খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য আন্দোলনের কোন বিকল্প নাই: মির্জা ফকরুল - খবর তরঙ্গ
শিরোনাম :

খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য আন্দোলনের কোন বিকল্প নাই: মির্জা ফকরুল



প্রেস বিজ্ঞপ্তি, (খবর তরঙ্গ ডটকম)



প্রেস বিজ্ঞপ্তি
প্রতিহিংসার রাজনীতির শিকার, মিথ্যা মামলায় দীর্ঘদিন কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপার্সন আপোষহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নি:শর্ত মুক্তির দাবীতে গতকাল রোববার দুপুর ২.৩০টা থেকে বিএনপি’র রাজশাহী বিভাগীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপি’র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দেশ ও জনগণের মুক্তির জন্য বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির কোন বিকল্প নাই। এর জন্য কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারনে বেগম জিয়াকে কারাগারে রেখেছে এই সরকার। অসুস্থ হওয়া সত্বেও পরিবারের সদস্যদের সাথে বেগম জিয়াকে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছেনা এবং সুচিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছেনা। শুধু তিনিই রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার নন তাঁর বড় ছেলে বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে মিথ্যা মামলা দিয়ে একযুগ ধরে দেশের বাহিরে রেখেছে এই সরকার। এছাড়াও এই অনর্বিাচিত সরকারের নির্যাতনে বেগম জিয়ার আদেরর ছোট ছেলে আরাফাত কোকোকে অকালে প্রান দিতে হয়েছে। এত কিছু সহ্য করেও তিনি দেশ থেকে কোথাও যাননি। কারণ তিনি দেশের জনগণকে ভাল বাসেন। দেশের মানুষের কল্যানের কথা ভাবেন।
মহাসচিব আরো বলেন, বেগম জিয়াকে কারাগারে রেখেছে লুটপাট করে খাওয়ার জন্য। এই বিনাভোটের সরকার দেশের সকল প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংশ করেছে। ক্যাসিনোর মাধ্যমে যুবলীগের সোনার ছেলেরা হাজার হাজার কোটি টাকা দশ বছরের লুটপাট করে দেশের বাহিরে স্বর্গরাজ্য গড়ে তুললেও সরকার প্রধান তা দেখনেনি। ইতিমধ্যে ২৭০০ কোটি টাকার উপরে দেশের বাহিরে পাচার করেছে যুবলীগের ক্যাসিানো ব্যবসায়ীরা। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর এমপি মন্ত্রী ও প্রশাসনের উচ্চ পর্য়ায়ের কর্মকর্তারা এর সঙ্গে জড়িত বলে তিনি দাবী করেন। এই সকল দুর্নীতিবাজদের গ্রেফতারের দাবী জানান প্রধান অতিথি। তিনি বলেন, সমাবেশ উপলক্ষে সরকার ও তার আজ্ঞাবহ প্রশাসন ও আইন শৃংখলা বাহিনী রাজশাহীতে অঘোষিত কারফিউ জারী করেছে। বাস, ট্রাক, নৌকা ও ট্রেনসহ সকল যানবাহন বন্ধ করে দিয়েছে। রাস্তায় নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা হয়েছে। এত বাধা ও গ্রেফতার করে নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণকে থামিয়ে রাখতে পারেনি এই ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসররা। সমাবেশ জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে। তিনি গ্রেফতারকৃত সকল নেতাকর্মীদের নি:র্শত মুক্তির দাবী জানান। তিনি আরো বলেন, দেশের গণতন্ত্রকে হত্যা করে, দেশের মানুষকে খোলা কারাগারে রেখে, বাকস্বাধীনতা খর্ব করে দেশকে একটি অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করে বর্তমান রাতের ভোটের প্রধানমন্ত্রী দেশের বাহিরে একের পর এক বিভিন্ন পদক ক্রয় করছেন। এই সকল পদক আর মানুষ বিশ্বাস করে না। জনগণ এখন বুঝতে শিখেছে।
মহাসচিব আরো বলেন, দেশের মানুষের নজর অন্য দিকে নেওয়ার জন্য এখন পাড়া মহল্লায় জুয়ারী আটক করছে। রাঘব বোয়াল ধরা তারা এখন স্থগিত করেছে। কারন থলের বিড়াল একে একে বেড়িয়ে আসা শুরু করায় তারা এই পন্থা অবলম্বন করছে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কর্তৃক ঘোষতি আওয়ামী লীগের ৭০০ জন উচ্চ পর্য়ায়ের নেতাদের দ্রæত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির দাবী জানান তিনি। সেইসাথে নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্বাবধায়ক সরকারের অধিনে নির্বাচন দেওয়ার দাবী জানান মির্জা ফখরুল।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক, রাজশাহী মহানগর বিএনপি’র সভাপতি ও সাবেক রাসিক মেয়র মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপি’র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ইকবাল মাহমুদ টুকু, বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার অন্যতম উপদেষ্টা, সাবেক মেয়র ও সংসদ সদস্য জননেতা মিজানুর রহমান মিনু, উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, এ্যাডাভোকেট কামরুল মনির, বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক এ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, রাজশাহী বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এ্যাডভোকেট শাহীন শওকত, বেগম খালেদা জিয়ার একান্ত সহকারী শিমুল বিশ্বাস, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য অবসরপ্রপাপ্ত কর্ণেল আব্দুল লতিফ, সাবেক সংসদ সদস্য এ্যাডাভোকেট নাদিম মোস্তফা, সদস্য ও রাজশাহী জেলা বিএনপি’র আহবায়ক আবু সাঈদ চাঁদ। সমাবেশ পরিচালনা করেন বিএনপি কেন্দ্রীয় কিমিটির ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সহ-সম্পাদক ও রাজশাহী মাহনগর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এ্যাডাভোকেট শফিকুল হক মিলন।
এসময়ে উপস্থিত ছিলেন, বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সাইফুল ইসলাম মার্শাল, সদস্য সহিদুন্নার কাজী হেনা, জেলা বিএনপি’র আহবায়ক কমিটির সদস্য এ্যাডভোকেট মতিউর রহামন মন্টু, বিএনপি নেত্রী মাহমুদা হাবীবা, রাজপাড়া থানা বিএনপি’র সভাপতি শওকত আলী, বোয়ালিয়া থানা বিএনপি’র সভাপতি সাইদুল রহমান পিন্টু, মতিহার থানা বিএনপি’র সভাপতি আনসার আলী, শাহ্ মখ্দুম থানা বিএনপি’র সভাপতি মনিরুজ্জমান শরীফ রাজশাহী মহানগর বিএনপি’র যুগ্ম আহবায়ক ওয়লিউল হক রানা, মহানগর যুবদলের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ সুইট, সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হাসনাইন হিকোল, জেলা যুবদলের সভাপতি মোজাদ্দেদ জামানী সুমন, সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম সমাপ্ত, মহানগর সেচ্চাসেবক দলের সভাপতি জাকির হোসেন রিমন, সাধারণ সম্পাদক আবেদুর রেজা রিপন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি নুসরাত এলাহি রিজভী, সাধারণ সম্পাদক ওয়ালিউজ্জমান পরাগ, মহানগর মহিলা দলের যুগ্ম আহবায়ক এ্যাডভোকেট রওশন আরা পপি, অধ্যাপিকা সখিনা বেগম, লাকী, সামসুন্নাহার, নুরুন্নাহার, গুলশান আরা মমতা, মহানগর ছাত্রদলের সভ্পাতি আসাদুজ্জামান জনি, সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রবি, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি রেজাউল করিম টুটুল, সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জমান জনিসহ বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের বিভিন্ন জেলা, উপজেলা, থানা, পৌরসভা ও ওয়ার্ড এর সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
এদিকে খন্দাকর মোশাররফ হোসেন বলেন, রাজশাহীতে সমাবেশকে কেন্দ্র করে ভুতুরে নগরীতে পরিণত করেছে আইনশৃংখলা বাহিনী। পুরো বিভাগে সকল প্রকার যানবাহন বন্ধ করে দিয়েও জনশ্রোত থামাতে পারেনি এই সরকার। দেশের ১৬ কোটি মানুষ বিএনপি’র পক্ষে। তারা বেগম জিয়ার মুক্তি চায়। দেশের গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে চায়। আর এই গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে খালেদা জিয়ার মুক্তির কোন বিকল্প নাই বলে তিনি উল্লেখ করেন। সেইসাথে বর্তমান সরকারের অসীম দুর্নীতির তথ্য তুলে ধরেন।
যুবলীগের সভাপতির বক্তব্য তুলে ধরে মির্জা আব্বাস বলেন, ক্যাসিনোর ব্যবসায়ী যুবলীগের নেতারা এতদিন আরামে ব্যবসা করলেও সরকারের আইনশৃংখলা বাহিনী কি আঙ্গুল চুষছিলো। তারা এতদিন কোথায় ছিল। নাগের ডগায় ১০-১১ বছর ক্যাসিনোর ব্যবসা করলেও তারা কাউকে আটক করেনি। বরং ব্যবসায়ীদের নিকট থেকে জুয়ার টাকার ভাগ নিয়ে বাড়ি গাড়ি করেছে। এই সকল আইন শৃংখলা বাহিনীর সদস্যদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানান। তিনি বলেন, দেশ এখন চোরে ও জুয়ায় ভরে গেছে। এখন মাটির নিচ থেকেও চোর বের হচ্ছে।
গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, বেগম জিয়ার মুক্তি ও দেশের গণতন্ত্র পুণরুদ্ধারে রক্ত দিতে এবং নিতে হবে। দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। বিএনপি চেয়ারপার্সন তিনবারের সফল প্রধানমন্ত্রী বিনা কারনে জেলে রয়েছেন। তাঁকে মুক্ত করতে একমাত্র পথ ইট মারলে পাটকেল মারো নীতিতে চলতে হবে। দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে শুদ্ধি অভিযান পরিচালনা করার পুর্বে সরকারের পদত্যাগ দাবী করেন তিনি।
মিনু বলেন, এবারের সংগ্রাম বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির সংগ্রাম। এবারের সংগ্রাম রক্ত দেওয়ার সংগ্রাম। এবারের সংগ্রাম দেশের গণতন্ত্র পুণরুদ্ধার করার সংগ্রাম। তিনি বলেন, বেগম জিয়ার মুক্তির আন্দোলনের অংশ হিসেবে রাজশাহী বিভাগীয় সমাবেশ করার জন্য প্রশাসন অনুমতি নিয়ে নানা প্রকার টালবাহানা করে শেষ পর্যন্ত অনুমতি দেয়। এরসাথে তারা রাজশাহী বিভাগের সকল জেলা থেকে রাজশাহী অভিমুখে আসার যান বাহন বন্ধ করে দেয়। এতো কিছু করেও কি শেষ রক্ষা হয়েছে। বিএনপি জনগণের দল। বিএনপি’র নেতাকর্মী ও সাধারণ সমর্থকদের কোনভাবেই আটকিয়ে রাখা যাবেনা। নেতাকর্মীরা সকল বাধা উপেক্ষা করে সমাবেশ স্থলে সময়মত হাজিরে হয়ে জনসমদ্রে পরণিত করেছে। এখনো সময় আছে দ্রæত সময়ের মধ্যে বেগম জিয়ার মুক্তি ও সংসদ ভেঙ্গে দিয়ে পুনরায় নির্বাচনের দাবী জানান তিনি।
এদিকে বিভিন্ন জেলা থেকে আগত নেতাকর্মীরা বেগম জিয়ার মুক্তির আন্দোলনে জীবন দেওয়ার অঙ্গিকার করেন। সেইসাথে কঠোর কর্মসূচী ঘোষনার জন্য প্রধান অতিথির নিকট দাবী জানান। সভাপতি উপস্থিত সকল নেতাকর্মীদের ধন্যবাদ জানান। সেইসাথে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলনে সখলকে রাজপথে থাকার আহবান জানিয়ে সমাবেশ শেষ করেন।


রাজনীতি এর অন্যান্য খবরসমূহ
রাজশাহী এর অন্যান্য খবরসমূহ