অপসাংবাদিকতা প্রতিরোধ করার দায়িত্ব নিতে হবে সম্পাদকদের - খবর তরঙ্গ
শিরোনাম :

অপসাংবাদিকতা প্রতিরোধ করার দায়িত্ব নিতে হবে সম্পাদকদের



মোজাম্মেল হক আলম, (খবর তরঙ্গ ডটকম)

সাংবাদিকতার সাথে সম্পৃক্ত হয়ে আমি যথাযথ ভাবে এ বিষয়টি উপলদ্ধি করতে সক্ষম হয়েছি যে, সত্যিকার অর্থেই সাংবাদিকতা একটি মহান পেশা। কারণ, একজন সাংবাদিকের পক্ষেই সমাজের অসংগতি যথাযথ ভাবে উপস্থাপন করা সম্ভব। সাংবাদিক চাইলেই পারে যে কোন অপরাধকে সমূলে দমন করতে। আর তাই ধর্মÑবর্ণ নির্র্বিশেষে সমাজের সকল শ্রেণী-পেশার মানুষের কাছেই সাংবাদিকরা পূজনীয়। তবে সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপটে যত্রতত্র ‘সাংবাদিক’ শব্দটির অপব্যবহার তথা অপসাংবাদিকতা দেখে আমি ব্যথিত এবং এ ক্ষেত্রে বিজ্ঞ সম্পাদকদের নীরবতার কাছে লজ্জিতও বটে।
একদা একান্ত আলাপচারিতার এক ফাঁকে আমার বড় ভাই (কুমিল্লার আলোচিত সাংবাদিক মহিউদ্দিন মোল্লা) প্রকৃত সাংবাদিকদের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করে বলেন,

● প্রকৃত সাংবাদিকেরা সত্যের কাছে বিনয়ী হয়; তবে অসত্যের তোষামোদি করে না।
● তারা প্রাপ্ত তথ্যের সত্যতা অনুসন্ধান ছাড়া কখনোই সংবাদ পরিবেশন করেনা।
● তারা অপরাধকে ঘৃণা করে; তবে অপরাধিকেও আত্মসংশোধনের সুযোগ দেয়।
● তারা আবেগকে প্রশ্রয় না দিয়ে প্রতিনিয়ত বিবেকের দাসত্ব করে।
● তারা মিডিয়াকে শক্তি না ভেবে মেধাকে শক্তি ভাবে এবং মেধাশক্তির সদ্ব্যাবহার করে।
● তারা সংশোধনের স্বার্থে অন্যের সমালোচনা করে; তবে বিরোধিতা করে না।
● তারা কস্মিনকালেও অর্থের কাছে নিজের বিবেককে বিক্রি করে না।
● তারা সর্বদা জনগণের অর্জনের স্বার্থে নিজের সর্বস্ব বিসর্জন দিতে প্রস্তুত থাকে।
● তারা যে কোন কঠিন পরিস্থিতির আগমনেও আদর্শচ্যুত হয় না।
● তারা রাষ্ট্রের প্রতি অনুগত; রাষ্ট্রবিরোধী কোন কাজে সম্পৃক্ত হয় না।
● তারা স্বাধীনতার চেতনায় উজ্জীবিত; কোন অপশক্তিকেই ভয় পায় না।

উপরোল্লিখিত বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন সাংবাদিকরা বর্তমানে সংখ্যালঘু। পক্ষান্তরে ব্যাঙেরছাতার মত গজিয়ে ওঠা অপসাংবাদিকরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ। কারণ, যখন তখন হাত বাড়ালেই পাওয়া যাচ্ছে সাংবাদিকতার আইডেন্টি কার্ড (পরিচয় পত্র)। শিক্ষাগত যোগ্যতা ছাড়াই টাকার বিনিময়ে অদক্ষ ব্যক্তির হাতে তুলে দেয়া হচ্ছে এসব পরিচয় পত্র। আর এ সমস্ত অদক্ষ সাংবাদিকদের উপস্থাপিত সংবাদের সত্যতা এবং গুণগত মান যাচাই করা ছাড়াই প্রকাশ করা হচ্ছে পত্রিকাতে। যার ফলে সাংবাদিকতার প্রতি জনসাধারণের আস্থা ও ভালোবাসা ক্রমান্বয়ে হ্রাস পাচ্ছে।
বর্তমানে অনুনোমোদিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল লাগামহীন ভাবে বেড়ে যাওয়ায় পত্রিকা থেকে বিতাড়িত অপসাংবাদিকরা ফায়দা লুটে সেখান থেকেই। তারা সর্বদা উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে ভিত্তিহীন সংবাদ পরিবেশনায় ব্যস্ত থাকে। তম্মধ্যে এক শ্রেণীর অপসাংবাদিকরা অনৈতকতা চর্চার অনন্য মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছে পৃথিবীর সর্ববৃহৎ সোশ্যাল নেটওয়ার্ক ‘ফেইসবুক’। যখন তখন রোমাঞ্চকর শিরোনাম এবং সম্পাদিত ছবি ব্যবহার করে তারা ফেইসবুকেই পরিবেশন করে মিথ্যা, বানোয়াট ও বিভ্রান্তিকর তথ্য। পুতুলকে লাশ বানিয়ে অপপ্রচার করতেও তারা দ্বিধাবোধ করে না। এ ক্ষেত্রে জনগণের অনুভূতিকে করায়ত্ত করতে কখনো কখনো তারা গ্রাফিক্সের মাধ্যমে তৈরী করা ভূয়া পরিচয় পত্রও প্রদর্শন করে।
আবার বর্তমানে তথ্য মন্ত্রণালয়ের নীতিমালার তোয়াক্কা করতে দেখা যাচ্ছে না কতেক বিলুপ্তপ্রায় পত্রিকার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের। বছরের পর বছর তাদের স্বপ্নে লালিত পত্রিকাটি মোটরসাইকেলের নেমপ্লেটে সীমাবদ্ধ থাকার পরও তারা সমুন্নত শিরে দাপিয়ে বেড়ায় সর্বত্র। বিলুপ্তপ্রায় পত্রিকার পরিচয় দিয়ে যখন তখন যেখানে সেখানে গিয়ে তথ্য হাসিলের নামে সাধারণ মানুষকে ব্ল্যাকমেইল করার ঘটনাও তাদের দ্বারা সংঘটিত হয়।
দুঃখজনক হলেও সত্য, চারিদিকে অপসাংবাদিকতার জয়জয়কার দেখেও আমাদের দেশের জাতীয় ও আঞ্চলিক পত্রিকার বিজ্ঞ সম্পাদকগণ নীরবতা পালন করছেন। অথচ জনগণের কাছে প্রকৃত সাংবাদিকদের মূল্যায়ন বাড়াতে অপসাংবাদিকদেরকে সমূলে প্রতিহত করার বিকল্প নেই। আমার মতে এ দায়িত্ব বহন করতে হবে স্বয়ং সম্পাদকদেরই। কারণ, তারা চাইলেই অপসাংবাদিকদের মূলোৎপাটন সম্ভব।

 

লেখক
বার্তা সম্পাদক
সাপ্তাহিক নকশী বার্তা

০১৮৪৬৫০৭৫৫১

 



এ সম্পর্কিত আরো খবর

কুমিল্লা এর অন্যান্য খবরসমূহ
ফিচার এর অন্যান্য খবরসমূহ
মতামত এর অন্যান্য খবরসমূহ