জেলার ২৪ সাংস্কৃতিক সংগঠনের বিবৃতি সাংসদ সাইমুম সরওয়ার কমলকে তার বক্তব্য প্রত্যাহার ও জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে - খবর তরঙ্গ
শিরোনাম :

জেলার ২৪ সাংস্কৃতিক সংগঠনের বিবৃতি সাংসদ সাইমুম সরওয়ার কমলকে তার বক্তব্য প্রত্যাহার ও জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে



প্রেস বিজ্ঞপ্তি, (খবর তরঙ্গ ডটকম)

মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম নেতৃত্বদানকারী রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল গত ২১ নভেম্বর কক্সবাজার জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল ও কক্সবাজার সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জি এম রহিম উল্লাহর জানাজায় কান্নাজড়িত কণ্ঠে বক্তৃতা করেন। এমপি কমল সেদিন কাঁদতে কাঁদতে স্মৃতিচারন করতে গিয়ে ঘোষনা দেন প্রয়াত ওই জামায়াত নেতার নামে একটি সড়কের নামকরণ এবং তাঁর পরিবারের জন্য জমি দেওয়ার।

 

মহান মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতাকারী ও যুদ্ধাপরাধীদের সংগঠন জামায়াত নেতার নামে এহেন স্বীকৃতিমূলক ঘোষনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছে কক্সবাজারের ২৪টি সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। নেতৃবৃন্দ বিবৃতিতে জানান, ৩০ লক্ষ শহীদের রক্ত মিশ্রিত দেশের মাটির এক ইঞ্চিও কোনো রাজাকারের সংগঠনের নেতার নামে হতে পারেনা। সাংসদ কমল এই ধরনের ঘোষনার মধ্য দিয়ে চরম অস্বস্তিকর বার্তা প্রদান করেছেন। কোনো দেশ প্রেমিক জনতা এই বার্তা গ্রহন করতে পারেন না। এমন ঘোষনা এমপি কমলের প্রত্যাহার করতে হবে এবং তাকে দেশপ্রেমিক জনতার কাছে এর জন্য ক্ষমা চাইতে হবে।

 

গণমাধ্যমে পাঠানো যৌথ বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, রহিম উল্লাহ যুদ্ধাপরাধী সাঈদীর রায় ঘোষণার পর কক্সবাজারে তা-ব ও সহিংসতা চালান। বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে তিনি প্রকাশ্যে হামলা চালান এবং চারজনকে হত্যা করেন। এ ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে দুটি মামলা রয়েছে।

 

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক এই নেতা ১৯৯৮ সালের ১৭ আগস্ট সংঘটিত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্রনেতা সঞ্জয় তলাপাত্র হত্যাকা-ের অন্যতম আসামি।
নেতৃবৃন্দ আহবান জানান, ‘যেখানে জামায়াত, সেখানেই প্রতিরোধ’ এই অঙ্গীকারে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

 

বিবৃতিদাতারা হলেন, গণমুখ থিয়েটারের সভাপতি সত্যপ্রিয় চৌধুরী দোলন, কক্সবাজার থিয়েটারের সভাপতি এড. তাপস রক্ষিত, জেলা উদীচীর সভাপতি কল্যাণ পাল, সাধারণ সম্পাদক বোরহান মাহমুদ, জেলা খেলাঘর আসরের সভাপতি আবুল কাসেম বাবু, সাধারণ সম্পাদক কলিম উল্লাহ, রবীন্দ্র সঙ্গীত সম্মিলন পরিষদের সভাপতি পঙ্কজ বৈদ্য, সাধারণ সম্পাদক, সত্যেন সেন শিল্পী গোষ্ঠীর সভাপতি খোরশেদ আলম, সাধারণ সম্পাদক মনির মোবারক, শ্রুতি আবৃত্তি অঙ্গনের সভাপতি এড. প্রতিভা দাশ, সাধারণ সম্পাদক ছোটন দাশ, ঝিনুকমালা খেলাঘর আসরের সাধারণ সম্পাদক সুবিমল পাল পান্না, সৈকত খেলাঘর আসরের সাধারণ সম্পাদক ওয়াহিদ মুরাদ সুমন, সিমুনিয়া খেলাঘর আসরের সভাপতি এম. জসীমউদ্দিন, বেলাভুমি খেলাঘর আসরের সভাপতি রিদুয়ান আলী, থিয়েটার আর্টের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল্লাহ শহীদ, কক্সবাজার গণজাগরণ মঞ্চের যুগ্ম সমন্বয়ক সৌরভ দেব, কক্সবাজার আর্ট ক্লাবের রবিউল আলম, সাংস্কৃতিক ইউনিয়ন আহবায়ক সুহি, উত্তরা সৃজনশীল সংসদের ফয়সাল হুদা, বিজয়মূখের সমন্বয়ক অজয় দে , কক্সবাজার শিল্পী গোষ্ঠী’র এস.কে বোরহান, শহীদ সুভাষ চলচ্চিত্র সংসদ রাহুল মহাজন, সৃজন সঙ্গীত ভুবন’র সভাপতি প্রিয়া দত্ত, দরিয়ানগর সাংস্কৃতিক কেন্দ্র’র রাজিব দেবদাশ, জাগো বাংলাদেশ শিল্পী গোষ্ঠীর রুনা বড়ুয়া।

এমপি কমল তার বক্তব্য প্রত্যাহার না করলে আন্দোলনের ডাক দিবেন বলে জানান সংগঠকবৃন্দ।


এ সম্পর্কিত আরো খবর

কক্সবাজার এর অন্যান্য খবরসমূহ