নাঙ্গলকোটে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের পর গলা টিপে হত্যা - খবর তরঙ্গ
শিরোনাম :

নাঙ্গলকোটে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের পর গলা টিপে হত্যা



মো: কেফায়েত উল্লাহ মিয়াজী, (খবর তরঙ্গ ডটকম)


কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে দশম শ্রেণীর এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের পর গলা টিপে হত্যা করে লাশ ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যার প্রচারণা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে গত রোববার রাতে উপজেলার পেড়িয়া ইউনিয়নের উত্তর শাকতলী গ্রামে। ধর্ষণের শিকার শারমিন আক্তার (১৬) ওই গ্রামের রিক্সাচালক আমিনুল ইসলামের মেয়ে। শারমিন আক্তার পেড়িয়া মহিলা দাখিল মাদ্রাসার দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী। অভিযোগ উঠেছে একই গ্রামের কামাল হোসেনের ছেলে রাসেল হোসেনসহ অজ্ঞাত দুর্বৃত্তর শারমীনকে ধর্ষণের পর গলাটিপে হত্যা করে লাশ ফাঁসিয়ে ঝুঁলিয়ে রাখেন। শিক্ষার্থীকে হত্যার সময় তার মা-বাবা বাড়িতে ছিলেন না। পুলিশ লাশ উদ্ধারের পর ময়তদন্তের শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী নিহতের চাচী সুলতানা আক্তার বলেন, রোববার রাত প্রায় ১২টায় তার স্বামী মোস্তফা বাড়ি আসার পর শারমিনদের ঘরে কথা বলার আওয়াজ শুনা যায়। এসময় আমার স্বামী রাসেলের বাবা কামাল হোসেনকে তাদের বাড়ি থেকে শারমিনের বাড়িতে নিয়ে আসেন। কামাল হোসেন ঘরের দরজা ভেঙ্গে ঘরে ঢুকে রাসেল এবং শারমিনকে ঘরে দেখতে পান। পরে কামাল হোসেন ও তার ছোট ছেলে ফয়সাল রাসেলকে তাদের ঘরে নিয়ে মারধর করেন। ঘটনার পর ওই দিন রাতে রাসেলের ফুফু পারভিন, আকলিমা, বোন কামরুন নাহার শারমিনকে টানাটানি করে তাদের ঘরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। সোমবার সকালে শারমীনকে ঘরের ভুতুরের সাথে কাপড়ের রশি দিয়ে বাঁধা ঝুলন্ত অব¯’ায় পাওয়া যায়।

শারমিনের বাবা আমিনুল ইসলাম বলেন, অনেকের সাহায্য নিয়ে এবং রিক্সা চালিয়ে অনেক কষ্ট করে মেয়েটিকে পড়া লেখা করা”িছ। মেয়েটিকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন ছিল। আমি আমার মেয়ের হত্যাকারীদের বিচার চাই।

শারমিনের মা ছেনোয়ার বেগম বলেন, আমি এবং আমার স্বামী আমার বাপের বাড়ি লাকসাম উপজেলার মুদাফরগঞ্জ ইউনিয়নের পাশাপুরে আমার অসু¯’ বাবাকে দেখতে যাই। রাতে আমার মেয়ে এবং ছোট ছেলে সোহাগ ঘরে ছিল। সোমবার সকালে অভিযুক্তর বাবা মোবাইল ফোনে খবর দেয় শারমিনের দাদি মারা গেছে। কিš‘ বাড়িতে এসে দেখি মেয়েকে ফাঁসি দিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। আমার মেয়েকে রাসেল ও তার সঙ্গীয় অজ্ঞাত ব্যাক্তিরা ধর্ষণের পর গলা টিপে হত্যা করে। ঘাতকরা যে ওড়না দিয়ে তাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রাখে ওই ওড়নার উপরিভাবে ১৪টি গিট রয়েছে এবং বুকের উপর ১টি গিট রয়েছে। মেয়েকে যেখানে ঝুলন্ত অব¯’ায় পাওয়া যায় তার পাশে চেয়ার, সেলাই মেশিণ, কেচি, টুকরা কাপড়, কুপি বাতি এবং চেয়ার অক্ষত রয়েছে। মেয়ে ফাঁসি দিলে তার পাশে থাকা জিনিসপত্র এদিক-সেদিক পড়ে থাকতো। এছাড়া মেয়ের গলার নিচের দু‘পাশে ঘাতকদের আঙ্গুলের চিহৃ স্পষ্ট রয়েছে এবং তার গাড় ভেঙ্গে দেয়া হয়। আমি পুলিশকে বলেছি এটি আত্মহত্যা নয়। আমার মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে। আমি মেয়ে হত্যার সুষ্ঠ বিচার চাই।

শাকতলী গ্রামের গ্রাম্য সর্দার সায়েদুল হক বলেন, আমরা মেয়ের মা-বাবাকে বলেছি, তোমরা আইনগত এবং সামাজিকভাবে সালিশের মাধ্যমি বিষয়টির মিমাংসা করতে চাইলে আমরা তোমাদেরকে সব ধরণের সহযোগিতা করবো। গত সোমবার রাতে বিষয়টি নিয়ে সালিশ বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও সালিশ বৈঠক হয়নি। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত কামাল হোসেন, রাসেলসহ পরিবারের সবাই পলাতক রয়েছে।
এব্যাপারে শারমীনের বাবা আমিনুল ইসলাম থানায় অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেছেন। এ বিষয়ে গতকাল মঙ্গলবার নাঙ্গলকোট থানার ওসি (তদন্ত) আশ্রাফুল ইসলাম বলেন, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর

কুমিল্লা এর অন্যান্য খবরসমূহ
নাঙ্গলকোট এর অন্যান্য খবরসমূহ