সোনাগাজীতে ফায়েল খায়ের গ্রুপের ৩টি শেল্টারের কাজে ধীর গতি ॥ এমপির অসন্তোষ

সাগর স্নাত সোনাগাজী উপজেলার উপকুলীয় অঞ্চলের জনগন বিভিন্ন সময় বন্যা ও জলোচ্ছাস সহ প্রাকৃতিক দূযোর্গে ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ায় দূর্গতদের অবস্থা বিবেচনা করে প্রাকৃতি দূর্যোগের সময় অবস্থানের জন্য ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক সৌদি আরবের বাদশার অর্থায়নে সোনাগাজীতে ফায়েল খায়ের গ্রুপের উদ্যেগে তিনটি সাইক্লোন সেল্টার কাম স্কুল ভবনের কাজ ধীর গতিতে চলছে। নিদিষ্ট সময়ে কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় এবং কাজে মান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সাংসদ হাজী রহিম উল্যাহ।
সরজমিনে গিয়ে ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক সৌদি বাদশার অর্থায়নে বৃহত্তর নোয়্খালী অঞ্চলে ফায়েল খায়ের গ্রুপের ১২টি সাইক্লোন সেল্টার কাম স্কুল ভবন নির্মানের কাজ পায় ঢাকার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স মাহবুব ব্রাদার্স।

এর মধ্যে সোনাগাজী উপজেলায় চলছে ফায়েল খায়ের তিনটি ভবন নির্মাণের কাজ। প্রতিটি ভবন নির্মাণ কাজ শেষ কথা সময় সীমা ধরা হয় ১৮ মাস। প্রতিটি ভবন ৩ তলা বিশিস্ট। ভবন গুলোর মধ্যে সোনাগাজী আল হেলাল একাডেমীতে নির্মানাধীন ফায়েল খায়ের গ্রুপের সাইক্লোন শেল্টার কাম স্কুল ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয় ২০১৪ সালের ১৬ অক্টোবর।  কিন্তু নির্মাণ কাজে ধীর গতির কারণে প্রকল্পের নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ায় পূণরায় মেয়াদ বাড়ানোর জন্য ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে আবেদন জানানো হয়েছে।

 

ভবন নির্মাণের কাজে নিয়োজিত ফায়েল খায়ের গ্রুপের ডিসিসি’র নির্বাহী প্রকৌশলী আফজাল হোসেন জানান, বিল্ডিং কোড মেনে কোম্পানীর দিক নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা ভবনের নির্মাণ কাজ করে যাচ্ছি। প্রাকৃতিক প্রতিকুলতার কারণে বিভিন্ন সময় কাজ বন্ধ থাকায় নির্ধারিত মেয়াদে প্রকল্পের কাজ শেষ করা সম্ভব হচ্ছে না।

 

তিনি আরো জানান, সাইক্লোন শেল্টার কাম স্কুল ভবনটি সিডো ফাইলিং এর কাজ হওয়ায় আগামী শত বছরের মধ্যেও ভবনের কোন ক্ষয় ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। ভূমিকম্পন প্রতিরোধক এ ভবনগুলো সৌদির বাদশাহের নিয়োগকৃত জার্মানীর পরামর্শক মার্গাজের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করা হচ্ছে। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মাহবুব ব্রাদার্সের সাইড ইঞ্জিনিয়ার দেবাশিস বাবু জানান, ভালো ভাবে পরীক্ষা নিরীক্ষার ভিতিত্তে ভবনের কাজ করা হচ্ছে। বর্তমানে প্রায় ৯০% কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বাকি কাজটুকুও আগামী কয়েক মাসের মধ্যে শেষ করা সম্ভব হবে।

 

তিনি আরো জানান, আমরা বুয়েট, সুয়েট, ডুয়েট পরীক্ষিত রড, সিমেন্ট, বালু ও পাথর এবং ইট ভবন নির্মাণের কাজে ব্যবহার করছি। ভবন নির্মাণে ব্যবহার হচ্ছে ৬০ গ্রেড ও ৪০ গ্রেডের ডিএসপি, আরএস, আরএসএম, আরএম রড। বসুন্ধরা গ্রুপের সিমেন্ট, ইন্ডিয়ান কালো পাথর,সিলেট সেন্ড বালূ ও নোয়াখালীর বসুর হাটের এবিএম ব্রীক ফিল্ডের ইট ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রতিনিয়ত আমাদের উর্ধ্বতন আইএমসি’র কর্মকর্তাগণ পরিদর্শনে এসে কাজের গুণগত মান যাচাই করে পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন।

 

আল হেলাল একাডেমীর প্রধান শিক্ষক আবদুল হক জানান, আমাদের স্কুলে নির্মানাধীন তিন তলা বিশিষ্ট ভবনটির কাজ ভালো ভাবেই হচ্ছে। আমার জানামতে এখানে কোন অনিয়ম হচ্ছে না। স্থানীয় কাউন্সিলর ইমাম উদ্দিন ভূঁঞা জানান, কোন অনিয়ম ছাড়াই সুন্দর ভাবে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের লোকজন ভবন নির্মাণের কাজ করছেন। আমরাও মাঝে মধ্যে কাজে সহযোগিতা করে যাচ্ছি। চরচান্দিয়া ইউনিয়নের উপকুলীয় অঞ্চলে দক্ষিণ পূর্ব চরচান্দিয়া গ্রামে আজিজুল হক মায়মুন আরা উচ্চ বিদ্যালয়েও ফায়েল খায়ের গ্রুপের তিন তলা বিশিস্ট আর একটি ভবনের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। সেখানেও সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কাজের গুণগত মান অনেক ভালো।

 

কাজে নিয়োজিত ইঞ্জিনিয়ার কাজী জসিম উদ্দিন জানান, ইতোমধ্যে ৯০% কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ফিটেস ফাইলিং কাজ হওয়ায় একটু সময় বেশি লাগছে।

 

তিনি আরো জানান, উপকুলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততার আশঙ্কা থাকায় ভবনে আমরা উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করছি। যাতে করে লবণাক্ততার কারণে ভবনের কোন ক্ষতি না হয়। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সাইড ইঞ্জিনিয়ার সঞ্জিত কুমার মহলদার জানান, ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরের ২০ তারিখ থেকে কোম্পানীর দিক নির্দেশনা অনুযায়ী ভালো ভাবেই ভবন নির্মাণের কাজ করা হচ্ছে।  ভবন নির্মান কাজে কোন প্রকার ত্রুটি হচ্ছে না। অপর দিকে চরদরবেশ ইউনিয়নের উপকুলীয় চাঁনমিয়ার দোকান এলাকার চাঁন মিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও একই গ্রুপের তিন তলা বিশিস্ট একই আকৃতির আরেক ভবনের কাজ চলছে। প্রাকৃতিক দূর্যোগের কারণে ভবনের নির্মাণ কাজে ব্যবহৃত দ্রব্যগুলোর মান ভালো নয় বলে সম্প্রতি পরিদর্শনে গিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য হাজী রহিম উল্যাহ অসন্তোষ প্রকাশ করে কাজ বন্ধ করে দেন। ভবন নির্মাণে নিয়োজিত ইঞ্জিনিয়ার মজিবুর রহমান জানান, স্থানীয় সংসদ সদস্যের নির্দেশ মতে আমরা কাজ বন্ধ করে দিলেও উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে পূনরায় কাজ চলছে।

 

আমাদের মতে ভবন নির্মাণে ব্যবহৃত কোন বস্তু ও জিনিসে অনিয়ম হচ্ছে না। কোম্পানীর নির্দেশনা অনুযায়ী ও পরামর্শকদের পরামর্শ নিয়ে কাজ করছি। সাইড ইঞ্জিনিয়ার আশ্রাফ সিদ্দিক জানান, কাজের গুণগত মান ভালো। বিল্ডিং কোড মেনে ভূমিকম্প প্রতিরোধে ভবন গুলোতে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের মধ্যে নির্মাণ কাজ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ৬৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে।

 

২০১৪ সালের ১৮ নভেম্বর থেকে শুরু হয়ে অদ্যাবধি নির্মাণ কাজ চলছে। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ায় আমরা ২০১৭ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আবেদন করে নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। সোনাগাজী উপজেলা চেয়ারম্যান জেড, এম, কামরুল আনাম জানান, সোনাগাজীতে ফায়েল খায়ের গ্রুপের নির্মানাধীন ৩টি ভবনের কাজের গুণগত মান অত্যন্ত ভাল। আমরা নিয়মিত নির্মাণ কাজের খোঁজ খবর নিয়ে থাকি।

স্থানীয় সংসদ সদস্য হাজী রহিম উল্যাহ জানান, ফায়েল খায়ের গ্রুপের তিনটি ভবন সহ চাঁন মিয়ার দোকান এলাকায় নির্মাণাধীন মাও শিশু হাসপাতালটির নির্মাণ কাজে ধীর গতি , অত্যন্ত নিন্মমানের রড, সিমেন্ট, বালু, ইট, পাথর ব্যবহার করা হচ্ছে। মরিচা পড়া রড নির্মাণ কাজে ব্যবহার করতে দেখে আমি নিজে কাজটি বন্ধ করে দিয়েছি। কিন্তু আমাকে না জানিয়ে তারা অদৃশ্য মহলের সহযোগিতা নিয়ে নির্মাণ কাজ চালাচ্ছে। আমি চাই আমার নির্বাচনী এলাকায় সকল উন্নয়ন মূলক কর্মকান্ড গুণগত মান সম্মত হলে জনগণ ও এলাকা বাসী উপকৃত হবে। যে কোন ধরণের উন্নয়ন কাজে আমার সহযোগিতার পাশাপাশি কর্তৃপক্ষকে কাজের গুণগত মান ধরে রাখার জন্য আহবান জানান।
ছবি সংযুক্ত।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।