দক্ষিণ অঞ্চলের অর্ধশত সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা, অনেকে এলাকা ছাড়া - খবর তরঙ্গ
শিরোনাম :

দক্ষিণ অঞ্চলের অর্ধশত সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা, অনেকে এলাকা ছাড়া



নাসির উদ্দিন সৈকত, ঝালকাঠি, বরিশাল, (খবর তরঙ্গ ডটকম)

সাংবাদিকরা যেন জাতীয় শত্র“ ! সাংবাদিকদের দমনের জন্য আইন কানুন, মামলা ও হামলার তীব্রতা বেড়েই চলছে। সাংবাদিকরা অন্যায়কে সামনে তুলে ধরে আয়নার মত। এ জন্য সংবাদ পত্রকে আয়না বলা হয়। এখন কোন সাংবাদিক দূর্নীতি অনিয়ম রাহাজানী, সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করলেই ওরা সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা করে। রাতের অন্ধকারে হামলা চালয়।

 

সাংবাদিকরা সাংবাদিকতা ঝুকিপূর্ন পেশা জেনেই সাংবাদিকতা করে। যখন এ রিপোট লিখছি তখন বরিশালের ১ জন, ঝালকাঠির ২ জন সহ মোট ৩ জন কারাগারে রয়েছেন। হামলার শিকার হয়ে শেবাচিম হাসপাতালে রয়েছেন ১জন। মিথ্যা মামলা মাথায় নিয়ে ঘুরছেন বরিশালের অর্ধশত সাংবাদিক।কেউ কেউ ছেড়েছেন এলাকা মিথ্যা মামলায় দৈনিক আজকের বরিশালের সাংবাদিক নারী নির্যাতন মামলায় কারাগারে। দোষ ছিল একটি সংবাদ প্রকাশ। কি বিচিত্র এই দেশ। হায় সেলুকাস। মানহানি মামলা না হয়ে হয়েছে নারী নির্যাতন মামলা।

 

এভাবে একটি দূর্নীতির অনুুসন্ধানী মূলক সংবাদ প্রকাশ করে সমকালের ঝ্লাকাঠি প্রতিনিধি জিয়াউল হাসান পলাশ ও যমুনা টিভির ঝালকাঠি প্রতিনিধি দুলাল সাহা তাদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মানহানি ও চাদাবাজীর অভিযোগে মামলা দায়ের করে। চাদাবাজী পলাশ ও দুলাল সাহা কারাগারে। পটুয়াখালীর সাংবাদিক সঞ্জয় কুমার লিটু ও জলিলুর রহমান এক দূর্নীতিবাজ অসৎ প্রকৌশলীর মিথ্যা, বানোয়াট চাদাবাজী মামলায় কারাগারে যায়।

 

২৬ আগষ্ট তারা জামিনে মুক্তি পেয়েছে। বাকেরগঞ্জের কলসকাঠীর এক সন্ত্রাসী বাকেরগঞ্জের সাংবাদিক খলিলুর রহমানকে হত্যার হুমকি দিয়েছে। উজিরপুর, মেহেন্দিগঞ্জ ও বাবুগঞ্জ একাধিক সাংবাদিক সন্ত্রাসীদের হুমকিতে ভীত সন্ত্রস্ত। বরিশালের আজকের বরিশাল  ও পরিবর্তন পত্রিকার ৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মানহানির মামলা দায়ের হয়েছে। পটুয়াখলীতে মামলা নেই এমন সাংবাদিকের সংখ্যা কম।

 

এখানের অনেক সাংবাদিক পালিয়ে গেছে ঢাকায়। সম্প্রচার নীতিমালা  আইন আকারে হলে পালানো সাংবাদিকদের সংখ্যা বাড়বে। সরকার একদিকে সাংবাদিকদের কল্যানে কাজ করেছে অপর দিকে সাংবাদিকদের নিয়ন্ত্রনে আইন করছে। সাংবাদিকরা এখন অসহায়। সাগর-রুনী হত্যাকারীদের গ্রেফতার না হওয়ায় সাংবাদিকরা আরো অসহায় হয়ে পরেছে। এক পুলিশের নামে সংবাদ প্রকাশ করায় ইনকিলাবের বার্তা সম্পাদক কারাগারে।

 

সাংবাদিকরা আত্মগোপনে। জনদূর্ভোগ খ্যাত বিশিস্ট সাংবাদিক অখিল পোদ্দারর কে নির্যাতন করেছে পুলিশের এক দারোগা। এনিয়ে দেশ জুরে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। সাংবাদিক নেতাদের মতে সাংবাদিকদের জন্য আলাদা আদালত স্থাপন করা হোক। একই সাথে প্রেসকাউন্সিলকে শক্তিশালী করা হোক। সংবাদ সংক্রন্ত কোন অভিযোগ থাকলে তা প্রেস কাউন্সিল মামলা দায়ের করবে।

 

সাংবাদিকদের আইন, মামলা, হামলা দিয়ে নিয়ন্ত্রন করা হলে গনতন্ত্র হবে দুর্বল। দুব্র্ল হবে রাষ্ট্র। মানুষ হারাবে তাদের অধিকার। গনমাধ্যম সব সময়ই মতাশীনদের চুশূলে পরিনত হয়। বিগত দিনে দেখা গেছে বিএনপির সময় তাদের কাছে সাংবাদিকরা ছিল শত্র“ আর আওয়ামী লীগের কাছে ছিল বন্ধু। আ’লীগ মতায় এসে সাংবাদিকদের দেখে শত্র“ হিসেবে আর বিএনপি বন্ধু হিসেবে। আজ লোভের কারনে স্বার্থের কারনে সাংবাদিকদের মধ্যে লেজুর ছাড়তে নেমে পরেছে।

 

কেউ আ’লীগের সমর্থক সাংবাদিক আবার কেউ বিএনপি সমর্থক সাংবাদিক। অনৈক্যর কারনে আজ সাংবাদিকতা পেশা ঝুঁকিপূর্ন হয়ে উঠেছে। আগ্রহ হারাচ্ছে নবীন তরুন সাংবাদিকরা। সাংবাদিকরা ঐক্যবদ্ধ্য না হলে ঝুঁকির মাত্রা আরো বাড়েবে সাহস বেড়ে যাবে সন্ত্রাসীদের । আমাদের এক দফা এক দাবী নিয়ে নামতে হবে। যে হারে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে তথ্য প্রযুক্তি আইনে, চাদাবাজী ও নারী নির্যাতন দমন আইনে মামলা হচ্ছে তাতে ভবিষ্যতে সাংবাদিকতা পেশা ছেড়ে অন্য পেশার হাল ধরতে হবে।

 

আমরা কেন জানি আজ সকাল শ্রেনীর কাছে শত্র“তে পরিনত হয়েছি। সাংবাদকদের ভুল হলে সংবাদপত্র মালিকের নিকট, প্রেসকাব, প্রেসকাউন্সিলে অভিযোগ দিয়ে সেখানে প্রতিকার পাওয়া সম্ভব সেখানে ফৌজদারী আইনে মামলা দিয়ে হয়রানী করা কতটুকু যুক্তিযুক্ত। সাংবাদিকদের জন্য আলাদা আদালত সাংবাদিকদের নিরাপত্তা দেয়া এখন সময়ের দাবী।


জাতীয় এর অন্যান্য খবরসমূহ
বরিশাল এর অন্যান্য খবরসমূহ