নাঙ্গলকোটে আদালতে দেনমোহর ও সাইবার আইনে মামলা করায় বাদি ও পরিবারের সদস্যরা ভুগছে নিরাপত্তাহীনতায় - খবর তরঙ্গ
শিরোনাম :

নাঙ্গলকোটে আদালতে দেনমোহর ও সাইবার আইনে মামলা করায় বাদি ও পরিবারের সদস্যরা ভুগছে নিরাপত্তাহীনতায়



কেফায়েত উল্লাহ মিয়াজী, (খবর তরঙ্গ ডটকম)

নাঙ্গলকোটে স্ত্রীর অশ্লীল ছবি ফেস বুকের বিভিন্ন আইডিতে ছড়িয়ে দেয়ায় প্রবাসী স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রী ফারজানার পিতা বজলুর রহমান সাইবার ট্রাইবুনাল আদালত ঢাকায় মামলা দায়ের এবং স্বামীর বিরুদ্ধে আদালতে দেনমোহরের মামলা করায় বিবাদিরা বাদি ও তার পরিবারের লোকজনকে হত্যার হুমকি দেয়ায় মামলার বাদির পরিবারের লোকজন জীবনের নিরাপত্তহীনতায় ভুগছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

মামলা ও স্থানীয় এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, নাঙ্গলকোট উপজেলার মক্রবপুর ইউপির মক্রবপুর গ্রামের বজলুর রহমানের মেয়ে ফারজানা আক্তারের সাথে একই গ্রামের মোহাম্মদ আবদুল হালিমের ছেলে বাহরাইন প্রবাসী মোহাম্মদ হাছান রুবেলের গত প্রায় দেড় বছর পূর্বে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বিয়ে হয়। পরে মোহাম্মদ হাছান রুবেল প্রবাস থেকে আসার পর গত বছরের ২০জুন কাবিন রেজিষ্ট্রির মাধ্যমে ফারাজানার সাথে রুবেলের আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে হয়।

বিয়ের পর থেকে ফারজানার স্বামী মোহাম্মদ হাছার রুবেল তাকে যৌতুকের জন্য শারীরিক নির্যাতন করে পিত্রালয়ে পাঠিয়ে দেয়।

গত বছরের ১২ অক্টোবর ফারজানার স্বামী মোহাম্মদ হাছান রুবেল আবার বাহরাইন চলে যায়। এদিকে, ফারজানা তার শ্বশুর বাড়ি থেকে নগদ ৭লাখ টাকা, সাড়ে ৬ ভরি স্বর্ণালংকার ও একটি মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যাবার অভিযোগ এনে ফারজানার শ্বাশুড়ি শামছুন্নাহার বেগম ফারজানার পিতা, মাতা ও ভাইয়ের বিরুদ্ধে গত ২৬ ফেব্রুয়ারী কুমিল্লার বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যজিষ্ট্রেট সিআরপিসি ২নং আদালতে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেন। পরে আদালত মামলাটি খারিজ করে দেন।

অপরদিকে ফারজানা আক্তার তার স্বামী মোহাম্মদ হাছান রুবেলের বিরুদ্ধে দেনমোহর ও বিয়ের পর থেকে যৌতুকের জন্য শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ এনে কুমিল্লার নাঙ্গলকোট সহকারি জজ ও পারিবারিক আদালতে গত ২৪ মার্চ একটি মামলা দায়ের করেন। ফারজানা গত ১৮ এফ্রিল তার স্বামীকে ডিভোর্স লেটার প্রেরণ করেন। ফারজানার স্বামী রুবেল বাহারাইনে গিয়ে পারজানা আক্তার আরমির মেয়ে, ফারজানা আক্তার, কষ্টেভরা জীবন, নীল আকাশ, ভালোবাসি তোমায় নামক বিভিন্ন ফেস বুক আইডি খুলে ফারজানার অশ্লীল ছবি আপলোড করে ছড়িয়ে দেন।

এব্যাপারে ফারজানার পিতা বজলুর রহমান গত ২৬ জুন নাঙ্গলকোট থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেন। যার নম্বর-৬৭১। পরে এনিয়ে ফারজানার পিতা সাইবার ট্রাইবুনাল আদালত ঢাকায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে সাবেক স্বামী হাছান রুবেল, শ্বশুর আবদুল হালিম, শ্বাশুড়ি শামছুন নাহার এবং মক্রবপুর গ্রামের জাকের হোসেন নামে মামলা দায়ের করেন। মামলায় গত ২৮ মে থেকে ২৮ জুন পর্যন্ত ৫বার পারজানা আক্তার আরমির মেয়ে নামকসহ বিভিন্ন ফেস বুক আইডিতে ফারজানার অশ্লীল ছবি আপলোডের কথা উল্লেখ করা হয়। রুবেল ফেস বুকের ইমো আইডি খুলে তার নিকট ধারণকৃত ফারজানার অশ্লীল ছবি আপলোড ও বয়েজ রেকর্ড পোষ্ট, শেয়ার ও ইমো আইডির মাধ্যমে ম্যাসেজ দিয়ে সামাজিকভাবে ছড়িয়ে দেয়। যার কারণে ফারাজানার পরিবার সামাজিকভাবে অপমান, অপদস্ত, মানহানিসহ চরম ক্ষতির সম্মুক্ষিন হয়।

এদিকে, ফারজানার পিতা বজলুর রহমান সাইবার ট্রাইবুনাল আদালত ঢাকায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়েরের পর ফারজানার সাবেক স্বামী রুবেলসহ তার পরিবার ফারজানার পরিবারকে হত্যার হুমকি-ধমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন।

এছাড়া গত রবিবার (২১ জুলাই) দিবাগত রাতে রুবেলের বাড়িতে ডাকাতির অভিযোগ এনে ফারজানার পরিবারকে অভিযুক্ত করে হয়রানি করছে বলেও ফারজানার পিতা বজলুর রহমান জানান। ফারজানার অশ্লীল ছবি ফেস বুকে আপলোডের ঘটনাটিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য ফারজানার স্বামী রুবেল বাহরাইন থেকে ফেস বুকের মাধ্যমে আত্মহত্যার হুমকি প্রদান করে। রুবেলের মাতা শামছুন্নাহার সাংবাদিকদের বলেন, ডাকাতির ঘটনাটি সমাধা হয়ে গেছে।

এব্যাপারে মক্রবপুর গ্রামের সমাজপতি রবি বলেন, রুবেল বিয়ে করেছে জানতে পারি। রুবেলের পিতা প্রথমে মামলা করেছে।

এর কিছুদিন পর ফারজানার পিতাও পাল্টা মামলা করে। তারা আমাদের কথা শুনে না। ফারজানার পিতা বজলুর রহমানসহ তার পরিবার জীবনের নিরাপত্তায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।


কুমিল্লা এর অন্যান্য খবরসমূহ
নাঙ্গলকোট এর অন্যান্য খবরসমূহ