বিদ্রোহ ঠেকাতেই মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ

সরকার “মহাজোটের ভেতর বিদ্রোহ ঠেকাতেই শরিকদের নিয়ে মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ করছে।“ বললেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, এ সরকারের সময় শেষ।  এখন আর এন্টিবায়েটিক ও কোরামিন দিয়ে শেষ রক্ষা হবে না। সরকারের পতন এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে ছাত্রদলের নবনির্বাচিত কমিটির নেতাদের নিয়ে দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মাজারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘‘বর্তমান স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকারবিরোধী আন্দোলন বেগবান করার জন্য দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মাজারে শপথ নিয়েছেন ছাত্রদলের নব নির্বাচিত কমিটির নেতারা। দেশবাসীর প্রত্যাশা ছাত্রদলের নতুন কমিটি তাদের অতীত ঐতিহ্য ধরে রাখবে।’’

মির্জা ফখরুল বলেন, সরকার যদি মনে করে মহাজোটের শরিকদের মন্ত্রী বানিয়ে তাদের হারানো জনসমর্থন পাবে, তবে তারা ভুল করবে। কারণ  ইতোমধ্যে জনগণ এ সরকারের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।

মহাজোটের শরিকদের জনসমর্থন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘যারা মন্ত্রী হবেন, জনগণের মধ্যে তাদের কতটুকু ভিত্তি আছে, তা সবাই জানি। তাই জনগণের পক্ষে আমাদের আন্দোলনে অন্যান্য দলের মতো মহাজোটের শরিকদের কেউ কেউ চলে এলে আমরা বিস্মিত হবো না। কারণ এটা সময়ের ব্যাপার মাত্র।’’

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ বলেছেন সরকার আগাম নির্বাচনের কথা ভাবছে” তার এ মন্তব্যের জবাবে ফখরুল  বলেন, সরকার এমন চিন্তা করলে ভুল হবে। দেশবাসী নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া কোনো নির্বাচন হতে দেবে না ।

বুধবার জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া পদ্মাসেতুর নকশা পরিবর্তন সংক্রান্ত বক্তব্যের বিষয়ে মির্জা ফখরুল সাংবাদিকদের বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কোনো কথাই জনগণ আর বিশ্বাস করে না। আসলে তারা কিছুই করতে পারবে না।

সরকার পারলে বিশ্বব্যাংকের বাতিল হওয়া ঋণ ফিরিয়ে আনতো। কিন্তু তারা তা পারেনি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ঢাকা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলার ঘটনাকে বর্বরোচিত মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘‘এ দুটি প্রতিষ্ঠানের ভিসি ছাত্রদের নিরাপত্তা দিতে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছেন। তাই তাদের পদত্যাগ দাবি করছি। ’’

এ ধরনের হামলার ফলে দেশে গণতন্ত্র বাধাগ্রস্ত হবে এবং শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশ নষ্ট হবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আববাস, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, যুগ্ম মহাসচিব আমান উলস্নাহ আমান, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, নিলুফার ইয়াসমীন চৌধুরী মনি, হেলেন জেরিন খান, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি হাবিব উন নবী খান সোহেল, সাধারণ সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল বারি বাবু, ছাত্রদলের নব নির্বাচিত কমিটির সভাপতি আবুদল কাদের ভুঁইয়া জুয়েল, সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রশিদ হাবিব, সিনিয়র সহ-সভাপতি বজলুল করিম চৌধুরী আবেদ, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল হক নাসিরসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের ছাত্রদলের নবনির্বাচিত কমিটির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

জিয়ার মাজারে জনতার ঢল:

গত ৩ সেপ্টেম্বর ছাত্রদলের নব নির্বাচিত কমিটি ঘোষণার পর নেতৃবৃন্দকে নিয়ে আজ  বৃহস্পতিবার জিয়াউর রহমানের  মাজরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বেলা ১২টায় ফখরুলের আসার কথা থাকলেও তিনি আসেন পৌণে ১টার দিকে। ততক্ষণে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ভিড়ে গোটা মাজার এলাকা লোকারণ্য। এসময় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও মহানগর শাখাগুলোর নেতাকর্মীরা নতুন কমিটিকে স্বাগত জানিয়ে স্লোগান দিতে থাকে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।