মাহমুদুর রহমানের ওপর হামলা, বিভিন্ন মহলের নিন্দা - খবর তরঙ্গ
শিরোনাম :

মাহমুদুর রহমানের ওপর হামলা, বিভিন্ন মহলের নিন্দা



নিউজ ডেস্ক, (খবর তরঙ্গ ডটকম)

মাহমুদুর রহমানের ওপর হামলার প্রতিবাদে নিন্দা ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) একাংশ।

 

বিএফইউজের (একাংশ) সভাপতি রুহুল আমীন গাজী, মহাসচিব এম আবদুল্লাহ, ডিইউজের (একাংশ) সভাপতি কাদের গনি চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মো. শহীদুল ইসলাম এক বিবৃতিতে হামলাকারীদের শাস্তি দাবি করেন।

 

জামায়াতের নিন্দা
কুষ্টিয়ার আদালতে একটি মানহানির মামলায় হাজিরা দিয়ে আদালত থেকে বের হয়ে আসার সময় আদালত চত্বরে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ক্যাডাররা মাহমুদুর রহমানের উপর আক্রমন চালানোর ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারী জেনারেল ডা. শফিকুর রহমান।

 

এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, মাহমুদুর রহমান আইন ও আদালতের প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে কুষ্টিয়া আদালতে হাজিরা দিতে গিয়েছিলেন। আদালত ঐ মামলায় তাকে জামিন দিয়ে নিরাপদে ঢাকায় পৌঁছে দেয়ার নির্দেশ দেন। কিন্তু আদালত থেকে বের হয়ে আসার সময় সরকারি দলের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ক্যাডাররা তার উপর আক্রমণ চালায় এবং তাকে ঘেরাও করে রাখে। তিনি মারাত্মকভাবে আহত হন, তার গাড়ীটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

 

রাষ্ট্রের যে কোনো নাগরিকের নিরাপত্তা দেয়ার দায়িত্ব সরকারের। সরকার আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে এ দায়িত্ব পালন করে থাকে। কিন্তু বর্তমান সরকার আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে দলীয় কর্মীর মত ব্যবহার করছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর এ ব্যর্থতা দেশ ও জাতির জন্য উদ্বেগের কারণ।

 

বিচার ব্যবস্থাকে স্বাধীন বলা হয় অথচ এ ঘটনা প্রমাণ করে বিচার ব্যবস্থা স্বাধীন তো নয়ই, অতীতের যে কোনো সময়ের চাইতে দুর্বল। প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হিসাবে আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা অত্যন্ত বেদনা দায়ক। আমি অবিলম্বে পূর্ণ নিরাপত্তার সাথে জনাব মাহমুদুর রহমানকে তার ঢাকার বাড়ীতে পৌঁছে দেয়ার নির্দেশ প্রদানের জন্য আদালতের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। সাথে সাথে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের দুর্বৃত্তদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের দাবী জানাচ্ছি।

 

ছাত্রশিবিরের নিন্দা
রাষ্ট্রীয় নির্যাতনের শিকার সাংবাদিক, আমারদেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের উপর ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীদের বর্বর হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।

 

এক যৌথ প্রতিবাদ বার্তায় ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি ইয়াছিন আরাফাত ও সেক্রেটারি জেনারেল মোবারক হোসাইন বলেন, অসভ্য ও বর্বরতার সর্ব নিন্ম স্তরে পৌছে গেছে সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগ। গত ১০ ডিসেম্বর ২০১৭ তারিখে কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি ইয়াসিন আরাফাত তুষারের দায়ের করা বঙ্গবন্ধুকে কটুক্তির মিথ্যা মানহানির মামলায় জামিন নিতে রবিবার কুষ্টিয়া সদর জুডিশিয়াল ম্যাজেস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করেন মাহমুদুর রহমান।

 

দুপুর ১টার দিকে তিনি আইনজীবী ও সাংবাদিক নেতাদের সাথে আদালত থেকে বের হওয়ার মুহূর্তে আদালত ভবনের প্রতিটি প্রবেশ দ্বার আটকিয়ে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখে ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীরা। যার নেতৃত্ব ছিল কুষ্টিয়া জেলা সভাপতি ইয়াসিন আরাফাত তুষার। এসময় মাহমুদুর রহমান পুনরায় আদালতের এজলাসে আশ্রয় নিয়ে লিখিত ভাবে পুলিশ প্রোটেকশনের জন্য আবেদন করেন। কিন্তু রহস্যজনক ভাবে পুলিশ নিরব ভূমিকা পালন করে। এমনকি ম্যাজিষ্ট্রেট কর্তৃক ওসিকে আসার জন্য বললেও তিনি আসেননি। পরে তিনি আদালত এলাকা থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করলে তার ওপর বর্বর হামলা চালায় ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীরা। এতে তিনি মারাত্বক ভাবে আহত হয়েছেন।

 

পবিত্র আদালতে পুলিশের সামনে দেশের একজন স্বনামধন্য ব্যক্তিত্বকে রক্তাক্ত করেছে ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীরা। ছাত্রলীগের সর্বাত্বক সন্ত্রাসী কার্যক্রমের পরও পুলিশের নিরব ভূমিকা পালনে প্রমাণ হয় এ হামলা পূর্ব পরিকল্পিত এবং অবৈধ সরকারের নির্দেশেই হয়েছে। কোন সভ্য সমাজ বা দেশে এ বর্বরতা কল্পনাও করা যায় না। সরকার ও পুলিশের সরাসরি মদদের ফলে অসভ্যতা এবং বর্বরতার নজিরবিহীন তান্ডব চালাচ্ছে ছাত্রলীগ নামের অভিশপ্ত সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। আদালতেও যদি একজন নাগরিক ছাত্রলীগের সন্ত্রাস থেকে মুক্তি না পায় তাহলে মানুষের জন্য আর নিরাপত্তা বলতে কিছু থাকে বলে মনে হয়না। আমরা ছাত্রলীগের এই জঘন্য ও ন্যাক্কারজনক অপকর্মের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

 

নেতৃবৃন্দ বলেন, এর আগেও ছাত্রলীগ সম্মানিত শিক্ষকদের লাঞ্চিত করেছে। মায়ের পেটে থাকা শিশুকে গুলি করে ঝাঝরা করে দিয়েছে। বহু নিরপরাধ ছাত্রকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে, গুলি করে নৃশংস ভাবে খুন করেছে। ক্যাম্পাস গুলোকে অস্ত্রের মিনি ক্যান্টনম্যান্ট আর মাদকের আখড়ায় পরিণত করেছে। সাধারন শিক্ষার্থীদের হাতুরী দিয়ে পিটিয়েছে। বিরোধী মতের সংগঠনের নেতার উপর প্রকাশ্য হামলা চালিয়ে তার পা বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। ছাত্রীদের প্রকাশ্যে শ্লীলতাহানী করেছে ও ধর্ষণের হুমকি দিয়েছে। সারাদেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী কার্মকান্ডের শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বিনষ্ট হচ্ছে। কিন্তু ছাত্রলীগের কোন নির্মমতারই বিচার করা হয়নি।

 

রাষ্ট্রীয় মদদের কারণেই আজ আদালতকে রক্তে রঞ্জিত করেছে জঙ্গিবাদী সংগঠন ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা। এ হামলা শুধু মাহমুদুর রহমানের উপর হয়নি বরং আদালতের উপরও হয়েছে। স্বয়ং পুলিশই যদি সন্ত্রাসীদের সহযোগির ভূমিকা পালন করে তাহলে জনগণ যাবে কোথায়? দলবাজী আর সন্ত্রাসীদের তোষণ করতে গিয়ে পুলিশও এখন ছাত্রলীগের মত ঘৃণার প্রতিকে পরিণত হয়েছে। আমরা অবিলম্বে হামলাকারী ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার ও উপযুক্ত বিচারের দাবী জানাচ্ছি। একই সাথে নাগরিকদের নিরপত্তা দিতে গাফিলতি করায় সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবী জানাচ্ছি।

নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে হামলাকারীদের বিচারের আওতায় আনতে এবং সর্বক্ষেত্রে নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।


এ সম্পর্কিত আরো খবর