বিদেশের চোখে মোদির জয় - খবর তরঙ্গ
শিরোনাম :

বিদেশের চোখে মোদির জয়



নিউজ ডেস্ক, (খবর তরঙ্গ ডটকম)

লোকসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) বিপুল জয়লাভে বিদেশী সংবাদমাধ্যমে বিস্তৃত সংবাদ প্রকাশিত হলেও খুব একটা উচ্ছ্বাস দেখা যাচ্ছে না। অধিকাংশ প্রিন্ট মিডিয়ায় ভারতে কট্টর হিন্দুত্ববাদী রাজনৈতিক শক্তির ক্ষমতাসীন হওয়ার কথা উল্লেখ করা হচ্ছে।

কিছু সংবাদমাধ্যমের সংবাদ পরিবেশনা আবার বিজেপি তথা প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী নরেন্দ্র মোদি সম্পর্কে যথেষ্ট সমালোচনামূলক। দক্ষিণপন্থার রাজনৈতিক শক্তি ভারতে ক্ষমতাসীন হচ্ছে দেখে বিদেশের সংবাদমাধ্যমের আশঙ্কা, এরা ভারতকে এখন কোন্ দিকে নিয়ে যায় এটাই দেখার। আমেরিকার নিউ ইয়র্ক টাইমস উল্লেখ করেছে, বিজেপির বিপুল জয়ে ভারতের সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায় বিচলিত। সংখ্যালঘুরা এখন বেশ সতর্কতার সঙ্গে কথা বলছে। বিশেষ করে বিদেশী সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের কাছে সহজে মুখ খুলতে চাইছে না তারা।

মার্কিন ‘নিউ রিপাবলিক’ পত্রিকা নরেন্দ্র মোদিকে ‘একরোখা’, প্রতিশোধপরায়ণ ব্যক্তি হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। পত্রিকাটির মতে, মোদির কাজকর্মের একটা গোপন ধারা রয়েছে, যেটা তিনি তার একান্ত বিশ্বাসভাজন দু’একজন ব্যক্তি ছাড়া কারো কাছে প্রকাশ করেন না।

পত্রিকাটি এটাও তার পাঠকদের স্মরণ করিয়ে দিয়েছে যে, ভারতের সম্ভাব্য নতুন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভারতীয় রাষ্ট্রক্ষমতার শীর্ষে অধিষ্ঠান করার সুযোগ পেলেও তার একটা অন্ধকার দিক রয়েছে। অন্ধকার দিক বলতে সংবাদপত্রটি ২০০২ সালে গুজরাটে দাঙ্গায় মুসলিম নিধনের ঘটনাবলী স্মরণ করিয়ে দিয়ে জানিয়েছে, ওই সময় গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন নরেন্দ্র মোদি। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর থেকে ভারতের সংখ্যালঘুরা, বিশেষত মুসলিমরা তাকে সন্দেহের চোখে দেখতে অভ্যস্ত। মোদি তার নিজ রাজ্য গুজরাটে সংখ্যাগুরু হিন্দু ও সংখ্যালঘু মুসলিমদের মধ্যে বিভাজন ডেকে এনেছেন।

বিদেশী সংবাদমাধ্যম, বিশেষ করে কানাডার সংবাদপত্রগুলিতে সাম্প্রতিক লোকসভা নির্বাচনের ফলাফলের পরিপ্রেক্ষিতে হিন্দু দক্ষিণপন্থী জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক দলের উত্থান দেখতে পেয়েছে। টরেন্টোর একটি সংবাদপত্রে লেখা হয়েছে, বিজেপি-র জয়ে রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সঙ্ঘের (আরএসএস) প্রভাব সারা দেশে বিস্তারের চেষ্টা হবে। যেহেতু নতুন প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং একজন আরএসএস-র সদস্য।

নরেন্দ্র মোদি কেমন ব্যক্তি সে সম্পর্কেও সংবাদপত্রগুলিতে মূল্যায়ন রয়েছে। কয়েকটি সংবাদপত্রের মতে, তিনি অত্যন্ত রূঢ়, প্রতিশোধপরায়ণ। সব সময় ক্ষমতা একচেটিয়াভাবে কেন্দ্রীভূত করে রাখতে ভালোবাসেন। গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে তিনি ১৪টি দপ্তর নিজের হাতে রেখেছিলেন। প্রতিপক্ষকে ‘‘নির্মূল’’ করে দেবার তার স্বভাবপ্রবণতা। তিনি হামেশাই বিপক্ষ রাজনৈতিক শক্তিকে নিঃশেষ করে দেবার কথা বলেন। দলে কিংবা মন্ত্রিসভায় কোনো সমালোচনা তিনি সহ্য করেন না। ব্যক্তিপূজা তার বড় পছন্দের। দল ও সরকারে পছন্দসই ব্যক্তিদের নিয়ে একটি গোষ্ঠী তৈরি করে কাজ করতে তিনি অভ্যস্ত। এটা বিশেষ করে প্রকটভাবে দেখা গেছে তার অতি ঘনিষ্ঠ সঙ্গী অমিত শাহকে নির্বাচনে উত্তর প্রদেশে পাঠানোর ক্ষেত্রে। এই ব্যক্তি নরেন্দ্র মোদির দক্ষিণ হস্ত হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। উত্তর প্রদেশ থেকে অধিকাংশ আসনে বিজেপি-র জয়ের পেছনে অমিত শাহ ও তার দলবলের ভূমিকা এখন সবাই স্বীকার করছেন।

‘দ্য কনভারসন’ নামে একটি সাময়িকীতে তাই প্রশ্ন তোলা হয়েছে, ভারতের নতুন প্রধানমন্ত্রী ভারতের জন্য আগামী দিনে ধ্বংস ডেকে আনছেন না তো? যদিও তিনি গণতান্ত্রিক পথে নির্বাচিত। তার দল বিপুল গরিষ্ঠতাও পেয়েছে। কিন্তু তার যে অতীত রয়েছে সেটা তো অন্ধকারময়। বিপুল জয়ের নিরীখে মোদি কি সেটা আড়ালে রাখতে পারবেন? শতাধিক কোটির ভারতবাসীর কাছে এটাই আগামীদিনে বড় প্রশ্ন।