রায়পুরে পৃথক গৃহবধু ও যুবক অপহরণ আহত-১২, লুটপাট, গ্রেপ্তার-৫ - খবর তরঙ্গ
শিরোনাম :

রায়পুরে পৃথক গৃহবধু ও যুবক অপহরণ আহত-১২, লুটপাট, গ্রেপ্তার-৫



(খবর তরঙ্গ ডটকম)

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় বৃহস্পতিবার (১৭ অক্টোবর) রাতে গাইয়ারচর গ্রামের মৌসুমী নামের এক গৃহবধু (২০) অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ১০-১৫ জনের সন্ত্রাসীদল মাইক্রো যোগে অপহরণ করে নিয়ে গেছে। এসময় সন্ত্রাসীরা ঘরে থাকা নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটে নেয় এবং নারীসহ ১২ জন কুপিয়ে আহত করে।  এঘটনায় রাতেই থানায় ৫ জনের নাম উল্লেখ্যসহ অজ্ঞাত  ৮-৯ জনকে আসামী করে মামলা করলে পুলিশ ৫ জনকে গ্রেপ্তার করে।
এছাড়াও একই সময়ে উপজেলার সিমান্তবর্তী চন্ডিপুর ইউনিয়নের বাংলাবাজার এলকা থেকে মো. সুমন (২৬) নামের যুবককে ডিবি পুলিশ পরিচয় সন্তাসীরা অপহরণ করে নিয়ে যায়। তবে এখন পর্যন্ত অপহৃতদের উদ্ধার করে পারেনি পুলিশ।

অপহৃত গৃহবধু উপজেলার উত্তর চরআবাবিল ইউনিয়নের ব্যবসায়ী শিমুল আখনের স্ত্রী ও ওই যুবক সিমান্তবর্তী চন্ডিপুর ইউনিয়নের কামারহাট এলাকার হাজী মো. শামছুরনুর পাটোয়ারী ছেলে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- কাজিরচর গ্রামের অপহৃত গৃহবধুর মা ও মৃত সিরাজ উল্ল্যার স্ত্রী ফারুল বেগম, তার বাড়াটিয়া সন্ত্রাসী একই গ্রামের মো. মামুন, মো. আনোয়ার হোসেন, মো. রবিউল ও মো. আজহার হোসেন।

অপহৃত গৃহবধুর স্বামী আতিকুর রহমান শিমুল আখন জানান, সন্ধ্যায় তিনি ও ছোট ভাই সোহেল বাড়ীর সামনে কথা বলছিলেন। তার স্ত্রী মৌসুমী আক্তার ঘরে ছিলেন। এসময় তার শাশুরি ফারুল বেগমের নেতৃত্বে ১০-১৫ জন সশস্ত্র সন্ত্রাসী মাক্রোতে করে এসে বাড়ীতে হামলা চালিয়ে আমাদেরকে কুপিয়ে নগদ ৫০ হাজার টাকা ও ৬ ভরি স্বর্ণালংকার লুটে মৌসুমীকে তুলে নিয়ে চলে যায়। এসংবাদ এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসী এগিয়ে আসলে সেলিনা আক্তার, সিরাজ উল্যাসহ  ১২ জনকে পিটিয়ে আহত করে। এঘটনায় গৃহবধুর শশুর সিরাজ উল্ল্যা ওই রাতে থানায় অপহরণ মামলা করেন।

এলাকাবাসী জানান, কয়েক বছর ধরে মৌসুমী তার পাশের এলাকার শিমুলের সাথে প্রেমের সর্ম্পক ছিল। কিন্তু মৌসুমীর মা ফারুল বেগম মেয়ে প্রেমের সর্ম্পক জানতে পেরে প্রায় এক মাস আগে একই এলাকার প্রভাবশালী পরিবারের ভবগুরে মো. হুমায়ুনের সাতে মেয়েকে চট্ট্রগ্রাম নিয়ে একটি হোটেলে জোড়পূর্বক বিয়ে দেন। পরে মৌসুমী প্রায় ৭ দিন পর সাবেক প্রেমিক শিমুলকে আদালতে বিয়ে করে তার ঘর সংসার করছিলেন। একারনে মৌসুমীর মা এঘটনা ঘটান।
এদিকে অপহৃত সুমনের পিতা মো. শামছুরনুর পাটোয়ারী জানান, সন্ধ্যা ৬টায় সুমন রায়পুর-রামগঞ্জ উপজেলার সিমান্তবর্তী নিজ বাড়ী কামার হাট এলাকা থেকে মাছিমপুর বাংলাবাজার আসছিলেন। এসয় সুমনের পথরোধ করে ৬-৭ জনের ডিবি পুলিশ পরিচয়ে সশস্ত্র সন্ত্রাসী অস্ত্রের মুখে জিম্মি মাইক্রোবাসে করে তুলে নিয়ে যায়। তারা এঘটনায় পুলিশকে জানিয়েছেন। এখনো তার খোজ পাইনি।

রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুপক কুমার সাহা বলেন, গৃহবধু অপহরনের ঘটনায় তার শশুর অপহরণের মামলা করলে মৌসুমীর মাসহ ৫ গ্রেপ্তার করা হয়। তবে মৌসুমীকে উদ্ধারের ব্যাপক অভিযান চলছে।
যোগযোগ করা হলে জেলার ডিবির (ওসি) ওয়াহিদুর রহমান বলেন, সিমান্তবর্তী এলাকা থেকে সুমন নামে কেউকে আটক করা হয়নি। তার ব্যাপারে খোজ খবর নেয়া হচ্ছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর

Uncategorized এর অন্যান্য খবরসমূহ