লক্ষ্মীপুরে সড়ক সংস্কারে অনিয়মের অভিযো নির্বাহী বললেন, ঠিকাদার অশিক্ষিত! - খবর তরঙ্গ
শিরোনাম :

লক্ষ্মীপুরে সড়ক সংস্কারে অনিয়মের অভিযো নির্বাহী বললেন, ঠিকাদার অশিক্ষিত!



মো.আতোয়ার রহমান মনির, লক্ষ্মীপুর, (খবর তরঙ্গ ডটকম)

লক্ষ্মীপুরের প্রায় ২২ কোটি টাকা বরাদ্দের ১৯ কিলোমিটার একটি সড়ক সংস্কার কাজের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। দায়সারাভাবে চলছে বলে দাবি স্থানীয়দের। এরমধ্যে হাজীগঞ্জ-রামগঞ্জ-লক্ষ্মীপুরের প্রায় ৮ কিলোমিটার সড়কে বেস্টেফ ওয়ান (৭০ শতাংশ পাথর ও ৩০ শতাংশ বালু) ব্যবহার করে রোলারিং করার কথা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। পুরনো সড়কটি বযাকটপ (কার্পেটিং) উল্টিয়ে তা পুনরায় রোলারিং করা হচ্ছে। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান তদারকির দায়িত্বে থাকা সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তাদের যোগসাজশে এ অনিয়ম করছেন। অভিযোগ রয়েছে, ইতিমধ্যে দায়সারাভাবে কাজ করে বরাদ্ধের একাংশের টাকা উত্তোলন করেছেন ঠিকাদার।


এদিকে লক্ষ্মীপুর পৌরসভার জেলেপাড়ার লোকজন সড়কটির সংস্কার কাজে অনিয়মে ক্ষুদ্ধ হয়ে উঠে। তারা সড়কটির কাজ বন্ধ করে দেয়। এসময় ঘটনাস্থল উপস্থিত থাকা লক্ষ্মীপুর সড়ক ও জনপথ কার্যালয়ের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আমির খান স্থানীয়দেও তোপের মুখে পড়ে। একপর্যায়ে তিনি কাজ বন্ধ করে দিয়ে কৌশলে সটকে পড়েন।
জেলা সড়ক ও জনপথ কার্যালয় সূত্র জানায়, গেল বছর হাজীগঞ্জ-রামগঞ্জ-লক্ষ্মীপুরের ১৯ কিলোমিটার সড়কের সংস্কারের জন্য সরকার ২১ কোটি ৯২ লাখ ৩৩ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়। কাজের টেন্ডারটি পায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান শহীদ ব্রাদার্স ও ইউনুস এন্ড ব্রাদার্স জেবি। মার্চের মধ্যে কাজটি সম্পন্ন করার নির্দেশনা রয়েছে। প্রায় ৮ কিলোমিটার সড়কে ৬ ইঞ্চি বেস্টেফ ওয়ান (৭০ শতাংশ পাথর ও ৩০ শতাংশ বালু), ২ ইঞ্চি বাইন্ডার, ওভারলে ৪০ মিলি ধরা রয়েছে। এছাড়াও সড়কের দুই পাশে মাটি ভরাটের কথা রয়েছে।


এদিকে খনন যন্ত্র (ভেক্যু) দিয়ে পুরনো সড়কটি উল্টিয়ে বø্যাকটপ ভেঙে বালু ছিটিয়ে পানি দিয়ে রোলারিং করা হচ্ছে। এসময় দুইটি রোলার ও একটি পানি ছিটানোর মেশিন দিয়ে কাজ করতে দেখা যায়। কার্পেটিং করা স্থানে রোলারিংয়ে পাথরগুলো গুড়ো হয়ে যাচ্ছে। ৫০ মিলি বাইন্ডার থাকার কথা থাকলেও বেশিরভাগ স্থানেই ২০-৩০ মিলি পর্যন্ত দেওয়া হয়েছে। ৬ ইঞ্চি বেস্টেফ ওয়ান থাকার কথা থাকলেও তা কোথাও দেখা যায়নি।
সড়কের দুই পাশে কোথাও মাটি ফেলা হয়নি। মাটি ভরাট না করায় কয়েকটি স্থানে এইজিংয়ের ইট সওে গেছে। সংস্কারের পর ১০ ইঞ্চি পুরত্ব থাকার কথা থাকলেও অনিয়মেই সাড়ে ৪ ইঞ্চিতে আটকে যাচ্ছে। ৮ কিলোমিটার সড়কে বেস্টেফ ওয়ান (৭০ শতাংশ পাথর ও ৩০ শতাংশ বালু) দেওয়া কথা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। সংশ্লিষ্টদের তদারকি ছাড়া কার্পেটিংয়ের জন্য বিটুমিন ও পাথর মেশানো মালামাল কুমিল্লা থেকে আনা হয়। এতে যাতায়াতের সময়ক্ষেপনে মিশ্রিত মালামালের গুণগত মান নষ্ট হচ্ছে।


পালের হাটের ইজারাদার মাকসুদুর রহমান জানান, পুরাতন সড়ক খনন যন্ত্র (ভেক্যু) দিয়ে উল্টিয়ে রোলার দিয়ে পিষে দিয়েছে। নতুন পাথর দেওয়ার কথা থাকলেও দেওয়া হয়নি। শুধুমাত্র যেসব স্থানে গর্ত ছিল সেখানে নতুন পাথর দেওয়া হয়েছে। কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে সরকারের কোটি কোটি টাকা লুটপাটের পাঁয়তারা চলছে। সরেজমিনে তদন্ত করলে অনিয়মের সত্যতা পাওয়া যাবে বলে জানান তিনি।


জেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহবায়ক নজরুল ইসলাম ভুলু জানান, ব্যস্ততম সড়কটির ৮কিলোমিটার এলাকায় পাথর মেকাডম (বেস্টেফ ওয়ান) দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কোথাও নিয়ম মানা হয়নি। পুরনো সড়কটি ভেঙে সেগুলো ব্যবহার করেই পানি দিয়ে রোলারিং করা হয়। এতে নিন্মমানের পাথর ও খোলা বিটুমিন ব্যবহার করা হচ্ছে।
এসব অভিযোগে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ক কাউসার হোসেনের মোবাইলফোনে একাধিকবার কল করেও সাড়া পাওয়া যায়নি।


জানতে চাইলে লক্ষ্মীপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সুব্রত দত্ত জানান, অনিয়মের অভিযোগে স্থানীয়রা কাজটি বন্ধ করে দিয়েছে। ঠিকাদার আন-এডুকেটেড। এনিয়ে ঠিকাদারের সঙ্গে আমি কথা বলেছি। সড়কের কাজ ঠিকভাবে বুঝে নেওয়া হবে। পরিপূর্ণ বিল দেওয়ার আগেই পুরো সড়ক ঠিক আছে কিনা যাছাই করা হবে। কোথাও অনিয়ম দেখলে সেখানে নতুন করে আবার মেরামত করা হবে। এরআগে ঠিকাদারকে বিল দেওয়া হবে না।


এ সম্পর্কিত আরো খবর

লক্ষীপুর এর অন্যান্য খবরসমূহ
লক্ষ্মীপুর এর অন্যান্য খবরসমূহ
পূর্বের সংবাদ
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯