মনোনয়নপত্র যাচাই বাছাইয়ের সময় কুমিল্লার ডিসিকে মির্জা ফখরুলের ফোন! - খবর তরঙ্গ
শিরোনাম :

মনোনয়নপত্র যাচাই বাছাইয়ের সময় কুমিল্লার ডিসিকে মির্জা ফখরুলের ফোন!



অনলাইন ডেস্ক, (খবর তরঙ্গ ডটকম)

কুমিল্লা-১০ (সদর দক্ষিণ-লালমাই-নাঙ্গলকোট) আসনের মনোনয়নপত্র যাচাই বাছাইয়ের সময় বিএনপি প্রার্থীদের মনোনয়ন পত্রে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের স্বাক্ষর ভিন্ন ভিন্ন পরিলক্ষিত হলে কিছুটা ধূম্রজালের সৃষ্টি হয়।

ফলে মনিরুল হক চেবৗধুরী, মীর আবু জাফর শামসুদ্দিন (শামসুদ্দিন দিদার) ও মো: মোবাশ্বের আলম ভূইয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত স্থগিত করেন রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক আবুল ফজল মীর।

এসময় বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরা জেলা রিটার্নিং অফিসারকে তাদের মনোনয়ন পত্রে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের স্বাক্ষর সঠিক বলে দাবি করেন এবং মনোনয়নপত্র
বৈধ ঘোষণার দাবি জানান।

তাদের দাবির প্রেক্ষিতে রিটার্নিং কর্মকর্তা আবুল ফজল মীর সত্যতা যাচাইয়ের পর সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বললে প্রার্থীরা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সাথে ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি প্রধান রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসকের সাথে ফোনে কথা বলেন এবং স্বাক্ষরগুলো তাঁর বলে জানান।

পরে তাদের মনোনয়নপত্র বৈধ বলে ঘোষণা করা হয়। তবে এ আসনে বিএনপির অপর প্রার্থী গফুর ভূঁইয়ার মনোনয়নপত্র ঋণখেলাপির অভিযোগে বাতিল করা হয়।

রিটার্নিং কর্মকর্তার সাথে মঞ্জুরুল মুন্সীর বাহাস
কুমিল্লায় প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাছাই বাছাইকালে রিটার্নিং কর্মকর্তার সাথে বাহাস হয়েছে দেবীদ্বার আসনের সাবেক এমপি ও বিএনপির প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর বাহাস হয়েছে।

জানা গেছে, কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সির মনোনয়নপত্র যাছাইয়ের সময় ঋণ খেলাপির অভিযোগে তার মনোনয়নপত্র বাতিলের উদ্যোগ নেয়া হয়।

এসময় রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক আবুল ফজল মীর ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার সাথে বাহাসে জড়িয়ে পড়েন মঞ্জুরুল আহসান মুন্সি, তার ছেলে ব্যারিষ্টার রেজভিউল আহসান। পরে তারা রিটার্নিং অফিসারকে হাইকোর্টের এক আদেশ দেখান।

এসময় ১২টা ২ মিনিট থেকে ১২টা ১০ মিনিট পর্যন্ত তাদের মধ্যে যুক্তিতর্ক হয়। এরপর রিটার্নিং অফিসার প্রতিনিধি ও মঞ্জুরুল আহসানের প্রতিনিধিদের মধ্যে বিষয়টি পর্যালোচনা করতে আলাদা কক্ষে পাঠানো হয়।

ওই কক্ষ থেকে ১২টা ২৪ মিনিটে ফিরে তারা আবার বাকবিতান্ডায় জড়িয়ে পড়েন। ১২টা ৩৫ মিনিটে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার আবুল ফজল মীর বিষয়টি প্যান্ডিং করে পর্যালোচনার পর বিকেলে জানানো হবে বলে জানান।

বাকবিতান্ডার সময় মঞ্জুরুল আহসান মুন্সি তার ছেলে রেজভিউল আহসান ও সমর্থকরা বলেন, ‘আপনি ডিসি, আপনাকে হাইকোর্টের অর্ডার মানতে হবে। না হয় আপনাকে বলতে হবে আপনি হাইকোর্টের অর্ডার মানেন না।

এসময় মঞ্জুরুল আহসান মুন্সি বলেন, “আপনার জন্য এতোগুলো ফাইল বানিয়ে আনছি। যেন যেখানেই ধরেন সেখানেই উত্তর দিতে পারি। তিনি আরো বলেন, আমি ৪ বার নির্বাচন করেছি এই প্রথম রিটার্নিং অফিসার নির্বাচন কর্মকর্তা হাইকোর্টের অর্ডার মানেন না দেখছি।”

মঞ্জুরুল আহসান মুন্সির ছেলে রেজভিউল আহসান ব্যাংক কর্মকর্তাদের সাথে এসময় তর্কে জড়িয়ে পড়েন এবং বলেন “আইএম বার এট ল” আমাকে আইন শেখাতে আসবেন না। আপনারা আইন জানেন না তাই এমন অভিযোগ করছেন। ব্যাংক কর্মকর্তা ও ব্যাংক আইনজীবীরা বলেন, আপনি আইন শেখানোর কে?

জেলা প্রশাসক বলেন, আমরা আজ সকালে সিবিআই এর যে রিপোর্ট পেয়েছি সেখানে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সিকে ঋণ খেলাপি দেখানো হয়েছে। তবে তিনি হাইকোর্টের যে আদেশ এনেছেন তা পর্যালোচনা করে বিকেলে সিদ্ধান্ত দেয়া হবে। তবে শেষ পর্যন্ত মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর মনোনয়নপত্র বৈধ বলে গণ্য করা হয়।


এ সম্পর্কিত আরো খবর

কুমিল্লা এর অন্যান্য খবরসমূহ
নাঙ্গলকোট এর অন্যান্য খবরসমূহ
ভোটের হাওয়া এর অন্যান্য খবরসমূহ