সাঈদীর পক্ষে সাক্ষ্য দিলেন মুক্তিযুদ্ধে সাব সেক্টরের সেকেন্ড ইন কমান্ড শামছুল আলম : আবুল কালাম আযাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ

দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী ১৯৭১ সালে কোনো অন্যায় কাজ করেননি বলে সাক্ষ্য দিয়েছেন পিরোজ-পুর ও বাগেরহাট অঞ্চলের যুদ্ধকালীন ৯নং সাব সেক্টরের সেকেন্ড ইন কমান্ড মুক্তিযোদ্ধা মো. শামছুল আলম তালুকদার। গতকাল তিনি মাওলানা সাঈদীর পক্ষের প্রথম সাক্ষী হিসেবে ট্রাইব্যুনালে জবান-বন্দিকালে একথা বলেন।
জবানবন্দিতে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের ৮ ডিসেম্বর সাব সেক্টর কমান্ডার মেজর জিয়াউদ্দিনের সঙ্গে তিনি পিরোজপুরের পাড়েরহাটে আসেন। মেজর জিয়াউদ্দিন সেখানে কিছু সময় অবস্থান করে আমাকে ওখানে রেখে পিরোজপুরে চলে যান। সাক্ষী বলেন, সেখানে আমাদের কমান্ডার খসরু, মোকাররম, লিয়াকত আলী বাদশা, বাতেন, মুনাম, সানু খন্দকারসহ অনেক মুক্তিযুদ্ধা ও অনেক জনসাধারণ তাদের অবস্থা বর্ণনা করে। আমি মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্প ও রাজাকার ক্যাম্প পরিদর্শন করি। মোসলেম মাওলানা, দানেশ মোল্লা, সেকান্দার শিকদার, রাজ্জাক, দু’জন চৌকিদারসহ আরও কয়েকজন কে কি অত্যাচার করেছে তারা তখন সে বর্ণনা করে। ওই সময়ে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী সম্পর্কে আমাকে কেউ কিছু বলে নাই। তিনি আরও বলেন, দেলাওয়ার হেসাইন সাঈদী সাহেবের ছেলে মাসুদ সাঈদী আমাকে অনুরোধ করেছেন, যা সত্য আমি যেন তাই বলি। আমি সাক্ষ্য দিতে এসে একটি কথাও মিথ্যা বলিনি। যদি সাঈদী সাহেব কোনো অন্যায় কাজ করতেন তাহলে কমান্ডের লোকরা আমার কাছে তা বলত।
এদিকে একই ট্রাইব্যুনালে গতকাল বিকালে অভিযুক্ত বিশিষ্ট পার্লামেন্টারিয়ান বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের দশম সাক্ষী নুরুল আফসারকে জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী আহসানুল হক হেনা। জেরা আজ সোমবার পর্যন্ত মুলতবি করে ট্রাইব্যুনাল। এছাড়া সকালে দ্বিতীয় ট্রাইব্যুনালে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী শাহরিয়ার কবিরকে জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী মিজানুল ইসলাম। বিরতির পর একই ট্রাইব্যুনালে জামায়াত নেতা আবদুল কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের নবম সাক্ষী আমির হোসেন মোল্লাকে জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা।
আবদুল কাদের মোল্লার আইনজীবী ফরিদ উদ্দিন খান জানান, জেরায় সাক্ষী স্বীকার করেন ২০০১ সালে একটি চাঁদাবাজির মামলায় তিনি গ্রেফতার হয়েছিলেন। এছাড়া তার বিরুদ্ধে হাইকোর্টের এক বিচারপতির প্লট দখল ও চাঁদাবাজির মামলাসহ তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপকর্মের অভিযোগ রয়েছে। সে তার এলাকায় লাট ভাই নামে পরিচিত বলে আইনজীবী জানান। এদিকে একই ট্রাইব্যুনালে মাওলানা আবুল কালাম আযাদের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দিয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটর সাহিদুর রহমান গতকাল দুপুরে ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে ৬৪ পৃষ্ঠার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দেন।
পুরাতন হাইকোর্ট ভবনে সকালে চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে বেলা পৌনে এগারটা থেকে বেলা একটা পর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধা মো. শামছুল আলম তালুকদার তার জবানবন্দি পেশ করেন। এ সময় মাওলানা সাঈদীকে কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত করা হয়নি। সকালে ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম শুরু হলে ব্যারিস্টার তানভির আহমেদ আল আমিন ট্রাইব্যুনালে মাওলানা সাঈদীর উপস্থিতিতে সাক্ষ্য গ্রহণ করার একটি আবেদন জানিয়ে বলেন, বেলা ২টা পর্যন্ত মাওলানা সাঈদীর মামলা মুলতবি রেখে উনাকে হাজির করা হোক। মাওলানা সাঈদীর উপস্থিতিতে সাক্ষ্য নেয়া উনার আইনগত অধিকার। ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বলেন, তিনি যেহেতু অসুস্থ তার অনুপস্থিতিতেই বিচার চলবে। জবাবে আইনজীবী বলেন, মাই লর্ড তিনি যদি অসুস্থবোধ করেন তাহলে চলে যাবেন। পরে আবেদনটি ট্রাইব্যুনাল নাকচ করে দেন।
জবানবন্দি শেষে দুপুরের পর সাক্ষী শামছুল আলম তালুকদারকে জেরা করেন রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটর সৈয়দ হায়দার আলী। তাকে সহযোগিতা করেন সুলতান মাহমুদ সীমন প্রমুখ। আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মিজানুল ইসলাম, তাজুল ইসলাম, মনজুর আহমেদ আনছারী, ব্যারিস্টার তানভির আহমেদ আল আমিন, আবু বকর ছিদ্দিক প্রমুখ।
শামছুল আলম তালুকদারের জবানবন্দি : জবানবন্দির শুরুতেই সাক্ষী বলেন, আমার নাম শামছুল আলম তালুকদার, বয়স ৬৮ বছর। আমার বাড়ি পিরোজপুর জেলার ভাণ্ডারিয়া থানার ইকরি গ্রামে। বাগেরহাট পি. সি কলেজ থেকে ১৯৬৩ সালে আমি ইন্টারমিডিয়েট পাস করি। ওই একই কলেজ থেকে ডিগ্রি পাস করি। ১৯৬৩ সালের নভেম্বর মাসে আমি পি.সি. কলেজের ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হই। ১৯৬৪ সালে আমি পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের খুলনা জেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হই। ১৯৬৫ সালে আমি খুলনা জেলার ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হই। ১৯৬৭ সালে আমি ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নির্বাচিত হই। ১৯৬৮ সালে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের আমি সহ-সভাপতি নির্বাচিত হই। ১৯৬৯ সালে আমি মওলানা ভাসানীর ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টিতে যোগদান করি এবং শরণখোলা থানা কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হই। ছাত্র অবস্থায় আমি হামিদুর রহমান শিক্ষা রিপোর্ট বিরোধী এবং পরে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের জন্য দু’বার কারাবরণ করি। ১৯৭০ সালে আমি প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে নোমিনেশন পেপার দাখিল করি। তখন পূর্ব পাকিস্তানের দক্ষিণ অঞ্চলে সর্বনাশা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্যের জন্য এবং অগণিত লাশ দাফন করার জন্য আমার নেতা ভাসানীর নির্দেশক্রমে আমি নির্বাচন থেকে বিরত থাকি।
সাক্ষী বলেন, ছাত্রজীবন থেকেই আমি সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। ১৯৬২ সালে আমি আমার গ্রামে খন্তকাটা হাইস্কুল প্রতিষ্ঠা করি এবং এই স্কুল প্রতিষ্ঠায় প্রয়োজনীয় জমি আমি এবং আমার পরিবার দান করি। ১৯৭৯ সালে ওই স্কুলের পাশেই একটি জুনিয়র গার্লস স্কুল যার নাম বি কে স্কুল বর্তমানে বি. কে গার্লস হাইস্কুল প্রতিষ্ঠা করি এবং সেখানেও আমি এক একর জমি দান করি। ১৯৬৩ সালের ২৬ মার্চ তারিখে আমি তাফালবাড়ি হাইস্কুলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করি এবং চাঁদা দিয়ে সবার সহযোগিতায় স্কুলটি প্রতিষ্ঠা করি। ১৯৭৮ সালে শরণখোলা কলেজ প্রতিষ্ঠা করি এবং ওই কলেজে চৌদ্দকুরা জমি দান করি। ১৯৬২ সালে শরণখোলা- মোরেলগঞ্জের ছাত্রদের নিয়ে কলেজ প্রতিষ্ঠা করি সেখানে প্রথম চাঁদা দিই আমি নিজে। বর্তমানে ওই কলেজটি এস এম কলেজ নামে পরিচিত। ১৯৭৩ সালে শরণখোলা থানায় সবার সহযোগিতায় রাজাপুর হাইস্কুল প্রতিষ্ঠা করি।
সাক্ষী তার জবানবন্দিতে বলেন, বঙ্গবন্ধুর ভাষণের পর আমরা বুঝতে পারি আলোচনায় কোনো কাজ হবে না। এজন্য আমরা আমাদের এলাকার যুব সমাজকে একত্র করে মুক্তিযুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি নিতে থাকি। ১৯৭১ সালের মে মাসের শেষের দিকে মোরেলগঞ্জে প্রথম রাজাকাররা আসে। ওই সময় ওখানে কিছু পুরনো বাঙালি আর্মি অফিসার এবং অন্য আর্মির লোক ছিল যার মধ্যে কবীর আহমেদ মধু ছিল, তাদের এবং স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা যুবকদের নিয়ে আমরা মোরেলগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ অফিসের রাজাকার ক্যাম্প রাত্রি অনুমান ১১টার দিকে আক্রমণ করি।
তিনি বলেন, আক্রমণে আমাদের আবু নামে একজন শহীদ হয়। অন্যদিকে তিনজন রাজাকার মারা যায়। পরে বাকি রাজাকাররা খুব ভোরে এলাকা থেকে পালিয়ে যায়।
সাক্ষী তালুকদার বলেন, সাউদখালী ইউনিয়নে কোনো রাজাকার কখনোই ঢুকতে পারেনি। সর্বদা ওই জায়গা আমাদের দখলে ছিল। সেখানে আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের অবাধ যাতায়াত ছিল।
তিনি বলেন, অন্যদিকে মোরেলগঞ্জে ৫টি রাজাকার ক্যাম্প ছিল। সেখানে আমরা ছয়টি গ্রুপ করে আক্রমণ করার সিদ্ধান্ত নেই। ওই আক্রমণে ১৪ থেকে ১৫ জন রাজাকারকে আমরা আটক করি। যাদের আটক করা হয় তাদের পরে মেরে ফেলা হয়। অন্যদিকে আমাদের দুইজন আহত হয়ে মারা যায়। এরপর সাক্ষী বলেন, যুদ্ধের শেষের দিকে অর্থাত্ ৮ ডিসেম্বর মেজর জিয়াউদ্দিনসহ আমি পিরোজপুরের পাড়েরহাটে যাই। মেজর জেয়াউদ্দিন ১০-১৫ মিনিট ছিলেন। তিনি সব ঘটনা জেনে ২-৩ ঘণ্টা পরে পিরোজপুরে আসতে বলেছিলেন। সেখানে আমাদের কমান্ডার খসরু, মোকাররম, লিয়াকত আলী বাদশা, বাতেন, মুনাম, সানু খোন্দকারসহ অনেক মুক্তিযোদ্ধা ও অনেক মানুষ তাদের অবস্থা বর্ণনা করে। আমি মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্প ও রাজাকার ক্যাম্প পরিদর্শন করি। এ সময় মোসলেম মাওলানা, দানেশ মোল্লা, সেকেন্দার শিকদার, রাজ্জাক, দুইজন চৌকিদারসহ আরও কয়েকজন রাজাকারকে কী অত্যাচার করেছে তার বর্ণনা করে। ওই সময়ে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী সম্পর্কে কেউ কিছু আমাকে বলেনি। সাক্ষী বলেন, ঐদিন আমরা রাতে পিরোজপুরে অবস্থান করি। পরে আমরা সব অস্ত্র সারেন্ডার করি।
শামছুল আলম তালুকদারকে জেরা : গতকাল সকাল ১০টা ৪৫ মিনিট থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত সাঈদীর পক্ষের প্রথম সাফাই সাক্ষী তার জবানবন্দি ট্রাইব্যুনালে পেশ করেন। বিরতির পর বিকাল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত তাকে জেরা করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সৈয়দ হায়দার আলী। সৈয়দ হায়দার আলী সাক্ষীকে প্রশ্ন করেন, ‘আপনি বিএনপি করেন। বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয়ভাবে জোটবদ্ধ। তাই আপনি সাঈদীকে বাঁচানোর জন্য এ মামলায় সাক্ষ্য দিতে এসেছেন।’ জবাবে সাক্ষী বলেন, আপনার কথা সত্য নয়। এরপর তাকে প্রশ্ন করা হয়, আপনার কয়টি স্ত্রী? উত্তরে সাক্ষী বলেন, ২টি স্ত্রী। পরে প্রশ্নে সৈয়দ হায়দার আলী বলেন, আপনি মেজর জিয়াউদ্দিনের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লেখা বইটি পড়েছেন? সাক্ষী বলেন, পড়েছি। এরপর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সাক্ষীকে উদ্দেশ করে বলেন, পিরোজপুর এলাকার মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আপনি যে জবানবন্দি দিয়েছেন এবং মেজর জিয়া উদ্দিনের লেখা বইয়ের সঙ্গে কোনো মিল নেই।
তখন সাক্ষী বলেন, একেকজনের বর্ণনার ধরন ভিন্ন হতেই পারে। সাক্ষীর দ্বিতীয় স্ত্রী তার বিরুদ্ধে সম্পত্তির ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে একটি মামলা করেন। পরে সেই মামলা স্থানীয় লোকদের দ্বারা মীমাংসা করা হয়েছে, বলেন সাক্ষী। এছাড়া সাক্ষীকে আরও বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়।
নিরাপত্তা চাইলেন সাক্ষী : জেরা শেষে সাক্ষী শামছুল আলম তালুকদার ট্রাইব্যুনালে বলেন, মাই লর্ড, আমি মাওলানা সাঈদীর পক্ষে ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেয়ার আগে গত ২৯ আগস্ট দুপুরে আমার বাগেরহাটের বাসায় পুলিশ যায়। তখন আমি সেখানে ছিলাম না। আমার অবস্থান সম্পর্কে আমার স্ত্রীকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। বাসায় গিয়ে পুলিশ খোঁজার নামে বিভিন্ন জিনিসপত্র ওলটপালট করে। আমি আজ সাক্ষ্য দিয়েছি কিন্তু আমার মধ্যে আতঙ্ক কাটেনি। আমার ক্ষতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছি। এ সময় ট্রাইব্যুনাল বলে, এ বিষয়ে কোনো দরখাস্ত দিলে আমি দেখব। পরে এ মামলার কার্যক্রম আগামীকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত মুলতবি করে ট্রাইব্যুনাল। গত ১৪ আগস্ট ট্রাইব্যুনাল এক আদেশে সাঈদীর পক্ষে সাফাই সাক্ষীদের নামের তালিকা দাখিল করার নির্দেশ দেয়। গত ৮ এপ্রিল থেকে তদন্ত কর্মকর্তা হেলালউদ্দিন তার জবানবন্দি পেশ শুরু করেন। এরপর ২৫ এপ্রিল থেকে তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরা শুরু করেন আসামি পক্ষের আইনজীবীরা।
শাহরিয়ার কবিরকে জেরা : জামায়াত নেতা আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের প্রথম সাক্ষী লেখক, সাংবাদিক শাহরিয়ার কবিরকে তৃতীয় দিনের মতো জেরা করেছেন আসামি পক্ষের আইনজীবী। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২’র চেয়ারম্যান বিচারপতি এটিএম ফজলে কবীরের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে তাকে জেরা করা হয়। আসামি পক্ষের আইনজীবী মিজানুল ইসলাম তাকে জেরা করেন।
পরে জেরা অসমাপ্ত অবস্থায় মামলার কার্যক্রম আগামীকাল পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে। মিজানুল ইসলাম প্রশ্ন করেন, ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের মতো ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টিও ভারত বিভাজনে বিরোধী ছিল? উত্তরে সাক্ষী বলেন, হ্যাঁ। প্রশ্ন : ১৯২৮ সালে ভারতীয় মুসলমানদের অধিকার না দেয়ার বিষয়ে ভারতীয় কংগ্রেস নেতা জওহর লাল নেহেরুর কিছু বক্তব্যের প্রেক্ষিতে মুসলমান একটি পৃথক জাতির সৃষ্টি হয়। উত্তর : এটা আমার জানা নাই। বলেছেন, ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে পাকিস্তান রাষ্ট্রের কোনো বিরোধিতা করা হয়নি। এক প্রশ্নের উত্তরে সাক্ষী বলেন, ‘১৯৪০ সালে মুসলিম লীগের লাহোর অধিবেশনে ভারতীয় উপমহাদেশে একাধিক মুসলিম রাষ্ট্র গঠনের দাবির মাধ্যমে দ্বিজাতিতত্ত্বের প্রস্তাবনাটি জোরালোভাবে উপস্থাপিত হয়। ১৯৪৬ সালে মুসলিম লীগ সম্মেলনে একাধিক মুসলিম রাষ্ট্রের পরিবর্তে একটি মুসলিম রাষ্ট্র গঠনের প্রস্তাবনা গৃহীত হয়। ১৯৪৬ সালের নির্বাচনে বাংলা বিভক্তি কোনো রাজনৈতিক ইস্যু ছিল না এবং কংগ্রেস বা মুসলিম লীগের এ সংক্রান্ত কোনো প্রস্তাবনা ছিল না। ওই নির্বাচনের পরবর্তীকালে কংগ্রেসের পাশাপাশি মুসলিম লীগও বাংলা বিভক্তি চেয়েছিল।’ জেরাকালে শাহরিয়ার কবির বলেন, দেশ বিভক্তির পর সংবিধান রচনা করার জন্য ৬৯ সদস্যবিশিষ্ট একটি গণপরিষদ গঠিত হয়। যারা ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের প্রথম সংবিধান রচনা করে। সামরিক শাসক আইয়ুব খান ১৯৬২ সালে ৫৬ সালের ওই সংবিধান বাতিল করে আরেকটি সংবিধান রচনা করে। এছাড়াও সাক্ষী শাহরিয়ার কবিরকে ১৯২৮ সাল থেকে ১৯৫৬ সাল পর্যন্ত ইতিহাস সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়। গত ২৬ আগস্ট তিনি জবানবন্দি পেশ করেন। জবানবন্দি শেষে তাকে ওই দিন জেরা শুরু করে আসামি পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম। আজ তৃতীয় দিনের মতো জেরা করেন অ্যাডভোকেট মিজানুল ইসলাম।
আবুল কালাম আযাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা : মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে পলাতক মাওলানা আবুল কালাম আযাদের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দিয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটর সাহিদুর রহমান গতকাল দুপুরে ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে ৬৪ পৃষ্ঠার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দেন। সেখানে আবুল কালাম আযাদের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের ২২টি ঘটনায় ১০টি অভিযোগ আনা হয়েছে। আবুল কালাম আযাদ বর্তমানে পলাতক।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।