মেঘনায় শেষ হলো ইলিশ ধরার অপেক্ষা লক্ষ্মীপুরের ৩৬ হাজার জেলের মাছ ধরার প্রস্তুতি - খবর তরঙ্গ
শিরোনাম :

মেঘনায় শেষ হলো ইলিশ ধরার অপেক্ষা লক্ষ্মীপুরের ৩৬ হাজার জেলের মাছ ধরার প্রস্তুতি



মো.আতোয়ার রহমান মনির,লক্ষ্মীপুর, (খবর তরঙ্গ ডটকম)

নিষেধাজ্ঞার ২২দিন পর লক্ষ্মীপুরের মেঘনা নদীতে মাছ শিকারের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে জেলেরা। দীর্ঘ ২২ দিন পর আবার পুর্নোদ্যমে মাছ ধরবেন এমন আশায় এখন ব্যস্ত তারা। মেঘনার পাড়ে জাল বুনন ও ট্রলার ট্রলার মেরামতসহ সকলকাজে ব্যস্তছিলেন জেলেরা। গত ২১ বছরও এবারের মত নদীতে সফল অভিযান আর হয়নি বলে দাবী করেছেন মৎস্য ব্যবাসায়ী ও জেলেরা। আর মৎস্য বিভাগের এ সফল অভিযানে গত বছর ছিল ২০ হাজার মে.টন ইলিশের উৎপাদন হলেও এবার গত বছরের চেয়ে ইলিশের উৎপাদন ২৫ হাজার মে.টন হবে। যা গত বছরের চেয়ে বেশি ৫ হাজার মে.টন ছাড়িয়ে যাবে বলে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করেছে জেলা মৎস্য বিভাগ।

 

জানাগেছে,প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় লক্ষ্মীপুরের রামগতির আলেকজান্ডার থেকে চাঁদপুরের ষাটনাল এলাকার ১শ’ কিলোমিটার পর্যন্ত মেঘনা নদীর ইলিশের অভয়াশ্রম ঘোষিত এলাকায় ৭ অক্টোবর থেকে ২৮ অক্টোবর ২২ দিন ইলিশসহ সকল প্রকার মাছ ধরা নিষিদ্ধ ছিল। এসময় সব রকমের ইলিশ সংরক্ষন, আহরন, পরিবহন, বাজারজাত করন ও মজুদকরন বন্ধ রয়েছে। এর মধ্যে মাছঘাটগুলোতে জেলেরা মাছ ধরার ইঞ্জিন চালিত ট্রলার ও ছোট নৌকা এবং জালসহ আনুসাঙ্গিক কাজ সেরে নিয়েছেন। এই কারনে যে যার মত করে সব ঠিকঠাক করে নদীতে মাছ শিকারের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। ফলে জেলেরা নদীরপাড় ও মাছঘাটগুলোতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

 

জেলেরা ও আড়ৎদাররা জানায়, প্রতিবছর ও নদীতে অভিযান চলে। তবে এবারের মত নদীতে অভিযান আর হয়নি। মা ইলিশ রক্ষায় ও উৎপাদনের লক্ষ্য এবারের অভিযান সফল হয়েছে। তবে অভিযান চলাকালীন সময়ে জেলেদের ২০ কেজি হারে ভিজিএফের চাল দেয়া হয়। কিন্তু এখনো অনেক জেলে পায়নি। পরিবার পরিজন নিয়ে খুব কষ্টে দিনাতিপাত করতে হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা উঠে যাবে ২৮ অক্টোবর মধ্যে রাতে। তারা ২৯ অক্টোবর থেকে আবারও পুৃরোদমে নদীতে মাছ ধরা ও বিক্রির কাজ শুরু করবেন। তাই নৌকা ও জালসহ অন্যান্য কাজ সেরে নিয়ে নদীতে মাছ ধরার জন্য প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। এছাড়া তাদের অভিযোগ এবার রামগতির চরআলেকজান্ডারে জেলেদের ভিজিএফের চাল না দিয়ে কালোবাজারে বিক্রি করে দেয়া হয়। পরে রামগতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকা মোহাম্মদ রফিকুল হক আলেকজান্ডার বাজারে এক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে ২২ বস্তা চাল জব্দ ও ব্যবসায়ী জামাল উদ্দিনকে আটক করে পুলিশ। এ ঘটনায় জামাল উদ্দিন ও কালামসহ দুইজনের নাম উল্লেখ করে আরো ৫জনকে অজ্ঞাত আসামী করে একটি মামলা দায়ের করা হয়। এর পরও তারা অনেকেই জেলে তালিকায় নাম থাকার পর চাল পায়নি।

 

জেলা মৎস্য অফিস সূতে জানা গেছে, লক্ষ্মীপুর জেলায় মেঘনা নদীতে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করে এই জেলায় ৩৬ হাজার ৭শত ১২ জেলে। প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় লক্ষ্মীপুরের রামগতির আলেকজান্ডার থেকে রায়পুরের হাজিমারাসহ চাঁদপুরের ষাটনাল এলাকার ১শ’ কিলোমিটার পর্যন্ত মেঘনা নদীর ইলিশের অভয়াশ্রম ঘোষিত এলাকায় ৭ অক্টোবর মধ্য রাত থেকে ২৮ অক্টেবর পর্যন্ত ২২দিন ইলিশসহ সকল প্রকার মাছ ধরা নিষিদ্ধ ছিল। এসময় সব রকমের ইলিশ সংরক্ষন,আহরন,পরিবহন, বাজারজাত করন ও মজুদকরন বন্ধ ছিল। এসময় মা ইলিশ আহরণ নিষিদ্ধ সময়ে বিরত থাকা জেলেদের জন্য বিশেষ খাদ্যশষ্য উপ-বরাদ্ধ সহায়তার পৌচেছে। ৩৬ হাজার ৭শত ১২ জেলে (এক জেলে পরিবারের জন্য) ২০ কেজি হারে বিতরণের জন্য ভিজিএফ কর্মসূচি আওয়তায় বরাদ্ধ দেওয়া হয়েছে ৭৪৬.৫২০ মে.টন চাল আসে । এর মধ্যে লক্ষ্মীপুর সদর ৪ হাজার ৮ শত ১৩ জন জেলের পরিবারের জন্য ( ২০ কেজি হারে ) ৯৬.২৬০ মে.টন,রায়পুরে ৬ হাজার ৩৭ জন জেলে পরিবারের জন্য ১২০.৭৪০ মে.টন,রামগতিতে ১৬ হাজার ২০৫ জেলে পরিবারের জন্য ৩২৪.১০০ মে.টন,কমলনগরে ১০ হাজার ২৭১ জেলে পরিবারের জন্য ২০৫.৪২০ মে.টন বরাদ্ধ দেওয়া হয়েছে।

 

স্থানীয় জেলেরা ও আড়ৎদাররা জানায়, এবার নদীতে অভিযান চলে। তবে ২১ বছরও এবারের মত নদীতে অভিযান আর হয়নি। মা ইলিশ রক্ষায় ও উৎপাদনের লক্ষ্য এবারের অভিযান সফল হয়েছে। গত ২২ দিন তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে খুব কষ্টে দিনাতিপাত করতে হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা উঠে ৭ অক্টোবর মধ্য রাত থেকে ২৮ অক্টেবর পর্যন্ত ২২দিন ইলিশসহ সকল ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ করেছে জেলা মৎস্য বিভাগ। ২৯ অক্টোবর আজ থেকে থেকে আবারও পুৃরোদমে নদীতে মাছ ধরা শুরু হবে। তাই নৌকা ও জালসহ অন্যান্য কাজ সেরে নিয়ে নদীতে মাছ ধরার জন্য প্রস্তুতি নেয়া নিচ্ছেন তারা। তবে অভিযান চলাকালীন সময়ে জেলেদের আর্থিক অনুদান দেয়া হত। কিন্তু এবার এখানে তা দেয়া হয়নি বলে অভিযোগ তাদের।

 

রায়পুর উত্তর চরবংশী এলাকার মৎস্য আড়ৎদার দেওয়ান মো: জয়নাল আবদীন জানান,২২ দিন নিষেধাজ্ঞা থাকায় মৎস্য আড়ৎ বন্ধ রেখেছেন তারা। কথা হয় একই উপজেলার জেলে চরইন্দুরীয়া গ্রামের জেলে সুফিয়ান মোল্লাহ্ সাথে । সে জানান, নিষেধাজ্ঞার ২২ দিনে তারা সরকারি আইন মেনে নদীতে যাননি। দিনগুলো কষ্টের ভাবলেও তাদের জন্য এক কেজিও চাল দেওয়া হয়নি। তখন জেলেরা জাল মেরামত ও জাল বুনে দিনপার করছেন।

 

রামগতি মাছের আড়তদার মেজবাহ উদ্দিন জানান, অভিযান চলাকালে কিছু অসাধু জেলে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ ধরতে গিয়ে জেল,জরিমানা ও অর্থদন্ডে ক্ষতিগ্রস্থ হয়।

 

রামগতির আলেকজান্ডারের মেঘনা তীরবর্তী চর গোসাই গ্রামের জেলে নিজাম জানান, প্রশাসন নদীতে কড়াকড়ি দেওয়ায় তাদের জন্য ভাল হয়েছে। একই কথা জানান, ঐ এলাকার জেলে ননী গোপাল, কারীমুল হক সহ ১০/১২ জন জেলে। নিষেধাজ্ঞার ২২দিনের একদিনের জন্য হলেও এক কেজি চাল ও দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তাদের।
রায়পুর সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্ত বেলায়েত হোসেন জানান,প্রশাসন,পুলিশ,কোষ্টগার্ড ও মৎস্য বিভাগের যৌথ অভিযানে এবারের অভিযান সফল হয়েছে। তারপর বেশ কয়েকজন জেলেকে আটক করে জেল জরিমানা করা হয়েছে। বিশেষ করে জেলেরা সরকারের এ নিষোজ্ঞা মেনে নদীতে যায়নি।

 

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা এস এম মহিব উল্যা জানান,নিষেধাজ্ঞার ২২ দিন মৎস্য বিভাগসহ প্রশাসনের তৎপরতা দেখে ও বিগত বছরে নিষেধাজ্ঞার সময়ে জেলেদের অর্থদন্ড ও সাজা দেয়ায় এবার নিষেধাজ্ঞার সময়ে নদীতে মাছ ধরা থেকে বিরত ছিলেন অনেক জেলে।এর মধ্যে কিছু জেলে চুরি করে নদীতে গেলে লক্ষ্মীপুরে রায়পুরে মেঘনায় মা ইলিশ ধরার অপরাধে ৪৬ জেলেকে আটক করা হয়। শনিবার রাতে মেঘনা নদীর চররমনী এলাকায়সহ বিভিন্ন স্থানে মৎস্য বিভাগ ওর‌্যাবের যৌথ উদ্যোগে যৌথ অভিযান চালিয়ে তাদের ৬জনকে আটক করা হয়। পরে সদর উপজেলা নির্বাহী কার্যালয়ে ভ্রাম্যমান আদালত বসিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহজাহান আলী প্রত্যেক জেলেকে এক মাস করে বিনাশ্রম করাদন্ড প্রদান করেন। দন্ডপ্রাপ্তরা হলেন, সালাউদ্দিন,দিদার হোসেন,ইব্রাহিম হোসেন,মোশারেফ হোসেন,খোকন ও নুর উদ্দিন। তাদের সবার বাড়ি সদর উপজেলার বাসিন্দা।


এ সম্পর্কিত আরো খবর

লক্ষীপুর এর অন্যান্য খবরসমূহ
লক্ষ্মীপুর এর অন্যান্য খবরসমূহ
পূর্বের সংবাদ