রায়পুরে ২য়বারের জলোচ্ছাস: মেঘনা তীরবর্তি ১৫ গ্রাম ও জলাবদ্ধতায় পৌর শহর - খবর তরঙ্গ
শিরোনাম :

রায়পুরে ২য়বারের জলোচ্ছাস: মেঘনা তীরবর্তি ১৫ গ্রাম ও জলাবদ্ধতায় পৌর শহর



তাবারক হোসেন আজাদ, রায়পুর (লক্ষ্মীপুর):, (খবর তরঙ্গ ডটকম)

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে শুক্র ও শনিবার মেঘনা উপকূলে ২য়বারের জলোচ্ছ্বাসে ভেসে গেছে ১৫ গ্রামের প্রায় ৮ হাজার অসহায় পরিবারের বাড়ি-ঘর। ১৩টি শিক্ষা ও ৫টি বাজারসহ ৫’শ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, প্রায় ৮ হাজার বাসা-বাড়ী,তে হাটু পানি বিরাজ করছে। এছাড়াও ৯টি পশুর খামার, ৩’শ মাছ চাষের পুকুর ও ৪৫ টি পোল্টি খামার ডুবে গেছে।   একরুন অবস্থা থেকে উদ্ধার পেতে সিআইপি ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ক্ষতিগ্রস্থ মানুষ। 


অপরদিকে,টানা বর্ষনে রায়পুর-পৌর শহরের মুরিহাটা, মধ্যবাজার, পীরফজলুল্লাহ সড়ক, উপজেলা পরিষদ চত্তর, মহিলা কলেজ সড়ক, নতুন বাজারসহ নয়টি ওয়ার্ডের বাসা-বাড়ীতে হাটু পানি বিরাজ করছে। পানি নিষ্কাসনের ব্যবস্থা না থাকায় এ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছ বলে অভিযোগ করেছেন নতুনবাজারে বাসিন্দা ব্যবসায়ী মোঃ জাহাঙ্গির ।


রোববার সরজমিন দেখা যায়, উপজেলার ১০ ইউপির মধ্যে উত্তর চরবংশী-দক্ষিন চরবংশী-উত্তর চরআবাবিল ও দক্ষষিন চরআবাবিল ইউপির ১৫টি গ্রামের ৪০ কিলোমিটার এলাকায় কোটি কোটি টাকার সম্পদহানী ঘটেছে উপকূলবাসীর। এখন কেবলই চোখে পড়ে ক্ষতচিহ্ন। বেড়িবাঁধ  থাকায় বেঁচে গেছে ছয় ইউনিয়নবাসী। কিন্তু মেঘনার পশ্চিম পাশের-পানি ফুঁসে উঠায় চরম ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে তীরবর্তী রায়পুরের চার ইউপির ১৫ গ্রামের প্রায় পাঁচ হাজার পরিবার। ৭ ফুট উচ্চতার এমন জলোচ্ছ্বাস গত ২০ বছরেও দেখেনি ওই এলাকার প্রবীণরা। 


ক্ষতিগ্রস্থ গ্রামবাসীরা জানান, জোয়ারের কয়েক মিনিটের মধ্যেই তীরে আঘাত হানে এবং মুহুর্তেই উপকূল অঞ্চলের নদী থেকে কয়েক কিলোমিটার তান্ডব চালায়। এ জলোচ্ছ্বাসে বসতঘরসহ আসবাবপত্র , পুকুরের মাছ, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সাথে রাস্তারও করুন অবস্থার সৃষ্টি হয় । পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কৃষকের ফসলি জমি ও আমন বীজতলা। পাশাপাশি রাস্তা ভেঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। এ অঞ্চল নদী কেন্দ্রিক অর্থনীতি নির্ভর হওয়ায় ইলিশের বাজারজাতকরণে সড়কগুলো বড় ভূমিকা রাখে৷ সড়কগুলোর এমন বেহাল দশাতে ব্যবসায় বড় ধরণের ক্ষতি দেখছেন ইলিশ ব্যবসায়ীর সাথে কৃষকরাও।


রায়পুরের উত্তর চরবংশী ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ হোসেন ও দক্ষিন চরআবাবিল ইউপি চেয়ারম্যান শহীদ উল্যা বলেন, অধিকাংশ গ্রাম নদীগর্ভে বিলীন। বেড়িবাঁধের পশ্চিম পাশে বসবাস করা মানুষের ভিটে-মাটিতো বিলীন করছেই, পাশাপাশি একটু জোয়ার হলে পানিতে সব তলিয়ে যায়। মানুষদের দুর্ভোগের সীমা থাকে না।


রায়পুর পৌরসভার মেয়র হাজি ইসমাইল খোক বলেন, নতুন ড্রেনেজ ব্যবস্থা করা হয়েছে। বাকিগুলোর কাজ সেপ্টেম্বরের মধ্যেই শুরু হবে। পানি নিষ্কাশনে কাজ করা হচ্ছে।
রায়পুর-লক্ষ্মীপুর


উপজেলা এর অন্যান্য খবরসমূহ
জেলা এর অন্যান্য খবরসমূহ
রায়পুর এর অন্যান্য খবরসমূহ
লক্ষীপুর এর অন্যান্য খবরসমূহ
লক্ষ্মীপুর এর অন্যান্য খবরসমূহ
পূর্বের সংবাদ