মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।

লাকসাম বিএন হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক কামাল হোসেন হেলাল কেন্দ্র সচিব, লাকসাম উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি সভাপতি ও আজগরা হাই স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ তপন চন্দ্র সাহা কেন্দ্র সহকারী সচিব ও গনউদ্দোগ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রনজিৎ বাবু হল সুপারের দায়িত্ব পালন কালে উক্ত বাড়তি ফি নেয়ার অভিযোগ উঠলো।

 

এব্যাপারে বিভিন্ন অভিবাবকদের সাথে আলাপ করলে তারা বলেন, বাড়তি ফি না দিলে বাচ্ছাদেরকে ফেল করানো হবে এবং নাম্বার কম দিবে, আর বাড়তি ফি দিলে নাম্বার বাড়িয়ে দেয়া হবে, তাই আমরা বাধ্য হয়ে বাড়তি ফি দিয়েছি। এব্যাপারে বিভিন্ন প্রধান শিক্ষকদের সাথে আলাপ করলে তারা বলেন, আমরা কেন্দ্রের কাছে অসহায়। কেন্দ্র সচিবের সিদ্ধান্তের বাইরে কোন স্কুল যাওয়ার সুযোগ নাই। সুত্র মতে কেন্দ্র সচিব ৩৭ হাজার টাকা নিয়ে ৩৮শ টাকার মানিরিসিপ্ট ২৮ হাজার টাকা নিয়ে ৩৩শ টাকার মানি রিসিপ্ট এবং ৭১ হাজার টাকা নিয়ে সাড়ে ৭ হাজার টাকার মানি রিসিপ্ট প্রদান করেছে বলে প্রধান শিক্ষকরা জানিয়েছেন। এব্যাপারে প্রধান শিক্ষকদের মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। সুত্র আরো জানিয়েছে কেন্দ্র সচিব প্রধান শিক্ষকদের মাধ্যমে ছাত্র/ছাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি ফি উত্তোলন করে গ্রহন করেছেন, আর প্রধান শিক্ষকদের কে বোর্ড নির্ধারিত ফি অনুযায়ী রিসিপ্ট প্রদান করেছে। এক্ষেত্রে বাড়তি ফি নেওয়ার দায় দায়িত্ব প্রধান শিক্ষকদের উপর বর্তায়। কিন্তু প্রধান শিক্ষকরা বলেছেন আমাদের বাড়তি ফি নেয়ার সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয়া হয়েছে, সে মোতাবেক আমরা বাড়তি টাকা তুলে কেন্দ্র সচিবের নিকট প্রদান করি।

এব্যাপারে কেন্দ্র সচিব কামাল হোসেন হেলাল বলেন, আমি বোর্ডের সিদ্ধান্তের বাইরে কোন টাকা গ্রহণ করিনি। মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার প্রশাদ কুমার ভাওয়াল বলেন, আমি কিছু শুনিনি। আমাকে কেউ কিছু বলেনি। বললে আমি ব্যাবস্থা নিবো।


এ সম্পর্কিত আরো খবর

কুমিল্লা এর অন্যান্য খবরসমূহ
লাকসাম এর অন্যান্য খবরসমূহ
শিক্ষাঙ্গণ এর অন্যান্য খবরসমূহ