রায়পুরে পুলিশের উপস্থিতিতে বহিরাগতদের হামলা, ভাংচুর,লুটপাট, আহত-৫

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে জমি বিরোধকে কেন্দ্র করে পুলিশের উপস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত দুই পরিবারের বসতঘর ভাংচুর করেছে বহিরাগত সস্বস্ত্র লোকজন। এসময় নগদ টাকা, স্বর্ণালংকারসহ প্রায় তিন লাখ টাকার মালামাল লুটে নেয় এবং শিশু ও নারীসহ ৮জনকে পিটিয়ে মারাত্বক জখম করেছে। গুরুতর জখম শিশুসহ ৫জন সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার কেরোয়া গ্রামের ব্রাক অফিস সংলগ্ন শামছুল হক মাস্টারের বাড়ীতে।

 

এঘটনায়  বিকালে শহরের একটি চায়নিজ রেস্টুরেন্টে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রতিবাদ ও বিচার দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত জাকির হোসেন, মোঃ দেলোয়ারের পরিবার ও ঢাকা সংবাদপত্র হকার্স সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ ইউছুফ।  এসময় উপস্থিত ছিলেন, হকার্স সমিতির নেতা মোঃ ইউছুফ, ক্ষতিগ্রস্ত জাকির হোসেন, দেলোয়ার হোসেন, রোকেয়া বেগম, ফাতেমা বেগম, নুরজাহান, আরজু আক্তার, মিজানুর রহমান, মিরাজ হোসেন ও মোঃ ইয়াছিন।

 
সংবাদ সম্মেলনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবাররা জানান, গত চার বছর ধরে ১২ শতাংশ জমি নিয়ে কেরোয়া গ্রামের নিরিহ জাকির হোসেন ও দেলোয়ার হোসেন গংদের সাথে একই এলাকার প্রভাবশালী মাসুদ গংদের আদালতে মামলা চলে আসছিল। হঠাৎ করে কোন নোটিশ ছাড়াই মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় সৈয়দ আহম্মদের ছেলে মাসুদ ড্রাইভারের নেতৃত্বে ২০-২৫ জনের স্বসস্ত্র বহিরাগত যুবকদের নিয়ে নিরিহ মোঃ জাকির ও দেলোয়ারের বাড়ীতে হামলা চালায়।

 

এসময় তারা জাকির ও দেলোয়ারের ভবন ভাংচুর, আলমারিতে থাকা নগদ দেড় লাখ টাকা ও ৬ ভরি স্বর্ণসহ প্রায় তিন লাখ টাকার মালামাল লুটে নিয়ে যায়। এতে বাধা দিলে ১০ মাসের শিশু আজমিরকে ঘরের থেকে উঠানে নিক্ষেপ করে, আছিয়া বেগম (১৮), আরজু আক্তার (১৯), রোকেয়া বেগম (৬৫) ও ফাতেমা বেগম (৪২)সহ ৮জনকে পিটিয়ে আহত করে। এসময় একই বাড়ীর বাসিন্দা ও ঢাকা সংবাদপত্র হকার্স সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ ইউছুফ  এঘটনায় নোটিশ নেয়া হয়েছে কিনা কারন জানতে চাইলে তাকে লাঞ্চিত করে রায়পুর থানার এএসআই নুরুল আমিন। এসময় লক্ষ্মীপুর জেলা জজ আদালতের প্রসাশনিক কর্মকর্তা সারোয়ার আলম, রায়পুর থানার এএসআই নুরুল আমিনসহ সঙ্গীয় পুলিশ ফোর্স উপস্থিত ছিলেন।
এঘটনায় অভিযুক্ত প্রভাবশালী মাসুদ ড্রাইভারের সাথে বার বার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়।

 
রায়পুর থানার এএসআই নুরুল আমিন জানান, আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তার সহযোগীতায় উচ্ছেদ চালাতে গেলে ভুল বসত হকার্স সমিতির নেতা র গায়ে ধাক্কা লাগে। এজন্য আমি ক্ষমা প্রার্থনা করেছি। আপনি এব্যাপারে ওসি সাহেবের সাথে কথা বলেন বলে ফোন কেটে দেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।