ঝিনাইদহে আট যুবক যৌথ উদ্যোগ পেয়ারা ও কুল চাষ - খবর তরঙ্গ
শিরোনাম :

ঝিনাইদহে আট যুবক যৌথ উদ্যোগ পেয়ারা ও কুল চাষ



রুহুল আমিন সৌরভ,স্টাফ রিপোর্টার, (খবর তরঙ্গ ডটকম)

সাহসেই একমাত্র জীবন মান উন্নয়নের সফলতা এনে দিতে পারে। বাস্তবে প্রতিয়মান হয়েছে সাহসী যুবকদের নিজ উদ্যোগে পেয়ারা কুল চাষ। বেকারত্মকে দুরে ফেলতে আট যুবক যৌথ উদ্যোগ নিয়ে পেয়ারা ও কুল চাষ করেছে। চাষী হিসেবে জীবনের প্রথমে পরীক্ষামুলক পেয়ারা কুল চাষ করে সফলতা পেয়েছে। ফেসবুকে তাদের একটি পেইজ ও আছে “আমাদের বাগান,পেয়ারা কুল। ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ আনন্দবাগ গ্রামের আট যুবকের উদ্যোগে সফল চাষ এলাকায় বেশ সাড়া পড়েছে।

 

মাসিক জমিয়ে তাদের এই সফল পেয়ারা কুল বাগান। ‘সাহসেই লক্ষ্মী’ প্রবাদ বাক্যটি স্মরন করে বছরে ২৫ হাজার টাকা চুক্তিতে গ্রামের ডাঃ হায়দার আলীর কাছ থেকে জমি বরগা নিয়ে তারা চাষ করেছে। আট যুবকের অর্থায়নে আড়াইবিঘা জমিতে গড়ে তুলেছেন পেয়ারা কুলের বাগান। কৃষিভিত্তিক কিছু করতে হবে এমন ইচ্ছায় তাদের জমনো টাকা দিয়ে শুরু করেছেন পেয়ারা কুলের চাষ। পেয়ারা চাষে লাভের পরিমান বেশি বলেই তাদের এ চাষের প্রতি ঝোক হয়েছে। থাই-৩,৪ জাতের পেয়ারা এবং বাউকুলের বাগান করেছে।

 

সঠিক পদ্ধতি ও পরিচর্যার ত্র“টি হওয়ায় প্রায় ১৪ মাস লেগেছে তাদের পেয়ারা ফল আসতে। তবু তারা দমবার পাত্র নয়, অদম্য সাহস নিয়ে চাষে লেগেই আছে। এখন ভালো মানের ফলন হওয়ায় এ পর্যন্ত তারা প্রায় ষাট মন পেয়ারা বিক্রি করেছে। ছোট ছোট আরো প্রচুর পরিমানে পেয়ারা রয়েছে যা আর একবার বিক্রি হবে। তবে তাদের কোন পরামর্শ দাতা নেই নিজেদের বুদ্ধিমত্তা আর পার্শ্ববর্তি গ্রামের চাষীদের পরামর্শ নিচ্ছেন। স্থানীয় কৃষি অফিসে ইকবাল গিয়েছেন পরামর্শ নিতে কৃষি অফিস জানিয়েছে চাষীদের কাছ থেকে জানলে বেশি ভালো হবে। বেকার জীবন থেকে মুক্তি পেতে জীবনের প্রথম চাষী হিসেবে ঝুকি নিয়ে পরীক্ষামুলক তাদের এই পেয়ারা কুলের চাষ। আড়াই বিঘা জমিতে চাষ করতে প্রায় লক্ষাধিক টাকা তাদের খরচ হয়েছে।

 

পেয়ারা আর কুল পাশাপাশি চাষ করে বেশ সফল। পেয়ারা চাষ লাভজনক বলে বাগানটি সম্প্রসারিত করতে পরিকল্পনা হতে নিয়েছে তারা। পাশের আরো তিন বিঘা জমিতে চারা রোপন করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সাহসী চাষী আট যুবক হলেন একই গ্রামের নায়েব, মিঠু,মালেক, রনি, ইকবাল, সুমন,সজিব,ইমরান। এদের কেউ ছাত্র কেউ বেকার। তবে তারা বসে থাকার কেউ নন। মিঠু সকাল সন্ধ্যা টিউশনি করেন। মালেক দর্জি দোকানে সময় দেয়। সুমন সড়ক দুর্ঘটনায় মারাত্মক আহত হয়ে বিছানায় পড়ে আছে। ইকবাল টাইলস মিস্ত্রির কাজ করছে।

 

সকলেই কমবেশি ব্যস্ত থাকার কারণে সার্বক্ষনিক কাজের জন্য তাদের ক্ষেতে গ্রামের হাফিয়ার নামে একজন লেবার রেখেছে। গ্রামের পারের মাঠ বেশ পুরাতন জমি তারা চাষ করে দেখাতে চায় বেকারত্ম তাদের কাছে হার মেনেছে। তবে তারা বলেন, আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে আর ঋনের ব্যাবস্থা করা গেলে তাদের চাষের পরিমান আরো বাড়ানো যেত। তাদের প্রত্যাশা তারাই হবেন সফল চাষী। গ্রামের স্বাবলম্বী যুবক।


এ সম্পর্কিত আরো খবর