লাকসাম দৌলতগঞ্জ রেলষ্টেশন মাষ্টার ঘুমায় বাসায়, পোটার ঘুমায় মাষ্টারের টেবিলে - খবর তরঙ্গ
শিরোনাম :

লাকসাম দৌলতগঞ্জ রেলষ্টেশন মাষ্টার ঘুমায় বাসায়, পোটার ঘুমায় মাষ্টারের টেবিলে



এম.এ মান্নান,, (খবর তরঙ্গ ডটকম)

লাকসাম দৌলতগঞ্জ রেলষ্টেশন মাষ্টারের দপ্তরে টেবিলে ঘুমাচ্ছেন ষ্টেশনের পোটার। টিকেট নিতে আসা অপেক্ষমান যাত্রীরা পড়ছে বিরম্বনায়। তার ঘুম না ভাঙ্গায় গেইটম্যান সাজ্জাদকে ডেকে দেয়ার অনুরোধ জানায় যাত্রীরা। তিনি সাফ জানিয়ে দেন তিনি ঘুমাচ্ছেন তাকে ডাকা যাবে না।



গত সোমবার বিকাল ৩টার দিকে লাকসাম দৌলতগঞ্জ রেলষ্টেশন এ দৃশ্য দেখা যায়। কয়েক ঘন্টার মধ্যে ওই পোটারের ঘুমিয়ে পড়া কয়েকটি ছবি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। যাত্রীদের অভিযোগ এ ষ্টেশনে সবসময় অনিয়ম, দূর্নীতির চলে আসছে। এমনকি টিকেট কাটার সময় বাড়তি টাকা নেয়ার অভিযোগও পাওয়া যায়। ষ্টেশন মাষ্টার সাহেবকে কখনই আমরা তার কর্মস্থলে দেখতে পাই না। এ ষ্টেশনের অবসরপ্রাপ্ত পোটার সেলিম মিয়ার দায়িত্বেই ষ্টেশনটি পরিচালিত হচ্ছে বলে আমরা দীর্ঘদিন থেকে দেখে আসছি।


জানা যায়, লাকসাম-নোয়াখালী রেলপথে দৌলতগঞ্জ রেলষ্টেশনের মাষ্টার আবদুল মান্নান ২০০৭ সালে দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে কর্মস্থলে নিয়মিত দায়িত্ব পালন না করে তার অবর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত ষ্টেশন পোটার সেলিম মিয়া দায়িত্ব পালন করে আসছে। গত সোমবার সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, দুপুরের সময় ষ্টেশন মাষ্টারের রুমে অবসরপ্রাপ্ত ষ্টেশন পোটার খালি গায়ে টেবিলের উপরে থাকা ফাইলপত্র মাথার নীচ দিয়ে পা এলিয়ে নাক ডেকে ঘুমাচ্ছেন আর বাইরে যাত্রীরা টিকেটের জন্য অপেক্ষা করছেন। অপরদিকে ৩নং গেইটম্যান গেইটঘর থাকা স্বত্তেও দায়িত্ব পালন করছে ষ্টেশনে। ওইদিন নোয়াখালী থেকে ছেড়ে আসা কুমিল্লাগামী কমিউটার ডেম্যু ট্রেনটি আসতে দেখে দৌড়ে গিয়ে সিগন্যাল দেন ৩নং গেইটম্যান শাহাদাত হোসেন। এ দৃশ্য দেখে কথা হয় শাহাদাতের সাথে তিনি বলেন, মাষ্টার সাহেব না থাকার কারনে আমাকে ষ্টেশনে থাকতে বলেন। সবসময় এ ভাবেই দৌড়ে গিয়ে সিগন্যাল ফেলতে হয়। আর ষ্টেশনের সব দায়িত্ব সেলিম ভাই দেখেন।


কথা হয় পোটার সেলিম মিয়ার সাথে, তিনি বলেন কয়েক বছর আগেই সরকারি চাকুরী থেকে অবসর নেই। দৌলতগঞ্জ ষ্টেশনে লোকবল না থাকায় মাষ্টার স্যার আমাকে দায়িত্ব দেন। ষ্টেশন মাষ্টারের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মাসের মধ্যে ২/৩ দিন আসেন। এমনকি টিকেট কাউন্টারের দায়িত্ব আমি নিজেই পালন করি। আজ শরীরটা খারাপ থাকায় একটু ঘুমিয়ে পড়ি।


মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করার পর এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাষ্টার আবদুল মান্নান বলেন, আমি ঘুমে ছিলাম সে জন্য ফোনটা ধরতে পারি নাই। আমার দায়িত্ব বেশি, মাঝে মধ্যে ২/৩টি ষ্টেশনে তদারকি করার কারণে ঠিকমত থাকতে পারি না। লোকবল কম থাকার কারনে তাদেরকে দায়িত্ব দিয়েছি। ষ্টেশনের অনিয়মের বিষয় জানতে চাইলে তিনি এড়িয়ে যান।


এ সম্পর্কিত আরো খবর

কুমিল্লা এর অন্যান্য খবরসমূহ
লাকসাম এর অন্যান্য খবরসমূহ