লাকসামে বিদ্যালয় মাঠে কোরবানী পশুর হাট পাঠদান ব্যাহত - খবর তরঙ্গ
শিরোনাম :

লাকসামে বিদ্যালয় মাঠে কোরবানী পশুর হাট পাঠদান ব্যাহত



মোহাম্মদ আবদুর রহিম, (খবর তরঙ্গ ডটকম)


কুমিল্লার লাকসামে ৯টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠে প্রতিবছরের মত এবারও ক্লাস চলাকালীন সময়ে কোরবানি গরু-ছাগলের হাট বসানোর প্রস্তুতি চলছে। এতে পাঠদান ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। বিদ্যালয় মাঠে গরু-ছাগলের হাট বসানোর পরিকল্পনা করায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।


পড়াশুনার স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে বিদ্যালয়ের মাঠে গরু-ছাগলের হাট না বসানোর জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ভুক্তভোগীরা। প্রত্যেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকরা বলেন উপজেলা প্রশাসন ও বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সাথে আলোচনা করে প্রত্যেক বছরেই মাঠে গরু-ছাগলের হাট বসানো হয়।


সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার নাড়িদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নরপাটি বহুমুখি, আজগরা স্কুল এন্ড কলেজ, গোবিন্দপুর ইউনিয়ন, রাজাপুর, শহীদ আবুল খায়ের, ইছাপুরা সেন্ট্রাল হাইস্কুল, অশ্বদিয়া, উত্তরদা উচ্চ বিদ্যালয় ও ফুলগাঁও ফাজিল মাদ্রাসা মাঠে কোরবানীর হাট বসানোর প্রস্তুতি প্রায় সম্পুর্ন হয়েছে।


এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশে স্থানীয় প্রভাবশালীরা ছোট বড় বাজারের নামে পশুর হাট বসানোর নাম করে ইজারা নিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পুরো মাঠ জুড়ে হাট বসানো হয়। দেখা যায় প্রত্যেক বিদ্যালয় মাঠ জুড়ে বাঁশের খুটি দিয়ে সাজিয়ে রেখেছে ইজারাদাররা। এরমধ্যে চলছে বিদ্যালয় ছাত্র-ছাত্রীদের পাঠদান।

বিরতির সময় ছাত্র-ছাত্রীরা ক্লাসরুম থেকে মাঠে ছুটাছুটি করতে গিয়ে বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে। বিদ্যালয় মাঠে গরু-ছাগলের হাট বসায় ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে হাজার হাজার শিক্ষার্থীকে। হাটের দিন ওই বিদ্যালয়ের ক্লাস চলাকালীন সময়ে ধুলাবালি, গরু ছাগলের মলমূত্র, ক্রেতা-বিক্রেতাদের হৈ চৈ এর কারনে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ মারাত্মক ভাবে ব্যাহত হচ্ছে।


নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, বিদ্যালয়ে যেখানে জ্ঞানের আলো ছাড়ানো হয় সেখানে গরু-ছাগলের হাট বসিয়ে শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হওয়ার সাথে সাথে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়তে হচ্ছে।
ভুক্তভোগী একটি বিদ্যালয়ের শিক্ষক বলেন, বিদ্যালয় মাঠে গো-চনার গন্ধে হাটের পরের দিন ক্লাস নিতে সমস্যা হয়। বিশেষ করে এ হাটের কারণে শিক্ষার্থীরা স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যদি এ ভাবে গরু-ছাগলের হাট বসিয়ে শিক্ষাদানে ব্যাঘাত সৃষ্টি করা দুঃখজনক। তিনি আরও বলেন প্রশাসন কি ভাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোরবানির হাট বসানোর ইজারা দেয় তা আমাদের বোধগম্য নয়।


ফুলগাঁও ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাও. মোঃ ইয়াছিন মজুমদার বলেন, মাদ্রাসা মাঠে কোরবানী পশুরহাট আমি যোগদানের আগে থেকে বসে। পশুরহাটের আয় সাদ্রাসা সংলগ্ন মসজিদের তহবিলে জমা হয়। তবে হাট বসানোর ফলে পাঠদান ব্যাহত হয়।


উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ.কে.এম সাইফুল আলম বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। প্রত্যেক ইউনিয়ন থেকে যে প্রস্তাব এসেছে সেগুলো যাচাই বাছাই করে ২১টি স্থানে অস্থায়ী পশুর হাট অনুমোদন দেয়া হয়েছে। সেখানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোন নাম নাই। স্থানীয় বাজারের নামে ইজারা দেওয়া হয়েছে। বিদ্যালয়ের মাঠে যদি গরু-ছাগলের হাট বসানো হয়ে থাকে তাহলে দেখে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর

কুমিল্লা এর অন্যান্য খবরসমূহ
লাকসাম এর অন্যান্য খবরসমূহ