আরব আমিরাতের ইসলামিক কেন্দ্রে প্রতি মাসে কয়েক ডজন অমুসলিমের ইসলাম গ্রহণ - খবর তরঙ্গ
শিরোনাম :

আরব আমিরাতের ইসলামিক কেন্দ্রে প্রতি মাসে কয়েক ডজন অমুসলিমের ইসলাম গ্রহণ



অনলাইন ডেস্ক, (খবর তরঙ্গ ডটকম)

একটি সাধারণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত বর্ধমান ধর্মের অংশ হওয়া যায়। এর জন্য শুধুমাত্র ‘শাহাদা’র দুটো বাক্য আওড়ানো যথেষ্ট এবং সাথে সাথে এই বিশ্বাসে অন্তর্ভুক্ত হওয়া যায়।

আর ‘আল্লাহ তায়ালা ছাড়া আর কোনো মাবূদ নাই এবং নবী মুহাম্মদ(সা:) তার প্রেরিত বার্তা বাহক’ এই শব্দ সমষ্টির স্বীকৃতির মাধ্যমে একজন ব্যক্তি মুসলিম হিসেবে একটি আবেগি সফরের অংশ হতে পারেন।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের ‘Centre for Islamic Culture’ এর প্রতিনিধি মোহাম্মদ বিন রাশিদ বলেন, মুসলিম সমাজের অংশ হয়ে অনেকের চোখ অশ্রুতে ভিজে যায় আবার অনেকে তাদের অতীত জীবনের পাপের জন্য লজ্জিত হয়ে পড়েন।

প্রত্যেক বছর সংযুক্ত আরব আমিরাতের হাজার হাজার অধিবাসী ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন আর ২০১৭ সালে ‘Dar Al Ber Society’ নামক একটি দাতব্য সংস্থার প্রচেষ্টায় ৩,০০০ হাজারেরও বেশি মানুষ ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন।

মোহাম্মদ বিন রাশিদ বলেন, প্রত্যেক মাসে ডজনের উপরে দর্শনার্থী আমাদের ইসলামিক কেন্দ্রে মুসলিম হওয়ার জন্য আসেন আর পবিত্র রমজান মাসে এ সংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে যায়।

তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি এর কারণ হচ্ছে তারা আমাদের সমাজের সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ হয়ে পড়ে এবং মুসলিমদের কে রমজান মাসে সিয়াম সাধনা ও প্রার্থনা করতে দেখে আবেগ প্রবণ হয়ে পড়ে।’

তিনি বলেন, এই প্রক্রিয়া খুবই সহজ। ‘আমরা তাদের নিকট পাসপোর্টের কপি, ভিসা, ইমিরাতের পরিচয় পত্র এবং পাসপোর্ট সাইজের আলোকচিত্র সরবরাহ করতে বলি। আর এর পরে আমার তাদের নিকট ইসলামের উপর সংক্ষিপ্ত আলোচনা রাখি।’

তথাপি, শাহাদা পাঠের পূর্বে আমরা এসব নিয়ম পালন করি।

তিনি বলেন, ‘যদি আপনি শাহাদা পাঠ না করেন তবে কিছু যায় আসে না। কিন্তু আপনার প্রার্থনা, উপবাস এবং দাতব্য কাজ ইসলামে তখন গ্রহণ যোগ্য নয়।’

‘এগুলো শুধুমাত্র কয়েকটি বাক্যের সমষ্টি এবং তা আপনার জীবন পরিবর্তন করে দিবে।’

তিনি বলেন, ‘আমি এমন অনেক কে দেখেছি শাহাদা পাঠের পর তারা কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন এবং তখন আমার মধ্যে একধরনের মিশ্র অনুভূতির জন্ম হয়।

নও মুসলিমদের একটি সনদ পত্র এবং ইসলামিক বই সমূহের কিছু কালেকশন উপহার দেয়া হয়।

এমন কি রয়েছে যা একজন ব্যক্তি কে মুসলিম হওয়ার জন্য উৎসাহ দেয়?

নিকারাগুয়ার নাগরিক ৩৯ বছর বয়সী আলিয়া মেন্দোজার জন্য এটি ছিল কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপলব্ধির সমষ্টি যা তাকে কানাডার অটোয়ার একটি মসজিদে শাহাদা পাঠে উদ্ভূদ্ধ করে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের কে ধর্মান্তরিত হিসেবে ডাকা হয় না বরং আমরা প্রত্যাবর্তিত কারণ আমরা বিশ্বাস করি প্রত্যেক ব্যক্তি মুসলিম হিসেবে জন্ম গ্রহণ করে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমি আমার শিশু কালের পুরোটা কাটিয়েছি সমাজের পুরুষদের দিক নির্দেশনা অনুযায়ী। এমনকি যখন আমি বাপ্টাইজড হই তখন একজন পুরুষ যাজক আমার মাথায় ব্যাপ্টিজমের জল ঢেলে দেয়।’

‘আমি এমন একটি ধর্মের অংশ হতে চাই না যা কিছু পুরুষ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। ইসলাম এরকম কোনো ধর্ম নয়।’

৯/১১ হামলার সময় তিনি একটি বিমানে করে যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামি তে সফর করার জন্য বের হয়েছিলেন কিন্তু হামলার পর বিমানটি পুনরায় নিকারাগুয়ায় ফেরত আসে।

তিনি বলেন, ‘আক্রমণের পর যখন সকলে চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করেছিল আমার মনে আছে আমি এরকম অনুভব করতে থাকি যে, সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাস করাটা একমাত্র পথ নয় এবং আমার আরো অনেক কিছু বিশ্বাস করার প্রয়োজন রয়েছে। আমার মনে হতে থাকে ইসলামই একমাত্র সঠিক পথ।’
‘লোকজন শাহাদা পাঠ করছিল, নিকারাগুয়ায় আসার পর আমি এমন একটি স্বপ্ন দেখি।’

প্রথম বারের মত শাহাদা পাঠের স্মৃতি চারণ করে তিনি বলেন, ‘আমার মনে আছে সেই সকল হাঁসি মুখ সমূহ কে যারা আমার দিকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে তাকিয়েছিল। শাহাদা পাঠের পর আমি নিজেকে তাদের অংশ হিসেবে মনে করতে থাকি। শাহাদা পাঠ করতে আমার মাত্র তিন মিনিট সময় লেগেছিল এবং এটি চিরদিনের জন্য আমার জীবন পরিবর্তন করে দিয়েছে।’



এ সম্পর্কিত আরো খবর