ত্যাগের আনন্দে ভাস্বর পবিত্র ঈদুল আযহা: ঈদ মুবারক! - খবর তরঙ্গ
শিরোনাম :

ত্যাগের আনন্দে ভাস্বর পবিত্র ঈদুল আযহা: ঈদ মুবারক!



(খবর তরঙ্গ ডটকম)

আল্লাহর নৈকট্য ও সন্তুষ্টি লাভের উৎসব কোরবানির ঈদ এল আবার। ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর ঈদুল আজহা মুসলমানদের অন্যতম বড় ধর্মীয় উৎসব। এই দিনে আল্লাহর সমীপে পশু কোরবানির মাধ্যমে তার নিকটবর্তী হয় প্রিয় বান্দারা। তাই কোরবানির আনন্দের পাশাপাশি আত্মোৎসর্গের মনোভাব ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য নিয়ে পালিত হবে পবিত্র ঈদুল আজহা। ইসলামি শরিয়াহ মতে, ঈদুল আজহায় সামর্থ্যবান প্রত্যেক মুসলমানের ওপর কোরবানি ওয়াজিব। তবে অসমর্থ বান্দাদের ওপর কোরবানির বাধ্যবাধকতা নেই। কোরবানির গুরুত্ব সম্পর্কে মহানবী (সা.) বলেছেন: “যে ব্যক্তি সংগতি থাকা সত্ত্বেও কোরবানি করল না, সে যেন আমার ঈদগাহে না আসে।”
আল্লাহর উদ্দেশে প্রিয় বস্তু উৎসর্গ করাই কোরবানি। যেমনটি করেছিলেন হজরত ইব্রাহিম (আ.)। আল্লাহর প্রতি ভালোবাসার তাগিদে প্রিয় পুত্র ইসমাইলকে কোরবানি দিতে গলায় ছুরি চালিয়েছিলেন তিনি। তার এই সীমাহীন ভক্তি ও ত্যাগের সদিচ্ছায় সন্তুষ্ট হয়ে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ইসমাইলের স্থলে একটি দুম্বা কোরবানি করিয়ে দেন। এরপর থেকে পশু কোরবানি করা আল্লাহর ‍প্রতি ভালোবাসা ও ত্যাগের প্রতীকী আচার হয়ে দাঁড়ায়। এর মাধ্যমে বান্দা তার সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টি ও সান্নিধ্য লাভের পাশাপাশি নিজের ভেতরের পশুশক্তি, কাম-ক্রোধ, লোভ ইত্যাদি রিপুও বিসর্জন দেয়।
আমাদের খেয়াল রাখতে হবে, পশু কোরবানি যেন কোনো লোক দেখানো বা প্রতিযোগিতার বিষয় না হয়। শুদ্ধ নিয়ত ও আল্লাহর প্রতি ভালোবাসার তাগিদ থেকেই পশু কোরবানি দিতে হবে। আর আমরা অবশ্যই নিয়ম মেনে কোরবানির গোসত বণ্টন করব। তিন ভাগের এক ভাগ দরিদ্রদের জন্য, এক ভাগ প্রতিবেশী-আত্মীয়স্বজনের জন্য এবং এক ভাগ নিজের জন্য রাখব। আল্লাহ বলেছেন, “আমার কাছে কোরবানির গোসত ও রক্ত কিছুই পৌঁছায় না। বরং পৌঁছায় তোমাদের তাকওয়া।”
কোরবানির মাধ্যমে অন্তরের পবিত্রতা অর্জন করব কিন্তু পরিবেশের পবিত্রতার দিকটি অবহেলা করব, তা যেন না হয়। পশু কোরবানির পর রক্ত ও আবর্জনা নিজ উদ্যোগে পরিষ্কার করতে হবে। তা সে নগর হোক কিংবা গ্রাম। রক্ত ও আবর্জনা দ্রুত পরিষ্কার না করলে তা পচে দুর্গন্ধ ছড়াবে, যা পরিবেশদূষণ ও স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতির কারণ হবে। আর পথচারীদের চলাচলে দুর্ভোগের বিষয়টি তো আছেই।
আমরা প্রতিবছরই কোরবানির পর দেখি, বিশেষ করে পশুর হাটের এলাকা ও স্থানীয় ভাগাড়ে পড়ে থাকা বর্জ্যের কারণে দুর্ভোগে পড়ে নগর, শহর ও গ্রামবাসী। বর্জ সরাতে কর্তৃপক্ষের চেষ্টা ও আয়োজন যথেষ্ট বলে প্রতীয়মান হয় না। সেটা তারা স্বীকারও করে নেন সীমাবদ্ধতার দোহাই দিয়ে। কিন্তু সব সময় এই দোহাই দেয়া কোনো কাজের কথা নয়। অবশ্যই দ্রুততম সময়ে বর্জ্য সরাতে হবে। আশা করি তারা সেভাবেই নিজেদের প্রস্তুতি সেরে রেখেছে।

 

পবিত্র ঈদুল আজহা সবার জন্য মঙ্গল বয়ে আনুক। খবর তরঙ্গ ডটকম পাঠক, বিজ্ঞাপনদাতা  শুভানুধ্যায়ীদের জানাই ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা। ঈদ মোবারক।