পরকীয়া ব্যাধিটি ক্রমশই সমাজকে অন্ধকারে ঠেলে দিচ্ছে - খবর তরঙ্গ
শিরোনাম :

পরকীয়া ব্যাধিটি ক্রমশই সমাজকে অন্ধকারে ঠেলে দিচ্ছে



মো.আলী আশরাফ খান, (খবর তরঙ্গ ডটকম)

অপ্রিয় হলেও সত্য, পরকীয়া ব্যাধিটি ক্রমশই সমাজকে ঠেলে দিচ্ছে গভীর এক অন্ধকারে। এই মহাব্যাধিটি যেন কিছুতেই আমাদের পিছু ছাড়ছেই না! কোন না কোনভাবে আঁকড়ে ধরে রাখছে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ তথা জাতীয় পর্যায়ও।

 

এককথায়, এই মহাব্যাধিটি দিনে দিনে ধ্বংস করে দিচ্ছে আমাদের পারিবারিক সুখ-শান্তিকে। ‘ঘরের বউ কালা, পরের বউ ভালা’ এ বাক্যটি যেন প্রতিফলিত হতে যাচ্ছে আমাদের মাঝে। শুধু বউ কেন, জামাইয়ের ক্ষেত্রেও আজ এর বাস্তবতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। এক শ্রেণির কুরুচির পুরুষ এবং নারী তাদের বৈধ জীবন সঙ্গীকে অবজ্ঞা করে অন্যদের দিকে ঝুঁকে পড়ছে অন্ধের মত। তারা শয়তানের চক্র গোলকধাঁধায় পড়ে ভ্রান্তপথে পা বাড়াচ্ছে একের পর এক। আর এতে করে তাদের সাজানো সুখের সংসার তছনছ হয়ে যাচ্ছে। দিনে দিনে মহা এক ক্ষতির মধ্যে নিমজ্জিত হচ্ছে এসব নারী-পুরুষ।

 

আসলে এটা যে চরম নৈতিক অবক্ষয়ের চূড়ান্ত সীমানা, তা ঘূর্ণাক্ষরেও চিন্তা করে না বিপথগামীরা। একসময় যখন মোহ কেটে যায় এবং এর কুপরিণতি সামনে চলে আসে, তখন তারা দিশাহারা হয়ে উঠে। কিন্তু ততক্ষণে পরিস্থিতি আর অনুকূলে থাকে না। সর্বনাশ যা হওয়ার তা হয়েও যায়।

 

অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, দেশে বিয়ে বিচ্ছেদের সিংহভাগ ঘটনাই ঘটছে পরকিয়ার মতো ভয়াবহ ব্যাধির কারণে। দেশে এর সংখ্যা বেড়েই চলছে গাণিতিক হারে। ১৫/২০ বছর আগেও গ্রাম অঞ্চলে কিংবা নিন্মবিত্ত পরিবারের মধ্যে এক্ষেত্রে পুরুষরা এগিয়ে থাকলেও রাজধানীর উচ্চ ও উচ্চবিত্ত  শ্রেণীর ক্ষেত্রে এ চিত্র ছিল ভিন্ন।

 

কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে আমরা লক্ষ্য করছি, স্বামীরা প্রবাসে অবস্থানের সুযোগে গ্রাম-মফস্বল, থানা-উপজেলা পর্যায়েও এর ব্যাপকতা ভয়াবহ আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। তাদের স্বামীরা যখন প্রবাসে থাকছেন, তখন স্ত্রীরা পরপুরুষে আসক্ত হয়ে পড়ছেন। তারা এতটাই বেপরোয়া হয়ে উঠছেন যে, অনেক সময় বয়সের বাছ-বিচারও করছেন না। উদীয়মান তরুণদের নিয়ে শুরু করছেন ভালবাসার নামে যৌনতার হলিখেলা। আর এতে করে তাদের সংসার জীবনে বড় ধরনের অশান্তি ও বিপর্যয়ের সৃষ্টি হচ্ছে। তেমনি করে পুরুষরাও তাদের পরিণতি না ভেবে পরনারীতে আসক্ত হয়ে নৈতিকতা বিসর্জন দিচ্ছেন এবং নিজেদের সোনার সংসারকে ধ্বংস করছেন।

 

আরো একটি বিষয় এখানে উল্লেখ্য করার মত, বিজাতীয় সংস্কৃতি ও ধ্যান-ধারণার অনুকরণের ফলে আমাদের সমাজে নারী-পুরুষরা বিপথগামী হচ্ছে দ্রুত। বিজাতীয় সংস্কৃতির নেগেটিভ দিকগুলো আমাদের ব্যক্তি-পরিবার ও সমাজকে উঁইপোকার ঘিরে ধরেছে। বিজাতীয় সংস্কৃতির ফ্রি-সেক্স, বেহায়াপনা, অশ্লীল ও অসঙ্গতীপূর্ণ বিষয়গুলো ঢুকে পড়ছে আমাদের সংস্কৃতিতে।

 

যা নৈতিকতার অধঃপতন ঘটিয়ে সর্বনাশের কারণ হয়ে দেখা দিয়েছে এখন। সময় থাকতে এর বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলতে না পারলে মহাসর্বনাশে পতিত হবে জাতি-তা হলফ করে বলা যায়। আমরা জানি, প্রতি বছর সালিশী পরিষদে হাজার হাজার বিবাহ বিচ্ছেদের আবেদন জমা পড়ে। যার সিংহভাগই পরবর্তীতে বিবাহ বিচ্ছেদে গড়ায়। সমঝোতার মাধ্যমে আপস মীমাংসা হওয়ার সংখ্যা হাতে গোণাই বলা যায়। বৈধভাবে কাগজ-কলমে বিচ্ছেদ ঘটানোর জন্য মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত  শ্রেণীর লোকজনই বেশী যায় আদালতে। এর বেশীর ভাগ অভিযোগে দেখা যায়, স্বামী ও স্ত্রী একে অপরের বিরুদ্ধে পরকীয়া, বেপেরোয়া চলাফেরা, মতের অমিল, যৌন অক্ষমতা ও মানসিক নির্যাতনসহ অনেক বিষয় অভিযোগে ওঠে আসে।

 

অপরদিকে এক শ্রেণির উচ্চবিত্ত মানুষরা এমন কিছু ঘটনার জন্ম দেনÑযা সাধারণ মানুষদেরও এ ধ্বংসের পথে পা বাড়াতে উৎসাহিত করে। যাদের এসব অশুভ ক্রীয়াকলাপ-পরকীয়া বিষবাষ্প হয়ে ছড়ায় সমাজে। সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে অজান্তেই ঢুকে পড়ে পরকীয়া নামের নীলবিষ। আজকাল অহরহই পরকীয়ায় জড়িয়ে স্বামী, সন্তান ও সাজানো সুখের সংসার ফেলে অন্ধকারে ডুব দেয় কিছু বিবেকহীন মানুষ। পরকীয়ার জের ধরে স্বামীকে খুন করছে স্ত্রী, স্ত্রীকে খুন করছে স্বামী। কখনও কখনও সন্তানদেরকেও হত্যা করতে দ্বিধা করছে না-ওইসব মানুষ রূপী দানবরা। শুধু তাই নয়, এমন কোন লোমহর্ষক ঘটনা নেই, যা পরকীয়ার কারণে ঘটছে না। এমনি করে পরকীয়ার ঘটনায় পরিবার ও সমাজে এক ধরনের বিভীষিকাময় অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে এখন।

 

পরিশেষে একটি কথা না বললেই নয়, আমাদের দেশে সিংহভাগ মুসলমানের বসবাস। তা ছাড়া আমরা বাঙ্গালি হিসেবে আমাদেরও রয়েছে নিজস্ব একটি সংস্কৃতি। সুতরাং এখানে পরকীয়া চর্চা, নারী-পুরুষের মধ্যে অবাধ মেলামেশা বা কোন ধরনের বেহায়াপনা কোনভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা মনে করি, আজ এবং এখনই এ অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টিকে নিয়ে সরকারের উপরের মহল তথা সমাজসচেতন মানুষদের মধ্যে ভাবনার প্রয়োজন জরুরি হয়ে পড়েছে। সমাজে সচেতনতা বৃদ্ধিতে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালানোর লক্ষ্যে সরকারের পক্ষ হতে একটি পাইলট প্রকল্পও হাতে নেওয়া অত্যাবশ্যক বলে মনে করছি।


এ সম্পর্কিত আরো খবর

মতামত এর অন্যান্য খবরসমূহ