সমাজের হিংসা-বিদ্বেষ বিপদ সীমার উপর অতিক্রম করছে : এম.এ মান্নান

হিংসা মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি। অর্থ- সম্পদ ও পদ-মর্যাদার লোভ এক কথা দুনিয়া লোভের মানুষ একে অপরকে হিংসা করে। যেহেতু মানুষ চায় বড় হতে, তাই অন্যকে বড় হতে দেখলে অন্তর জ্বলে উঠে। তাকে ভুলুণ্ঠিত করার ফন্দি আটে। ঈর্ষা ও বিদ্বেষের কারনে হিংসা সৃষ্টি হয়ে থাকে। এর থেকে জন্ম নেয় হিংসা কেন না বিদ্বেষ মানে যার সঙ্গে বিদ্বেষ আছে। তার দুঃখ- বেদনা দেখে পুলকিত হওয়ার এবং তার সুখ ও আনন্দ দেখে মত জ্বলে ওঠে। অন্তরে বিদ্বেষ থাকলে হিংসাও অবশ্যই থাকবে। যখন উল্লেখিত দুইটি হিংসা জন্ম নেয় মানুষ তখন হিংসুক হয়ে উঠে।

 

আমাদের সমাজে এই ধরণের লোকদের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে, যাদের কাজ-ই হচ্ছে অনুমানের উপর ভর দিয়ে কান্ডজ্ঞানহীন কথাবার্তা বলা। অজ্ঞতা হচ্ছে অন্ধকারের সামিল। আত্মবিশ্বাসের অভাবে বাতাস থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে আমরা একে অন্যের সাথে চ্যালেঞ্জ ছুড়ি। ঘটনার পিছনের ঘটনা বিচার বিশ্লেষণ না করে আবেগের বর্ষবর্তী হয়ে যা মনে করি দায়িত্ব নিয়ে তা-ই উপস্থাপন করি। ভাবি না একটি বার যে আমাদের দ্বারা উপস্থাপিত তত্ব ভিত্তিহীন উপাত্ব সংবাদ সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে।

 

আপনার অনুপস্তিতিতে আপনাকে নিয়ে আলোচনা সমালোচনা হচ্ছে সেটি হতেই পারে। আমরা কেউ তো আর আলোচনা সমালোচনার উর্ধ্বে নই। উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে কেউ যদি আপনাকে নিয়ে হিংসাত্মক মনোভাব প্রকাশ করে, কঠিন জটিল অপ্রাসঙ্গিক সমালোচনা করে,এটার মানে কি? মানে হলো আপনি সামনের দিকে ছুটছেন সকল বাঁধা অতিক্রম করে।

 

মানুষরুপি ঐ সব কাপুরুষ ভেড়া ছাগলদের সেই সৎ সাহস নেই যে আপনাকে সরাসরি মোকাবেলা করবে। তাই আপনার অনুপস্থিতিতে সমালোচনা তাদের নেগেটিভ চরিত্রেরই খোরাক ! হতাশ হওয়ার কিচ্ছুই নেই ,নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার মধ্যে জীবনের সফলতা।

 

মানুষ কেন হিংসুক হয় ? বা কেন হিংসা করে? একটু আলোচনা করতে চাই যা হয়ত মানুষরূপি সেই সব সব ভেড়া ছাগলদের একটু উপকারে আসতে পারে। হিংসা আর চুল্কানি রোগ অনেকটা সমানই। যেমন ধরেন, বেগুন ও ইলিশ মাছ দেখলে বা খেলে অনেকেরই চুলকানি শুরু হয়ে যায়। আবার সমাজে মানুষরুপি কিছু ভেড়া ছাগলের দল আছে যারা অন্যের অর্জন সাফল্য দেখলে বুঝে না বুঝে লাইন ধরে ভেড়া ছাগলের মত। অতঃপর বহিঃপ্রকাশ ঘটায় তাদের হিংসাত্মক আহাম্মকি আচরণের। হিংসুকের লক্ষণ তিনটি -পিছনে গীবত করা, সামনা সামনি তোষামোদ করা আর অন্যের বিপদে আনন্দিত হওয়া।

 

দুঃখজনক হলেও সত্য যে,- হিংসুক ব্যক্তি অন্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করার আগে সে নিজেকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। কেননা শুরুতেই সে হিংসার আগুনে জ্বলতে থাকে। হিংসা দূর না হওয়া পর্যন্ত এটাই তার জন্য স্থায়ী শাস্তি সে অশান্তির মধ্যে সময় অতিবাহিত করে। তার চেহারা সর্বদা মলিন থাকে। অন্যের ক্ষতি করার চক্রান্তে ও ষড়যন্ত্রে সে সর্বদা ব্যস্ত থাকে। প্রতিপক্ষের ভয়ে সে সর্বদা ভীতসন্ত্রস্ত থাকে।
একটা উদাহরণ দিয়ে আপনাদের বলি -ঘুণ পোকা যেমন কাঁচা বাঁশকে ভিতর থেকে খুরে খুরে খায়, হিংসুক ব্যক্তির অন্তর তেমনি হিংসার আগুন একইভাবে খুরে খুরে খায়। এক সময় সে ধ্বংস হয়ে যায় যেভাবে ঘুণে ধরা বাঁশ হঠাৎ ভেঙ্গে পড়ে।

 

দেখেন, দোষাদোষী না করে সমস্যা সমাধানে নিজ থেকে আন্তরিক হতে হবে। মানুষ হিসেবে আমাদের মধ্যে মানবীয় দোষ-ত্রুটির অন্যতম হিংসা যে কোনো ভাবে জায়গা করে নিতে পারে, আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই। কারো মাঝে এমন ত্রুটি থাকলে আমাদের চেষ্টা করতে হবে তা দ্রুত শুধরে নেওয়া। যে সব কারণে এমন বদঅভ্যাস আমাদের মনে জায়গা করে নিতে পারে তা থেকে মাইল দূরে থাকা উত্তম। হিংসুক বা হিংসা বিদ্বেষ পোষণকারী ব্যক্তি না স্রষ্টার দৃষ্টিতে ভাল না সৃষ্টির দৃষ্টিতে ভালো ! আমাদের মধ্যে যদি এমন খারাপ গুণ বিদ্যমান না থাকে তাহলে তো -গুড নিউজ!
আল্লাহতায়ালার দরবারে শুকরিয়া আদায় এবং এই দোয়া করা উচিৎ যে, হে আল্লাহ আপনি আমাকে এমন ধরণের ত্রুটি হতে সদা রক্ষা করো এবং আমাকে তওফিক দাও সঠিক জ্ঞানার্জনের।

 

আমাদের ব্যক্তিগত পারিবারিক সামাজিক রাজনৈতিক ও জাতীয় জীবনে অন্যায়-অবিচার হানাহানি-রক্তপাত অশান্তিতে পরিপূর্ণ। এর পেছনে অনেক ধরনের কারণ আছে তবে বিশেষ যে কারণটি সকল অশান্তির মূল তা হলো আমাদের দ্বিমুখী স্বভাব।

 

চোরকে বলি চুরি কর আর মালিককে বলছি স্বজাগ থাকো। গান আমরা সবাই কম বেশি পছন্দ করি শুনি কিন্তু গানের কথা মালা কি আমরা মনোযোগ দিয়ে উপলব্ধি করি? প্রায়ই করি না। এই ধরণের শুভাকাঙ্কী বা বন্ধুর সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে যাদের কাজ-ই হচ্ছে আগলাত থাকিয়া টানা। আপনার আশে পাশে হিংসুক শুভাকাঙ্খীদের থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায়ে আপনার মঙ্গল নিহিত। নিজেদের ব্যক্তিস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়কে প্রাধান্য দিয়ে ন্যায়-নীতিকে অবজ্ঞা করে আল্লাহর প্রদত্ত ঈমান আমলকে বিসর্জন দিয়ে আমরা নিজেরাই তৈরি করে নিয়েছি নিজেদের জন্য একটি ভারসাম্যহীন জীবনব্যবস্থা।
রাজনীতির মধ্যে পলিটিক্স ঢুকে গেছে এটা হচ্ছে গ্রামের এক সহজ সরল মানুষের সরলোক্তি। যদিও বাক্যটি তেমন অর্থ বহন করে না। কিন্তু ঐ সহজ সরল ভদ্রলোক যা বুঝাইতে চাইছেন তা হলো রাজনীতিতে- আর সুস্থ ধারা নেই। রাজনীতিবিদের নেই নীতি নৈতিকতা দেশ প্রেম ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞা। দেখেন শুধু শুধু রাজনীতিবিদদের দোষারোপ করা ঠিক হবে না সমাজের সকল স্তরে একটা খাই খাই অবস্থা। হাল ছাড়লে চলবে না অন্যায় অনিয়মের বিরুদ্ধে কথা বলতে হবে।

 

সমাজের প্রতিটি স্তরে অন্যায় অনিয়ম আকাশচুম্বী। দুইটি গ্রূপ কাজ করছে -একটি ন্যায়, নীতি, নৈতিকতাকে সামনে রেখে সমাজের কল্যাণে কাজ করতে চাচ্ছে। আর অন্যটি নিজেদের কল্যাণে চোর, ডাকাত, খুনি চিহ্নিত অপরাধীদের স্বার্থ সিদ্ধির জন্য সমাজে উপস্থাপন করার প্রয়াসে ব্যস্ত- ‘অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে/ তব ঘৃণা তারে যেন তৃণসম দহে’। এই উপলব্ধির জন্যও একাডেমিক ডিগ্রীর প্রয়োজন নেই। আত্মশুদ্ধি অর্জন করতে হলে আমাদেরকে অবশ্যই সর্বাবস্থায় হিংসা-বিদ্বেষ পরিহার করে সুন্দর মন মানসিকতায় নিয়ে সৎভাবে জীবনযাপন করা একান্ত বাঞ্ছনীয়।
প্রিয় পাঠক আমার এ লেখাতে কারো মনে কষ্ট পেয়ে থাকলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। চেষ্টা ও স্বাদ দুটোই ছিল কিন্তু সাধ্য না থাকায় সে ভাবে উপস্থাপন করতে পারিনি। যা অনেকটা রাজনীতির মধ্যে পলিটিক্স ঢুকে গেছে। গ্রামের সেই সহজ সরল ভদ্র লোকের সরলোক্তির মত। ঐ ভদ্র লোকের মত আমিও সমস্যা উপর উপলব্ধি করতে পেরেছি। কিন্তু গুছিয়ে বলতে পারেনি আপনাদের তরে। আশা করছি প্রিয় পাঠকরা ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন নিজ থেকে বুঝে নেওয়ার চেষ্টা করবেন। হিংসা বিদ্বেষ ভূলে গিয়ে আসুন একসাথে হয়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে হাতে হাত রেখে সমাজে বসবাস করি এবং সুন্দর একটি সমাজ উপহার দেই।