ওসির দৈনিক আয় ৩০ লাখ! হয়েছেন মিউজিক ভিডিওর মডেল - খবর তরঙ্গ
ব্রেকিং নিউজ :
শিরোনাম :

ওসির দৈনিক আয় ৩০ লাখ! হয়েছেন মিউজিক ভিডিওর মডেল



অনলাইন ডেস্ক, (খবর তরঙ্গ ডটকম)

২০০ ড্রেজারের মালিক তাহিরপুর থানা পুলিশের সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নন্দন কান্তি ধর! সুনামগঞ্জের জাদুকাটা নদীতে এসব ড্রেজার বসিয়ে অ’বৈধভাবে প্রতিটিতে ১৫ হাজার টাকা করে দৈনিক প্রায় ৩০ লাখ টাকা আয় করেছেন।


গত তিন বছর তাহিরপুর থানার ওসি থাকা অবস্থায় এসব টাকা অ’বৈধপথে অর্জন করেছেন তিনি। দু’র্নীতি দমন কমিশনে (ওসি) নন্দন কান্তি ধরের বি’রুদ্ধে লিখিতভাবে এমন সব অ’ভিযোগ দিয়েছেন একই উপজেলার উত্তর বন্দন এলাকার বাসিন্দা সেলিম ইকবাল।


এর আগে দুদকে ক্যাসিনোকাণ্ডে জ’ড়িত থাকার অ’ভিযোগ জমা পড়ে সুনামগঞ্জ-১ আসনের এমপি ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতনের বি’রুদ্ধে। গত ২২ অক্টোবরে তার বি’রুদ্ধে দু’র্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) এ অ’ভিযোগ দাখিল হয়।


এবার দুদকে অ’ভিযোগ দেয়া হলো সুনামগঞ্জ সদরের তাহিরপুর থানা পুলিশের সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নন্দন কান্তি ধরের বি’রুদ্ধে। মঙ্গলবার দুপুরে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে ওসি নন্দন কান্তি ধরের বি’রুদ্ধে দু’র্নীতি ও চাঁদাবাজির অ’ভিযোগ দেন সেলিম ইকবাল।


দুদকে দেয়া সেই অ’ভিযোগে বলা হয়, ২০১৭ সালে তাহিরপুর উপজেলায় যোগদানের পর থেকে ওসি নন্দন কান্তি ধর বিভিন্ন ধরনের চাঁদাবাজি, মিথ্যা মা’মলা দিয়ে মানুষকে হ’য়রানি ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ আ’ত্মসাৎ করেছেন।


এরপর থেকে বিলাসবহুল জীবনযাপন শুরু করেন। তাহিরপুর থা’নার ওসি থাকা অবস্থায়ই ‘তুমি শুধু তুমি’ মিউজিক ভিডিওর মাধ্যমে নিজেকে মডেল হিসেবে উপস্থাপন করেন ওসি নন্দন কান্তি।


একই সঙ্গে জাদুকাটা নদীতে ড্রেজার বসিয়ে অ’বৈধভাবে বালুপাথর উত্তোলন করে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন তিনি। সেলিম ইকবাল দুদকে দেয়া অ’ভিযোগ আরও উল্লেখ করেছেন, ওসি নন্দন কান্তি ধর তাহিরপুরে নদী খনন থেকে শুরু করে বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে চাঁদাবাজি করে লাখ লাখ টাকার মালিক হয়েছেন।


জায়গা ভরাট করে দেয়ার নামে তাহিরপুর উপজেলার বাসিন্দা মতুর্জা আলীর কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা নিলেও জায়গা ভরাট করে দেননি ওসি নন্দন।


ওসি নন্দন কান্তি ধরের তার অ’বৈধ টাকা দিয়ে ভারত ও সিলেটে বাড়ি নির্মাণ করেছেন বলেও অ’ভিযোগ করেছেন সেলিম ইকবাল। জানা গেছে, ২০১৯ সালে তাহিরপুর উপজেলা থেকে বদলি হওয়ার পর বর্তমানে সুনামগঞ্জ পুলিশ লাইন্সে কর্মরত আছেন নন্দন কান্তি ধর।


এদিকে দুদকে তার বি’রুদ্ধে দেয়া অ’ভিযোগগুলোকে মি’থ্যা ও বা’নোয়াট বলে উল্লেখ করেছেন অ’ভিযুক্ত ওসি নন্দন কান্তি ধর। একটি ড্রেজার মেশিনেরও মালিক নন বলে দাবি করেছেন তিনি।


তিনি বলেন, আমার কোনো ড্রেজার মেশিন ছিল না, এখনো নেই। এছাড়া অ’ভিযোগে উল্লেখ করা আলী মর্তুজা নামক ব্যক্তির কাছ থেকে কোনো টাকা নিইনি। আমার বি’রুদ্ধে দুদকে মিথ্যা অ’ভিযোগ দেয়া হয়েছে। দুদক অ’ভিযোগ ত’দন্ত করলে সত্যতা বেরিয়ে আসবে।


এর আগে সরকারে চলমান শুদ্ধি অ’ভিযানের মাধ্যমে দু’র্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধান তালিকায় সুনামগঞ্জ-১ আসনে সরকার দলীয় সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতনের নাম আসে।


ক্ষমতার অপব্যবহার করে অ’নিয়ম-দু’র্নীতি, চাঁদাবাজি ও লু’টপাটের মাধ্যমে গত ১০ বছরে নামে-বেনামে অঢেল সম্পদ বানিয়েছেন তিনি; তার বি’রুদ্ধে দুদকে এমন অ’ভিযোগ দেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মিজানুর রহমান সোহেল।


সেই অ’ভিযোগের ভিত্তিতে এমপি রতনের বি’রুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক এবং তার বিদেশ গমনে নি’ষেধাজ্ঞাও আরোপ করে। এর পর অ’ভিযোগ আসে, এমপি রতনের বি’রুদ্ধে দুদকে অ’ভিযোগ করায় মিজানুর রহমান সোহেলকে তাহিরপুর থানার ওসি ক্রসফা’য়ারের হু’মকি দেন।


সে সময় মিজানুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, ৩ অক্টোবর প্রথম দফা এমপির বি’রুদ্ধে দুদকে অ’ভিযোগ দেয়ার পর ৫ তারিখে তাহিরপুর থানার ওসি তার বাড়িতে পুলিশ পাঠান। এরপর থেকে নানাভাবে তাকে হু’মকি দেয়া হচ্ছে।


তিনি বলেন, ২০০৮ সালের আগে এমপি মোয়াজ্জেম হোসেনের তেমন কোনো সম্পদ ছিল না। নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন নদী, জলমহাল, বালু ও পাথরকোয়ারিতে চাঁদাবাজি করে হাজার কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন। ধরমপাশা, নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ, সিলেট ও ঢাকায় বাড়ি রয়েছে। এসব সম্পদ তিনি দু’র্নীতির মাধ্যমে করেছেন।


তবে তাহিরপুর থানার ওসি আতিকুর রহমান তার বি’রুদ্ধে আনা অ’ভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি মিজানুর রহমান নামের কাউকে চিনি না। এই নামে কারও সঙ্গে ফোনেও কথা বলিনি। এসব সত্য নয়।’


জেলা এর অন্যান্য খবরসমূহ
সুনামগঞ্জ এর অন্যান্য খবরসমূহ