পদত্যাগপত্র গৃহীত হয়নি স্ব-পদে বহাল লাকসাম-মনোহরগঞ্জের সাবেক এমপি কর্ণেল আজীম - খবর তরঙ্গ
শিরোনাম :

পদত্যাগপত্র গৃহীত হয়নি স্ব-পদে বহাল লাকসাম-মনোহরগঞ্জের সাবেক এমপি কর্ণেল আজীম



মনির আহমেদ, (খবর তরঙ্গ ডটকম)

মান-অভিমানে দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ থেকে অব্যহতি চেয়ে দলের চেয়ারপারসন বরাবরে দেয়া সাবেক এমপি কর্ণেল আজিমের পদত্যাগপত্র গ্রহন করেনি বিএনপি। বৃহস্পতিবার কর্ণেল আজিমকে প্রেরন করা দলের সিনিয়র যুগ্ন-মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী সাক্ষরিত পত্রে এ তথ্য জানা যায়।

 

উল্লেখ্য ২০১৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে লাকসাম-মনোহরগঞ্জের ত্যাগী আর নির্যাতিত নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে দলের কয়েকটি অঙ্গসংগঠনের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে একই বছরের ৭ জুন ঢাকায় একটি সাংবাদিক সম্মেলন করে দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ থেকে অব্যাহতি চেয়ে দলের চেয়ারপারসন বরাবরে আবেদন করেন কর্ণেল আজিম। আবেদনের পরপরই তিনি চিকিৎসার উদ্যেশ্যে দেশের বাহিরে চলে যান। কর্ণেল আজিমের অভিমানের বিষয়টি তখন দলের অন্যান্য নেতাদের মাধ্যমে অবগত হয়ে দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া তাৎক্ষনিক কর্ণেল আজিমকে গুলশানের নিজ কার্যালয়ে ডাকেন।

 

জানা যায়, কর্ণেল আজিম দেশের বাহিরে থাকায় বেগম জিয়ার ডাকে যথাসময়ে ঢাকায় ফিওে তাঁর সাথে সাক্ষাত করা সম্ভব হয়নি। এরমধ্যে বেগম জিয়ার লন্ডন সফর নিয়ে তোরজোড় শুরু হয়। বেগম জিয়া যেদিন লন্ডন সফরে ঢাকা ছাড়বেন সেদিনই দেশে ফেরেন কর্ণেল আজিম। ঢাকায় ফিরে কর্ণেল আজিম জানতে পারেন দলের চেয়ারপারসন তাকে গুলশান কার্যালয়ে ডেকেছেন, এমন খবরে তিনি দ্রুত গুলশান কার্যালয়ে ছুটে যান, কিন্তু এরমধ্যে বেগম জিয়া লন্ডনের উদ্যেশ্যে গুলশানের নিজ বাসভবন ‘ফিরোজা’ থেকে বিমান বন্দর পৌছে যান। কর্ণেল আজিম বেগম জিয়ার সাথে সাক্ষাত করতে তাৎক্ষনিক ছুটে যান বিমানবন্দরে। সর্বশেষ নানান জটিলতায় বেগম জিয়ার সাথে কর্ণেল আজিমের সাক্ষাত করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে বেগম জিয়ার দীর্ঘ সময় লন্ডন অবস্থান এবং দেশে আসার পর প্রহসনের বিচারে কারাঅন্তরিন হওয়ার কারনে কর্ণেল আজিমের দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ থেকে অব্যহতি চাওয়ার বিষয়টি নিস্পত্তি হয়নি।

 

বৃহস্পতিবার দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে তাঁর অব্যহতি চাওয়ার পত্রটি গ্রহন না করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয় দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। এর পরপরই দলের সিনিয়র যুগ্ন-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী কর্ণেল আজিমকে লেখা পত্রে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

 

চিঠিতে রিজভী উল্লেখ করেন, ‘ইতিপূর্বে আপনি (কর্ণেল আজিম) দলের সাংগঠনিক সম্পাদক পদ থেকে অব্যাহতি চেয়ে চেয়ারপারসন বরাবরে আবেদন করেছেন, আপনার ওই আবেদনটি গ্রহন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি।’ রিজভীর সাক্ষরিত ওই পত্রে ভবিষ্যতে কর্ণেল আজিমের নেতৃত্বে বিএনপি এগিয়ে যাবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

 

এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে কর্ণেল আজিমের সেলফোনে যোগাযোগ করলে তিনি এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘ওই সময়ে আমার নির্বাচনী এলাকা লাকসাম-মনোহরগঞ্জের ত্যাগী আর নির্যাতিত নেতাকর্মী যারা দলের পদপদবী থেকে বঞ্চিত হয়েছেন তাদেরকে বিএনপিতে ধরে রাখতে আমাকে এমন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। বিএনপি নেতাকর্মীরা ছাড়াও লাকসাম-মনোহরগঞ্জের আমজনতার ভালবাসা নিয়েই আমার দীর্ঘ ১৮ বছরের রাজনৈতিক পথচলা। তাদের মতামতকে আমি অবহেলা করতে পারিনি। দল আমার অব্যাহতি চাওয়ার পত্রটি গ্রহন না করার বিষয়টিকে স্বাগত জানাই। পাশাপাশী দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জননেতা তারেক রহমানসহ দলের অন্যান্য শীর্ষ নেতাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

 

লাকসাম-মনোহরগঞ্জের বিশাল জনগোষ্ঠিকে পাশে নিয়ে আগামী দিনগুলোতে বিএনপির পাশেই থাকবো। আমি আশা করবো ভবিষ্যতে বিএনপি লাকসাম-মনোহরগঞ্জের নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের জনগনের মতামত বা পছন্দ অপছন্দকে গুরুত্ব দিবেন। পাশাপাশী এ অঞ্চলের বিএনপি নেতাকর্মীদের দলের প্রতি অক্লান্ত শ্রমের যথাযথ মুল্যায়ন করবেন।

 

এদিকে কর্ণেল আজিম দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ থেকে অব্যাহতি চাওয়ার পত্রটি বিএনপি গ্রহন না করার খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন গনমাধ্যমে প্রকাশিত হলে লাকসাম- মনোহরগঞ্জের বিএনপি নেতাকর্মীদের মাঝে আনন্দ উচ্ছাস শুরু হয়। স্ব-উদ্যেগে অনেকে নিজেদের মাঝে মিষ্টি বিতরন করেন।


এ সম্পর্কিত আরো খবর

উপজেলা এর অন্যান্য খবরসমূহ
কুমিল্লা এর অন্যান্য খবরসমূহ
লাকসাম এর অন্যান্য খবরসমূহ