‘কাদাপানির মধ্য দিয়া যাতায়াত করি’ - খবর তরঙ্গ
শিরোনাম :

‘কাদাপানির মধ্য দিয়া যাতায়াত করি’



রহিম রেজা, ঝালকাঠি, (খবর তরঙ্গ ডটকম)

রাস্তার অবস্থা আর কি কমু। পোলাপানে নৌকা পাইলে স্কুল-কলেজে যায়, না পাইলে যায় না। কাদা ও পানির মধ্য দিয়া যাতায়ত করতে হয়। বৃষ্টি পড়লে ও জোয়ারে পানি ওঠে। পানি নাইম্যা গ্যালে কাদা পাড়াইতে হয়। কত রাস্তা-ঘাট করছে সরকার, আমাগো রাস্তা কি হইবেনা? কথাগুলো বলছিলেন কোমড় সমান পানি, আর হাঁটু সমান কাদার রাস্তা দিয়ে যাতায়াতকারী কৃষক মোশারেফ হোসেন। ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার সুবিদপুর ইউনিয়নের টাকবাজার থেকে কুলকাঠি ইউনিয়নের কাপড়কাঠি গ্রামের দুই কিলোমিটার সড়ক নিয়ে শুধু মোশারেফ হোসেন নয়, ক্ষোভ রয়েছে তিনটি গ্রামের বাসিন্দাদের। কাপড়কাঠি, সৈয়র ও মাদারঘোনা গ্রামেরদুই হাজার মানুষ এই সড়কটি দিয়ে যাতায়াত করেন।

 

সরজমিনে দেখা যায়, নলছিটি-মোল্লারহাট পিচঢালা সড়ক দিয়েযাতায়াতকারীদের চোখ আটকে যায় একটি সড়কের বেহাল অবস্থাদেখে। সুবিদপুর ইউনিয়নের টাকবাজার থেকে পশ্চিম পাশে যেতেই কাঁচা এই সড়কটি দুইটি ইউনিয়নের সংযোগ তৈরি করেছে।বর্ষা মৌসুমে সড়কটি পানিতে তলিয়ে আছে। কোমড় সমান পানির মধ্য দিয়ে যাতায়াত করছেন স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসারশিক্ষার্থীসহ স্থানীয় বাসিন্দারা। কখনো পানি কমে গেলে হাঁটু সমান কাদার ভেতর দিয়ে বাড়ি যেতে হয় তাদের। কাদা মাটির এই সড়কটি স্থানীয় বাসিন্দাদের সীমাহীন কষ্ট দিচ্ছে। সড়ক দিয়ে নিয়মিত যাতায়াতকারী স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মাটির সড়কটি দিয়ে শুকনো মৌসুমে যাতায়াত করা যায়। কিন্তু বর্ষা মৌসুমে শরীর ও জামা কাপড় শুকনো রেখে ওই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করা যায় না। স্থানীয় দুই ইউনিয়নপরিষদের জনপ্রতিনিধিদের জানানো সত্ত্বেও কখনো উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি সড়কটিতে।

 

দুই ইউনিয়নের টানাটানিতে সড়কটি কেউ নির্মাণ করছেন না। এলইজিইডি বিভাগের এই মাটির সড়কটি প্রায় পাঁচ বছর আগে পাকা করার জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। কিন্তু ঠিকাদার সময়মতো কাজ না করায় দরপত্র বাতিল করেকর্তৃপক্ষ। এ অবস্থায়ই পড়ে থাকে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি। মাদারঘোনা গ্রামের বাসিন্দা হেমায়েত উদ্দিন বলেন, আমাদের কষ্টের শেষ নেই। পানির মধ্য দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। পানি কমলেও দুর্ভোগের অন্ত থাকে না। হাঁটু সমান কাদায় দুর্ভোগ আরোবেড়ে যায়। পাঁচ বছর আগে শুনেছিলাম রাস্তাটি পাকা হবে। এর পর আরকোন খবর নাই। সৈয়র গ্রামের কলেজ ছাত্রী মারুফা আক্তার বলেন, এই সড়ক দিয়েকলেজে যেতে হয়। স্থানীয় তালতলা বাজারে যেতেও সড়কটির বিকল্প নেই

 

দুই কিলোমিটার এই সড়কটি দিয়ে বর্ষা মৌসুমে কখনোনৌকায় কখনো ডোঙায় করে পার হতে হয়। আমরা এখনছিটমহলবাসী হয়ে গেছি। কেউ বলছে এই সড়কের কাজ কুলকাঠির ইউনিয়ন পরিষদ করবে। কেউ আবার বলছে এটা সুবিদপুর ইউনিয়ন পরিষদ করবে। দুই ইউনিয়নের টানাপড়েনে রাস্তাটি এখনো নির্মাণ করা হয়নি। স্থানীয় ইউপি সদস্য ইউনুস ফকির বলেন, সড়কটি দিয়ে যাতায়াত করা এখন সম্ভব নয়। কেউ জরুরী প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হয়না। বর্ষা মৌসুমে এখানের বাসিন্দারা একরকম ঘরে বন্দি হয়েথাকেন। কুলকাঠি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এইচ এম আখতারুজ্জামানবাচ্চু বলেন, সড়কটির এক কিলোমিটার কুলকাঠি ইউনিয়নের মধ্যে পড়েছে।

 

ওই এক কিলোমিটার পিচঢালা, কিন্তু বাকিটুকো সুবিদপুর ইউনিয়নের মধ্যে পড়েছে। ওই সড়কে পানি ও কাদা জমে থাকে। এক কিলোমিটার কাঁচা থাকায় পিচঢালা এক কিলোমিটার সড়ক কোন কাজে আসছে না। সড়কটি পাকা হয়ে গেলে স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্ভোগ কমে যাবে। নলছিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আশ্রাফুল ইসলাম বলেন, স্থানীয়দের দুর্ভোগের কথা জানতে পেরে জেলা প্রশাসক স্যার আমাদের সড়কটি দেখার নির্দেশ দিয়েছেন। আমরা সড়কটি পরিদর্শন করেছি।

 

বিষয়টি ডিসি স্যারকে জানানো হয়েছে। আশাকরি তিনি এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা নিবেন। ঝালকাঠির জেলা প্রশাসক মো. হামিদুল হক বলেন, আমাদের জেলায় এধরণের একটি সড়ক রয়েছে, আগে জানতাম না। সড়কের বেহাল অবস্থা আমাদের নজরে এসেছে। এ বিষয়ে এলজিইডি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর

মতামত এর অন্যান্য খবরসমূহ