চিতোষী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষককে ষড়যন্ত্রমুলকভাবে হয়রানির অভিযোগ - খবর তরঙ্গ
শিরোনাম :

চিতোষী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষককে ষড়যন্ত্রমুলকভাবে হয়রানির অভিযোগ



স্টাফ রিপোর্টার, (খবর তরঙ্গ ডটকম)


চাঁদপুর জেলার শাহরাস্তি উপজেলার চিতোষী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক ওমর ফারুককে ষড়যন্ত্রমুলকভাবে হয়রানির অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ জাহাঙ্গীর আলমের সাথে বিভিন্ন বিষয়ে দ্বন্দ্ব থাকায় তার ইন্ধনে এ ষড়যন্ত্র চলছে বলে ভূক্তভোগী শিক্ষকের স্ত্রী শারমিন আক্তার শান্তি অভিযোগ করেন।

অভিযোগকারী শারমিন আক্তার শান্তি জানান- প্রায় ২ বছর আগে আমার স্বামী মোঃ ওমর ফারুক চিতোষী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। পেশাগত ও প্রশাসনিক কাজে দক্ষতার কারণে তিনি ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকদের নিকট জনপ্রিয় হয়ে উঠেন। বিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের অনুরোধে ওমর ফারুক অবসর সময়ে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে প্রাইভেট পড়ান। প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলমের নিকট কোন শিক্ষার্থী প্রাইভেট না পড়ায় তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন।

ব্যক্তিগত সততা, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার কারণে বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদ তাকে বিদ্যালয়ের আভ্যন্তরীন হিসাব-নিকাশের দায়িত্ব দেন। এতে তিনি আরো ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন। তিনি অত্যন্ত সুকৌশলে সহকারি শিক্ষক ওমর ফারুককে অন্যত্র বদলির চেষ্টা করেন। এতে তিনি ব্যর্থ হয়ে নতুন করে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন। ওই ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম এর ইন্ধনে বিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানির মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ এনে ছাত্রীর পিতা আনোয়ার হোসেনকে ম্যানেজ করে থানায় মামলা করেন। এরই সূত্র ধরে পুলিশ গত বুধবার আমার নিরপরাধ স্বামীকে থানায় নিয়ে যায়। পরবর্তীতে আদালতের মাধ্যমে তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়।

নিরপরাধ শিক্ষক ওমর ফারুককে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগে গ্রেফতারের ঘটনায় এলাকায় নিন্দার ঝড় বয়ে যাচ্ছে। শাহরাস্তি উপজেলা ও চাঁদপুর জেলা সরকারি প্রাথমিক শিক্ষক নেতৃবৃন্দ এ ঘটনাকে পরিকল্পিত ও সাজানো আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তারা অনতিবিলম্বে নিরপরাধ শিক্ষক ওমর ফারুকের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন।

চিতোষী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক ওমর ফারুকের স্ত্রী শারমিন আক্তার শান্তি বলেন- প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম ব্যক্তিস্বার্থ হাসিল এবং ওমর ফারুককে সমাজে হেয় করতে একের পর এক ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছেন। আমার স্বামী কেমন তা আমার থেকে আর কেউ বেশী জানার কথা নয়। যে ছাত্রীর বিষয়ে এবং ঘটনার দিনক্ষণ বিষয়ে অভিযোগ করা হচ্ছে ওইদিন ওই ছাত্রীটি স্কুলেই আসেনি। অন্যান্য শিক্ষার্থীরাও এ বিষয়ে কিছুই জানেনা। তিনি বলেন- ইনশাআল্লাহ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আমার নিরপরাধ স্বামীকে কারাগার থেকে মুক্ত করে প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলমের মুখোশ উন্মোচন করবো।

অভিযোগ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ জাহাঙ্গীর আলমের মোবাইলে একাধিকবার ফোন করা হলেও ফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।



এ সম্পর্কিত আরো খবর

কুমিল্লা এর অন্যান্য খবরসমূহ
চাঁদপুর এর অন্যান্য খবরসমূহ