লাকসাম-মনোহরগঞ্জ আসনে নির্বাচনী ২ ডজন মনোনয়ন প্রত্যাশি ।। সর্বত্র জল্পনা কে পাচ্ছেন দলীয় নমীনেশন! - খবর তরঙ্গ
শিরোনাম :

লাকসাম-মনোহরগঞ্জ আসনে নির্বাচনী ২ ডজন মনোনয়ন প্রত্যাশি ।। সর্বত্র জল্পনা কে পাচ্ছেন দলীয় নমীনেশন!



মোহাম্মদ আহসান উল্লাহ, (খবর তরঙ্গ ডটকম)

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ডামাঢোল বেজে ওঠার পর থেকে সরগরম হয়ে উঠেছে লাকসাম ও মনোহরগঞ্জ নিয়ে গঠিত কুমিল্লা-৯ নির্বাচনী এলাকা। জোট-মহাজোটের মনোনয়ন প্রত্যাশিসহ স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ছবি সংবলিত পোষ্টার-ফেস্টুনে ছেয়ে আছে গুরুত্বপূর্ন সব অলি গলি। শাসক দল আওয়ামীলীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, ইসলামী আন্দোলন, ইসলামীক ফ্রন্ট ও স্বতন্ত্র সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজের অবস্থান জানান দিতে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মাঠ চড়ে বেড়াচ্ছেন। ভোটাদের দ্বারে দ্বারে পৌঁছানোর কৌশল হিসাবে দলীয় কর্মসুচির পাশা-পাশি স্থানীয় নানা সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানেও নিজেদের সম্পৃক্ত করছেন। প্রচারের কাজে ব্যবহার করছেন আধুনিক প্রযুক্তি মোবাইল ফোন, ট্যাব, এসএমএস ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম।

 

এ আসনের দু’উপজেলার জনসাধরণ হিসাব কষতে শুরু করেছে কোন প্রার্থী’র বিজয়ের হওয়ার সম্ভাবনা বেশী বা পাল্লা ভারি। যদিও কুমিল্লা-৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ) আসনটির বিশেষ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে- স্বাধীনতার পর থেকে অনুষ্ঠিত সব ক’টি নির্বাচনেই সংসদ সদস্য নির্বাচিতরা সরকার গঠন করেছে।

 

নির্বাচনের তফসিল ঘোষনার পর বিভিন্ন দল ও স্বতন্ত্র থেকে ২ডজন খানেক প্রত্যাশী মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করেছেন। এ নির্বাচনে কে পাচ্ছেন মনোনয়ন তা নিয়ে সর্বত্র জল্পনার শেষ নেই। ২টি উপজেলা নিয়ে গঠিত কুমিল্লা-৯ নির্বাচনী এলাকার লাকসাম উপজেলায় একটি পৌরসভাসহ ৮টি ইউনিয়ন এবং মনোহরগঞ্জ উপজেলায় ১১টি ইউনিয়ন বিদ্যমান। এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৬১ হাজার ৫শ’। এর মধ্যে ১ লাখ ৭৯ হাজার ৪শ’ নারী ভোটার রয়েছেন।

 

বর্তমানে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে কোন গ্রুপিং না থাকায় সুবিদাজনক অবস্থানে আছেন মোঃ তাজুল ইসলাম এমপি। তফসিল ঘোষনার পর আওয়ামী লীগ নেতা লায়ন মো. নুরুন্নবি ভূইয়া কামাল, আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উপ-কমিটির সদস্য দেলোয়ার হোসেন ফারুক, বায়রা সভাপতি শাহজালাল মজুমদার, লেখক-সাংবাদিক শিব্বির আহমেদ, অহিদুর রহমান, জোসাইস বাবর ও মোঃ শাহ আলম মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ এবং মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টিতে বিএনপি থেকে সদ্য যোগদানকারী সাবেক এমপি এটিএম আলমগীর, তরিকত ফেডারেশনের সৈয়দ রেজাউল হক চাঁদপুরী ও ইসলামীক ফ্রন্ট বাংলাদেশ কুমিল্লা জেলার সভাপতি ও লাকসাম ফেয়ার হেল্থ হাসপাতালের ভাইস চেয়ারম্যান মীর মোহাম্মদ আবু বাকার মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করে মহাজোটের প্রার্থী হওয়া চেষ্টায় অনেকটা ঝুকিতে পড়েছেন এমপি তাজুল ইসলাম।

 

তবে দলের ও মহাজোটের কয়েকজন মনোনয়ন প্রত্যাশি থাকলেও মাঠ পর্যায়ে তাদের কোন কর্মকান্ড নেই বললেই চলে। তৃণমূল নেতা-কর্মীরা মনে করেন এত কিছুর পরও বর্তমানে তাজুল ইসলামের নেতৃত্বে লাকসাম-মনোহরগঞ্জে ব্যাপক উন্নয়ন ও তিনি তিনবারের এমপি হওয়ায় সকল ঝলপনা কল্পনা অবসান ঘটিয়ে তিনি দলীয়/মহাজোটের টিকেট পাবেন।

 

অপরদিকে, এ আসনটি অতিতে বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিতি থাকলেও বর্তমানে প্রকাশ্যে গ্রুপিং, দ্বন্দ্ব ও কোন্দলে জড়িয়েছেন বিএনপি নেতারা। কেন্দ্রীয় বিএনপির দু’নেতা কর্নেল (অবঃ) আনোয়ারুল আজিম ও মোঃ আবুল কালাম মধ্যে নেতৃত্বের দ্বন্দ্বে হতাশা গ্রস্থ তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা। দীর্ঘদিন দলীয় কর্মসূচি নেই বললেই চলে যা দু’একটি কর্মসুচি পালন করে তাও তাদের নিজেদের গন্ডির ভেতর। দু’উপজেলার অধিকাংশ নেতা-কর্মীর মনে করেন বিএনপিকে “নিশ্চিত” এই আসনটি নিজেদের দখলে নিতে হলে ওই দু’নেতা ঐক্য হয়ে একজনকে সমর্থন দিয়ে নির্বাচনী মাঠে কাজ করতে হবে। আর তা না হলে গত ২০০৮ইং সালের নির্বাচনের মত পরিনিতি ভোগ করতে হবে দলটিকে। সেই নির্বাচনে আবুল কালাম দলীয় মনোয়ন না পাওয়ায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী’র পক্ষে সরাসরি কাজ করার অভিযোগ ওঠে। তৎকালীন সময়ে কর্নেল (অবঃ) আনোয়ারুল আজিমও তার পরাজয়ের কারণ হিসাবে আবুল কালামকে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পক্ষে ভোট কেনার অভিযোগ করেছিলেন।

 

এ আসনে কেন্দ্রীয় বিএনপির কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সাবেক এমপি কর্নেল (অব.) এম আনোয়ারুল আজিম, কেন্দ্রীয় বিএনপির শিল্প বিষয়ক সম্পাদক ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কালাম, কেন্দ্রীয় যুবদলের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক ড. রশিদ আহমেদ হোসাইনী ও সফিকুর রহমান সফিক এত দিন নির্বাচনী আলোচনায় থাকলেও বিএনপি’র গুম হওয়া দুইনেতা লাকসাম উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি সাইফুল ইসলাম হিরু’র একমাত্র ছেলে রাফসান ইসলাম ও হুমায়ুন কবির পারভেজ এর পত্নী শাহনাজ আকতার রানু মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করায় বিভিন্ন সমিকরণ শুরু করেছেন আজিম-কালামের অনুসারীরা।

 

এদিকে, গত বৃহস্পতিবার দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে সাবেক এমপি কর্নেল (অব.) এম. আনোয়ারুল আজিমের অব্যহতি চাওয়ার বিষয়টি সিনিয়র যুগ্ন-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী’র স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতেও পুরোপুরি পরিস্কার হয়। চিঠিতে রিজভী উল্লেখ করেন, ‘ইতিপূর্বে আপনি (কর্ণেল আজিম) দলের সাংগঠনিক সম্পাদক পদ থেকে অব্যাহতি চেয়ে চেয়ারপারসন বরাবরে আবেদন করেছেন, আপনার ওই আবেদনটি গ্রহন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি।’ রিজভী স্বাক্ষরিত ওই পত্রে ভবিষ্যতে কর্ণেল আজিমের নেতৃত্বে বিএনপি এগিয়ে যাবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

 

কেন্দ্রীয় এ ২ নেতার রেষারেষিতে টালমাটাল বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলের সুযোগে আসন্ন নির্বাচনেও আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হিসাবে টানা ৫ম বারের মতো যদি দলীয় টিকেট পেলে তিনবারের সংসদ সদস্য, লাকসাম উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. তাজুল ইসলামের জয়ের পথ অনেকটাই নিশ্চিত বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এছাড়া কুমিল্লা-৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ) আসনে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর পূর্ন সমর্থনে স্বতন্ত্র প্রার্থী এ.এফ.এম সোলায়মান চৌধুরীর, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে কেন্দ্রীয় কমিটি সদস্য আলহাজ সেলিম মাহমুদ।

 

তবে দলীয় নেতা-কর্মীসহ সাধারণ ভোটারদের মাঝে এ আসনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট এবং বিএনপি নেতৃত্বাধীন ঐক্যফ্রন্টের নমীনেশন কার হাতে যাচ্ছে তা নিয়ে সর্বত্র ঝলপনা আর আলোচনা চলছে। কারণ প্রার্থীর বিষয়টিও জয়-পরাজয়ে প্রভাব ফেলবে বলে ভোটারদের ধারণা।



এ সম্পর্কিত আরো খবর

কুমিল্লা এর অন্যান্য খবরসমূহ
মনোহরগঞ্জ এর অন্যান্য খবরসমূহ
রাজনীতি এর অন্যান্য খবরসমূহ
লাকসাম এর অন্যান্য খবরসমূহ