বিজরা বাজারে প্রতিনিয়ত যানজট সড়কে ও ফুটপাত হকারদের দখলে - খবর তরঙ্গ
শিরোনাম :
স্থানীয় ও ব্যবসায়ীদের অভিযোগের তীর বাজার সেক্রেটারী ও ইজারাদার ব্যক্তিদের দিকে

বিজরা বাজারে প্রতিনিয়ত যানজট সড়কে ও ফুটপাত হকারদের দখলে



এম.এ মান্নান, (খবর তরঙ্গ ডটকম)

লাকসাম উপজেলার বিজরা বাজারে ফুটপাতগুলোতে বহুদিন ধরে হকারদের দখলে ফলে ক্রেতা সাধারনের চলাচল ও যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। লাকসাম, লালমাই, বরুড়া উপজেলা বড় ব্যবসায়ীদের পাইকারি ও খুচরা ব্যবসার কেন্দ্র হচ্ছে এ বাজারে। পণ্যপরিবহন ও পণ্যখালাসের জন্য কোন সুনির্দিষ্ট নিয়ম কানুন ও সময়স‚চী না থাকার কারণে পণ্যবাহী বড় বড় ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, বাজারে প্রবেশ করে পুরো রাস্তায় দখল করে রাখে। পণ্যখালাস করে ওই সকল যানবাহন স্থান ত্যাগ না করা পর্যন্ত দীর্ঘসময় ধরে সৃষ্টি হয় যানজট। অপরদিকে ওই সড়কে ৩টি যাত্রীছাউনী ও পাবলিক টয়লেট থাকলেও তা ব্যবসায়ীদের কবলে।


ব্যবসায়িদের অভিযোগ বাজার নিয়ন্ত্রন কমিটির লোকজন নিজেরাই মেইন সড়ক ও বাজারের অলি-গলিতে দোকান বসিয়ে প্রতি মাসে হাতিয়ে নিচ্ছে হাজার হাজার টাকা। আমরা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, টাকা দিয়ে বসেছি; প্রতিমাসে ভাড়া হিসাবে টাকা নেয় তারা। আমাদের ক্ষতি না করে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যাক্তিরা যে, সরকারি জায়গায় অবৈধ ভাবে ভবন নির্মাণ করে বাড়ী, মার্কেট গড়ে তুলেছে। এমনকি শত বছরের পুরনো ভাকসাউর খালটি দখল-দূষনের কারণে তার অস্তিত্ব হারিয়ে গেছে। তাদেরকে উচ্ছেদ করলে এ বাজারের নিয়ম শৃঙ্খলা ফিরে আসবে জনসাধারনও খুশি হব। ব্যবসায়িদের সকল অভিযোগের তীর বাজার সেক্রেটারী ও ইজারাদার ব্যক্তিদের দিকে।



স্থানীয়দের অভিযোগ, ফুটপাত পথচারীদের চলাচলের জন্য হলেও এখানে সেই নিয়মের বালাই নেই। সড়কের মোড়ে রাস্তার ওপর বিভিন্ন যানবাহন দাড় করিয়ে চাঁদা আদায় করে একপক্ষ। আরেক পক্ষ চেক করে গাড়িতে টোকেন (চাঁদা আদায়ের দলিল) আছে কি না।


দীর্ঘদিন ধরে এই সড়ক ও ফুটপাতে এমন নৈরাজ্য চলছে। কিন্তু তার পরও প্রশাসন নীরব। নাম প্রকাশ না করে কয়েকজন ব্যবসায়ী বললেন, ‘কিছু পেতে হলে কিছু দিতে হয়। তাই আমরা ম্যানেজ করেই দোকান করছি। বাজার পরিচালনার দায়িত্বে যারা রয়েছে তারা নিজেরাই ফুটপাত দখল করে প্রতিদিন উৎকোচ নিচ্ছেন।



সরজমিনে ঘুরে জানা যায়, কুমিল্লা- চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের উপজেলা বিজরা বাজারে যানজট, ফুটপাত দখল ও যত্রতত্র গাড়ি এবং সিএনজি-অটোরিক্সা পার্কিংয়ে দ‚র্বিসহ হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক জনজীবন। বাজারের পরিধি সময়ের সাথে সাথে হু হু করে বাড়ছে, পণ্য পরিবহন, ব্যবসায়ী কার্যক্রম, ক্রেতা-বিক্রেতা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। এ বাজারের ফুটপাত তো বটেই, অনেক স্থানে সড়কও অস্তিত্বহীন। আর তাই পথচারীসহ স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রীরা ফুটপাত দিয়ে হেঁটে যাতায়াত না করতে পারায় প্রধান সড়কে নেমে আসছেন। অবৈধ পাকিং আর বেপরোয়া গাড়ি চালানোর ফলে প্রতিনিয়ত ঘটছে দূঘর্টনা। বিজরা বাজারের পাশে ২টি স্কুল, ১টি মাদ্রাসা,১টি কলেজ, ৩টি কিন্ডার গার্টেন। সব মিলিয়ে ৪ থেকে ৫ হাজার শিক্ষার্থীসহ প্রায় ১০ হাজার জনসাধারনের সমাগম এ বাজারে। ফুটপাত অস্থায়ী ব্যবসায়ীদের দখলে থাকায় এবং রাস্তার উপরে সিএনজি অটো রিক্সা, অবৈধ ব্যাটারী চালিত রিক্সা, ভটবটি ও ছোট মিনি বাসের স্থায়ী ষ্ট্যান্ড না থাকায় মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে শিক্ষার্থীসহ সাধারন পথচারী। এছাড়া দূরপাল্লা বাসগুলো রাস্তার মধ্যখানে থামিয়ে যাত্রী উঠানামা করাই আগের তুলনায় যানজট বেড়েছে বহুগুন। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কিছুসময় অন্তর সৃষ্টি হয় যানজটের। যানজটে আটকে পড়ে অনেকরোগী বাহী এ্যাম্বুলেন্সও।


৯ম শ্রেণির ছাত্রী তিন্নি বলেন, প্রতিদিন স্কুলে আসা-যাওয়ার সময় যানজটে পড়ে ক্লাসে আসতে দেরী হয়।


পথচারী দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘ফুটপাত দোকানিদের দখলে। তাই অনেকটা বাধ্য হয়েই রাস্তার ওপর দিয়ে হাঁটতে হয়। এতে অনেক সময় গাড়ির বাম্পারের ধাক্কাও খেতে হয়। বাজারের ইজারাদার ও নিয়ন্ত্রন কমিটির লোকজনদের সচেতনতার অভাবে দূর্ভোগে পড়তে হয় আমাদের।


বাজার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সেলিম মিয়া বলেন- সড়কে সিএনজি, অটোরিক্সা অবৈধভাবে পার্কিং করা এবং রাস্তার মধ্যে দাঁড়িয়ে যাত্রী উঠানামা করায় যানযট সৃষ্টি হচ্ছে। ফুটপাতে দোকান বসিয়ে উৎকোচ নেওয়া বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার জানা মতে এ বাজারে কোন চাঁদাবাজি নেই। যদি অভিযোগ পেয়ে থাকি তাহলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।


ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল বলেন, বাজারে কোন নতুন কমিটি নেই পুরাতন কমিটি দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। ইতিমধ্যে বাজারে ঘর মালিক ও ট্রেড লাইসেন্সভুক্ত ব্যবসায়ীদের ভোটার তালিকা হালনাগাদ হচ্ছে। এই তালিকা সম্পূর্ন হলে নির্বাচনের মাধ্যমে বাজার নিয়ন্ত্রন কমিটি গঠন করা হবে। এতে করে বাজারে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে বলে আমি আশাবাদি।


এ ব্যাপারে সহকারী পুলিশ সুপার (লাকসাম সার্কেল) ইমরান রহমান বলেন, ‘যানজট নিরসনে পুলিশ ও জনগণ মিলেই কাজ করতে হবে। ইতিমধ্যে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার কাজ শুরু করছি। লাকসামে যে সব গুরুত্বপূর্ন স্থান রয়েছে, সেসব স্থানগুলোকে চিহ্নিত করে ট্রাফিক ব্যবস্থা চালু করার জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপ আলোচনা চলছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর

কুমিল্লা এর অন্যান্য খবরসমূহ
লাকসাম এর অন্যান্য খবরসমূহ