লাকসামে ঝোপের ভেতর পাওয়া নবজাতক শিশুটি আর নেই

কুমিল্লার লাকসামে সড়কের পাশে ঝোপের ভেতর থেকে উদ্ধার করা সেই নবজাতক শিশুটি আর নেই। ১৩ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গতকাল মঙ্গলবার সকালে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালে শিশুটি মারা যায়।

 

জানা যায়, গত ৬ সেপ্টেম্বর সকালে কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের লাকসাম উপজেলার ভাটিয়াভিটা নামক স্থান থেকে ওই নবজাতককে উদ্ধারের পর হাসপাতালে পাঠায় স্থানীয়রা। শিশুটির নাকে স্কসটেপ লাগানো ছিল। এ ছাড়া শিশুটির হাতে-পায়ে পিঁপড়া ও পোঁকামাকড়ের কামড়ের রক্তাক্ত চিহ্ন ছিল। ওইদিন সকালে উদ্ধারের পর শিশুটিকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। শিশুটি উদ্ধারের পরদিন ৭ সেপ্টেম্বর দুপুরে লাকসাম উপজেলার ভাটিয়াভিটা গ্রামের মৃত জহিরুল হকের ছেলে মেহেদী হাসান এবং মেহেদীর স্ত্রী জহুরা আক্তার কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এসে জানান, তাঁরা নবজাতকটির দেখভালের দায়িত্ব নিতে চান। ওইদিন বিকেলে জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে সকল আইনি প্রক্রিয়া শেষে মেহেদী-জহুরা দম্পতির কোলে নবজাতকটিকে তুলে দেওয়া হয়। মেহেদী হাসান সানফ্লাওয়ার লাইফ ইন্সুরেন্স কম্পানিতে কাজ করেন। এরপর থেকেই হাসপাতালে শিশুটির পরিচর্যা শুরু করেন মেহেদী-জহুরা দম্পতি। এ ছাড়া মেহেদী হাসান স্থানীয় মসজিদের ইমামের পরামর্শে শিশু কন্যাটির নাম রাখেন জান্নাতুল মাওয়া।

 

আজ মঙ্গলবার সকালে ওই শিশুর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে নবজাতকটির বাবার দায়িত্বভার গ্রহণ করা মেহেদী হাসান বলেন, আমার স্ত্রীসহ খুশি মনে সব প্রক্রিয়া শেষ করে বাচ্চাটিকে নিজেদের সন্তান হিসেবে গ্রহণ করেছিলাম। ওকে ভালোভাবে মানুষ করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আমাদের জান্নাতুল মাওয়া এভাবে চলে যাবে ভাবিনি।