লাকসাম-শ্রীয়াং সড়ক সংস্কারের অভাবে জন চলাচলে চরম দূর্ভোগে

লাকসাম উপজেলা পৌরশহরের পশ্চিমগাঁও সামনির পুল থেকে হামিরাবাগ, শ্রীয়াং পর্যন্ত প্রায় (এলজিইডি) ৮ কিঃ মিঃ সড়ক দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করায় বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং উঠে ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে করে সড়কটিতে গাড়ী চালানো অনুপযোগী হওয়ায় গত ৩১ জুলাই মঙ্গলবার দিনব্যাপী সিএনজি চালিত অটোরিক্সা পরিবহন শ্রমিকরা লাকসাম-হামিরাবাগ- শ্রীয়াং রাস্তাটি সংস্কারের দাবীতে ওই সড়কে সিএনজি চালানো বন্ধ রেখে ধর্মঘট করে। এতে ওই সড়ক পথে যোগাযোগ ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি যাত্রীরাও পড়ছে ভোগান্তিতে।

 

ভুক্তভোগীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে পাকা সড়কটি কাঁচা রাস্তার মত হয়ে বড় বড় গর্ত ও ভাঙ্গন সৃষ্টি হয়ে যান চলাচলে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন যাবৎ পূর্নাঙ্গভাবে সড়কটির সংস্কার না হওয়ায় অল্প বৃষ্টিতেও খানাখন্দের সৃষ্টি হয় বারবার রাস্তাটি বেহাল হয়ে পড়ায় যানবাহন চলাচলতো দূরের কথা হেটে চলাও দূস্কর হয়ে পড়েছে। এতে ওই সড়ক দিয়ে যাতায়াতে প্রায় ২২টি গ্রামের ২৫-৩০ হাজার মানুষ ও স্কুল ও কলেজ পড়ায়া শিক্ষার্থীরা চরম দূভোর্গ পোহাচ্ছে।

 

বিশেষ করে বৃদ্ধরোগী ও গর্ভবতী মায়েদের প্রসবকালীন অবস্থায় দ্রুত হাসপাতালে নিতে সমস্যায় পড়তে হয়। গত ১৫ দিন আগে সিএনজি অটো রিক্সা চালকরা নিজেদের অর্থে ওই সড়কে কিছু ইটের শুড়কি ফেলে সড়কটি সচল করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। সড়কটি এলজিইডি আওতায় থাকলেও কর্মকর্তাদের টনক নড়েনি। এ দিকে জনস্বার্থে পৌর কর্তৃপক্ষ তাদের অর্থায়নে ইটের শুড়কি ফেলে যান চলাচলে কিছুটা উপযোগী করে তুললেও অধিকাংশই সড়কেই বড় বড় গর্তের কারনে যান চলাচলে প্রতিনিয়ত দূর্ঘটনায় কবলিত হচ্ছে। দৌলতগঞ্জ কবুতর বাজার সিএনজি ষ্ট্যান্ডের খোরশেদ আলম, ফয়েজ, ইউসুফ, আবু তাহের, হুমায়ুন কবিরসহ অনেক সিএনজি চালকরা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এ রাস্তাটি সংস্কার না করায় এ এলাকার মানুষ অনেক কষ্টে যাতায়াত করতে হিমশিম খাচ্ছে।

 

পাশাপাশি গর্ভবতী মায়েদের হাসপাতালে নেয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে। বিশেষ করে সিএনজি অটোরিক্সা চালকরা ওই সড়ক দিয়ে যাত্রী নিয়ে চলাচল করতে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। গত দুইমাস আগে উপজেলা চেয়ারম্যান, নির্বাহী অফিসার, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত ও মৌখিক ভাবে অভিযোগ করলেও সড়কটির সংস্কার এখনও পর্যন্ত চোখে পড়েনি। তাই সড়কটি সংস্কারের দাবীতে একদিন আগে আমরা চালকরা ধর্মঘট করি। গতকাল বুধবার উপজেলা নির্বাহী অফিসার আমাদেরকে ডেকে নিয়ে বলেছেন আগামী ১ সপ্তাহের মধ্যে সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হবে।

 

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, উপজেলা পৌর পশ্চিমগাঁও সামনির পুল থেকে বাতাখালি, সাতাবাড়িয়া, শিংজোড়, হামিরাবাগ, শ্রীয়াং পর্যন্ত দীর্ঘ ৮ কিঃ মিঃ সড়কটি সংস্কারের অভাবে প্রায় ২০টি গ্রামের হাজার হাজার মানুষের চলাচলের চরম দূর্ভোগ পোহাতে হতে হচ্ছে। প্রায় পুরো সড়কেই কার্পেটিং উঠে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত ও ভাঙ্গনের সৃষ্টি হয়েছে। রাস্তা খানাখন্দ থাকায় রিক্সা, ব্যাটারী চালিত অটোরিক্সা ও সিএনজি চালিত অটোরিক্সাসহ বিভিন্ন যানবাহনে যাতায়াত করতে গিয়ে তীব্র ঝুকিতে যাত্রীদের অবনর্নীয় কষ্ট হচ্ছে। সড়কের উভয় পাশে মাটিও ধ্বসে পড়ছে। স্থানীয় এলাকাবাসী জানিয়েছে বর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত বৃষ্টি পানি রাস্তায় জমে থাকায় রাস্তাঘাটে ব্যাপক ক্ষতি সাধন হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন মালবাহী ট্রাকও অন্যান্য যানবাহন অতিরিক্ত মাত্রায় চলাচলের কারনে রাস্তাটি ব্যবহারে সম্পূর্ন অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বিকল্প রাস্তা না থাকার কারনে দু’ উপজেলার প্রায় ২২টি গ্রামের মানুষ হাজার হাজার এ সড়ক দিয়ে যাতায়াত করছে।

উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম শওকত বলেন, লাকসাম সামনির পুল থেকে বাতাখালি পর্যন্ত ৩ কিঃ মিঃ সড়কটি আগামী ১ সপ্তাহের মধ্যে দরপত্র আহবান করা হবে। বাকী ৫ কিঃ মিঃ ১৮-১৯ অর্থ বছরের মধ্যই এডিবি’র সহায়তায় পূর্নাঙ্গ সংস্কার করা হবে।