প্রেমিকের প্রতারনার ফাঁদে কিশোরী ৮ মাসের অন্তঃসত্তা - খবর তরঙ্গ
শিরোনাম :

প্রেমিকের প্রতারনার ফাঁদে কিশোরী ৮ মাসের অন্তঃসত্তা



স্টাফ রিপোর্টার, লাকসাম, (খবর তরঙ্গ ডটকম)

কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার মুদাফরগঞ্জ ইউনিয়নের বামন্ডা এলাকায় জান্নাত নামে এক কিশোরী প্রেমিকের প্রতারনার ফাঁদে ৮ মাসের অন্তঃসত্তা হয়ে পেটের সন্তান নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এনিয়ে লাকসাম থানায় নারী ও শিশু দমন নির্যাতন আইনে মামলা হলে পুলিশ প্রেমিক মনিরকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠায়।
 

জানা গেছে, ওই গ্রামের সুলতান আহমদের ছেলে প্রেমিক মনির হোসেন (২০) দীর্ঘদিন ধরে একই গ্রামে আবদুল বারেকের কন্যা জান্নাতুল ফেরদাউছকে (১৪) প্রেম নিবেদন করে আসছিল। কৌশলে সে পরিবারের লোকজনের সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলে।  এক পর্যায়ে বিভিন্ন প্রলোভনে তাদের দৈহিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এতে প্রেমিকা জান্নাত হয়ে পড়ে অন্তঃসত্তা। ধীরে ধীরে জান্নাতের পেটের সন্তান বাড়তে থাকায় পরিবারের লোকজনের সন্দেহ হলে জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনা ফাঁস হলে দু’ পরিবারে তোলপাড় শুরু হয়।
 

স্থানীয় লোকজন জানায়, ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উভয়পক্ষকে নিয়ে স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বারের নেতৃত্বে বেশক’বার গ্রাম্য শালিসে প্রেমিক মনির ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে। ঘটনা মিমাংসা হয়নি। এ সুযোগে বিয়ে না করে জান্নাতের পেটের বাচ্চা নষ্ট করার জন্য একাধিকবার প্রেমিক মনির চেষ্টা চালিয়েও ব্যর্থ হয়। এছাড়া মনিরের পক্ষ নিয়ে এলাকার কতিপয় লোকজন মামলা তুলে নিতে জান্নাতের পরিবারকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেয়ায় বর্তমানে জান্নাতের পরিবার নিরাপত্তাহীনতার আতংকে দিন কাটাচ্ছে। বর্তমানে জান্নাত প্রায় ৮ মাসের অন্তঃসত্তা। লাকসাম থানা পুলিশ ওই মামলার প্রধান আসামি ভন্ড প্রেমিক মনিরকে গ্রেপ্তার করেছে। অপর আসামীদের গ্রেপ্তারেও তৎপর রয়েছে পুলশ।
 

মামলার বাদী নির্যাতিতা জান্নাতের ভাই অহিদুর রহমান জানান, ঘটনার দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক মিমাংসার অপেক্ষায় থাকার পরও কোন সু-বিচার না পেয়ে অবশেষে থানায় মামলা করতে বাধ্য হয়েছি। পুলিশ প্রধান আসামি মনিরকে গ্রেপ্তারও করেছে। বাকী আসামিরা পলাতক থাকলেও বিভিন্ন মাধ্যমে পুনরায় মিমাংসার কথা বলছে। মনির আমার বোনকে বিয়ে করবে বলে তার পক্ষ থেকে প্রস্তাবও এসেছে। মনির জামিনে আসলে শালিস হওয়ার কথা রয়েছে।
 

এ বিষয়ে স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার হাছান আহমেদ খোকন জানান, ঘটনাটি এলাকায় ফাঁস হওয়ার পর থেকে সামাজিকভাবে বেশ ক’বার  বসা হয়েছে। আসামি পক্ষ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করলেও মেয়ে ও তার পেটের সন্তানের দায় নিতে রাজি না। তিনি বলেন, থানায় মামলা হয়েছে, প্রধান আসামি গ্রেপ্তারও হয়েছে। বাকীরা বিভিন্ন মাধ্যমে সামাজিকভাবে পুনরায় বসার তদবির করছেন। কিন্তু ছেলে এখনও জেলে থাকায় এবং মেয়ের বয়স নিয়েও বির্তক রয়েছে।
 

এ ব্যাপারে থানা সূত্র জানায়, এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। বাকীদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর

কুমিল্লা এর অন্যান্য খবরসমূহ
মানবাধিকার এর অন্যান্য খবরসমূহ
লাকসাম এর অন্যান্য খবরসমূহ