মৌসুমি চামড়া বিক্রেতারা দরপতনে দিশেহারা - খবর তরঙ্গ
শিরোনাম :

মৌসুমি চামড়া বিক্রেতারা দরপতনে দিশেহারা



অনলাইন ডেস্ক, (খবর তরঙ্গ ডটকম)

ব্যাপক লোকসানে মাথায় হাত পড়েছে মৌসুমি চামড়া বিক্রেতাদের। কারণ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে রাজধানীর আড়তগুলোতে চামড়া এনে অর্ধেক দামেও বিক্রি করতে পারেননি তারা। আড়ৎদাররা বলছেন, তাদের মূলধন ঘাটতি, চামড়া শিল্প সাভারে স্থানান্তর এবং চামড়া সংরক্ষণের খরচ বৃদ্ধিসহ নানা কারণে চামড়ার এই দরপতন হয়েছে।

ঈদের দিন দুপুরের পর থেকে আড়তে কোরবানির পশুর চামড়ার দাম কমতে থাকায় অনেক মৌসুমি বিক্রেতা হাজার হাজার টাকা লোকসান গুনেছেন বলে দাবি করেছেন।

সরকার ট্যানারি মালিকদের জন্য চামড়ার দর নির্ধারণ করে দিলেও মৌসুমি বিক্রেতারা সেটি মাথায় রেখে বেশি দাম দিয়ে চামড়ায় কিনেই লোকসানে পড়েছেন বলে মনে করেন আড়তদাররা।

বৃহস্পতিবার অনেকে পশু কোরবানি দিলেও আরও লোকসানের শঙ্কায় মৌসুমি বিক্রেতা আর চামড়া কিনতে সাহস করেননি।

ময়মনসিংহের ত্রিশালের মৌসুমি বিক্রেতা আলিম উদ্দিন বলেন, ঈদের দিন তিনি শ খানেক চামড়া কিনেই বড় অঙ্কের লোকসান গুনেন। তাই আর চামড়া কিনতে সাহস করেননি।

বৃহস্পতিবার বিকেলে ফজলুল হক নামে নামে এক ব্যক্তি নিজের কোরবানির চামড়া বিক্রি করতে গিয়ে বিপাকে পড়েন। এক লাখ ২৫ হাজার টাকার গরুর চামড়া কেউ কিনতেই রাজি নন। অবশেষে একজন অনুরোধ করে মাত্র ২৯০ টাকায় বিক্রি করেন। তিনি বলেন, চামড়া বিক্রি করতে গিয়ে যে টাকা রিকশা ভাড়া দিয়েছি সেটাও হয়নি।

কোরবানির পশুর চামড়ার বাজারের পরিস্থিতি তুলে ধরে রমিজ উদ্দিন বলেন, বুধবার রাত ৯টা নাগাদ কোনো আড়তদার আমার কাছে চামড়া কিনতে আসেনি। পরে রাত ১০টায় মানসী সিনেমা হল এলাকায় নিয়ে লোকসানে চামড়া বিক্রি করেছি।

এ বছর সরকার ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকায় লবণযুক্ত গরুর চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুট ৪৫ টাকা থেকে ৫০ টাকা নির্ধারণ করে দেয়। গত বছর লবণযুক্ত চামড়ার দাম ধরা হয়েছিল প্রতি বর্গফুট ৫০ টাকা থেকে ৫৫ টাকা।

অন্যবছর রাজধানীর হাজারীবাগ ছিল কাঁচা চামড়া সংগ্রহের প্রধান ক্ষেত্র। হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি সাভারের হেমায়েতপুরে সরে যাওয়ায় এবার রাজধানীর সায়েন্স ল্যাবরেটরি, লালবাগের পোস্তা, নবাবপুরের মানসী সিনেমা হল, পুরান ঢাকার রায় সাহেব বাজার এলাকায় বসেছে চামড়ার অস্থায়ী পাইকারি বাজার।

মৌসুমি বিক্রেতারা পাড়া-মহল্লা থেকে বেশি দামে চামড়া কেনাতেই বিপত্তি হয়েছে বলে মনে করেন লালবাগের পোস্তা এলাকার আড়ত প্রগতী লেদার কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন।

তিনি বলেন, এবছর চামড়ার সর্বোচ্চ মূল্য ৪৫ টাকা থেকে ৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সেই হিসাবে প্রতি বর্গফুট চামড়া ৩০ থেকে ৩৫ টাকায় কিনতে হচ্ছে। কারণ এর সঙ্গে লবণ দেওয়ার খরচ যোগ হবে। আবার এই চামড়া নিয়ে যেতে হবে সাভারের হেমায়েতপুরে। আগে আমরা হাজারীবাগে পৌঁছে দিলেই চলত।



এ সম্পর্কিত আরো খবর

জাতীয় এর অন্যান্য খবরসমূহ