কারাবন্দী বিএনপি নেতা পিন্টুর অকাল মৃত্যু - খবর তরঙ্গ
শিরোনাম :

কারাবন্দী বিএনপি নেতা পিন্টুর অকাল মৃত্যু



নিউজ ডেস্ক, (খবর তরঙ্গ ডটকম)

বিএনপি নেতা নাসিরউদ্দিন আহমেদ পিন্টু আর নেই। রবিবার দুপুরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে মৃত ঘোষণা করেন (ইন্না লিল্লাহি…রাজিউন)। হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম নাসির উদ্দিন সাংবাদিকদের জানান, নাসিরউদ্দিন পিন্টুকে আজ দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আনা হয়। পিন্টু তখনই মৃত ছিলেন।

 

পিন্টুর মারা যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে একেএম নাসির বলেন, তিনি এ সম্পর্কে নিশ্চিত নন। তবে তার ধারণা, হাসপাতালে আনার পথে বা কারাগারেই পিন্টু মারা গিয়ে থাকতে পারেন। লাশ মেডিকেল কলেজের মর্গে রাখা হচ্ছে।

 

২০০৯ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পিন্টুর বিরুদ্ধে রাজধানীর লালবাগ থানায় পিলখানা হত্যা মামলা করা হয়। একই বছরের ১ জুন তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর পিলখানা হত্যা মামলায় নাসিরউদ্দিন পিন্টুর যাবজ্জীবন ও আরো ১০ বছর কারাদণ্ড দেন ঢাকার বকশীবাজারে স্থাপিত মহানগর দায়রা জজ আদালত।

 

তবে বিএনপি এই মামলাকে প্রত্যাখ্যান করেছে। পিন্টুও এ ঘটনায় জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছেন। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছিলেন, রিমান্ডে নিয়ে পিন্টুর ওপর নির্যাতন করা হয়েছে।

 

সর্বশেষ ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদের জন্য মনোনয়নপত্র নিয়েছিলেন পিন্টু। তবে তার মনোনয়ন বাতিল করে নির্বাচন কমিশন। ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি পিন্টু পুরনো ঢাকার আজিমপুর-লালবাগ এলাকার সংসদ সদস্য ছিলেন।

 

গত ১০ এপ্রিল তাকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে রাজশাহীতে পাঠানো হয়। এদিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগের প্রধান ডা. রইস উদ্দিনও দাবি করেন, হাসপাতালের বাইরেই পিন্টু মারা গেছেন। হাসপাতালে নিয়ে আসার পর তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।

 

ডা. রইস উদ্দিন আরো বলেন, ‘শনিবার কারাগার থেকে রামেক হাসপাতালের পরিচালকের কাছে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছিল। সে অনুযায়ি তিনি শনিবার কারাগারে পিন্টুর চিকিৎসার জন্য গেলেও সিনিয়র জেল সুপার তাকে পিন্টুর চিকিৎসা করতে দেননি।’

 

তবে রাজশাহীর কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার শফিকুল ইসলাম খান সাংবাদিকদের জানান, নাসির উদ্দিন আহমেদ পিন্টু নানাবিধ অসুখে ভুগছিলেন। হার্ট, কিডনি, ডায়াবেটিকস, ব্লাডপ্রেসারসহ চোখ ও বুকের সমস্যা ছিলো তার। রবিবার বেলা ১২টার দিকে তিনি কারাগারের মধ্যে বুকের ব্যথা অনুভব করেন ও গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে দ্রুত তাকে কারাগার থেকে রামেক হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে পিন্টু মারা যান।

 

তিনি বলেন, ‘রোগীর অবস্থা ভালো ছিল না বলেই পরের দিনই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।’ কারা চিকিৎসক এসএম সায়েম জানান, বেলা ১১টার দিকে নাসিরুদ্দিন পিন্টু অসুস্থ বোধ করেন। তার বুকের ব্যথা তীব্র হলে দুপুর ১২টার দিকে তাকে রামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

 

সিনিয়র জেল সুপার শফিকুল ইসলাম খান জানান, ২৫ এপ্রিল তার ফলোআপ চিকিৎসার ডেট ছিলো। ওই দিন তাকে রামেক হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। শনিবার চিঠি দেয়ার পরেও কেনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দিয়ে নাসিরুদ্দিন পিন্টুর চিকিৎসা করা হয় নি এ প্রশ্নের জবাবে সিনিয়র জেল সুপার শফিকুল ইসলাম খান কোনো কথা না বলেই রামেক হাসপাতাল ত্যাগ করেন।

 

বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মতিউর রহমান মন্টু কারা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে চিকিৎসার অবহেলার অভিযোগ এনে বলেন, শনিবার নাসিরুদ্দিন পিন্টুর সঙ্গে তিনি দেখা করেছেন। এ সময় পিন্টু তাকে জানান যে, কারা কর্তৃপক্ষ ঠিকমতো তাকে ওষুধ দিচ্ছে না।