নাঙ্গলকোটে ২ কন্যা সন্তানের জননীকে হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ

কুমিল্লার নাঙ্গলকোট পৌরসদরের বাতুপাড়ায় আছমা আক্তার সাথী (২১) নামের ২ কন্যা সন্তানের জননীকে হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে। নিহতের বড় কন্যার বয়স এক বছর ও ছোট কন্যার বয়স মাত্র এক মাস বলে জানা গেছে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে সাথীর লাশ উদ্ধার করে নাঙ্গলকোট থানা পুলিশ। নিহত সাথী বাতুপাড়া গ্রামের বড় বাড়ীর এয়াকুব আলীর পুত্র জহিরুল ইসলামের স্ত্রী ও একই উপজেলার কাজী জোড়পুকুরিয়া গ্রামের সৌদি প্রবাসী শাহ জালাল মজুমদারের এক মাত্র কন্যা। দুপুরে লাশ ময়না তদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায় পুলিশ।

 

নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শাহজালাল তার কন্যা’সহ স্বপরিবারে সৌদিআরবে থাকতেন, গত ৩ বছর পূর্বে দেশে এসে উপজেলার পৌরসদরের বাতুপাড়া গ্রামের বড় বাড়ীর এয়াকুব আলীর পুত্র জহিরুল ইসলাম নামের এক ফার্নিচার ব্যবসায়ীর সাথে মেয়েকে বিয়ে দেয়। বিয়ের পর থেকে স্বামী ও তার পরিবারের লোকদের হাতে যৌতুকের দাবীতে নির্যাতনের ঘটনা ছিলো সাথীর নিত্যদিনের সঙ্গী। ৩ বছরে ২ কন্যা সন্তানের মা হয় সাথী। পরপর দু’টি কন্যা সন্তান জন্ম দেয়ায় ও প্রবাসী বড় ভাইয়ের স্ত্রীর সাথে পরকিয়া প্রেম নিয়ে স্বামীর নির্যাতনের মাত্রা আরো বেড়ে যায় বলে দাবী করেছেন নিহতের স্বজনরা।

 

নিহতের ভাই ওমর ফারুক জানায়, জহির তার প্রবাসী বড় ভাইয়ের স্ত্রীর সাথে পরকিয়ায় জড়িত ছিলো। ভাবী এবং স্বামীকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখা পেলে সাথী। এ বিষয়ে গত কয়েকদিন যাবৎ জহিরের নির্যাতনের মাত্রা আরো বেড়ে যায়। পরকিয়ার বিষয়ে আমার বোন সবাইকে জানিয়ে দিবে বলায় তাকে হত্যা করেছে জহির এবং তার পরিবারের লোকেরা। জহির নাঙ্গলকোট রেল ষ্টেশনের পশ্চিম গেইটে ফার্নিচার ব্যবসা করেন। নিহত সাথীর লাশ উদ্ধার করে নাঙ্গলকোট থানায় নিয়ে আসে পুলিশ।

 

এ বিষয়ে নাঙ্গলকোট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম বলেন, বাতুপাড়া গ্রাম থেকে ফাঁসিতে ঝুলন্ত এক গৃহবধুর মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য দুপুরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেলে হত্যা না আত্মহত্যা বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।