বাংলাদেশ টাইগ্রেসদের চমক

গত বছরের নভেম্বরে ওয়ানডে স্ট্যাটাস পাওয়ার পর সম্প্রতি আয়ারল্যান্ড সফরে যায় বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা ক্রিকেট দল। সফরটি মোটেও সুখকর হয়নি। ওয়ানডে স্ট্যাটাস পাওয়ার পর প্রথম বিদেশ সফরটিতেই দলের পারফরম্যান্স ছিল হতাশাজনক। এ কারণে যথেষ্ট চাপেও পড়তে হয়েছে টাইগ্রেসদের। আয়ারল্যান্ড থেকে ফিরেই ঘরের মাটিতে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে শক্তিশালী দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি সালমা বাহিনী। চলতি মাসের মাঝামাঝি থেকে শ্রীলংকায় শুরু হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য বাংলাদেশকে প্রস্তুতির ক্ষেত্র হিসেবে দেখছে দক্ষিণ আফ্রিকা মহিলা দল। বিশ্বকাপে লড়ার আগে টাইগ্রেসদের বিপক্ষে তিন ম্যাচের একটি ওয়ানডে সিরিজ খেলার মধ্য দিয়ে উপমহাদেশের মাটিতে ভালো করেই ঝালিয়ে নিতে চাইছে প্রোটিয়া মহিলা ক্রিকেট দল। এ সিরিজে বাংলাদেশ স্বাগতিক হলেও শক্তির বিচারে যে দক্ষিণ আফ্রিকাই এগিয়ে—এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। কারণ আন্তর্জাতিক মহিলা ক্রিকেটে প্রোটিয়াদের অবস্থান যেখানে পরিপকস্ফ সেখানে বাংলাদেশ কেবল আঁতুড় ঘর থেকে বের হলো। সদ্য আঁতুড় ঘর থেকে বের হওয়া এই দলটিই গতকাল সিরিজের প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকা মহিলা ক্রিকেট দলের জন্য বড় অঘটনের কারণ হয়ে দাঁড়াল। সফরকারীদের ২ উইকেটে হারিয়ে উল্লাসে ভাসল টাইগ্রেসরা। ঘূর্ণিবলের পাশাপাশি সিরিজে ফেভারিটের সংজ্ঞাও ঘুরিয়ে দিল সালমা বাহিনী। মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজের প্রথম ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নামে দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট দল। ৩৪ ওভার ৪ বলে সবক’টি উইকেট হারিয়ে ফেলায় মাত্র ৭৫ রানেই থেমে যেতে হলো তাদের। প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্তই কাল হলো সফরকারীদের জন্য। দলীয় মাত্র ৫ রানে প্রথম সারির ৩টি উইকেট হারিয়ে ফেললে এ ব্যাপারটি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। দলীয় ৪ রানে স্বাগতিক অধিনায়ক সালমা খাতুনের বলে ওপেনার তৃশা চেটে কিপার নুজহাত তাসনিয়ার গ্লাভসবন্দি হলে সফরকারীদের উইকেট পতন শুরু হয়। পরের বলেই রান আউটের শিকার হন অপর ওপেনার শান্দ্রে ফিরটজ (৪)। দলের খাতায় আর এক রান যোগ করতেই তিন নম্বরে ব্যাট করতে নামা হজকিনসনকে উইকেটছাড়া করেন পেসার জাহানারা আলম। দক্ষিণ আফ্রিকার সংগ্রহ তখন দুই ওভার পাঁচ বলে ৩ উইকেটে ৫! এমন অবস্থায় চতুর্থ উইকেট জুটিতে ৩৭ রানের পার্টনারশিপ গড়ে দলের বিপর্যয় কাটিয়ে তোলার চেষ্টা করেন অধিনায়ক ডু প্রিজ এবং ম্যারিজান ক্যাপ। তা যেন সহ্য হচ্ছিল না বাংলাদেশ দলের তারকা স্পিনার খাদিজা-তুল-কুবরার। টানা ৩টি উইকেট নিয়ে সফরকারীদের মিডল অর্ডার ধসিয়ে দিলেন তিনি। দলীয় ৪২ রানে ক্যাপকে (১১) উইকেটছাড়া করেন লতা। তিন রান পরে ভ্যান দার ওয়েস্টুইজেনকে (৩) প্যাভিলিয়নে পাঠান কুবরা। দলীয় ৪৮ রানে অধিনায়ক প্রিজকে উইকেটছাড়া করে নিজের দায়িত্ব শেষ করেন বাংলাদেশ দলের এ তারকা স্পিনার। উইকেট ছাড়ার আগে সফরকারীদের পক্ষে সর্বোচ্চ ২৪ রানের ইনিংস খেলেন প্রিজ। শেষ তিনটি উইকেট নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংসে দাড়ি টানেন বাংলাদেশ দলের আরেক স্পিনার রুমানা আহমেদ। বাংলাদেশ দলের বোলারদের মধ্যে মাত্র ৮ রান দিয়ে ৩টি উইকেট নেন খাদিজা-তুল-কুবরা। দুই রান বেশি দিয়ে সমপরিমাণ উইকেট নেন রুমানা আহমেদ। জবাবে ব্যাট করতে নেমে মিডল অর্ডার লতা মণ্ডলের ব্যাটে চড়ে ৩৭ ওভার তিন বলেই জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ। সালমাদের শুরুটাও ছিল অত্যন্ত বাজে। মাত্র ৮ রানে দুই ওপেনারকে হারিয়ে ফেললে মারাত্মক ব্যাটিং বিপর্যয় নেমে আসে বাংলাদেশের সামনে। এমন অবস্থায় দলের ভেঙেপড়া ইনিংসের হাল ধরেন চার নম্বরে ব্যাট করতে নামা লতা মণ্ডল। সতীর্থরা মাঠে আসা-যাওয়ার মধ্যে ব্যস্ত থাকলেও উইকেটের একপ্রান্ত আগলে রাখেন লতা। দলীয় ৫৬ রানে সাবনিম ইসমাঈলের বলে ওয়েস্টুইজেনের হাতে ক্যাচ দেয়ার আগে ব্যক্তিগত ৩১ রানের ইনিংস খেলেন লতা মণ্ডল। তার এ ইনিংসে চারটি চারের মার রয়েছে। ইনিংসের শেষদিকে দলে ত্রাতার ভূমিকা পালন করেন নয় নম্বরে ব্যাট করতে নামা রিতু মণি। তার অপরাজিত ১২ রান জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেয় টাইগ্রেসদের। সফরকারী বোলারদের মধ্যে লোবসার ৩টি উইকেট নেন। ২টি করে উইকেট নেন ক্যাপ ও সাবনিম ইসমাঈল। ম্যাচসেরা হন বাংলাদেশ দলের লতা মণ্ডল। আজ একই ভেন্যুতে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। এ ম্যাচটি দু’দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ম্যাচটিতে জয় পেলে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ নিজেদের করে নেবে স্বাগতিকরা। আর সিরিজে সমতা ফেরাতে সফরকারীদের আজ জয়ের কোনো বিকল্প থাকছে না।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।