মেঘনার জোয়ারে রায়পুরসহ জেলায ১১ হাজার হেক্টর জমির ফসলের ক্ষতি - খবর তরঙ্গ
শিরোনাম :

মেঘনার জোয়ারে রায়পুরসহ জেলায ১১ হাজার হেক্টর জমির ফসলের ক্ষতি



তাবারক হোসেন আজাদ, (খবর তরঙ্গ ডটকম)

মেঘনার অস্বাভাবিক জোয়ারে লক্ষ্মীপুরের রায়পুর সহ চার উপজেলার অর্ধশতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। হঠাৎ নদীর পানি ৫-৬ ফুট বৃদ্ধি পাওয়ায় স্বল্প সময়ের মধ্যে দুই লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। জোয়ারের পানিতে ১১ হাজার হেক্টর জমির ফসলসহ গবাধিপশু, মুরগির পোল্ট্রি খামার ও শতাধিক মাছের ঘের ক্ষতির শিকার হয়েছে।


বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেলে আচমকা মেঘনার অস্বাভাবিক জোয়ারে এমন ক্ষতির শিকার হন উপকূলের বাসিন্দারা। বেড়ি বাঁধ না থাকায় পূর্ণিমার প্রভাবে অস্বাভাবিক জোয়ারে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।


বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার ক্ষতিগ্রস্থ এলাকাগুলো পরিদর্শন করে ও ক্ষতিগ্রস্থ এলাকার পরিবারগুলোর তালিকা করে আর্থিক সহায়তার জন্য রায়পুরসহ চার উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাগণ জেলা প্রশাসকের নিকট প্রেরণ করেছেন।


সূত্রে জানা যায়, রায়পুর থেকে সদর ও কমলনগর হয়ে রামগতি উপজেলা পর্যন্ত ৬০ কিলোমিটার নদীর তীর এলাকা। মেঘনার ভয়াবহ ভাঙ্গনে নদীতে বিলিন হয়ে গেছে বেড়িবাধ। তাই অরক্ষিত হয়ে পড়ে এসব এলাকা। হঠাৎ বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেলে মেঘনা নদীর জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে ৫ থেকে ৬ ফুট বেড়ে যায়।


খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রায়পুরের উত্তর চরবংশী, দক্ষিন চরবংশী, উত্তর চরআবাবিল, দক্ষিন চরআবাবিল ইউপির ১৫ টি গ্রাম, সদর উপজেলার ১৩ টি গ্রাম, কমলনগর উপজেলার ৫টি গ্রাম ও রামগতি উপজেলার ১২টি অর্ধশত গ্রাম প্লাবিত। নদীর তীর থেকে এসব এলাকার প্রায় ৪ কিলোমিটার পর্যন্ত জোয়ারের পানি প্রবেশ করে। এতে প্রায় দুই লক্ষাধিক মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়েছে। অস্বাভাবিক জোয়ারের কারণে নদী সংযুক্ত খাল, পুকুর, শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয়-প্রতিষ্ঠান ও রাস্তাঘাট হাঁটু পরিমাণ পানিতে ডুবে আছে। শত শত বসতঘরে পানি ঢুকে ক্ষতি হয়েছে আসবাবপত্র ও বিভিন্ন মালামাল। এতে মেঘনা উপকূলীয় মানুষগুলো চরম ভোগান্তিতে পড়েছে।

এদিকে রায়পুর উপজেলায় কয়েকটি মৎস্য ঘেরের প্রায় অর্ধকোটি টাকার মাছ জোয়ারে ভেসে গেছে। উপজেলার চর আবাবিলসহ কয়েকটি গ্রামের অন্তত ৩ হাজার পানের বরজ পানিতে তলিয়ে গেছে। পান নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন চাষীরা। এছাড়াও ৫ শতাধিক ঘর-বাড়ি পানিবন্দি হয়ে পড়ে। অপরদিকে কমলনগরের চর লরেন্স ইউনিয়নের ‘তাজ পোল্ট্রি খামারের’ সাড়ে ৫ হাজার মুরগী জোয়ারের পানিতে ডুবে মারা গেছে। নষ্ট হয়ে গেছে মুরগির খাবার। এতে প্রায় ৩০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে খামারী মো. ওসমানের।


জেলা কৃষি অফিসের উপ-সহকারি কর্মকর্তা আবুল হোসেন জানান, মেঘনার অস্বাভাকি জোয়ারে জেলার ৪টি উপজেলা আউশ, রোপা আমন, বোনা আমন ও শাকসবজিসহ ১১ হাজার হেক্টর ফসলি জমি নিমজ্জিত হয়েছে। এতে রোপা আমনের ৩৭৫ হেক্টর জমির বীজতলাও নষ্ট হয়ে গেছে। কৃষকরা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। ক্ষতির পরিমান সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট পাঠানো হয়েছে।


জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বন্যা মোকাবেলায় জিআর নগদ ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা, জিআর চাল ৩৫০ টন, গোখাদ্যের জন্য ৬ লক্ষ টাকা, শিশু খাদ্যের জন্য ২ লক্ষ টাকা, শুকনা খাবার ২ হাজার প্যাকেট মজুদ রাখা হয়েছে। এছাড়াও কবলিত এলাকর মানুষের আশ্রয়ে ৫ উপজেলায় ১০১টি আশ্রয়ণ কেন্দ্র খোলা রয়েছে।


উপজেলা এর অন্যান্য খবরসমূহ
জেলা এর অন্যান্য খবরসমূহ
লক্ষীপুর এর অন্যান্য খবরসমূহ
লক্ষ্মীপুর এর অন্যান্য খবরসমূহ
পূর্বের সংবাদ