বৃটেন পার্লামেন্টের সামনে সমাবেশে ট্রাইব্যুনালের সমালোচনা

নিউজ ডেস্ক, ২১ নভেম্বর (খবর তরঙ্গ ডটকম)- বৃটেনে হাউস অব পার্লামেন্টের সামনে মঙ্গলবার এক সমাবেশে বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধের বিচার ও মহাজোট সরকারের সমালোচনা করা হয়েছে।সেভ বাংলাদেশ নামে একটি সংগঠন এ সমাবেশের আয়োজন করে। এতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন বক্তারা।সমাবেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক, মানবাধিকার ও সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।বক্তারা সরকারের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, আওয়ামী লীগের হাতে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব এবং অখণ্ডতা চরম হুমকির মুখে। তারা মুখে গণতন্ত্রের কথা বললেও তাদের মূল চরিত্র হচ্ছে অন্য রাজনৈতিক দলের ওপর হস্তক্ষেপ করা।

সমাবেশে বক্তারা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সমালোচনা করে বলেন, বিশ্বের সব আন্তর্জাতিক সংস্থার পক্ষ থেকে অস্বচ্ছ বলা সত্ত্বেও তাদের মতামতকে উপেক্ষা করে প্রহসনের বিচার মঞ্চস্থ ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার কথিত স্লোগান নিয়ে আওয়ামী লীগ বাংলাদেশে বাকশাল কায়েমের সুগভীর ষড়যন্ত্র করছে।

সংগঠনের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, সেভ বাংলাদেশের কোঅর্ডিনেটর ব্যারিস্টার আবু বক্কর মোল্লনা, জমিয়তে উলামা ইউরোপের সভাপতি মুফতি শাহ সদরুদ্দিন, ফিন্চবেরী পার্ক মসজিদের পরিচালক মোহাম্মেদ কজবের, ফেডারেশন অব স্টুডেন্টস ইসলামিক সোসাইটির সভাপতি ওমর আলী, ব্রিটিশ মুসলিম ইনিশিয়েটিভ অ্যান্ড দ্যা কর্ডোভা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা আনাছ আল তিকরিতি, ইউকে বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এম এ মালেক, খেলাফত মজলিস ইউকের সভাপতি প্রফেসর আবদুল কাদের সালেহ, জমিয়তে উলামা ইউরোপের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা শোয়েব আহমেদ, বাংলাদেশ সেন্টার ফর সোস্যাল ডেভেলপমেন্টের চেয়ারম্যান মহিদুর রহমান, বাংলাদেশে ক্রাইসিস গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ফলিক, মুসলিম ব্রাদারহুডের সদস্য এম গানেম, দাওয়াতুল ইসলাম ইউকের মাওলানা মওদুদ আহমেদ ও হাসান মইন উদ্দিন, নর্থ আফ্রিকান কমিউনিটির অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান শাইখ আবু আহমেদ, কমিউনিটি লিডার ব্যারিস্টার নজির আহমেদ, শ্রীলঙ্কান কমিউনিটির লিডার আনছার মোহাম্মেদ মাহের, কমিউনিটির লিডার আতিকুর রহমান জিলু, কমিউনিটি লিডার নুরুল মতিন চৌধুরী এবং মনোয়ার বদরুদ্দোজা প্রমুখ।

সেভ বাংলাদেশের নেতারা বলেন, একাত্তরে শেখ মুজিবুর রহমানের একটি মীমাংসিত ইস্যুকে এখন টেনে এনে সরকার জামায়াতে ইসলামীকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র করছে।

বক্তারা বলেন, যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের গেট থেকে প্রকাশ্যে সাক্ষী অপহরণ করে নিয়ে গেলেও ট্রাইব্যুনালের বিচারকরা সেটাকে আমলে নিচ্ছেন না। অথচ আসামিপক্ষের আইনজীবীকে আদালত থেকে বহিষ্কার করে দেন।

সমাবেশে বক্তারা যুদ্ধাপরাধের বিচার করার আহবান জানিয়ে বলেন, চিহ্নিত ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধীকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হোক। শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধীকে ক্ষমা করে দিয়ে নিজেই যুদ্ধাপরাধীদের মদত দিয়েছেন। আর এখন বাংলাদেশের নাগরিকদের বিচার করা হচ্ছে মিথ্যা, বানোয়াট অভিযোগে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।